“বিদেশে চিকিৎসা নয়, জনপ্রতিনিধিদের দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে: রুমিন ফারহানা”

দেশের স্বাস্থ্য খাতের শোচনীয় অবস্থার জন্য ‘গলদ রাজনীতি’কে দায়ী করে জনপ্রতিনিধিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘যুবদের সংস্কার ভাবনা: কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের ধারণা, এই দেশে তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। নির্বাচিত হওয়ার পরই তারা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আইন করেই এটা নিশ্চিত করতে হবে।”

নিজ নির্বাচনী এলাকার হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি—ডাক্তার নেই, নার্স নেই, সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাব চরম। এটি গলদ রাজনীতির ফল। আইন করে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা হলে ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।”

শুধু জনপ্রতিনিধিদেরই নয়, তাদের সন্তানদেরও দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার বাধ্যবাধকতা করার প্রস্তাব দেন তিনি। রুমিন বলেন, “আমি বা আমার মা-বাবা কখনো বিদেশে চিকিৎসা নিইনি। গত ২৫ বছর ধরে এই সেক্টরের সঙ্গে জড়িত। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই অকার্যকর নয়। কিন্তু ডাক্তারদের ওপর চাপ বেশি, বেতন কম, সুযোগ-সুবিধা নেই।”

তিনি অভিযোগ করেন, “একজন ডাক্তারকে ২০ হাজার টাকা বেতনে ২৪ ঘণ্টা খাটানো হলে ভালো সেবা আশা করা যায় না। চিকিৎসা একটি দলগত কাজ—এখানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও যন্ত্রপাতির মান গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু ঠিক না থাকলে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সম্ভব নয়।”

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “২০২৫ সালের বাজেটে শিক্ষা খাতে তিন হাজার কোটি টাকা ও স্বাস্থ্য খাতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এতে যথাক্রমে ৯১টি শিক্ষা প্রকল্প ও ৩৫টি স্বাস্থ্য প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা যদি দুর্নীতির পরিবর্তে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো, তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।”

তিনি আরও বলেন, “জিডিপির এক শতাংশও আমরা স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করি না। চিকিৎসক, নার্স এবং যন্ত্রপাতির ঘাটতি নিয়ে আমরা বিশ্বমানের সেবা চাই—তা বাস্তবসম্মত নয়।”

রুমিন ফারহানা হাসপাতালগুলোতে রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাকেও দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, “অন্যসব ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর নির্ভর করলেও হাসপাতালে মৃত্যুর পর ভাঙচুর ও ডাক্তারদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।”

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আরও অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও অধ্যাপক লিয়াকত আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী।




“বাংলাদেশ ছাড়া আমার আর কোনো নাগরিকত্ব নেই”: খলিলুর রহমান

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, তার একমাত্র নাগরিকত্ব বাংলাদেশের এবং তার কোনো বিদেশি পাসপোর্ট নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করাকে ভিত্তি করে তাকে ‘বিদেশি নাগরিক’ বলা অনুচিত।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খলিলুর রহমান বলেন, “আমার একটাই জাতীয় নাগরিকত্ব, তা হলো বাংলাদেশের। আমি কিছুদিন আগে পর্যন্ত পরিবারসহ আমেরিকায় ছিলাম, কিন্তু আমার কোনো আমেরিকান পাসপোর্ট নেই। আমি বাংলাদেশের নাগরিক, অন্য কোনো দেশের না।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমেরিকায় থাকা নিয়ে আমাকে বিদেশি বলা হয়, তাহলে একইভাবে তারেক রহমান সাহেবকেও বলা উচিত। আমি আবেদন জানাব, বুঝেশুনে কথা বলা হোক। আমাকে যেটা নই, সেটা বানানোর চেষ্টা করা হলে তার প্রভাব অন্যদের ওপরও পড়তে পারে।”

নিরাপত্তা উপদেষ্টা সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি কিছু বলতেই হয়, তবে তা তথ্য-প্রমাণসহ বলা হোক। আমি যা নই, দয়া করে আমাকে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে খলিলুর রহমান তার নাগরিকত্ব নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নানা গুঞ্জনের জবাব দেন।




বরগুনায় ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

বরগুনা পৌরসভার পশু হাসপাতাল সড়কে একটি ভাড়া বাসা থেকে রোজী আক্তার (৫৫) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রোজী বরগুনার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চৌমনী গ্রামের বাসিন্দা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি শহরের সাবেক কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন খানের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া উঠেছিলেন।

নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা জানায়, গত ৩-৪ দিন ধরে রোজীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। যোগাযোগ না পেয়ে বুধবার সকাল ১২টার দিকে বাসায় এসে মালিকের সহায়তায় তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে বাথরুমে অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশে খবর দিলে বরগুনা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

নিহতের সাবেক স্বামী মোস্তফা খান জানান, রোজীর কাছে কিছু টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক লেনদেনকে মূল কারণ হিসেবে দেখায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঘিরে তদন্ত চলমান রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পবিপ্রবিতে পরিকল্পনা উপদেষ্টার চমকপ্রদ সফর, উচ্চশিক্ষা ও উন্নয়নে নতুন বার্তা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)-তে আজ ঘটে গেল এক অনন্য মুহূর্ত। হঠাৎ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন ঘটে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের। পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা এলাকা ঘুরে ফেরার পথে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে লেবুখালী হয়ে পবিপ্রবিতে পৌঁছান।

বিকেল ২টা ১৫ মিনিটে আগমনকালে তাঁকে স্বাগত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক এই সফর মুহূর্তেই রূপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য এক গর্বিত স্মৃতিতে।

উপদেষ্টা ড. মাহমুদ ঘুরে দেখেন একাডেমিক ভবন, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, ছাত্রীনিবাস নির্মাণ কার্যক্রম, ছাত্রাবাস, লাল-কমল ও নীল-কমল লেকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। তিনি অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং পরিচ্ছন্নতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ‘মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওসানোগ্রাফি’ বিভাগের পরিকল্পনাকে তিনি সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন।

সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা হয়। উপাচার্য গাইড ওয়াল সংকটসহ লেক রক্ষা এবং চলাচলের ঝুঁকি প্রসঙ্গে জরুরি অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ করেন। এ সময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রার, আইকিউএসি পরিচালকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, “এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলিত পরিবেশ দেখে অভিভূত হয়েছি। প্রান্তিক বলেই কেউ পিছিয়ে থাকবে না—এই বিশ্বাস নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হবে।”

সফরের আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও তাঁর উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-প্রশাসনের মধ্যে জাগিয়ে তোলে নতুন উদ্দীপনা। শিক্ষার্থীরা জানান, এমন একজন জাতীয় নীতিনির্ধারকের উপস্থিতি তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি বরিশালের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। রেখে যান আশার আলো, উন্নয়নের বার্তা এবং একটি প্রান্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আন্তরিক আস্থা ও ভালোবাসা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে পুলিশের হাতকড়াসহ দুই যুবক পলাতক! চলছে চিরুনি অভিযান

বরিশাল নগরীতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা! ইয়াবা সেবনের অভিযোগে আটক হওয়া চার যুবকের মধ্যে দু’জন, মিরাজ (২২) ও রাসেল (২০), পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছে। এ ঘটনা ঘটেছে বুধবার (২১ মে) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ভাটিখানার সাহাপাড়া এলাকায়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউনিয়া থানার এসআই মামুনের নেতৃত্বে একটি দল সাহাপাড়ায় মাদকের আসরে অভিযান চালায়। অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে মিরাজ ও রাসেলকে এক জোড়া হাতকড়ায় আটক করা হয়েছিল, যার এক প্রান্তে একজন করে আটক ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাতকড়াসহ দুই যুবক সুযোগ বুঝে পাশের ঘরবাড়ির ফাঁকা পথ ধরে পালিয়ে যায়। তারা ছিলেন ভাটিখানার স্থানীয় বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, “পালিয়ে যাওয়া দুইজনকে ধরতে অভিযান চলছে। তাদের গ্রেফতারের পর ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।”

এদিকে আটক অন্য দুই যুবক মামুন ও আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। স্থানীয়দের মাঝে এ ঘটনা ঘিরে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ঈদের হিরো প্রতিদিন ৭০ কেজি খাবার খায় ‘ফণী টু’

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামে বেড়ে উঠেছে একটি বিশাল আকৃতির গরু, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফণী টু’। দৈনিক প্রায় ৭০ কেজি খাবার খাওয়া এই গরুটি এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও তার ছেলে মো. শাকিল সুমন।

গরুটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১২ ফুট এবং উচ্চতায় ৬ ফুটের কাছাকাছি। এর ওজন প্রায় ৩০ মণ। ‘ফণী টু’ নামটি এসেছে ২০১৯ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ফণীর স্মৃতি থেকে। স্থানীয়ভাবে লালনপালন করা এই গরুটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যে বড় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিক।

আব্দুস সালাম জানান, “গরুটি আমাদের পল্লি এলাকার একটি গাভির বাচ্চা। তিন বছর ধরে কোনো কেমিক্যাল বা ফিড ছাড়া আমরা এটিকে লালনপালন করেছি। কেউ প্রমাণ করতে পারলে যে গরুটিকে কৃত্রিমভাবে বড় করা হয়েছে, তাহলে বিনা মূল্যে দিয়ে দেব।”

তিনি আরও বলেন, “খামারে আমরা গরুটিকে গমের ভুসি, ভূট্টার গুড়ি, সয়াবিনের খৈল, ছোলা, কলা, খুদ ও ঘাস খাওয়াই। গরমের কারণে সামান্য খাবারের পরিমাণ কমানো হয়েছে।”

শাকিল সুমন জানান, “আমরা গরুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো যত্ন করি। সবসময় ফ্যানের নিচে রাখি, দিনে দু’বার গোসল করাই, রাতে মশারিও দিই। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ক্রেতা এলেও এখনও দরদাম মিলেনি।”

এই বিশাল গরুটির দাম চাওয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। তবে দরদাম নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিএনপিপন্থী উপদেষ্টাদের পদত্যাগ দাবি এনসিপির, নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ

বিএনপিপন্থি বলে অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (২১ মে) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

এনসিপির মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন না হলে এনসিপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না।

তিনি বলেন, “আইন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টারা সরকারের ভেতরে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন। ওয়াহিদউদ্দিন শিক্ষা খাত, সালেহউদ্দিন অর্থনৈতিক খাত এবং আসিফ নজরুল আইন মন্ত্রণালয়কে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। এসব উপদেষ্টাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।”

পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জুলাই ঘোষণাপত্র ইস্যু করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেননি। তিনি বলেন, “আসিফ নজরুল আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি যদি আবার মিথ্যাচার করেন, ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।”

বিক্ষোভে আরও বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে। এনসিপি নেতারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন না হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে পাটওয়ারী বলেন, “এই কমিশন গঠন করা হয়েছে তড়িঘড়ি করে, কোনো ধরনের সার্বজনীন মতামত ছাড়া। তারা জনগণের আস্থা হারিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও দলটির নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন ও সংবিধান এখনো বহাল রয়েছে। তিনি আসিফ নজরুলকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে বলেন, “সরকারি দপ্তরে বেইমানদের জায়গা নেই।”

সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতারা কমিশনারদের পদত্যাগ এবং ইসি পুনর্গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




জাতীয়করণ দাবিতে শিক্ষকদের লংমার্চ, রাস্তায় উত্তেজনা

শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ ও সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূর করার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন শিক্ষকরা।

বুধবার (২১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শিক্ষকরা একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে রওনা হলে প্রেস ক্লাব ও সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেট সংলগ্ন সড়কে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

শিক্ষকদের দাবির মধ্যে রয়েছে— ঈদুল আজহার আগেই শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান, পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাখাতকে জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ।

ব্যারিকেড অতিক্রম করে সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষক-পুলিশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শিক্ষকদের ঘিরে ফেলে।

এসময় শিক্ষক নেতাদের একজন হ্যান্ডমাইকে পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, “দয়া করে আমাদের মারবেন না। আমরা ন্যায্য দাবি নিয়ে যাচ্ছি। আপনারা আমাদের কথা শুনুন। যদি আমাদের দাবি অযৌক্তিক মনে হয়, আমরা ফিরে যাবো। তবে অনুগ্রহ করে গায়ে হাত তুলবেন না।”

প্রায় ২০ মিনিট ধরে শিক্ষকরা ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। পরে পুলিশ তাদের প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে সরিয়ে নেয়, যেখানে তারা স্লোগান অব্যাহত রাখেন।

পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষক প্রতিনিধিদের একটি দলকে সচিবালয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।




নিরাপত্তা উপদেষ্টা: করিডর ইস্যু ভিত্তিহীন, আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে করিডর স্থাপনের বিষয়টি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, করিডর নিয়ে সরকারের কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “করিডর বিষয়টি বুঝতে হবে—এটি একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা, যা দুর্যোগকালে লোকজন সরিয়ে নিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমরা কাউকে সরাচ্ছি না। আরাকানে ত্রাণ পাঠানোর জন্য জাতিসংঘ আমাদের শুধু অনুরোধ করেছে যেন সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চল দিয়ে সহায়তা পাঠানো সম্ভব হয়।”

ড. খলিলুর রহমান জানান, জাতিসংঘ তাদের নিজস্ব সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে রাখাইনে ত্রাণ পৌঁছাবে এবং এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ‘করিডর’ গঠন করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “জাতিসংঘকে জিজ্ঞেস করলেই প্রমাণ মিলবে। করিডর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং হবে না। আরাকানে করিডরের প্রয়োজনও নেই।”

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। “যতদিন আরাকানে অস্থিরতা থাকবে, ততদিন প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গও আসবে না,” বলেন তিনি।

সম্প্রতি করিডর বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “তিনি করিডর শব্দটি বললেও পরে সংশোধন করে ‘পাথওয়ে’ বলেছেন। এটা স্লিপ অব টাং ছিল এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শুধরে নিয়েছেন।”

ত্রাণ সরবরাহের রুট প্রসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, “যদি সব পক্ষ সম্মত হয়, তাহলে সবাই মিলে বসেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোন রুট ব্যবহার করা হবে। তবে আমরা এখনও সে পর্যায়ে পৌঁছাইনি।”

সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো মতপার্থক্য রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই।”

বিদেশি কোনো চাপ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনো চাপ নেই। যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগে আছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, যাতে তারা ফেরত গিয়ে আবার না ফিরে আসে।”




পবিপ্রবিতে হঠাৎ আগমনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ছায়াঘেরা ক্যাম্পাসে বুধবার (২১ মে) বিকেলে সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের আকস্মিক আগমন যেন এনে দেয় অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত।

বেলা ২টা ১৫ মিনিটের দিকে জানা যায়, তিনি কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দর পরিদর্শন শেষে লেবুখালী হয়ে বরিশালে যাচ্ছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পবিপ্রবির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয় আন্তরিক আমন্ত্রণ। সম্মানিত উপদেষ্টা সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে উপস্থিত হন দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র এই শিক্ষাঙ্গনে।

উপাচার্য কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন একাডেমিক ভবন, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, নির্মাণাধীন ছাত্র-ছাত্রীনিবাস, ‘লাল কমল’ ও ‘নীল কমল’ লেকসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে ড. মাহমুদ বলেন, “এই অঞ্চল শিক্ষার বিস্তারে এক অপার সম্ভাবনার ভাণ্ডার। প্রশাসনিক সুশৃঙ্খলতা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ।”

বিশেষ আলোচনায় উঠে আসে আসন্ন ‘মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওসানোগ্রাফি’ বিভাগের উদ্বোধনের প্রসঙ্গ, যা দক্ষিণাঞ্চলের জন্য সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে তিনি প্রশংসা করেন।

উপাচার্য ক্যাম্পাসের লেক রক্ষা ও গাইড ওয়াল নির্মাণে জরুরি বরাদ্দের বিষয়েও তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন। উত্তরে উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আন্তরিক সমর্থনের আশ্বাস দেন।

এই সফরে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এসএম হেমায়েত জাহান, রেজিস্ট্রার ও আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মাঝে এ সফর ছিল এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা। শিক্ষার্থী আফিয়া তাহমিন জাহিন বলেন, “জাতীয় পর্যায়ের একজন চিন্তাবিদের আমাদের ক্যাম্পাসে আগমন আমাদের জন্য গর্বের। তিনি যেভাবে সময় দিলেন, তাতে বোঝা যায়—আমরাও গুরুত্ব পাচ্ছি।”

পরিকল্পনা উপদেষ্টার সফর শেষে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। রেখে যান অনুপ্রেরণা, সম্ভাবনার দিশা ও উন্নয়ন ভাবনার এক উজ্জ্বল আলোকরেখা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম