ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে নগর ভবন ঘেরাও

ইশরাক হোসেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বৈধ মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার শত শত সমর্থক। সোমবার (১৯ মে) সকাল থেকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেছেন, যা চলবে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।

সমর্থকরা নগর ভবন ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে করে নগর ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর আগেও গত ১৪ মে থেকে চলমান অবস্থান কর্মসূচির কারণে অফিস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী ও দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে ইশরাককে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। তবে গেজেট প্রকাশের পরও এখনো ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

ইশরাকের সমর্থকদের দাবি, বৈধ মেয়র হিসেবে তিনি যে দায়িত্ব গ্রহণে অধিকারী, তা নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেটেই স্পষ্ট। অথচ বারবার দাবি জানানোর পরও তার শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছে—যা অযৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নগর ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ইশরাক হোসেনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও তার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।




সন্ধ্যার পর আতঙ্কের আরেক নাম: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে অবস্থিত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, যেখানে ১৯৭১ সালের বিজয়ের আত্মসমর্পণের সাক্ষী হয়েছিলেন লাখো মানুষ, সেই উদ্যান আজ যেন রাত নামলেই হারিয়ে ফেলে তার ইতিহাসের মাহাত্ম্য। অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বদলে যায় অপরাধের এক জগতে, যেখানে মাদক, ভয়, এবং অনাচার দাপটের সাথে রাজত্ব করে।

সন্ধ্যার পরই পাল্টে যায় উদ্যানের চেহারা। মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু করে কালীমন্দিরের পাশ, চারুকলার গেট থেকে লেকপাড়—সব জায়গায় শুরু হয় মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা। গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে কেনাবেচা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ছিনতাই, ব্ল্যাকমেইল, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং অসামাজিক কার্যকলাপ।

এই অপরাধচক্র এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে যে, সাধারণ পথচারী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সন্ধ্যার পর এই এলাকাগুলো এড়িয়ে চলেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, “সন্ধ্যার পর চারপাশে কেবল ধোঁয়ার গন্ধ আর সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যায়। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে।” এমন পরিস্থিতিতে আবাসিক শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পথচারী, এমনকি হাসপাতালের রোগী ও দর্শনার্থীরাও পড়ছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি, মঙ্গলবার রাতে। দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ হারান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য। তার মৃত্যুর পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—উদ্যানটি কেবল অপরাধপ্রবণ এলাকাই নয়, বরং প্রাণঘাতীও হয়ে উঠছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উদ্যানের গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন টিএসসি-সংলগ্ন গেট, মন্দির এলাকা, ভিআইপি গেট, মুক্তমঞ্চ এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের পেছনের অংশে সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। এসব জায়গা অপরাধীদের দখলে চলে গেছে। স্থানীয় রিকশাচালক বলেন, “গাঁজা কিনতে ছাত্র, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক সবাই আসে। এক পুরিয়া ১০০ টাকা।” তিনি আরও জানান, রাত নামলেই মুক্তমঞ্চে গাঁজার আসর বসে।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর উদ্যানের ‘নিয়ন্ত্রণ’ও বদলেছে। আগে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন নতুন গোষ্ঠী জায়গা দখল করেছে, যারা ব্যবসার জন্য চাঁদা আদায় করছে।

এই পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। উদ্যান ঘুরতে আসা আসমা বেগম বলেন, “এত সুন্দর একটা জায়গা অপরাধীদের দখলে যেতে দিতে পারি না।” আল আমিন নামে আরেকজন বলেন, “সিসিটিভি, পর্যাপ্ত আলো, টহল এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া কিছুতেই পরিবেশ পাল্টাবে না।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে উঠেছে মাদক ও চাঁদাবাজির আখড়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এসব অপরাধের নীরব বা সক্রিয় অংশীদার।”

এই ঐতিহাসিক উদ্যান রক্ষার জন্য প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ। উদ্যানজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলো, নিয়মিত পুলিশি টহল, এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একইসাথে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নাগরিক সমাজের সচেতন ভূমিকা।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কেবল একটি পার্ক নয়—এটি আমাদের জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই উদ্যানকে নিরাপদ, সুন্দর ও সম্মানজনক স্থানে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।




নির্বাচন ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলম্বের যৌক্তিকতা নেই: আমীর খসরু 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে অকারণে সময়ক্ষেপণ করে দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই, বরং আগামী আগস্ট-অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।

গত রোববার (১৮ মে) রাজধানীর বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের প্রস্তুতির সময় দরকার হয়। তাহলে কেন ডিসেম্বর পর্যন্ত যাওয়া হবে?”

তিনি আরও বলেন, জাতি এখন গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। “দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, কেউ জানে না। সবাই মিলে স্বৈরাচার বিদায় করেছে, কিন্তু তার পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হয়নি।”

সরকারকে অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “এই সরকারের কাজ হওয়া উচিত ছিল একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা। কিন্তু তারা যেন একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে কাজ করছে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বন্দর, করিডোর বা বিনিয়োগ সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা কোথায়?” পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র-সংক্রান্ত আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

“আদালতের আদেশ যদি মানা না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাদের স্বার্থে কাজ করছে, সেটাও এখন প্রশ্নের মুখে,” বলেন আমীর খসরু।

সরকারের কথিত সংস্কার ও ঐকমত্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঐকমত্য কোথায় এবং কাদের সঙ্গে হচ্ছে—তা স্পষ্ট নয়।”

স্থিতিশীল সহাবস্থানের রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, “বাংলাদেশে আমরা সংঘর্ষমূলক রাজনীতি চাই না। যারা এটি ভিন্ন পথে নিতে চায়, তাদের আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করব।”

তিনি আরও জানান, “ভবিষ্যতের সব নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। নির্বাচন যেন একটি নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয়।”

এ সময় তিনি দাবি করেন, “দুই মাস আগে বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে লিখিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার এ নিয়ে নাটক করছে—এটি জনগণের মনে প্রশ্ন তুলেছে।”




নগর ভবন ব্লকেডে অচল দক্ষিণ সিটি, সেবা কার্যক্রম বন্ধ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে।আজও (১৯মে) সোমবার সকাল থেকে নগর ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেন। এতে নগর ভবনের সকল সেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর গেজেট প্রকাশিত হলেও এখনো ইশরাক হোসেনকে শপথ পাঠ করানো হয়নি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নগর ভবনের সামনে আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকাবাসীর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা নগর ভবনের সামনে জড়ো হন। ব্লকেডের কারণে নগর ভবনের ভেতরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সেবাগ্রহীতা প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে দক্ষিণ সিটির সব ধরনের সেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, “নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়। কিন্তু তৎকালীন মেয়র তাপস প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি থামানোর চেষ্টা করেন।” তিনি বলেন, “আমরা আদালতের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি এবং আদালতের রায়ে জয়ী হয়েছি। এখন শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়া মানে আদালত অবমাননা।”

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হন। তবে গত ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে ইশরাককে বৈধ বিজয়ী ঘোষণা করে। এরপর ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে গেজেট প্রকাশের জন্য পরামর্শ চায়। কিন্তু এখনো শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

চলমান আন্দোলনের কারণে নগর ভবনের কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে এবং নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন ভুক্তভোগী নাগরিকরা।




“ডিসেম্বরের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে যমুনামুখী লংমার্চ”

“ডিসেম্বরের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে যমুনামুখী লংমার্চ”

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আপনি কি চান নির্বাচনের জন্য আপনার সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হোক? এ দেশের জনগণ যমুনামুখী লংমার্চ করুক?” তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আপনার একমাত্র ম্যান্ডেট হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। ডিসেম্বরের মধ্যেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।”

শনিবার বিকালে খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে ‘তারুণ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা’ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার প্রধানকে উদ্দেশ্য করে সালাউদ্দিন বলেন, “আপনি অবলীলায় বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর, নদীবন্দর এবং করিডর বিদেশিদের কাছে কীভাবে হস্তান্তর করছেন? আপনি কোন এখতিয়ারে এসব চুক্তি করছেন?”

তিনি আরও বলেন, “আপনার সরকার একজন বিদেশি নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেই বিদেশির কাছে দেশের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য রিপোর্ট করা হবে—এটা আপনি কীভাবে ভাবলেন? এটা দেশের জন্য ভয়াবহ ষড়যন্ত্র, যা আমরা হতে দেব না। আমরা এই বিদেশি নিরাপত্তা উপদেষ্টার অপসারণ দাবি করছি।”

এছাড়া সরকারের মধ্যে থাকা এনসিপির দুইজন প্রতিনিধিকে নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেন। বলেন, “আপনি যদি সত্যিই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চান, তাহলে সরকারে থাকা এনসিপি ঘরানার দুইজনকে পদত্যাগ করতে বলুন। তারা সরকারের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করছে।”

প্রধান উপদেষ্টাকে সরাসরি উদ্দেশ করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা বলেছিলাম—এবার যথেষ্ট হয়েছে। এখন নির্বাচনের পথ সুগম করতে যে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করুন। আপনি একবার আশ্বস্ত করেছিলেন, এখন আপনি পিছিয়ে যাচ্ছেন। বিচার ও সংস্কারের অজুহাতে গণতন্ত্রকে বাঁধাগ্রস্ত করবেন না। আপনার দায়িত্বই হলো ডিসেম্বরের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।”




সালিশ শেষে হামলা, বৃদ্ধা রাবেয়ার মৃত্যুতে হত্যা মামলা

বরিশালের কর্ণকাঠী এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

৭০ বছর বয়সী রাবেয়া বেগম সদর উপজেলার কর্ণকাঠী এলাকার মৃত আব্দুল খালেক হাওলাদারের স্ত্রী। তার নাতি জুলহাস খান জানান, পৈত্রিক জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে তার মামা কামাল হাওলাদার প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। প্রতিবন্ধকতা দেন একই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ, তার ছেলে সুজন হাওলাদার (ভূমি অফিস কর্মচারী), ভাই লিজন, নান্টু এবং আরও কয়েকজন।

বিরোধ মেটাতে গত শুক্রবার (১৬ মে) রাতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বসে। কামাল হাওলাদার সালিশের রায় মেনে নিলেও অপরপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

এ হামলায় রাবেয়া বেগম ছাড়াও লিমা বেগম, রুমা বেগম, কামাল হাওলাদার ও জুলহাস খান আহত হন। রাবেয়া বেগমকে গুরুতর অবস্থায় পরদিন সকালে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

১৮ মে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে বরিশাল বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

অভিযুক্ত সুজন হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




১৪ দলীয় জোটকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার দাবি, আইনি নোটিশ

১৪ দলীয় জোট

১৪ দলীয় জোটের সব দলকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করে তাদের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মী পরিচয় দেওয়া হোসাইন মো. আনোয়ারের পক্ষে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগান এই নোটিশটি রোববার (১৮ মে) পাঠান। নোটিশটি পাঠানো হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইন সচিব এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিবের বরাবর।

নোটিশে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ এককভাবে নয়, বরং ১৪ দলীয় জোটের যৌথ সিদ্ধান্তেই দেশে দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও জোটের অন্যান্য শরিক দলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হোসাইন মো. আনোয়ার বলেন, “আওয়ামী লীগ একা দমন-পীড়ন চালায়নি, ১৪ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতায় তারা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জোটের অন্য দলগুলোকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তাই আইনি নোটিশের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।”

নোটিশে আরও বলা হয়, ৭৫ বছরের পুরনো আওয়ামী লীগ ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পালিয়ে যায় এবং বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। অথচ, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে ১৪ দলীয় জোট। যদি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়, তাহলে জোটের অন্যান্য শরিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

নোটিশে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।




বিমানবন্দর থেকে আটক, ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হলো নুসরাত ফারিয়াকে

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে ভাটারা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

রবিবার (১৮ মে) দুপুরে থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়। পরে ভাটারা থানার একটি মামলার ভিত্তিতে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “নুসরাত ফারিয়াকে ভাটারা থানার একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ফারিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, তিনি ওই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। মামলায় তাকে ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, “তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর প্রক্রিয়াগতভাবে থানায় হস্তান্তর করা হয়। গ্রেফতার দেখানো হবে কি না, তা তদন্ত ও পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হবে। আপাতত তাকে আটক রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে নুসরাত ফারিয়ার কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে কোরবানির গরুর অতিরিক্ত সরবরাহ, বিদেশি পশুর প্রয়োজন নেই

আসন্ন কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিভাগে কোনো পশু সংকট দেখা দেবে না। বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু মজুত থাকায় এ বছর উদ্বৃত থাকবে প্রায় ৬৫ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু। ফলে এবার স্থানীয় পশুই কোরবানির বাজারে প্রধান ভরসা হবে, বিদেশি গরুর প্রয়োজন পড়বে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ৬টি জেলায় প্রায় ২৭ হাজার খামারি কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৮টি পশু। আর ঈদের সময় এই বিভাগে পশুর চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫২টি। চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত রয়েছে ৬৫ হাজার ২৯৬টি পশু।

বিভিন্ন খামারে দেশি জাতের পাশাপাশি রয়েছে সাহিওয়াল, দেশাল, আরসিসি, নেপাল, ফিজিয়ান, অস্ট্রেলিয়ান ও পাকিস্তানি সাহিওয়াল জাতের গরু। এইসব গরুর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৬১টি ষাঁড়, বলদ ও গাভি মিলিয়ে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৭টি। এছাড়াও রয়েছে ৯ হাজার ৪০৬টি মহিষ, ১ লাখ ১২ হাজার ৪৬টি ছাগল ও ১২ হাজার ২৭৪টি ভেড়া।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. লুৎফর রহমান জানান, কোরবানির আগে পশুতে হরমোন বা কৃত্রিম মোটা করার উপকরণ ব্যবহার রোধে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। প্রতি পশুর হাটে থাকবে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম ও মনিটরিং ইউনিট, যারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ নিরাপদ কোরবানির নিশ্চয়তা দেবে।

এ বছর বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় বসবে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোরবানির পশুর হাট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় দেড় শতাধিক ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম নিয়োজিত থাকবে পশুর সুস্থতা পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায়।

খামারিরা জানিয়েছেন, গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও দেশি গরুর চাহিদা এবং দাম ভালোই থাকবে যদি ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ না ঘটে। অনেক খামারি ইতোমধ্যে পশু বিক্রি শুরু করেছেন, আবার অনেকেই অপেক্ষা করছেন হাট শুরু হওয়ার।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে তারেক আল ইমরান

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট তারেক আল ইমরান। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি রোববার দুপুরে নিশ্চিত করা হয়।

গত ১৭ মে তারিখে স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সংগঠনের কার্যক্রমে গতিশীলতা বজায় রাখতে সিনিয়র সহসভাপতি তারেক আল ইমরানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

এর আগে, গত ২৭ মার্চ বরিশাল জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি মাহফুজ আলম মিঠুকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক পদ থেকে তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ কর্মীকে বালুমহালের ইজারা পাইয়ে দিতে এক সেনা সদস্যকে হোটেল কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বরিশাল জেলা ছাত্রদলে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছিল। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক আল ইমরানের নেতৃত্বে সংগঠনটি পুনরায় সক্রিয় ও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /