মমতাজ বেগম কারাগারে, জামিন নামঞ্জুর

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (১৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমান শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মমতাজ বেগমকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিন চেয়ে আবেদন করে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ১২ মে রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৩ মে তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’ অংশ নেন মো. সাগর নামের এক তরুণ। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলন চলাকালে একদল হামলাকারী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে সাগর বুকে গুলিবিদ্ধ হন, গুলি পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

তার মা বিউটি আক্তার রাতভর খোঁজাখুঁজির পর মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছেলের মরদেহ খুঁজে পান। এরপর সাগরের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

ঘটনার প্রায় চার মাস পর, ২৭ নভেম্বর, নিহতের মা বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় মমতাজ বেগম ছিলেন ৪৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চায়ের আড্ডায় নেতাকর্মীদের চমকে দিলেন রুহুল কবির রিজভী!

রুহুল কবির রিজভী

নরসিংদীতে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হঠাৎ থেমে গেলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর অদূরে ৩শ ফুট এলাকার ফুটপাতে অপেক্ষমান নেতাকর্মীদের দেখে গাড়ি থামিয়ে দিলেন তিনি। এরপর পাশে থাকা একটি সাধারণ চায়ের দোকানে ঢুকে দাঁড়িয়ে চা খেলেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে।

এই দৃশ্য দেখে চমকে যান উপস্থিত অনেকেই। হঠাৎ এমন আচরণে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি চা হাতে রাজনীতি নিয়েও কিছুটা আলোচনা হয় বলে জানান উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

চা-পানের সেই মুহূর্তে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন: বিএনপির সহ-সেচ্ছাসেবক সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাংবাদিক নেতা রাশেদুল হক, সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদুল কবির, ছাত্রদল নেতা ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল এবং এলাকার অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীদের অনেকেই জানান, এমন আচরণ রিজভীর সরলতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগের শক্ত প্রমাণ। কেউ কেউ বলছিলেন, “এই জন্যই রিজভী ভাই আমাদের এত আপন। তিনি আমাদের সঙ্গে মিশে যান, আমাদের মতো করেই কথা বলেন, চলেন।”

সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও সেই চায়ের আড্ডায় দলের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক প্রস্তুতি, ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ছোটখাটো আলোচনা হয় বলে জানা যায়। এরপর রিজভী আবার গাড়িতে উঠে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

নেতাকর্মীদের মতে, এমন হঠাৎ উপস্থিতি ও সরাসরি যোগাযোগে স্থানীয়ভাবে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও সক্রিয় করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন নেতা কর্মীরা।




কাউকে গোপনে দলে ভেড়ানো যাবে না— যোগ দিতে হবে প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিক

বিএনপি

আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও যারা বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য—এমন ব্যক্তিরা বিএনপিতে যোগ দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে দলভুক্তির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তও তুলে ধরেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়িতে দলীয় কার্যালয়ের মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির উদ্যোগে ‘সদস্য নবায়ন’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, “দীর্ঘ সময় পর আমাদের সামনে সদস্য সংগ্রহের সুযোগ এসেছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে বিএনপিকে আরও সংগঠিত করতে হবে। বিএনপিতে যোগ দেওয়া গর্বের বিষয়। এজন্য সদস্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপ দৃশ্যমানভাবে অনুষ্ঠান করে করতে হবে—মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে, ফেসবুকেও তুলে ধরতে হবে।”

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “সদস্য সংগ্রহে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যারা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, তাদের দলে নেওয়া যাবে না। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে ও ভোট কমে যেতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মীদের বিএনপিতে নেওয়া যাবে না। তবে যারা আওয়ামী লীগপন্থী ছিল কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেনি, বরং আড়ালে সহযোগিতা করেছে—তাদের বিএনপিতে আসায় কোনো বাধা নেই। তবে কাউকে গোপনে দলে ভেড়ানো যাবে না—দলে যোগ দিতে হলে সেটা হতে হবে প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিক।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।




ইনভেস্টমেন্ট পেলে তরুণরা চাকরির সন্ধানে যাবে না: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

যুব সমাজকে আত্মনির্ভর করে তুলতে বিনিয়োগভিত্তিক মডেলকে কার্যকরী পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এই ইন্ডাস্ট্রি যদি ইনভেস্টমেন্টের টাকা পায়, তাহলে কোনও তরুণের চাকরির সন্ধানে যাবে না, যাবার কোনও দরকার নেই।”

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) ভবন উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, “এখন আমরা তরুণ, তাঁদের পরিবারের সদস্য, তাঁদের ছেলেমেয়ে যারা আছে, যারা চাকরির সন্ধানে বড় বড় হতে চাইছে,সবাই চাকরি করছে। কিন্তু চাকরি হওয়াটাই গন্তব্য নয়, বরং নিজের উদ্যোগই হতে পারে ভবিষ্যতের পথ।”

তার মতে, “সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হল প্রতিষ্ঠানগুলো সৃষ্টি করে দেওয়া। কাজেই ব্যাঙ্ক সৃষ্টি করার দায়িত্ব আমাদের, যাতে তরুণ-তরুণীরা, মহিলা-পুরুষ,ঘরের বাইরে যেখানেই থাকুক না কেন, তারা যেন ওই বিনিয়োগটা পায় এবং নিজের বুদ্ধিতে নিজের ব্যবসা করে ফেলতে পারে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “এরকম হাজার হাজার তরুণ এখন সেই কাজ করছে এবং সম্প্রসারিত হচ্ছে। মাইক্রো ব্যাংকগুলো তাদের কাছে বিনিয়োগের টাকা পৌঁছে দিচ্ছে, আর তারা ধাপে ধাপে সে টাকা শোধ করে পুরোপুরি মালিকানা অর্জন করছে।”

তিনি বলেন, “আমার কাজ হলো তাকে উঠিয়ে দেওয়া। আমি তার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না, বরং চাই সে নিজের ভাগ্য নিজে গড়ে তুলুক।”

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যে উঠে আসে উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকা, যা চাকরি নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে পারে।

 




ভারতে পালানো আ. লীগ নেতাদের ভারত ছাড়ার হিড়িক

গণহত্যা, দমন-পীড়ন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা একাধিক নেতার মধ্যে দেশটি ত্যাগের প্রবণতা বাড়ছে। পুশব্যাক ও গ্রেফতারের আশঙ্কায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত অবৈধ বিদেশিদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশনা জারি হয়েছে, যা আগস্ট থেকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে। এই পরিস্থিতিতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা দেশে ফেরার বিষয়ে দ্বিধায় পড়েছেন, কারণ দেশে ফিরলে গ্রেফতারের ঝুঁকি বাড়ছে।

অন্যদিকে, ইতোমধ্যে ৫০ জনেরও বেশি নেতা ইউরোপ ও আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন, আর বাকি নেতারাও সেখানে পালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানরত নেতাদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে যারা ফিরবেন না, তাদেরকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আটক করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার ইতিমধ্যেই বহুমুখী চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে এইসব ব্যক্তিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করা যায়।




মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের ফাঁসি

মাগুরা জেলাজুড়ে আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার ঘটনায় অবশেষে ন্যায়বিচার পেল ভুক্তভোগী পরিবার। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে শনিবার মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান, প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। অন্যদিকে, মামলার আরও তিনজন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।

সরকারি কৌঁসুলি এহসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের বলেন, “১৬৪ ধারার জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য—সবকিছু বিশ্লেষণ করেই আদালত এই রায় দিয়েছেন। আমরা আশা করেছিলাম ন্যায়বিচার হবে, এবং সেটাই হয়েছে।”

মামলার শুরুটা ছিল হৃদয়বিদারক। চলতি বছরের ৬ মার্চ, মাত্র আট বছর বয়সী শিশুটি তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিকতার শিকার হয়। পরদিন সকালে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়, যা পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করে।

৮ মার্চ শিশুটির মা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে উঠে আসে ভয়ংকর সব তথ্য। তদন্তে জানা যায়, শিশুটির বড় বোনের স্বামীর বাবা হিটু শেখ তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোনের স্বামী ও ভাশুর ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং বোনের শাশুড়ি ঘটনাস্থলের আলামত ধ্বংসে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠে।

১৩ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার।

২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মামলার ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ১৩ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

অবশেষে আদালত মামলার মূল আসামি হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। তার বোনের স্বামী, ভাশুর ও শাশুড়ি বেকসুর খালাস পেলেও এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, ন্যায়বিচার পেতে বড় অসাধ্য কিছু নয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই রায় সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত, আহত ২

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম শাহারিয়া আজাদ তালহা (২০)। তিনি গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম বার্থী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, তালহা ও তার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলযোগে বার্থী বাজার যাচ্ছিলেন। পথে একটি অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তালহা প্রাণ হারান। তার সঙ্গী হিমেল গোমস্তা ও শাহীন মাল গুরুতর আহত হন।

আহত হিমেল গোমস্তা (পিতা: নুর আলম গোমস্তা) এবং শাহীন মাল (পিতা: সোহেল মাল) একই গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”

নিহতের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির পিকআপ ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দেশের দীর্ঘতম হবে ভোলা-বরিশাল সেতু, ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা

প্রায় ২৫ লাখ মানুষের স্বপ্ন বাস্তব হতে যাচ্ছে। দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলাকে সরাসরি সড়কপথে সংযুক্ত করতে নির্মিত হতে যাচ্ছে ভোলা-বরিশাল সেতু—যা হবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।

প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

ভোলার জীবনযাত্রায় আসবে আমূল পরিবর্তন: 

সেতুটি নির্মাণ হলে ভোলাবাসীর জীবনযাত্রায় আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। বর্তমানে ভোলার সঙ্গে দেশের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা নৌপথ। ফলে সন্ধ্যার পর বরিশাল কিংবা অন্য কোথাও যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়েছে জেলার মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির চৌধুরী, তালহা তালুকদার, মঞ্জুর আলম ও সুমা বেগম বলেন, “গ্যাসসমৃদ্ধ ভোলা জেলায় বড় কোনো শিল্পকারখানা নেই শুধু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে। সেতু হলে এখানকার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে।”

যাত্রা হবে সহজ, সময় কমবে ঘন্টার পর ঘন্টা:

গাড়িচালক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “এখন বাস বা ট্রাক নিয়ে বরিশাল যেতে ভেদুরিয়া-লাহারহাট ফেরি ধরতে হয়, তাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে। সেতু হলে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটেই ভোলা থেকে বরিশাল যাওয়া সম্ভব হবে।”

বরিশালের বাসিন্দা হলেও ভোলায় কর্মরত ইলিয়াস, সাহাবুদ্দিন ও আকবর বলেন, “সন্ধ্যার পর বরিশালে জরুরি প্রয়োজনে ফিরতে হয়রানির শেষ থাকে না। এই সেতু আমাদের মতো কর্মজীবীদের জন্য আশীর্বাদ হবে।”

শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা :

সচেতন নাগরিক মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “পদ্মা সেতু হওয়ার পরও ভোলা এখনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। অথচ এখান থেকে গ্যাস, ধান, গম, ইলিশ যাচ্ছে সারা দেশে। কিন্তু বিনিময়ে উন্নয়ন আসছে না।”

তিনি আরও বলেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু হলে এখানে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। বাড়বে কর্মসংস্থান, বদলে যাবে অর্থনীতি।”

জাপানি কোম্পানির আগ্রহ, শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রউফ জানিয়েছেন, “সেতুটি নির্মাণে জাপানি কোম্পানি ‘মিয়াগাওয়া’ আগ্রহ দেখিয়েছে। আগামী ২৫ বা ২৬ মে প্রধান উপদেষ্টা জাপান সফরে গেলে, সেই সময়ই এই প্রকল্প চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেছেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু এই সরকারের মেয়াদেই শুরু হতে পারে। জাপান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক দূর এগিয়েছে।”

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সেতু হতে পারে এটি:

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন বলেছেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু শুধু দেশের দীর্ঘতম নয়, নির্মিত হলে এটি বিশ্বের দীর্ঘ সেতুগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে।”

তিনি আশ্বস্ত করেন, “সেতুটি হবেই, তবে সময়সীমা এখনো নির্দিষ্ট নয়।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




১৪ বছরে ৫ ভিসি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের ছায়া যেন স্থায়ী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গত ১৪ বছরে পাঁচজন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এর মধ্যে তিনজনই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ, অপসারণ কিংবা বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এমন নজির বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরল।

২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পাশে, কীর্তনখোলা নদীর তীরে ৫৩ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

তিন ভিসি গেলেন আন্দোলনের মুখে::

সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক শুচিতা শরমিন, যিনি ববির প্রথম নারী উপাচার্য ছিলেন, তাকে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মাত্র আট মাসের মাথায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে, শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্বৈরাচারী মনোভাব দেখিয়েছেন। এমনকি তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘ফ্যাসিস্ট আমলের লোক’ বলে আখ্যা দেন। একইসাথে, শিক্ষার্থী জেবুন্নেছা হক জিমির চিকিৎসা সহায়তার আবেদনেও স্বাক্ষর না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা পরবর্তীতে চরম সমালোচনার জন্ম দেয়।

তৎপূর্বে, অধ্যাপক মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া ২০২৪ সালের ৪ মার্চ উপাচার্য নিযুক্ত হন। তবে কয়েক মাসের মাথায়—২০ আগস্ট, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, তিনি শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলনবিরোধী বৈঠক করেন এবং নিজেও বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

এরও আগে দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস এম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করে দুইবার আন্দোলনের মুখে পড়েন। টানা ৪৪ দিনের অবরোধ শেষে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়।

শুধু দুইজন পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন :;

প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. হারুনর রশিদ খান এবং তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিনই একমাত্র উপাচার্য যারা কোনো উল্লেখযোগ্য আন্দোলন ছাড়াই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেছেন।

নতুন ভিসির আশাবাদ::

বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও বর্তমান উপাচার্য হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম। তিনি গত ১ মে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তালাবদ্ধ বাসভবনের গেট থেকে নিজ হাতে শিকল খুলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “এই শিকল তোমাদের হাতে দিয়ে গেলাম, আমার মাধ্যমে কোনো অন্যায় পেলে আবার বন্ধ করে দিও।”

তিনি ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে জানান, “যদি এমন কিছু থাকে, আমার পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স থাকবে।”

তার ইতিবাচক মনোভাব ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের হল পরিদর্শন করেন, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার মতো মানবিক সম্পর্ক তৈরি করছেন।

শিক্ষার্থীদের ভাবনা :;

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আমরা চার সেমিস্টারে চারজন ভিসি দেখেছি। আন্দোলনগুলো অনেক ক্ষেত্রেই যৌক্তিক ছিল, কিন্তু বারবার প্রশাসনিক অস্থিরতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধারাবাহিক প্রশাসনিক অস্থিরতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে—কবে বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্থায়ী, নিরপেক্ষ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব পাবে?

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পিরোজপুরে ১০০ বিঘায় তিল ও মধু চাষে চমকপ্রদ সাফল্য

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১০০ বিঘা জমিতে তিল ও মৌচাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। আধুনিক পদ্ধতিতে তিলের সঙ্গে মধু উৎপাদনের সমন্বয়ে এই চাষাবাদে শুধু জমি নয়, কৃষকের মুখেও ফুটেছে সাফল্যের হাসি।

গৌরীপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে মাথা নুয়ে থাকা তিলের সাদা ফুলের পাশে বসানো হয়েছে ১৩০টি মৌচাক। সেখানে প্রতিনিয়ত মৌমাছিরা ফুল থেকে রেণু সংগ্রহ করে তৈরি করছে খাঁটি মধু। মাঠজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

তিলের সঙ্গে মধু—দ্বৈত সাফল্য

স্থানীয় ৫০-৬০ জন কৃষক মিলে এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। তারা বারি-৪ জাতের উন্নত তিল চাষ করেছেন, যেখানে প্রতি বিঘায় ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রিতে লাভ হচ্ছে ২৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

একইসাথে বরগুনা থেকে আনা পাঁচজন মৌচাষি এই জমির পাশে ১৩০টি মৌবক্স স্থাপন করেন। সুইডেন প্রবাসী আরিফুল ইসলামের বাড়ির পাশে বসানো বক্স থেকে ৮ মন মধু উৎপাদন করে ইতিমধ্যে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায়। খরচ বাদে মুনাফা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

কৃষকের অভিজ্ঞতা ও আশাবাদ

স্থানীয় কৃষক বাবুল হাওলাদার বলেন, “গত বছর অল্প জমিতে তিল চাষ করে লাভবান হই, এবার আরও অনেক কৃষককে নিয়ে ১০০ বিঘায় চাষ করেছি। মধু উৎপাদন বাড়তি আয় এনে দিচ্ছে।”

একইভাবে কৃষক মো. শাজাহান জানান, “আমরা প্রথমে এক বিঘায় প্রদর্শনী চালাই, সফলতা পেয়ে এবার ১০০ বিঘায় চাষ করেছি। তিলের পাশাপাশি মধুও বিক্রি হচ্ছে।”

মৌচাষি শহিদুল ইসলাম রানা বলেন, “১৩০টি মৌবক্সে ৮ মন মধু পেয়েছি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। খরচ হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার, লাভ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য এক যুগান্তকারী সাফল্য। শুধু তিল বিক্রি থেকেই প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হবে, এর সঙ্গে মধু উৎপাদনের বাড়তি মুনাফা তো আছেই। আমরা আগামী বছর এই চাষ পদ্ধতি পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /