নির্বাচন ভবনে সতর্কতা, নিরাপত্তা বলয়ে আগারগাঁও

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন ভবন এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সামনে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভবনের সামনের রাস্তায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

ইসি কর্তৃক বিএনপি সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করায় এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এনসিপি। দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে এবং তারা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে গঠিত কমিশনের পুনর্গঠনের দাবিও জানিয়েছে।

নির্বাচন ভবন এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।নিরাপত্তা রক্ষার্থে  ইসির সামনে পুলিশ, র‍্যাব থেকে শুরু করে উপস্থিত রয়েছে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।




“উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে পদত্যাগের আহ্বান ইশরাকের”

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইশরাক হোসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বুধবার (২১ মে) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

ইশরাক লিখেছেন, গণতান্ত্রিক চেতনা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে তিনি উপদেষ্টা দু’জনকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের অনুরোধ করছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই দুই উপদেষ্টার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট এবং ভবিষ্যতে তারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে তাদের দায়িত্বে থাকা উপযুক্ত নয় বলেই মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের পদত্যাগ অযৌক্তিক নয় বরং এটি বর্তমান সরকারের নিরপেক্ষতা প্রমাণে সহায়ক হবে।” ইশরাক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের উদাহরণ টেনে বলেন, নাহিদ ইসলাম মন্ত্রিত্ব ছাড়ার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইভাবে অতীতে সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহরাও রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছিলেন মন্ত্রিত্বের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও।

ইশরাক হোসেনের মতে, উপদেষ্টা পদে থেকে দলীয় সুবিধা দেওয়া না দেওয়ার প্রশ্নই উঠে আসে এবং এ ধরনের অবস্থানে থেকে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকা বাস্তবসম্মত নয়। “কাঁঠাল ভাঙবে আপনাদের মাথায়, খাবে কিন্তু অন্য সবাই”—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা তুলে ধরেন।

নিজেকে নিয়েও ইশরাক বলেন, “আমার বিরুদ্ধেও সমালোচনা হয়েছে, কিন্তু আমার কোনো বিকল্প ছিল না। আমি জনগণকে বোঝাতে চেয়েছি কোন পথে ভুল হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ‘ভুল পলিসির’ শিকার হয়েছেন এবং আইনের পথ মেনে না চললে দেশ সংস্কার অসম্ভব।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “বন্দোবস্ত তো আগেরটাই অনুসরণ হচ্ছে, আরও পাকাপোক্ত করা হচ্ছে বললেও ভুল হবে না। আপনাদের পদত্যাগের দাবি থেকে সরার কোনো সুযোগ নাই। আপনারাই বা কেন থাকতে চাচ্ছেন?”

এই পোস্টে ইশরাক হোসেন স্পষ্টভাবে সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনরত রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগের মাধ্যমে রাজনৈতিক নৈতিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন।




জনপ্রতিনিধি না থাকায় দুর্ভোগ, ইসির সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা এনসিপির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার(২০ মে) রাতে দলটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশে জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, “আমরা অনতিবিলম্বে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এই দাবিতে আগামীকাল (২১ মে) বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “‘ইশরাক হোসেন বনাম শেখ ফজলে নূর তাপস গং’ মামলাটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে, যেখান থেকে দেখা যাচ্ছে সারাদেশে অবৈধভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছেন।” এই সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনই একমাত্র কার্যকর সমাধান বলে দাবি করেন আখতার হোসেন।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি ‘ফ্যাসিবাদী আইনে গঠিত পক্ষপাতদুষ্ট’ সংস্থা, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে অক্ষম বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।




“নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি এনসিপির”

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতির জন্য দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন জরুরি হলেও বিদ্যমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচন কমিশন সংস্কার প্রস্তাব আমলে নেয়নি। তাদের গঠন প্রক্রিয়াতেই ত্রুটি রয়েছে। ফলে প্রথমে কমিশনকে পুনর্গঠন করে তবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথে অগ্রসর হওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, নতুন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ লক্ষ্যে দ্রুত কমিশন পুনর্গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচন পেছানোর পক্ষে নয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বলিনি জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হবে। তবে তারিখ ঘোষণা করে সবাইকে আশ্বস্ত করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে। আমাদের সে বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই।”

এনসিপি আহ্বায়ক জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে জাতীয় নির্বাচনকে পরিকল্পিতভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত যে সময় দিয়েছেন, সেটি আমরা সমর্থন করেছি। এরমধ্যে নির্বাচন হতে পারে, তবে বিচার ও সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।”

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, গণপরিষদ ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের দাবিও তারা আগেই জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নতুন কোনো দাবি নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




বরগুনায় বাস থেকে ২৬ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ

বরগুনার আমতলী উপজেলার মানিকঝুরি এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ২৬ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, তালতলী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস “মিজান পরিবহন”-এ করে অবৈধভাবে সামুদ্রিক মাছ পাচার করছিল একটি চক্র। বেশ কিছুদিন ধরেই তারা এই রুটে নিয়মিতভাবে মাছ পাচার করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খানের নেতৃত্বে, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস এবং পুলিশ প্রশাসনের যৌথ অভিযানে বাসটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের ভেতর ও বাঙ্কার থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ, লইট্যা, টাইগার চিংড়ি, সাদা চিংড়ি এবং ভুলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে জব্দ করা মাছ আমতলী উপজেলা পরিষদের সামনে এনে নিলামে ৭৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এছাড়া কিছু মাছ হতদরিদ্র পরিবার এবং স্থানীয় এতিমখানার শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

আমতলীর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস বলেন, “নিষিদ্ধকালীন সময়ে সমুদ্র থেকে অবৈধভাবে আহরণকৃত এই বিপুল পরিমাণ মাছ পাচার রোধে আমরা নিয়মিত নজরদারি করছি। আজকের অভিযান তারই অংশ।”

এ বিষয়ে আমতলীর ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খান জানান, “আমরা পাচারের পথ রুখে দিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা এবং পুলিশের টহল বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




স্টারলিংক ইন্টারনেট: বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগে আসছে নতুন যুগ

স্টারলিংক

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক আগামী ৯ এপ্রিল দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। সফলভাবে পরীক্ষার পর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু হবে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পরিচালিত স্টারলিংক সেবাটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেবায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে, যেখানে এখনো ফাইবার অপটিক পৌঁছায়নি, সেখানেও সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে করে ডিজিটাল বৈষম্য অনেকটাই ঘুচে যেতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ করপোরেট সংস্থা, ই-কমার্স এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্টারলিংকের মূল গ্রাহক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেলিকম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারলিংক শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাই বদলাবে না—এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট বাজারে যে একচেটিয়া মনোপলি ব্যবসা চলে আসছে, স্টারলিংক তার অবসান ঘটিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

তবে স্থানীয় ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (ISP) প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকে বলছেন, তারা এখনই কোনো চাপ অনুভব করছেন না। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতায় কিছু আইএসপি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকরা উচ্চমানের ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং এবং ভিডিও কলিং-এর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন। যদিও খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে, তবুও উন্নত গতি ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের কারণে অনেকেই এই সেবার প্রতি আকৃষ্ট হবেন।

সব মিলিয়ে, স্টারলিংকের আগমন বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে গ্রাম ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষরা নতুনভাবে যুক্ত হতে পারবেন ডিজিটাল বিশ্বে। এটি হতে পারে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।




অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার সক্রিয়: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

অর্থনীতির চাকা সচল করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, অতীত সরকারের সময় থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে বেকারত্ব বেড়েছে। তবে অর্থনীতি মেরামতের প্রক্রিয়া সফলভাবে এগোলে সরকার আরও বড় আকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হবে।

আজ মঙ্গলবার (২০ মে) বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। “বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ফলাফল শীর্ষক প্রচার ও তথ্য উপস্থাপন” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, বরিশাল অঞ্চলের মানুষ মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নদীতে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। সেই সঙ্গে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি না থাকায় উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় সরকার কৃষিখাত সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী কৃষিতে মনোনিবেশ করলে উৎপাদন বাড়বে এবং বেকারত্ব হ্রাস পাবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বরিশালের শিল্পায়নে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এরই অংশ হিসেবে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন বিশিষ্ট একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প জরুরি ভিত্তিতে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরিশালের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. সোহরাব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মইনুল হক আনছারী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং বিভাগীয় পরিসংখ্যান অফিসের যুগ্ম পরিচালক শহীদুল ইসলাম।

পরে পরিকল্পনা উপদেষ্টার সঙ্গে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও উন্নয়ন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“ইশরাকের শপথে বাধা, অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করলেন রিজভী”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, আদালতের রায় সত্ত্বেও ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে শপথ নিতে বাধা দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, “সরকার গায়ের জোরে ইশরাককে মেয়র হতে দিচ্ছে না। চট্টগ্রামে ডা. শাহাদাত মেয়র হতে পারলে, ইশরাক কী অপরাধ করেছে?”

মঙ্গলবার (২০ মে) রাজধানীর খিলক্ষেতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত রাকিবুল হাসানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আহত রাকিবুল হাসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল খিলক্ষেত যান। এ সময় তারা রাকিবুলের মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন। দলের পক্ষ থেকে রাকিবুলের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

রিজভী আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বয়স কম। হঠাৎ গুরুতর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেয়ে যাওয়ায় তার কথাবার্তায় ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত দায়ীদের এখনও বিচারের আওতায় আনা হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কাজের চেয়ে অকাজই বেশি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আবাসনের দাবিতে যমুনার সামনে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে পুলিশ দিয়ে তাদের অসম্মান করা হয়েছে। শেখ হাসিনাও অতীতে পুলিশ ব্যবহার করে নির্যাতন চালিয়েছেন।”

সভাপতিত্ব করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টা আশরাফ উদ্দিন বকুল, মো. আবুল কাশেম, মোস্তফা-ই-জামান সেলিম এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




উপদেষ্টা আসিফের বক্তব্যের জবাব দিলেন ইশরাক হোসেন

বিএনপি নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তাঁর শপথ ও মেয়াদ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দেওয়া ১০টি যুক্তির জবাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ইশরাক এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, “সরকারি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ মিথ্যা তথ্য ও আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। আমি তার তথাকথিত ১০টি পয়েন্টের যুক্তিসমূহের জবাব দিচ্ছি।”

➤ আসিফের যুক্তিগুলোর জবাবে ইশরাক যা বললেন:

  1. আর্জি সংশোধন ও আদালতের রায়:
    আসিফের দাবি ছিল, হাইকোর্টের রায় লঙ্ঘন করে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জবাবে ইশরাক বলেন, “আর্জি সংশোধন ‘অর্ডার ৬, রুল ১৭’ অনুযায়ী আইনসিদ্ধ। হাইকোর্টের অবজারভেশন কোনো বাধ্যতামূলক আদেশ নয়।”
  2. একতরফা রায় অভিযোগ:
    ইশরাক জানান, “এই রায় একতরফা নয়। সাবেক মেয়র তাপস এই মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং জবাবও দিয়েছেন।”
  3. গেজেট প্রকাশ ও লিগ্যাল নোটিশ:
    তিনি ব্যাখ্যা করেন, “রায়ে বলা হয়েছিল ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তাই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে রাত ১০টায় তা প্রকাশ করা হয়। আর যারা লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভোটার নন।”
  4. স্থানীয় সরকার বিভাগের ভূমিকা:
    “স্থানীয় সরকার বিভাগ এই মামলার পক্ষ নয়। তাদের কাজ হলো নির্বাচন কমিশনের আদেশ বাস্তবায়ন করা।”
  5. রিট ও শপথ:
    “কোনো রিট মামলার কারণে শপথ স্থগিত থাকে না,” বলেন ইশরাক।
  6. বরিশাল মামলার প্রসঙ্গ:
    ইশরাক দাবি করেন, “বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে সময়মতো কোনো মামলা হয়নি, তাই ট্রাইব্যুনাল আবেদন খারিজ করে দেয়।”
  7. মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা:
    “মেয়াদ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন অপারগ হলে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে।”
  8. আইনি জটিলতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চিঠি:
    “নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে— যা খুবই উদ্বেগজনক।”
  9. আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত:
    “তারা কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টি করে মেয়র হতে বাধা দিতে চাইছে,” অভিযোগ করেন ইশরাক।
  10. আওয়ামী আমলের নির্বাচন:
    “আমি তাপসের মেয়র প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করেছি এবং আদালত সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আমাকে মেয়র ঘোষণা করেছে। এটা আওয়ামী আমলের নির্বাচন বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন নয়।”

শেষে ইশরাক হোসেন বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। যারা নির্বাচন ও আদালতের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করছেন, তারা জনগণের রায় মানতে নারাজ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কটুক্তি, সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

ফেসবুকে একজন খ্যাতিমান বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী হলেন পাঁচটি সম্মাননা পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. মজিবুর রহমান মাঝি। মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠী এলাকার তুহিন ফকির ওরফে টিএম তুহিন, গোরক্ষডোবা গ্রামের সজিব মাঝি এবং তাঁরাকুপি গ্রামের পপি ও তার স্বামী আজমল সিদ্দিকী সোহাগ।

সোমবার (১৯ মে) বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দাখিল করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী এইচ এম মিজানুর রহমান পিকু জানান, বিচারক গোলাম ফারুক মামলাটি আমলে নিয়ে গৌরনদী থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মো. মজিবুর রহমান মাঝি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালে কুর্মিটোলা ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে পালিয়ে ৯ নম্বর সেক্টরে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর তিনি কর্পোরাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ১৯৮১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে শুধু মজিবুর রহমান মাঝিকে নয়, বরং গোটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অপমান করেছে। অভিযোগে বলা হয়, পপি ও তার স্বামীর প্ররোচনায় তুহিন ফকির ও সজিব মাঝি তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক অশ্লীল, মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট করেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, “মামলার কপি এখনো হাতে পাইনি। কপি পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /