দেশে গবাদিপশু উৎপাদনে ‘নীরব বিপ্লব’, কোরবানির পরও উদ্বৃত্ত ২০ লাখ গরু-মহিষ

দেশে গবাদিপশু উৎপাদনে এক ধরনের ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটেছে। সরকারের সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী নানা উদ্যোগে এই খাতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ফলে কোরবানির ঈদের চাহিদা মিটিয়েও প্রতিবছর উদ্বৃত্ত থাকে ২০ লাখেরও বেশি গরু ও মহিষ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, গবাদিপশু উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা খাতুনের নেতৃত্বে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন চলছে। সচিব বলেন, “একসময় প্রতিবেশী দেশ থেকে গরু আমদানি করতে হতো, এখন সে প্রয়োজন নেই। দেশীয় খামারিরাই চাহিদা পূরণ করছেন, ফলে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।”
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, মাঠ পর্যায়ে খামারিদের সহায়তায় কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন ও পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘাস উৎপাদন, কৃমিনাশক ভ্যাকসিন কার্যক্রম, বকনা বাছুর বিতরণসহ নানা উদ্যোগে উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, ঝালকাঠি, নারায়ণগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে লক্ষাধিক বকনা বাছুর বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
মোট ৮-১০টি প্রকল্পে সরকারের ব্যয় ছাড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে খামারিদের প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের ঘাস চাষ, টিকা প্রদান, খামারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি।
গবাদিপশুর রোগ নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। যেমন, পিপিআর রোগ নির্মূলে ক্ষুরারোগমুক্ত জোন গঠনের প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এলআরআই-তে পিপিআর টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
ঘাস উৎপাদন জোরদারে ১১৭ কোটি টাকার প্রকল্পে সারা দেশে ৮ হাজার ৯৭০টি উন্নত জাতের ঘাস প্লট তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচা ঘাস সংরক্ষণের প্রযুক্তি চালু হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪০টি খামারে। প্রাণিপুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার খামারিকে।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ৬৬ হাজার এবং অনিবন্ধিত প্রায় ৭০ হাজার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত খামারি ৫ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি। দুধ উৎপাদনকারী খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ এবং গরু-ছাগলের খামার দেড় লাখের মতো।
এছাড়া দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধিতে ‘প্রভেন বুল’ প্রকল্পে ৬৭ কোটি এবং মহিষ গবেষণায় আরও ৭২ কোটি টাকার প্রকল্প চলছে। ডেইরি খাতে ৫ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আগামীতে দেশের দুধ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে। বর্তমানে এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন প্রায় এক কোটি মানুষ।








