দেশে গবাদিপশু উৎপাদনে ‘নীরব বিপ্লব’, কোরবানির পরও উদ্বৃত্ত ২০ লাখ গরু-মহিষ

দেশে গবাদিপশু উৎপাদনে এক ধরনের ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটেছে। সরকারের সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী নানা উদ্যোগে এই খাতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ফলে কোরবানির ঈদের চাহিদা মিটিয়েও প্রতিবছর উদ্বৃত্ত থাকে ২০ লাখেরও বেশি গরু ও মহিষ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, গবাদিপশু উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা খাতুনের নেতৃত্বে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন চলছে। সচিব বলেন, “একসময় প্রতিবেশী দেশ থেকে গরু আমদানি করতে হতো, এখন সে প্রয়োজন নেই। দেশীয় খামারিরাই চাহিদা পূরণ করছেন, ফলে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।”

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, মাঠ পর্যায়ে খামারিদের সহায়তায় কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন ও পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘাস উৎপাদন, কৃমিনাশক ভ্যাকসিন কার্যক্রম, বকনা বাছুর বিতরণসহ নানা উদ্যোগে উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, ঝালকাঠি, নারায়ণগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে লক্ষাধিক বকনা বাছুর বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

মোট ৮-১০টি প্রকল্পে সরকারের ব্যয় ছাড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে খামারিদের প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের ঘাস চাষ, টিকা প্রদান, খামারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি।

গবাদিপশুর রোগ নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। যেমন, পিপিআর রোগ নির্মূলে ক্ষুরারোগমুক্ত জোন গঠনের প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এলআরআই-তে পিপিআর টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

ঘাস উৎপাদন জোরদারে ১১৭ কোটি টাকার প্রকল্পে সারা দেশে ৮ হাজার ৯৭০টি উন্নত জাতের ঘাস প্লট তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচা ঘাস সংরক্ষণের প্রযুক্তি চালু হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪০টি খামারে। প্রাণিপুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার খামারিকে।

বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ৬৬ হাজার এবং অনিবন্ধিত প্রায় ৭০ হাজার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত খামারি ৫ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি। দুধ উৎপাদনকারী খামারের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ এবং গরু-ছাগলের খামার দেড় লাখের মতো।

এছাড়া দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধিতে ‘প্রভেন বুল’ প্রকল্পে ৬৭ কোটি এবং মহিষ গবেষণায় আরও ৭২ কোটি টাকার প্রকল্প চলছে। ডেইরি খাতে ৫ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আগামীতে দেশের দুধ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে। বর্তমানে এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন প্রায় এক কোটি মানুষ।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দুঃখপ্রকাশ: “আঘাত পেলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমার হতাশা ও ক্ষুব্ধতা কাউকে আঘাত করলে আমি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।”

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা বিবেচনা করবে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়, পাশাপাশি থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে জবি শিক্ষার্থীদের দাবির সমাধানে ভিসি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন তিনি।

মাহফুজ আলম বলেন, “গত পরশু রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগের পর আমি তাদের গতকাল রাত ৯টায় বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানাই। কিন্তু তারা সকালেই আন্দোলনে অংশ নেয় এবং যমুনার কাছে পৌঁছে যায়।” তিনি জানান, আন্দোলনের দিন দুপুর থেকেই উপাচার্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তিনটি টকিং পয়েন্ট ঠিক করে কাকরাইল মোড়ে শিক্ষকদের সঙ্গে উপস্থিত হন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে কথা বলার সময় একটি গ্রুপ স্লোগান দিতে শুরু করে। তখন তিনি পূর্বনির্ধারিত বক্তব্য অনুযায়ী পুলিশি বাড়াবাড়ি এবং উসকানিমূলক ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিভাগীয় তদন্তের কথা বলতে চেয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় একজন শিক্ষার্থী বোতল নিক্ষেপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।

ঘটনার পর হতাশা নিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় উপাচার্যসহ অন্যদের সঙ্গে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন বলে জানান তিনি। “গত এক সপ্তাহ ধরে একটি দলের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে হত্যার হুমকি আসছিল। তাই এই ঘটনার পেছনে সেই দলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অনুমান করেছিলাম,” বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি জানান, পরে একটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা, দাবি পূরণের রোডম্যাপ এবং পুলিশি হামলার বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস দেন।

পোস্টে তিনি জবি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের দাবিকে “ন্যায্য” আখ্যা দিয়ে বলেন, “আশা করি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে।”

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জবি থেকে দুইজন শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। এই আত্মত্যাগের পটভূমিতেই আমি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চেয়েছি।”

সবশেষে তিনি জানান, “গতকাল রাতেই আমি ডিএমপি কমিশনারকে জানিয়ে দিয়েছিলাম, যেন কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।”




তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে আলোচনায় উঠে আসে চলমান বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা।

সাক্ষাৎকালে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জানান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। বিশেষ করে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ প্রণয়নের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত ঘটনার দলিল ও ইতিহাস সংরক্ষণ এবং তা গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক প্রামাণ্যচিত্র ও প্রকাশনা তৈরি করা হয়েছে। এই প্রচেষ্টা শুধু ইতিহাস সংরক্ষণেই নয়, বরং জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৫ আগস্ট উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে আরও কিছু নতুন প্রামাণ্যচিত্র ও প্রকাশনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাক্ষাতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানান, দেশের গণমাধ্যমে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশের এই অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি জানান, এ বছর বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি ঘটেছে, যা ইতিবাচক এক অর্জন। এই সফলতার জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম সংস্কৃতি ও দায়বদ্ধতা বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। ব্রিটিশ হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি এলি বুটও এই আলোচনায় অংশ নেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



প্রকৃত সাংবাদিকদের স্বচ্ছ যাচাইয়ের মাধ্যমে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়া হবে: শফিকুল আলম

প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের স্বচ্ছতা ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণমাধ্যমের হালচাল’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব জানান, “আগের মতো আর সংসদ সদস্য, ছাত্রলীগ বা অন্যান্য নেতাদের মাধ্যমে তদবির করে সাংবাদিক পরিচয়ে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়া যাবে না। এটি বন্ধ করা হবে। প্রকৃত সাংবাদিকদের যাচাই করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই কার্ড প্রদান করা হবে।”

৫ আগস্টের পর যে ২৬৬টি হত্যা মামলা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সরকার অবগত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এই মামলাগুলোর কারণে কাউকে হয়রানি করা হয়নি। কেউ গ্রেফতার হয়নি, বরং সবাই তাদের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।”

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত নয় মাসে গণমাধ্যম ছিল স্বাধীন। কিন্তু অতীতে গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ শেখ হাসিনাকে বৈধতা দিতে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানকারীদের সন্ত্রাসী বলেছে। এতে কিছু সাংবাদিক চাকরি হারালেও তার দায় সরকারের নয়।”

শফিকুল আলম বলেন, “সরকার কোনো সংবাদমাধ্যম বন্ধ করেনি। নেত্র নিউজসহ যেসব অনলাইন ব্লক ছিল, সেগুলোকেও খুলে দেওয়া হয়েছে। কেউ মিথ্যা তথ্য ছড়ালেও তার মতাদর্শের কারণে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না। তবে সামাজিক মাধ্যমে সাংবাদিকদের জন্য গাইডলাইন থাকা উচিত, যেমনটা অন্যান্য দেশেও রয়েছে।”

গণমাধ্যমের অর্থনৈতিক কাঠামোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নতুন অর্থনৈতিক মডেল দরকার যাতে সাংবাদিকদের কপিরাইট ও বেতন সুরক্ষিত থাকে। গণমাধ্যমের দায়িত্ব সরকারের নয়, মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে।”

আলোচনায় পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “গণমাধ্যমের সহায়তা ছাড়া দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। তাই গণমাধ্যম সংস্কার জরুরি। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম চাই’ এর আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন শিশির এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুখপাত্র প্লাবন তারিক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল হোসেন, ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক একরামুল হক সায়েম প্রমুখ।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নেছারাবাদের কৃষ্ণচূড়া জোড়া যেন স্বপ্নের দুয়ার

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরার মধ্যেও প্রকৃতির এক চিরন্তন সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুটি কৃষ্ণচূড়া গাছ। যেন আগন্তুকদের ফুলেল অভ্যর্থনায় বরণ করে নিচ্ছে এই শহর।

নেছারাবাদ উপজেলা শহরের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা গাছ দুটির ডালে ফুটে আছে রক্তিম কৃষ্ণচূড়া ফুল। প্রতিদিন শত শত পথচারী এবং দর্শনার্থী এখানে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখেন এই রঙিন দৃশ্য। অনেকেই ছবি তোলেন, কেউ বা বসে পড়েন গাছের ছায়ায় প্রকৃতির নির্মল প্রশান্তি উপভোগে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এই দুটি গাছ যেন আমাদের শহরের মুখপত্র। বাইরে থেকে কেউ এলে সবার আগে এই গাছ দেখে মুগ্ধ হন।”

পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. মামুনুর রশীদ জানান, কৃষ্ণচূড়া যার বৈজ্ঞানিক নাম Delonix regia, বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন ফুলের গাছ। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ফুল ফোটে, এবং এটি ছায়া প্রদানকারী ও পরিবেশবান্ধব গাছ হিসেবেও পরিচিত।

তরিকুল ইসলাম নামের এক দর্শনার্থী বলেন, “এই গাছ দুটি আমাদেরকে যেন স্বাগত জানায়। গাছ রক্ষার গুরুত্ব এখন সময়ের দাবি।”

স্থানীয় নারী রিমা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন কাজ শেষে আমি এখানে এসে বসি। ফুলের রঙ আর পরিবেশ আমাকে শান্তি দেয়। এই জায়গা আমাদের মতো অনেকের প্রিয় আশ্রয় হয়ে উঠেছে।”

গ্রীষ্মে এ গাছ শুধু নয়নাভিরাম সৌন্দর্য নয়, বরং নগরের উষ্ণতা কমানো এবং বায়ু বিশুদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বৃক্ষ নিধনের কারণে কৃষ্ণচূড়া গাছ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে— এমনটাই আশঙ্কা পরিবেশবিদদের।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নেছারাবাদের এই সৌন্দর্যের প্রতীক গাছদুটি রক্ষা করা হবে, এবং আরও এমন বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে সকলে এগিয়ে আসবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




ঝালকাঠিতে পাঁচ কৃষকের পানের বরজে অগ্নিসংযোগ, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা

ঝালকাঠির সদর উপজেলার কৃত্তিপাশা ইউনিয়নের গোপিনাথকাঠী গ্রামে এক রাতে পাঁচ হতদরিদ্র কৃষকের পানের বরজে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। শনিবার (১৪ মে) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পলাশ মন্ডল, দিলীপ মিস্ত্রি, সুভাষ মিস্ত্রি, সুজন হালদার ও অনিক মন্ডল প্রিন্সের বরজ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয়রা জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ করে বরজে আগুন জ্বলতে দেখে এলাকাবাসী ছুটে আসে। নিজ উদ্যোগে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার আগেই পানের বরজগুলোর অধিকাংশ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পলাশ মন্ডল বলেন, “রাতের অন্ধকারে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে জানি না। তবে এটা পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। আমরা সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে থাকি, কারও সঙ্গে বিরোধ নেই।”

আরেক চাষি দিলীপ মিস্ত্রি বলেন, “ভোর রাতে চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে। বাইরে এসে দেখি আগুনে আমাদের বরজ জ্বলছে। সব শেষ হয়ে গেছে।”

সুভাষ মিস্ত্রির স্ত্রী অর্চনা মিস্ত্রি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই বরজই ছিল আমাদের একমাত্র জীবিকা। এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।”

স্থানীয় হায়দার মোল্লা বলেন, “আমাদের এলাকাটি ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একটি কুচক্রীমহল এই ঘটনা ঘটিয়ে গোলকধাঁধায় ফেলার চেষ্টা করছে।”

ঘটনার পর পরিদর্শনে যান ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সাংবাদিক নেতা রাশিদুল ইসলাম, সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। অচিরেই দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




বিষখালী নদীতে রাতের আঁধারে ইলিশের পোনা নিধন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীতে রাতের অন্ধকারে চলছে নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে ইলিশ ও অন্যান্য মাছের পোনা শিকারের অপতৎপরতা। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কিছু অসাধু জেলে বেহুন্দী জাল ফেলে অবৈধভাবে পোনা মাছ আহরণ করছে, যা ইলিশ উৎপাদন ও নদীর সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন গভীর রাতে এসব জেলে নদীতে জাল ফেলে পোনা মাছ শিকার করে। পরে সেগুলো ছোট নৌকায় করে তীরে এনে স্থানীয় বাজারে বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। বাজারের চেয়ে সস্তা হওয়ায় অনেকেই এসব মাছ কিনছেন।

পশ্চিম আউরা গ্রামের গৃহবধূ আলফুন নাহার বেগম বলেন, “বাজারে মাছের দাম বেশি, কিন্তু কিছুদিন আগে জেলেরা আমাদের বাড়িতে এসে ইলিশ পোনা বিক্রি করে গেছে। আমি ২ কেজি ১৪০ টাকায় কিনেছি।”

স্থানীয় পরিবেশ ও মৎস্য সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এখন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম চলছে। এ সময়ে পোনা নিধন পুরো ইকোসিস্টেমের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তারা মনে করেন, এই পোনাগুলো বড় হলে ইলিশ উৎপাদনে তা বিশাল ভূমিকা রাখত।

তাদের দাবি, প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। না হলে বিষখালী নদীতে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার জানান, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নজরে রেখেছি। খুব শিগগিরই অভিযান চালিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ফিরছে বাংলাদেশ, জানালেন আসিফ নজরুল

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের খুলছে—এমন আশার খবর দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাসিফউদ্দিন নাসিটিওনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশ থেকে শর্তহীন ও কম খরচে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জানান, “গত বছরের শেষ সময়ে যেসব শ্রমিক মালয়েশিয়া যেতে পারেননি, তাদের যাওয়ার পথ এখন খুলে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “প্রায় ১৭ হাজার শ্রমিকের মধ্যে প্রথম ব্যাচের ৭ হাজার ৯২৬ জনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে মালয়েশিয়া সরকার। খুব শিগগিরই তারা দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।”

আসিফ নজরুল আরও জানান, “বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক মাসে মালয়েশিয়া ১ থেকে দেড় লাখ নতুন বিদেশি শ্রমিক নেবে। মানবসম্পদ মন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন—এই নিয়োগে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

এই ইতিবাচক অগ্রগতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




সাংবাদিক ছাঁটাই হয়নি, গণমাধ্যম স্বাধীন: প্রেস সচিব

গত ৯ মাসে কোনো সাংবাদিককে ছাঁটাই বা গণমাধ্যম বন্ধ করেনি সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায় এবং সংবাদপত্রের কার্যক্রমে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করছে না।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে “গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণমাধ্যমের হালচাল” শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেস সচিব আরও বলেন, “মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারিত হলেও সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। তবে সেই প্রতিবাদকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।”

তিনি জানান, সরকার গত ৯ মাসে কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেনি এবং সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করার মতো কোনো ঘটনাও ঘটায়নি। কেউ হুমকির শিকার হলে সরকারকে তা লিখিতভাবে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

সাংবাদিকতার নীতিগত অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত মতাদর্শের জায়গা থেকে নয়, তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা হওয়া উচিত।”

এ সময় তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের জন্য স্বচ্ছ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড প্রদান কার্যক্রম চালু করা হবে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান হত্যা মামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, “২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যে হত্যা মামলার তথ্য রয়েছে, তার দায় সরকার নেয় না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মেঘনার ভাঙনে বিপর্যস্ত ভোলার শিবপুর, হুমকিতে শহর রক্ষা বাঁধ

ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই ভাঙনের কবলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বাঁধের ভেতর ও বাইরের শত শত পরিবার। নদী থেকে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের দূরত্ব কমে এসেছে মাত্র ৫৫ মিটারে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও নাজুক হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইসগেট, মাছঘাটসহ প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট। গত কয়েক মাস ধরে আগ্রাসী হয়ে ওঠা মেঘনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় বাজার, ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “নদীটা আগেও ছিল, তবে এত কাছে না। এখন তো ঘরের সামনেই চলে এসেছে। জমি রক্ষা হবে কিনা, বুঝতে পারছি না।”
সত্তরোর্ধ্ব মো. সিরাজ বলেন, “ঘরের পাশেই এখন নদী। জমি কিনে অন্য জায়গায় যাওয়ার সামর্থ্য নেই।”
অপর এক কৃষক মঞ্জুর আলম জানান, “চাষের জমিই সব। এটা চলে গেলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।”
বিধবা আনোয়ারা বেগম বলেন, “ভাঙনে একাধিকবার ঘর হারিয়েছি। এখন আবার নতুন করে সব সরাতে হচ্ছে।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদী ভাঙন প্রতিরোধে শুধু কিছু জিওব্যাগ ফেলে দায়সারা করছে। কিন্তু অল্প সময়েই তা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত সিসি ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন ও মো. ফারুক বলেন, “প্রতিবার জিওব্যাগ ফেলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না। আমরা এবার স্থায়ী সিসি ব্লকের দাবি জানাই।”

এ বিষয়ে পাউবো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ জানান, “বর্তমানে দেড় কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন চলছে, যার মধ্যে আধা কিলোমিটার ভয়াবহ। আপাতত ৬০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বাকি অংশের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে এবং স্থায়ী সিসি ব্লকের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করা হবে।”

সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এনামুল হক ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন, যা কিছুটা আশার আলো জাগিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /