ভোলায় বিক্ষোভের মাঝেও শুরু হলো এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ

ভোলায় বহুদিনের দাবিকে উপেক্ষা করে সরকারি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম চন্দ্র কুন্ডু, পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব।

এদিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোলার ৫৬৮ জন গ্রাহকের মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজন গ্রাহককে প্রথমে ৩,৪৩০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে একটি নিবন্ধন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এরপর নিবন্ধন কার্ড প্রদর্শন করে ৮২৫ টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত পরিবেশকের কাছ থেকে সিলিন্ডার গ্রহণ করা যাবে।

এ লক্ষ্যে ভোলায় ছয়জন পরিবেশক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বিপিসির চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, পূর্বে যারা আবাসিক গ্যাস সংযোগের জন্য অর্থ জমা দিয়েছেন, তাদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমানে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ স্থগিত রয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত শুধু সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির নয় বরং সব গ্যাস কোম্পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

উদ্বোধন চলাকালীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাইরে কয়েকশ গ্রাহক ও ঠিকাদার বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, গ্যাস সংযোগের জন্য পূর্বে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন, রাইজার ও পাইপলাইন স্থাপনও সম্পন্ন হয়েছে, তবুও সংযোগ মেলেনি। এর মধ্যেই এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ শুরু হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অনেকেই অভিযোগ করেন, তারা শুধুমাত্র সরকারি ফি নয়, বরং ঘুষ হিসেবেও টাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর তদন্ত এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান বিপিসির চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




 ইন্টারনেটের দাম না কমালে কঠোর পদক্ষেপ: ফয়েজ আহমদ

মোবাইল অপারেটররা সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পরও ইন্টারনেটের দাম না কমানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দর না কমালে সেবার মান, বকেয়া পাওনা এবং অন্যান্য ছাড় বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

◾ “ছাড় নিয়ে ব্যবসা, কিন্তু দাম কমায় না!”

ফয়েজ আহমদ বলেন, “বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মোবাইল অপারেটররা ইন্টারনেটের মূল্য কমাচ্ছে না। অথচ সরকার তাদের কর সুবিধা, স্পেকট্রাম ছাড়সহ নানা বিষয়ে ছাড় দিয়ে আসছে। এখন এসব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।”

তিনি জানান, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটককে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনতে কাজ করছে সরকার। এরইমধ্যে স্টারলিংকের পাশাপাশি আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আগ্রহ দেখিয়েছে।

◾ ব্যয়ের লাগাম টানছে সরকার

সরকারের ব্যয় সংযত নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এবার বাজেটে মুখরোচক প্রকল্পের নামে লুটপাটের সংস্কৃতি পরিহার করা হয়েছে। সেই কারণে দিবসটির অনুষ্ঠান বিটিআরসি ভবনেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।”

◾ গ্রামীণফোনের ব্ল্যাকআউট নিয়ে সতর্কতা

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানান, “গতকাল (১৪ মে) সারাদেশে প্রায় ৪০ মিনিট গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউট ছিল। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পরবর্তী শুনানি ২৬ মে

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মামলায় খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৬ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

◾ খালাসের রায় ও আপিল প্রক্রিয়া

গত ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামিকে খালাস দেন। এরপর ১৯ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে।

◾ রক্তাক্ত ইতিহাস: ২১ আগস্ট ২০০৪

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং বহু নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

সিআইডি ২০০৮ সালে মামলার চার্জশিট জমা দিলে বিচার শুরু হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার অধিকতর তদন্তে বিএনপি নেতাদের নাম যুক্ত হয়।

◾ ২০১৮ সালের বিচারিক রায়

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এই রায়ের বিপরীতে হাইকোর্টের রায়ে সব আসামিকে খালাস দিলে তা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে নার্সিং শিক্ষার্থীদের দুই দফা বিক্ষোভ

শিক্ষক নিয়োগ ও ডিপ্লোমা ডিগ্রি সমমানের স্বীকৃতি দাবিতে বরিশালে পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নার্সিং শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে বরিশাল নার্সিং কলেজ প্রাঙ্গণ ও কলেজ সংলগ্ন সড়কে শিক্ষার্থীরা অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

◾ চার দফা দাবিতে পূর্ণ শাটডাউন

বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন—বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগসহ চার দফা দাবি মানতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৬ মে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনের সময় তারা শিক্ষক কর্তৃক মারধরের শিকার হন। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং বলেন, “ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, যতক্ষণ না দাবি পূরণ ও হামলাকারীদের বিচার হয়।”

◾ ডিপ্লোমা ডিগ্রির স্বীকৃতির দাবিতে আলাদা কর্মসূচি

একই দিনে বরিশাল ডিপ্লোমা ইন নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ডিগ্রি বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে পৃথক সমাবেশে নার্সিং ডিপ্লোমাকে সম্মান ডিগ্রির সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “আমাদের পেশাগত মর্যাদা ও ক্যারিয়ার নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নয়তো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে সাম্য হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় বিএম কলেজের মূল ফটকের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও কালো ব্যাজ ধারণের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করেন।

◾ “আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে”

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বিএম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাবর খালেদ। বক্তব্যে নেতারা বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নিরাপদ স্থানে প্রকাশ্যে একজন ছাত্রনেতাকে হত্যা করা স্পষ্ট প্রমাণ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নিরাপত্তার ঘাটতি বাড়ছে।”

তারা আরও বলেন, “আমরা সরকারকে সতর্ক করে দিতে চাই—সাম্য হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার না হলে, ছাত্রদল দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেবে।”

◾ কে ছিলেন সাম্য?

গত মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র এবং এফ রহমান হলের আবাসিক ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়।

ঘটনার পর ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হত্যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে ছাত্রদলসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ হুঁশিয়ারি অন্তর্বর্তী উপাচার্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ‘ফ্যাসিস্টের দোসরদের’ বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুর ২টায় সড়কপথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছান তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে স্বাগত জানান। প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে তাকে কার্যালয়ে প্রবেশ করানো হয় এবং সেখানেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যারা গণতন্ত্রবিরোধী, যাদের অবস্থান ফ্যাসিস্ট চিন্তাধারার পক্ষে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সহনশীলতা দেখানো হবে না। আমি জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করি এবং তা বাস্তবায়ন করব।”

◾ সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস

অন্তর্বর্তী উপাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে, আমি সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করব। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা আইনি জটিলতাগুলোর সমাধান নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করব।”

তিনি আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

◾ পূর্বের উপাচার্যের পদত্যাগ

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে রাতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন। এরপরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




 জবি শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ কেন? প্রশ্ন রিজভীর

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী কড়া সমালোচনা করে বলেন, “একদিকে এনসিপি নেতাদেরকে সাদরে বরণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ চালানো হচ্ছে — এটা কেমন দ্বিচারিতা?”

তিনি বলেন, “জবি শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের আবাসন সমস্যার সমাধান চাইতে যায়, তখন তাদের ওপর চালানো হয় লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড। অথচ কয়েকদিন আগেই এনসিপি নেতাদের যমুনার দিকে যাত্রায় সম্মান জানানো হয়েছে।”

রিজভী আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বে থাকা লোকদের আচরণে পক্ষপাতদুষ্টতা স্পষ্ট। যাদের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য সমর্থন দিয়েছে, তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না।”

◾ শাহরিয়ার সাম্য হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বক্তব্য

রিজভী তার বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ড নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “একজন তরুণ শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। সাম্য ফেসবুকে জাতীয় সংগীতের পক্ষে পোস্ট দিয়েছিল। এটাই কি তার মৃত্যুর কারণ?”

তিনি আবরার হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ও দেশের স্বার্থ নিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

◾ বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ

রিজভী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি জ্ঞানচর্চার স্থান। এখানে শান্তির পতাকা উড়বে, রক্তপাত নয়। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ছাত্র নিহত হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব হচ্ছে সকল ছাত্রের প্রতি সমান আচরণ করা, রাজনৈতিক বিভেদ নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যদি প্রশাসনিকভাবে রাজনৈতিক চিন্তা দর্শনের প্রভাব পড়ে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আর কখনো শান্তি ফিরে পাবে না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ব্র্যাক ‘শিখা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

ব্র্যাক পরিচালিত ‘শিখা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বরিশালে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব লুসিকান্ত হাজং।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বিভিন্ন দপ্তরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপ-পরিচালক (মহিলা ও শিশু, সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন), জেলা শিক্ষা অফিসার, পরিবহন শ্রমিক নেতা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

চার বছর মেয়াদি ‘শিখা’ প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। বরিশালসহ ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও রাজশাহী মিলিয়ে ছয়টি জেলায় এটি কার্যকর করা হবে। এর আওতায় ২৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তৈরি পোশাক কারখানা, গণপরিবহন ও কমিউনিটিতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করা হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, যৌন হয়রানি, বুলিং, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো এবং রেসপন্স ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। এছাড়া, শিখা প্রকল্পের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের পথের ঝুঁকি ম্যাপ তৈরি, প্রতিরোধ কমিটি শক্তিশালী করা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে নীতিগত কাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক শিখা প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা সমন্বয়ক বিভাস চন্দ্র তরফদার, রোড সেইফটি প্রোগ্রামের প্রজেক্ট লিড মোহাম্মদ নাজমুল হক, টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান, প্রজেক্ট অফিসার মায়িশা খান, অনিক বিশ্বাস, কিশোর মিস্ত্রি এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরা। সভা সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক শিখা প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মায়িশা খান।

‘শিখা’ প্রকল্পটি বরিশাল জেলার স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করবে। এর মধ্যে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ ও সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে রূপ দিতে চায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

চলতি সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারায় জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সুনির্দিষ্ট রূপ দিতে চায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন—বলেছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, “চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যে আকাঙ্ক্ষার স্ফুরণ ঘটেছে, তাকে একটি জাতীয় সনদের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।”

আজ (১৫ মে) রাজধানীর সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল—বাসদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতেই এ বক্তব্য দেন অধ্যাপক রীয়াজ।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফসল। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে সকলের সমানাধিকার নিশ্চিত হবে, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে এবং মতের ভিন্নতাকে সম্মান জানানো হবে।”

কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক রীয়াজ জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কাজ করছে কমিশন। তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব শুধু কমিশনের নয়, রাজনৈতিক দলগুলোকেই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সামনে এগোতে হবে।”

বাসদের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, নিখিল দাশ, জনার্দন দত্ত নান্টু, শম্পা বসু, ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, জুলফিকার আলী, আহসান হাবিব বুলবুল, খালেকুজ্জামান লিপন, আবু নাঈম খান বিপ্লব এবং রাহাত আহম্মেদ।

উল্লেখ্য, সংস্কারের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এদিন ছিল প্রথম দফার আলোচনা। কমিশন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফার আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চবি’র বৃহত্তম সমাবর্তনে অধ্যাপক ইউনূসের আহ্বান: ‘নতুন এক বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখো’

“আমরা চাইলে আমাদের মতো করে এক নতুন বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি”—এমন আশাবাদী বার্তায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পঞ্চম সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দীপ্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার চবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম সমাবর্তনে তিনি এ আহ্বান জানান।

সমাবর্তন ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা যে অর্থনীতি গড়ে তুলেছি তা মানুষের জন্য নয়, বরং ব্যবসার জন্য। এই সভ্যতা আত্মঘাতী, এটি টিকবে না।” তিনি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব স্বপ্ন ও লক্ষ্য স্থির করে নতুন সমাজ নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে উৎসাহ দেন।

১৯৭২ সালে চবির অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করে এবং ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে কীভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণা চট্টগ্রামে জন্ম নিয়েছিল, তা আবেগভরা কণ্ঠে তুলে ধরেন ইউনূস। তিনি বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে—এটি আমার গর্ব।”

চবি কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক ইউনূসকে ক্ষুদ্রঋণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানসূচক ডক্টরেট অব লিটারেচার (ডি লিট) প্রদান করে। চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার তাঁর হাতে ডি লিট সনদ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফয়েজ, চবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন।

চবি এদিন দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সমাবর্তনের আয়োজন করে। সমাবর্তনে সর্বমোট ২২,৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম