ভোলায় বিক্ষোভের মাঝেও শুরু হলো এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ

ভোলায় বহুদিনের দাবিকে উপেক্ষা করে সরকারি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান।
এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম চন্দ্র কুন্ডু, পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব।
এদিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোলার ৫৬৮ জন গ্রাহকের মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজন গ্রাহককে প্রথমে ৩,৪৩০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে একটি নিবন্ধন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এরপর নিবন্ধন কার্ড প্রদর্শন করে ৮২৫ টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত পরিবেশকের কাছ থেকে সিলিন্ডার গ্রহণ করা যাবে।
এ লক্ষ্যে ভোলায় ছয়জন পরিবেশক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বিপিসির চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, পূর্বে যারা আবাসিক গ্যাস সংযোগের জন্য অর্থ জমা দিয়েছেন, তাদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমানে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ স্থগিত রয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত শুধু সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির নয় বরং সব গ্যাস কোম্পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
উদ্বোধন চলাকালীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাইরে কয়েকশ গ্রাহক ও ঠিকাদার বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, গ্যাস সংযোগের জন্য পূর্বে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন, রাইজার ও পাইপলাইন স্থাপনও সম্পন্ন হয়েছে, তবুও সংযোগ মেলেনি। এর মধ্যেই এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ শুরু হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অনেকেই অভিযোগ করেন, তারা শুধুমাত্র সরকারি ফি নয়, বরং ঘুষ হিসেবেও টাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর তদন্ত এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান বিপিসির চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /








