বরিশাল-১: জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপিতে মনোনয়ন যুদ্ধ

বরিশাল-১ আসনে (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) ২০২৫-২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মাওলানা কামরুল ইসলাম খানের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও এবার রাজনৈতিক সমীকরণে ভিন্নতা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে আছেন:

  • জহির উদ্দিন স্বপন – সাবেক এমপি, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
  • অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল – জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সংগঠক
  • আকন কুদ্দুসুর রহমান – জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক
  • ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান – সাবেক নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় নেতা

এদের অধিকাংশই মামলা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান বলেছেন, অতীতের অনিয়ম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের সময় পেরিয়ে এখন মানুষের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। আমি নির্বাচিত হলে সব রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করবো।”

এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০১৮ সালে প্রার্থী হওয়া মেহেদী হাসান রাসেল আবার মনোনয়ন পাবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

বরিশাল-১ আসনের প্রায় তিন লাখ ভোটারের মধ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ এবার মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এক তরুণ ভোটার মো. হাসান বলেন, “আমরা এমন নির্বাচন চাই যেখানে ভয়হীনভাবে ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করা যাবে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন, “আগামী নির্বাচন নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে নিয়মতান্ত্রিকতা ফিরলে গণতন্ত্রের পথ মসৃণ হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




দুমকিতে শহিদ কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন কিশোরের বিরুদ্ধে ডিএনএ ও পর্নোগ্রাফির প্রমাণ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আলোচিত শহিদ কন্যা লামিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন কিশোর সরাসরি জড়িত ছিল বলে পুলিশ তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু ধর্ষণই নয়, তারা ভুক্তভোগীর বিবস্ত্র ছবি তুলে পর্নোগ্রাফি তৈরিরও প্রমাণ রেখেছে।

ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো আলামতে পাওয়া গেছে তিনজনের ডিএনএ। এর মধ্যে আসামি সাকিব মুন্সী ও সিফাত মুন্সীর ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, তৃতীয় ডিএনএ নমুনাটি ইমরান মুন্সীর বলে মনে করছে পুলিশ।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, তিনজন মিলে ধর্ষণে অংশ নেয় এবং সিফাত তার ব্যবহৃত মোবাইলে ভুক্তভোগীর বিবস্ত্র ছবি ধারণ করে, যা পর্নোগ্রাফি হিসেবে শনাক্ত হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, সহপাঠী ইমরান কৌশলে লামিয়াকে বাগানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকার শুনে সেখানে যায় সাকিব ও সিফাত। তারা ঘটনাটি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ইমরানের সহায়তায় পালাক্রমে লামিয়াকে ধর্ষণ করে।

তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯ (৩) ধারা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮ (১) ও (৭) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নে বাবা শহিদ জসীম উদ্দিনের কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি ফেরার পথে লামিয়া ধর্ষণের শিকার হন। পরে মানসিক চাপে ২৬ এপ্রিল রাতে ঢাকার শেখেরটেক এলাকায় নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন তিনি।

মো:আল-আমিন



উত্তর বঙ্গোপসাগরে সঞ্চালন, পায়রাসহ সব বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে বিরাজ করছে অস্থির আবহাওয়া। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির তেমন দেখা মেলেনি, তবুও আকাশজুড়ে ছিলো ঘন কালো মেঘের আনাগোনা।

স্থানীয়রা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা ছিলো পটুয়াখালীর আকাশ। এরইমধ্যে জেলার নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে এবং সাগরেও দেখা দিয়েছে উত্তাল পরিস্থিতি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সৃষ্ট গভীর সঞ্চালনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে জেলেদের গভীর সমুদ্রে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ এলাকায় চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ এ বিষয়ে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে, মৎস্যজীবীদের সংগঠনগুলো জানিয়েছে, অনেক ট্রলার এরইমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে। তবে যারা এখনো গভীর সমুদ্রে রয়েছে, তাদের দ্রুত উপকূলের কাছাকাছি আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই ধরণের সঞ্চালনশীল মেঘমালা আরও কিছুদিন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত, ঝড়ো হাওয়া ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকছে।

স্থানীয়দের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার এবং নদী বা সাগরপথে ভ্রমণ না করার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে সরকারি অফিসেই বিটিসিএলের বকেয়া ৬৭%

বরিশাল বিভাগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর মোট বকেয়ার ৬৭ শতাংশই রয়েছে সরকারি অফিসগুলোর কাছে। ব্যক্তিগত গ্রাহক পর্যায়ে বকেয়ার পরিমাণ ৩৩ শতাংশ হলেও আইনগত বাধার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এই বকেয়া আদায় করা যাচ্ছে না।

১৮৮৫ সালের ব্রিটিশ আমলের টেলিগ্রাফ আইন অনুযায়ী ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ থাকলেও, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতামুক্ত। ফলে এই সংস্থাগুলোর কাছ থেকে টেলিফোন ও ইন্টারনেট বিল আদায় করতে পারছে না বিটিসিএল।

বিটিসিএল-এর বরিশাল বিভাগ জানিয়েছে, ছয় জেলায় মোট ১১ হাজার ৯৬১টি সংযোগের বিপরীতে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে শুধু সরকারি অফিসগুলোর কাছেই রয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা মোট বকেয়ার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

জেলার ভিত্তিতে বকেয়ার হিসাব নিম্নরূপ:

  • বরিশাল: ৪৬৯৪ সংযোগ, বকেয়া ৯০.৫৮ লাখ টাকা
  • ভোলা: ১৫০৩ সংযোগ, বকেয়া ৩৪.২৪ লাখ টাকা
  • বরগুনা: ১৪৪৭ সংযোগ, বকেয়া ১৯.৬৮ লাখ টাকা
  • পটুয়াখালী: ১৮১০ সংযোগ, বকেয়া ৪০.৭৭ লাখ টাকা
  • পিরোজপুর: ১৮৫ সংযোগ, বকেয়া ১৮.৩৫ লাখ টাকা
  • ঝালকাঠি: ১৪২২ সংযোগ, বকেয়া ২৮.৩০ লাখ টাকা

বর্তমানে ৪২০টি বকেয়া মামলার মধ্যে ৩৮টি মামলার বিপরীতে মাত্র ৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই ৮-১০ বছর পুরানো এবং অনেকগুলো মামলার বয়স কয়েক যুগ।

বিটিসিএল-এর বরিশাল অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম খান জানান, “বকেয়াগুলো অনেক পুরানো। আমরা নিয়মিত চিঠি দিচ্ছি, মামলা করছি। সরকার ১০০ দিনের বকেয়া আদায়ের যে নির্দেশ দিয়েছে তাতে কিছুটা সাড়া পেয়েছি। তবে জরিমানার বিধান না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করলো বাংলাদেশ

ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি বাতিল করেছে। শুক্রবার (২৩ মে) ভারতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করে।

খবরে জানানো হয়, কলকাতা-ভিত্তিক গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (জিআরএসই)-এর কাছ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একটি টাগ বোট (৮০০ টন ওজন) কেনার জন্য এই চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৮০ কোটি রুপি।

চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন ভারত বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের তাদের স্থলবন্দর ব্যবহার করে পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে টাগ বোট কেনার আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে বলা হয়েছে, জিআরএসই কর্তৃপক্ষ পুঁজিবাজারকে জানিয়েছে—বাংলাদেশ সরকার তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। এদিকে, হিন্দু বিজনেস লাইন জানায়, চুক্তি বাতিল হয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই।

এ বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় “সেভেন সিস্টার্স” অঞ্চলকে স্থলবেষ্টিত বলে উল্লেখ করেন এবং চীনের প্রতি আহ্বান জানান ওই অঞ্চল ব্যবহার করে বাণিজ্য সম্প্রসারণের। এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই ভারত তাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহনে বাধা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে মার্কিন সেনা নিয়ে যা জানা গেলো

মার্কিন সেনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন সেনাদের কিছু ছবি ছড়িয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি প্রশিক্ষণের জন্য মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনী সদস্যদের একটি দল বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

জানতে চাইলে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানহারুল ইসলাম বলেন, “কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে।” মার্কিন সেনারা এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানান তিনি।

এবার কক্সবাজারে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনী সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত।

আজ ভারতের গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কক্সবাজারে মার্কিন সেনা উপস্থিত। এই আবহে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বা রাখাইনের মানবিক করিডোর নিয়ে জোর জল্পনা চলছে বাংলাদেশে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান ঠিক কী? এই নিয়ে গতকাল সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে। আর জবাবে রণধীর সংক্ষিপ্ত জবাব দেন, “সব ঘটনার ওপরেই তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয় এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




চলমান অস্থিরতায় পদত্যাগের ইঙ্গিত ড. ইউনূসের, আলোচনায় মিললো সংকটের বার্তা

দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাহিদ। পরে বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্দোলনের চাপে ড. ইউনূস নিজের দায়িত্ব পালনে সংকটে পড়েছেন বলে মনে করছেন।

নাহিদ বলেন, “দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, যদি কাজ করতে না পারি, তাহলে এই অবস্থায় থাকা অর্থহীন।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনের চাপ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব তাকে কার্যত ‘জিম্মি’ করে ফেলেছে বলে মনে করছেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম জানান, তিনি ড. ইউনূসকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। “আমি বলেছি, দেশের ভবিষ্যৎ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে আপনি শক্ত থাকুন। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলুন।”

তিনি আরও বলেন, “স্যার বলেছেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো আস্থা না দেয়, তাহলে তিনি কেন থাকবেন? তিনি স্পষ্ট বলেছেন, পদত্যাগের বিষয়ে ভাবছেন।”

এদিকে, বিএনপি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা—মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের—পদত্যাগ দাবি করে। একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানেরও অব্যাহতি চায় দলটি।

বিএনপির এ দাবির পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির এক শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদকে ‘বিএনপির মুখপাত্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে তাদেরও পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে।

এদিকে, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে অতীতে বিভাজনমূলক বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার এমন মনোভাব দেশের অন্তর্বর্তী সরকার কাঠামোতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।




দুদকের চিঠি: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে অনুরোধ 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন ও অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর আওতায় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় শেখ হাসিনা তার নিজের নামে ৬ দশমিক ৫০ একর কৃষিজমি এবং তার মূল্য এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। কিন্তু দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তার নামে থাকা জমির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪১১ একর এবং সেগুলোর মূল্য ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা বলে পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, তিনি ২১ দশমিক ৯১ একর জমির তথ্য গোপন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা কম দেখিয়েছেন।

এছাড়াও চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা তৎকালীন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল আকবরের শুল্কমুক্ত কোটা ব্যবহার করে বেনামে ২ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি আমদানি করেন। গাড়িটি তার ধানমন্ডির ঠিকানা ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয় (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৩৬৪) এবং তিনি নিজে এটি ব্যবহার করেন। তবে ডা. সিরাজুল আকবরের আয়কর নথি বা নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় এই গাড়ির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুদক চিঠিতে জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটে সেনানিবাসে আশ্রয়: কারা কারা ছিলেন তালিকায়

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। হামলা, অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি ও ডাকাতির মতো ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়।

এই অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় প্রার্থনা করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আইএসপিআরের ভাষ্যমতে, সেনাবাহিনী তখন আশ্রয়প্রার্থীদের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং পরিচয় যাচাইয়ের চেয়ে মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় প্রদান করে।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের মধ্যে ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য, ১২ জন বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তি এবং ৫১ জন পরিবারের সদস্য (স্ত্রী-সন্তান) রয়েছেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, অধিকাংশ আশ্রয়প্রার্থী ১-২ দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন। তবে, তাদের মধ্যে ৫ জনকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনানিবাসে আশ্রয়গ্রহণকারীদের বিষয়ে তথ্য জানায় এবং ওই সময় ১৯৩ জন ব্যক্তির একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সংস্থাটি বলেছে, মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়া হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

আইএসপিআর আরও একবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।




৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করলেন ইশরাক হোসেন

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক দল, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। হাইকোর্টের আদেশ শোনার পর দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আপাতত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। সরকারকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টে একটি “ভুয়া রিট” করে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নিতে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে আইনের শাসনের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্দোলন স্থগিতের পেছনে জনদুর্ভোগের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন ইশরাক। তিনি বলেন, “এই কর্মসূচির ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সাধারণ জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আন্দোলন শুরু করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু সরকার আমাদের বাধ্য করেছে এমন কর্মসূচি নিতে।”

তবে ইশরাক স্পষ্ট করে দেন, সরকারে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধির পদত্যাগ দাবি থেকে বিএনপি সরে আসছে না। তিনি বলেন, “তাদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থাকবে অটুট। আদালতের রায় ও শপথ আলাদা বিষয়। দাবি এখনও বহাল রয়েছে।”

ইশরাক আরও বলেন, সরকার যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তাহলে শুক্রবার সকালে আবারও কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলন সফল করতে তৃণমূলের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ঢাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সমর্থিত একটি রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুল আইনি ব্যাখ্যা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে বলেন, “আপনার আশপাশে থাকা কুলাঙ্গারদের চিহ্নিত করে অপসারণ করুন, এবং একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন করুন।”

প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল থেকে কাকরাইলে অবস্থান নিয়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করে তার সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরেও স্লোগান দিতে দেখা যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের, যারা নির্বাচিত সরকারের দাবি ও উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে সরব ছিলেন।