পিরোজপুরে অপহরণ মামলায় তিনজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. মোক্তাগীর আলম এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ওয়াহিদ হাসান বাবু।

দণ্ডপ্রাপ্তরা কারা

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন:

  • ইলিয়াছ ফকির (৪৩), পিতা আশ্রাব আলী ফকির
  • আবুল ফকির (৪৬), ইলিয়াছের ভাই
  • রুহুল খান (৫০), পিতা আ. ছত্তার খান

তিনজনই ইন্দুরকানী উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় সেউতিবাড়ীয়া প্রফেসার বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়ার সময় রুবেল হোসেন (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে মসজিদ থেকে অপহরণ করা হয়। অভিযুক্তরা রুবেলের মোবাইল ফোন (মূল্য ১৭ হাজার টাকা) এবং পকেটে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর মোটরসাইকেলে করে টগড়া ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে মারধর করে।

খবর পেয়ে পুলিশ রুবেলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর, ঘটনার আট দিন পর রুবেল ইন্দুরকানী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. জাকির হোসেন খান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াহিদ হাসান বাবু বলেন, “আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে আরও তিন মাসের দণ্ড দেওয়া হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক এমপি শম্ভুকে

বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও বিস্ফোরণের মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২২ মে) বরগুনার আদালত এই আদেশ দেন।

সেদিন শম্ভুকে আদালতে হাজির করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কেউ ডিম নিক্ষেপ করেন, আবার কেউ স্লোগানে মুখর করে তোলেন চত্বর।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে। এতে জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের ১৫৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলামের ছেলে নাঈমুল ইসলাম। অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়।

আদালতে শম্ভুর আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন এর বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই মামলার প্রেক্ষাপটে বরগুনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




চরফ্যাশনের দ্বীপে পর্যটন ও অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার

ভোলার চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন চারটি দ্বীপ—ঢালচর, চরকুকরি-মুকরি, চরপাতিলা ও চরমন্তাজে—পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে খুলে গেছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। যাতায়াতে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে এসব দ্বীপে, বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনধারা।

উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরকচ্ছপিয়া লঞ্চঘাট থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯টি লঞ্চ ও ১০টি স্পিডবোট চারটি রুটে যাত্রী পরিবহন করছে। কিছুদিন আগেও যেখানে প্রতিদিন মাত্র ৪টি লঞ্চ চলতো, এখন সেখানে দ্বিগুণেরও বেশি যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে নির্ধারিত সময় ছাড়া লঞ্চ চলতো না, ফলে অনেকেই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতেন না। এখন প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তর লঞ্চ ছাড়ায় যাত্রীদের আর বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে না। ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিপুল পর্যটক চরকুকরি-মুকরির মতো দ্বীপে বেড়াতে আসেন। নতুন লঞ্চ সংযোগে এখন তারা আরও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন।

চরকুকরি-মুকরির বাসিন্দা ফয়েজ ও মঞ্জুরুল আলম বলেন, “আগে মাত্র দুটি লঞ্চ আর কয়েকটি স্পিডবোট থাকায় পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন নতুন লঞ্চ সংযোজনের ফলে যাতায়াতে সময় ও ঝুঁকি—দুটোই কমেছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি জানিয়েছেন, “চরকচ্ছপিয়া ও কুকরি-মুকরি ঘাটে পন্টুন স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মাধ্যমে যাত্রী উঠানামার দুর্ভোগ কমবে এবং পুরো অঞ্চলেই পর্যটন খাতে বড় অগ্রগতি আসবে।”

চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে নৌপথের উন্নতি শুধু যাতায়াতেই নয়, বরং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন এ পরিবর্তন ভবিষ্যতে অঞ্চলটিকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গোয়েন্দা গল্পে ভাঙন, ভিন্ন রূপে আসছেন মোশাররফ করিম ‘মির্জা’ হয়ে

বাংলা বিনোদনে গোয়েন্দা চরিত্র মানেই সাধারনত স্মার্ট, ফিট আর অ্যাকশনপ্রেমী হিরো। কিন্তু এবার সেই চেনা ছক ভেঙে নতুন এক গোয়েন্দা চরিত্রে হাজির হচ্ছেন মোশাররফ করিম। নাম ‘মির্জা’

সুমন আনোয়ার পরিচালিত এই ওয়েব ফিল্মে দেখা যাবে ৫০ বছর বয়সী একজন মোটা, অবিবাহিত অথচ অদ্ভুত বুদ্ধিমান এক গোয়েন্দাকে, যিনি না দৌড়ান, না মারামারি করেন—তবুও শুধু মস্তিষ্কের জোরে জটিল রহস্যের জাল ভেদ করেন।

‘মির্জা’ ওয়েব ফিল্মের মূল কাহিনি শুরু হয় এক তরুণী লুনাকে ঘিরে। তার যমজ বোন নিখোঁজ। সেই বোনের খোঁজেই লুনা সাহায্য চান গোয়েন্দা মির্জার কাছে। প্রথমে সাধারণ মনে হলেও, সময়ের সাথে রহস্য এমনভাবে ঘনীভূত হয়, যেখানে জড়িয়ে পড়ে এক ভয়ঙ্কর মাফিয়া চক্র, এক সন্দেহপ্রবণ পুলিশ কর্মকর্তা ও বেশ কিছু বিস্ময়কর সত্য।

মির্জার ব্যক্তিগত জীবনও কম নাটকীয় নয়। সাত বোন নিয়ে তার পরিবার। তারা প্রত্যেকেই ব্যস্ত ভাইয়ের জন্য পাত্রী খোঁজায়, যদিও মির্জার নিজস্ব আগ্রহ বিয়ের প্রতি প্রায় নেই বললেই চলে। খেয়ালি ও আনাড়ি হলেও, গোয়েন্দাগিরিতে মির্জার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ঈর্ষণীয়।

মোশাররফ করিম ছাড়াও ওয়েব ফিল্মটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন পারসা ইভানা (লুনা), জুনায়েদ বোগদাদী, খালিদ হাসান রুমি, রাসেল, মামুন, অরণ্য, সৌমি, সামিরা, দোয়েল, বর্না, ঐশী এবং শিবলু।

পরিচালক সুমন আনোয়ার তার ‘রাতারগুল’, ‘কালাগুল’ এবং ‘সদরঘাটের টাইগার’-এর মতো নাটকীয় ও রহস্যময় কাজের জন্য সুপরিচিত। ‘মির্জা’-তেও তিনি তার সেই মুন্সিয়ানার ছাপ রেখেছেন।

ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল (২৩ মে) স্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ-তে। গোয়েন্দা ঘরানার গল্পে নতুন মাত্রা আনবে বলেই মনে করছেন নির্মাতা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




৪৮ ঘণ্টার জন্য বিরতি, মাঠে নামার হুঁশিয়ারি ইশরাকের

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা পর্যবেক্ষণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ইশরাক হোসেন। তবে সময়সীমা পেরিয়ে কোনও অগ্রগতি না হলে আবারও আন্দোলনে ফেরার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে চলমান আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে ইশরাক বলেন, “ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগের বিষয়ে আমরা ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে সরকার যদি ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে শুক্রবার সকাল থেকেই আন্দোলন নতুনভাবে শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছে, কিন্তু সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করছি, তাই অস্থায়ী বিরতি দিচ্ছি।”

শপথ নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটির নবনির্বাচিত মেয়র ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, “একটি ভুয়া রিটের মাধ্যমে আমার শপথগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে সেই রিট খারিজ হয়ে গেছে, এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।”

প্রসঙ্গত, ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে একজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যা বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেন আদালত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলন স্থগিতের এই ঘোষণা কৌশলগত হলেও সরকারের জন্য এটি একটি চাপের বার্তা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




টেকসই উন্নয়নে দরকার প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্প্রীতি: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রকৃত টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। পরিবেশবান্ধবতার নাম করে ‘সবুজ প্রলেপ’ দিলে তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো কাজের হবে না।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘হারমনি উইথ নেচার অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) প্রতিবেদন যদি সাধারণ মানুষের ভাষায় প্রকাশ না করা হয় বা জনগণের সঙ্গে শেয়ার না করা হয়, তাহলে সেটার কোনো অর্থ দাঁড়ায় না। জনগণের মতামত শুধু শোনা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াটাই আসল কাজ।”

রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশবিদদের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দূরত্ব বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। প্রকল্প অনুমোদনের সময় পরিবেশের দিকগুলো উপেক্ষা করা হয়—এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। পরিবেশকে ‘পরে ভাবার বিষয়’ ভাবলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি জানান, তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন সব EIA প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনে। জনগণের জানার অধিকারকে সম্মান করতে হবে। “অভিযোগের জবাব দান কোনো দয়া নয়, এটা আমাদের দায়িত্ব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া প্রকৃত পরিবেশ রক্ষা সম্ভব না,” বলেন তিনি।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, “পরিবেশ বিষয়টি কেবল একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। এটি রাষ্ট্রের সব সংস্থার সমন্বিত দায়িত্ব হওয়া উচিত। প্রশাসনিক সমন্বয় ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ অসম্ভব।”

তিনি বাংলাদেশের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বায়ু, নদী এবং জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ হুমকির মুখে। প্রকৃতিকে উন্নয়নের কেন্দ্রে না রাখলে আমরা টেকসই অগ্রগতি অর্জন করতে পারব না।”

এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, ইউএনডিপি প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে, বিশিষ্ট বন্যপ্রাণি জীববিজ্ঞানী ড. মো. আলী রেজা খান, এবং অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. সোহরাব আলী।

অনুষ্ঠানে পরিবেশবাদী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঐক্যের বার্তা দিলেন মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ব্যক্তির আবেগ, আদর্শ বা সম্মানের চেয়েও দেশের গুরুত্ব অনেক বেশি। তিনি মনে করেন, দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে ঐক্য এখন সময়ের দাবি।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাহফুজ আলম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যেকোনো বিভাজনমূলক বক্তব্য বা শব্দচয়ন অতীতে আমার কাছ থেকে হয়ে থাকলে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশ এবং এর সার্বভৌমত্ব রক্ষা।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারে আমার দায়িত্ব শেষ পর্যায়ে। এই সময়ে আমি চাই—সব ধরনের অভ্যুত্থানপন্থী শক্তিকে সম্মান ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে মূল্যায়ন করে কাজ করতে। পুরনো বিভেদকামী শ্লোগান কিংবা নেতিবাচক তকমাবাজি পরিহার করতে হবে। এগুলো সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে।”

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শত্রুরা এখন আগ্রাসী ও সংগঠিত। তারা আমাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। তাই যারা জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন—তাদের সামনে এখন বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষা ধৈর্য, ঐক্য ও দূরদর্শিতার।”

মাহফুজ আলমের এই স্ট্যাটাসে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তাঁর বক্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“জনগণের নয়, নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত বিএনপি: নাসীরুদ্দীন”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপি এখন আর জনগণের দলে নেই, বরং তারা কেবল নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থেই রাজপথে নামে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ধারাবাহিকভাবে জনগণের পক্ষের যেকোনো উদ্যোগে বাধা দিয়ে এসেছে কিংবা নীরব থেকেছে।

বুধবার (২১ মে) দিনগত রাতের দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন এসব কথা বলেন।

তিনি লিখেন, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর অপসারণ, জুলাই ঘোষণাপত্রসহ জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদক্ষেপে বিএনপি কখনোই সক্রিয় ছিল না। বরং তারা বারবার পুরোনো রাজনৈতিক সমঝোতা ও শাসকগোষ্ঠীর সুবিধা রক্ষায় ব্যস্ত থেকেছে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দাবির ক্ষেত্রেও বিএনপির অবস্থান ছিল নিশ্চুপ। তারা কখনোই জনগণের পক্ষের কোনো আন্দোলনে সামনে আসেনি।”

ইশরাক হোসেনের মেয়র হওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপির আচরণ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন বলেন, “এটি আবারও প্রমাণ করে যে বিএনপি শুধু নিজেদের এজেন্ডা নিয়েই ভাবে। আজকের বিএনপি হয়ে উঠেছে কিছু বুড়ো রাজনীতিকের ক্ষমতাচর্চার এক গোঁড়া প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তরুণ নেতাদেরও একটি মেয়র পদ পেতে রাস্তায় বসে থাকতে হয়।”

তিনি আরও লিখেন, গত ১৬ বছর ধরে বিএনপির ভুল নেতৃত্ব ও কৌশলগত ব্যর্থতায় দলটির ভেতরের বাংলাদেশপন্থি কর্মীরা ফ্যাসিবাদী দমননীতির শিকার হয়েছেন। বিএনপি এখনো ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-কে জাতীয় রূপান্তরের চেয়ে ক্ষমতার পালাবদল হিসেবেই দেখে।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন অভিযোগ করেন, “ঢাকার মানুষকে অবৈধ নির্বাচনের বৈধতা দিতে জিম্মি করে বিএনপি একটি মেয়র পদ নিয়েও নাটক করছে। তাদের উদ্দেশ্য শুধু এক-এগারোর মতো পথ ধরে পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতা ভোগ করা।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি এই অভিযোগের কী জবাব দেয়।




নির্বাচনের পরই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (২১ মে) ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অফিসার্স অ্যাড্রেসে তিনি এসব কথা বলেছেন। যেখানে  ঢাকায় অবস্থানরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান জাতীয় স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর নিরলস সেবা এবং প্রতিশ্রুতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ পাঠাতে মানবিক করিডোর তৈরির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ওয়াকার বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা হতে হবে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যা-ই করা হোক না কেন, তা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে।”

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, “এখানে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমেই নেওয়া উচিত।”

সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি দেশবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাসদস্যদের নির্দেশ দেন এবং বলেন, জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে জেনারেল ওয়াকার পুনরায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনোই এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে না, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।




ইশরাক হোসেন অবশেষে আন্দোলনকারীদের পাশে রাজপথে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অবশেষে রাজপথে যোগ দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের সামনে আন্দোলনরত সমর্থকদের মাঝে দেখা যায় তাকে। তার উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

গত সাত দিন ধরে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন ইশরাকের সমর্থকরা। তারা তার শপথ গ্রহণে বিলম্বের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ইশরাক জানান, “আন্দোলনকারী জনতার প্রতি সর্বাত্মক সংহতি জানাতে এবং তাদের সঙ্গে যতদিন প্রয়োজন রাজপথে অবস্থান করার জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই হাজির হব ইনশাআল্লাহ।”

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আরও লেখেন, “নির্দেশ একটাই, যতক্ষণ দরকার রাজপথ ছেড়ে উঠে আসা যাবে না।”

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে তার শপথ সংক্রান্ত রিটের শুনানি পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মিলন এবং ইশরাকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিপুল ভোটে জয়ী হন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকেই তার সমর্থকরা প্রতিদিন নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।