সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ৮ বসতঘর বিলীন, হুমকিতে শতাধিক স্থাপনা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া এলাকায় সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ৮টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় মোল্লারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

গত ১৬ মে শুক্রবার বিকেলে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়িয়াল খাঁ নদীর মোহনায় শুরু হয় আকস্মিক ভাঙন। সন্ধ্যার মধ্যে শাহাবুদ্দিন আকন, আলী চৌকিদার, রাসেল মাঝি, হাচেন মাঝি, সাইফুল ঘরামীসহ মোট ৮ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, দিনভর ফাটল দেখা দেওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই মাটি দেবে যেতে থাকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে অন্যত্র আশ্রয় নেন।

বর্তমানে মোল্লারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ভূতেরদিয়ার একটি মসজিদ, তাবলিকুল ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র সরাসরি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। নদীর তীরে বসবাসরত পরিবারগুলো এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, “দুই বছর আগে ভাঙন ঠেকাতে পাউবো জরুরি প্রকল্পের নামে অর্থ খরচ করলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।”
ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ আলী চৌকিদার বলেন, “দুপুরে ফাটল দেখা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আমাদের ঘরসহ সব কিছু নদীতে চলে যায়। দিন হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছি, তবে এখন সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, আড়িয়াল খাঁ ও সুগন্ধা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে।
তারা জানান, কয়েক বছর আগে পাউবো ৩০ লাখ টাকার প্রকল্পে বালুর বস্তা ফেললেও কার্যকর কোনো ফল হয়নি।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, “চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। ভাঙনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর স্থায়ী প্রকল্প পাঠানো হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডিএমপির শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্ট নির্বাচিত হলেন বাবুগঞ্জের তানভীর

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এপ্রিল মাসের শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ওয়ারী ট্রাফিক জোনে কর্মরত সার্জেন্ট তানভীর মাহমুদ সুমন। উত্তম আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও জনসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এই পুরস্কারে ভূষিত হন।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মোঃ সাজ্জাত আলী, এনডিসি সার্জেন্ট তানভীরের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সার্জেন্ট তানভীর মাহমুদ সুমনের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভুতেরদিয়া গ্রামে। নিজ কর্মদক্ষতা, সততা ও জনসেবার প্রতি আন্তরিকতার মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকা তথা বরিশালের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

সভাটি সঞ্চালনা করেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোঃ ফারুক হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ সরওয়ার, বিপিএম-সেবা; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোঃ মাসুদ করিম এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) হাসান মোঃ শওকত আলী। এছাড়াও ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আমতলীতে বাসের সাইট নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৪

বরগুনার আমতলীতে সাইট দেওয়া নিয়ে শ্যামলী পরিবহন ও বিসমিল্লাহ মিনি বাসের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও দুই বাসকর্মীসহ মোট চারজন আহত হন। উত্তেজিত স্থানীয় জনতা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুরে বরগুনার আমতলী চৌরাস্তার পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে।

কী হয়েছিল?

জানা গেছে, বরিশাল ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ জন শিক্ষার্থী ও ৩ শিক্ষক রোভার স্কাউট প্রশিক্ষণ শেষে দুটি শ্যামলী পরিবহন বাসে করে কুয়াকাটার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে আমতলী চৌরাস্তায় যানজটে পড়ে বাসগুলো। একই জায়গায় ছিল বিসমিল্লাহ পরিবহনের একটি মিনি বাসও।

শ্যামলী পরিবহনের হেল্পার বিসমিল্লাহ বাসকে সাইট দিতে বললে হেল্পারদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে শ্যামলী বাসের হেল্পারকে ধাক্কা দেন বিসমিল্লাহ বাসের হেল্পার সালমান। এর জেরে শিক্ষার্থীরা বাস থেকে নেমে এসে সালমানকে মারধর করে। বিষয়টি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনতা পাল্টা হামলা চালায় শিক্ষার্থীদের ওপর। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শিক্ষার্থীরা বাসে উঠে পড়লেও উত্তেজিত জনতা বাস ভাঙচুর করে।

ঘটনায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী, বিসমিল্লাহ বাসের হেল্পার ফয়সাল ও সুপারভাইজার বিকাশ ধুপী আহত হন। শিক্ষার্থীরা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। অন্যদিকে গুরুতর আহত ফয়সাল ও বিকাশকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকাশ ধুপীর দাবি, হেল্পার সালমান এখনও অচেতন।

বিসমিল্লাহ বাসের সুপারভাইজার বিকাশ বলেন, “জ্যামের কারণে সাইট দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবুও আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। স্থানীয় জনতা প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।”

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী বলেন, “ভুলটা আমাদেরই হয়েছে। সহপাঠীরা মারধর না করলে এই বিশৃঙ্খলা হতো না।”

আমতলী থানার এসআই জলিলুর রহমান জানান, দুই বাসের কর্মীদের মধ্যে সাইট নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে এবং বাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বাস দুটি থানায় হেফাজতে রয়েছে। এখনও কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বরগুনা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির লাইন সম্পাদক মো. হাসান মৃধা বলেন, “শিক্ষার্থীরা যদি হেল্পারদের মারধর না করত, এমন ঘটনা হতো না। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 আমন্ত্রণ পেয়েও ওশেন কনফারেন্সে যাচ্ছেন না প্রধান উপদেষ্টা

জাতিসংঘ আয়োজিত তৃতীয় ওশেন কনফারেন্সে অংশ নিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ-এর আমন্ত্রণ পেলেও সেখানে যাচ্ছেন না বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্মেলনে আগ্রহী বিভিন্ন দেশের অনুরোধ থাকায় আপাতত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ নেই। এ অবস্থায় শুধুমাত্র অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ড. ইউনূসের ফ্রান্স সফর মূল্যায়নের কথা জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বোঝানো হয়েছে, যদি সম্মেলনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা অর্থনৈতিক অগ্রগতি সংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকে, যেমন— স্যাটেলাইট ক্রয়, এয়ারবাস উড়োজাহাজ ক্রয় বা জলবায়ু অর্থায়ন, তাহলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ফ্রান্স পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে এসব প্রকল্পের অর্থায়নে তারাই ঋণ দিতো।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগ এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় জানায়, “বাংলাদেশ এখনও কনফারেন্সে দেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন, তা চূড়ান্ত করেনি। প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।”

জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার সফর বাতিলের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে ঢাকা প্যারিসকে জানিয়েছে দেশে জরুরি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি। একইসঙ্গে তাঁর অনুপস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, তৃতীয় ওশেন কনফারেন্স আগামী ৯ জুন থেকে ফ্রান্সের নিস শহরে শুরু হবে। সম্মেলনের আগের দিন অর্থাৎ ৮ জুন, অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের জন্য রাষ্ট্রপতি ম্যাখোঁ আয়োজিত এক নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পাচার করা অর্থে বিদেশে সামিট গ্রুপের বিপুল সম্পদ

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী সামিট গ্রুপ এবং এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলে একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পাচার করা অর্থ দিয়ে তারা বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল বাড়ি, শিপিং ব্যবসা, হোটেল ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় বড় বিনিয়োগ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনে, বিদেশে বিনিয়োগ করতে হলে পূর্বানুমতি আবশ্যক। তবে সামিট গ্রুপ এই নিয়ম না মেনে অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিটের পক্ষ থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে তারা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে ভিলা, অ্যাপার্টমেন্ট, বিলাসবহুল হোটেল ও বিপণিবিতান প্রতিষ্ঠা করেছে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০২৪ সালের তালিকা অনুযায়ী, আজিজ খান বর্তমানে সিঙ্গাপুরের ৪১তম ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমাণ ১.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজিজ খান সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তার পরিবারের সদস্যরাও একই দেশের নাগরিক।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে আজিজ খানের নাম উঠে আসে। তবে সে সময় দুর্নীতির অভিযোগে কার্যকর তদন্ত শুরু হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর পুনরায় তদন্ত শুরু হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমতি না নেওয়া এবং ব্যাংক চ্যানেলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ পাঠানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের পাচারের মাধ্যমে দেশে আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন কমে যাচ্ছে।

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি পরিবারের সদস্য। তার ভাই ফারুক খান ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী। এছাড়া সামিট কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফরিদ খান আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ) প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সামিট গ্রুপ অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রচুর আর্থিক অনিয়ম করেছে। বর্তমান সরকারের উচিত তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া এবং প্রকৃত তদন্ত নিশ্চিত করা।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠানকে বৈধভাবে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সামিট গ্রুপের বিপুল বিনিয়োগ কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো তথ্য নেই। সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্র অনুসারে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নুরের হুঁশিয়ারি: মানবিক করিডরের নামে ‘খাল কেটে কুমির’ আনবেন না

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের জন্য প্রস্তাবিত মানবিক করিডরের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, মানবিক করিডরের আড়ালে যেন দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্র না ঘটে এবং “খাল কেটে কুমির” যেন না আনা হয়।

শনিবার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর রাজারবাগ বাসস্ট্যান্ডে গণ-অধিকার পরিষদ আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নুর বলেন, “জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যাদের উৎখাত করা হয়েছে, সেই চাঁদাবাজ ও দখলদারদের প্রভাব এখনো সর্বত্র বিদ্যমান। এসব চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ও সমিতি ভেঙে দিতে হবে।”
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে হস্তান্তরের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। মানবিক করিডরের নামে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।”

সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, “জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ নেতা হতে পারেন না। কেবল সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে হবে না, আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।”

অন্য বক্তারা বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধ উপেক্ষা করে রাজনীতি করা চলবে না। সংস্কারের নামে বহুত্ববাদ কিংবা পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাজনীতি করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
তারা আরও বলেন, “শেখ হাসিনাকে সরানো হয়েছে দিল্লির দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য, কিন্তু সেই সুযোগে আমেরিকার তাঁবেদারি মেনে নেওয়া যাবে না।”

গণ-অধিকার পরিষদের নেতারা দেশের সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান জানান।




জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ চান তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ দ্রুত ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত শনিবার (১৭মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে এনডিএমের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ বক্তব্য রাখেন।

তারেক রহমান বলেন, “পরিস্থিতি অযথা ঘোলাটে না করে জাতীয় নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করুন। জনগণের ভোটে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে পতিত স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করা সহজ হবে না।”

তিনি জানান, বিএনপিসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো বহুদিন ধরেই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার এখনো সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করে বরং এটিকে “অল্প সংস্কার বনাম বেশি সংস্কার” শর্তের মধ্যে আটকে দিয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণ সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছে।

তিনি বলেন, “মাত্র ১০ মাসের মাথায় সরকারের ভেতরে ও বাইরে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন না করলে এই অস্থিরতা আরও বাড়বে, যা সরকারের জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”

তারেক রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে কতজন শহীদ হয়েছেন বা আহত হয়েছেন—সেই তালিকা সরকার এখনো দিতে পারেনি। এতে প্রশ্ন জাগে সরকার কি তাদের প্রতি উদাসীন, না কি ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন?”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “করিডোর কিংবা বন্দর দেওয়া না দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের নয়। এই সিদ্ধান্ত আসবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ থেকে।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি সংস্কার শুরু করায় রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে চলতি অর্থবছরে বিশাল রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

অনুষ্ঠানে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, মহাসচিব মমিনুল আমিন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




হত্যার হুমকি পেলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আখতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে ডাকযোগে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে হত্যা ও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ১৬ মে তারিখে চিঠিটি আখতার হোসেনের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এই ঘটনার খবর তিনি নিজেই শনিবার রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এতে তিনি জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি ‘বুলেট’ ছদ্মনামে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন।

আখতার হোসেন বলেন, চিঠিটি আমার বড় ভাইয়ের হাতে পৌঁছায় স্থানীয় ডাকপিয়নের মাধ্যমে। চিঠি পড়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হামলা চালিয়ে খুন করা হবে, নানাভাবে ঝামেলায় ফেলা হবে। এমন হুমকি শুধু তাকেই নয়, তার পরিবার-পরিজনকেও লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে আখতার হোসেন আরও লিখেছেন, তিনি অতীতে বেশ কয়েকবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও বেঁচে ফিরেছেন। মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই তিনি সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করে গেছেন এবং আগামীতেও থেমে যাবেন না। তিনি বলেন, ‘বোনাস লাইফ লিড করতেছি। মৃত্যু কয়েকবার কাছে এসে ফিরে গেছে। মরতে হতে পারে জেনেও প্রতিবাদে পিছপা হইনি, কখনো হবো না। ইন শাআল্লাহ। আল্লাহ ভরসা।’

চিঠির প্রেরক এবং হুমকির উৎস এখনো অজ্ঞাত হলেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা ভাবছেন বলেও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় রাজনীতির অঙ্গনে এবং আখতার হোসেনের অনুসারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি বিবেচনায় এনইসি বৈঠক আজ

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদনের লক্ষ্যে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও এনইসি চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রস্তাবিত এডিপির মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন যোগ হলে সামগ্রিক এডিপির আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৭১ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, এবারের খসড়া এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বা ৬.৪৮ শতাংশ বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল এডিপি ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত হয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায়।

নতুন এডিপিতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৯৭৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপরে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি (৩২,৩৯২.২৬ কোটি), শিক্ষা (২৮,৫৫৭.৪৩ কোটি), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা (২২,৭৭৬.৪০ কোটি), ও স্বাস্থ্য খাত (১৮,১৪৮.১৪ কোটি টাকা)। এই পাঁচটি খাত মিলে বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।

শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • স্থানীয় সরকার বিভাগ: ৩৬,০৯৯ কোটি টাকা
  • সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ: ৩২,৩২৯.৫৭ কোটি টাকা
  • বিদ্যুৎ বিভাগ: ২০,২৮৩.৬২ কোটি টাকা
  • মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ: ১৩,৬২৫.৩ কোটি টাকা
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়: ১২,১৫৪.৫৩ কোটি টাকা
  • স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ: ১১,৬১৭.১৭ কোটি টাকা
  • প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়: ১১,৩৯৮.১৬ কোটি টাকা
  • নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়: ৯,৩৮৭.৬২ কোটি টাকা
  • পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়: ৮,৪৮৯.৮৬ কোটি টাকা
  • রেলপথ মন্ত্রণালয়: ৭,৭১৪.৯৯ কোটি টাকা

নতুন এডিপিতে মোট ১,১৭০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকছে। এর মধ্যে ৯৯২টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৯টি সম্ভাব্যতা যাচাই, ৯৯টি কারিগরি সহায়তা এবং ৬০টি সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি পিপিপি পদ্ধতিতে ৭৯টি প্রকল্প এবং জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ২২৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এছাড়া, ২৫৪টি প্রকল্পকে আবশ্যিকভাবে সমাপ্ত করার লক্ষ্যও নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এডিপি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গ্রেফতার জেবুন্নেছা আফরোজ

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর ঢাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি শনিবার (১৭ মে) গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।

ডিবি জানায়, গ্রেফতারের পর জেবুন্নেছাকে তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

জেবুন্নেছা আফরোজ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১০ম জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। তার স্বামী শওকত হোসেন হিরন ছিলেন ওই আসনের আগের সংসদ সদস্য এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য হয়। এরপর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে জয়ী হন জেবুন্নেছা আফরোজ। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও, গত কয়েক বছরে তার বিরুদ্ধে বরিশালে একাধিক মামলা হয়। বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে তার নাম আসামি হিসেবে উঠে আসে।

এমন অবস্থায় তার গ্রেফতার বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করছেন, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, গ্রেফতার হয়েছে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই।

এ বিষয়ে জেবুন্নেছা আফরোজের পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনজীবীরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে জামিন আবেদন ও আইনি সহায়তা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম