বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবিতে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

শনিবার (২৪ মে) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পাশাপাশি দাবিগুলোর পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সম্প্রতি ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ কর্মকারকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। এতে মানসিক চাপে পড়ে সে আত্মহত্যা করে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, বিদ্যমান কম্বাইন্ড পরীক্ষাপদ্ধতির চাপে ধ্রুবজিৎ এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

তারা বলেন, ২০১৬ সালের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রযুক্তি ইউনিটের আওতাভুক্ত সকল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটে চালু হওয়া কম্বাইন্ড সিস্টেম সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এতে মানসম্মত শিক্ষা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত হয় না। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবির অন্যতম হচ্ছে—স্বতন্ত্র পরীক্ষাপদ্ধতি, মানসম্মত শিক্ষা, একাডেমিক স্বকীয়তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা।

প্রতীকী প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী সীমান্ত, শাওন মাহমুদ, শাওলী ঘোষ, শুভ ও ফাহিম ভূঁইয়া প্রমুখ। তারা বলেন, “আমরা চাই একটি স্বতন্ত্র পরীক্ষা পদ্ধতি এবং গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে আমরা বাধ্য হব।”

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাত্র ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতকে পাকিস্তানের কাছে বিক্রি!

ভারত

ভারতের গুজরাট রাজ্যে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচারের অভিযোগে। শনিবার (২৫ মে) গুজরাট অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম সাহদেব সিং গোহিল (২৮)। তিনি গুজরাটের কচ্ছ জেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। গুজরাট ATS-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কে সিদ্ধার্থ জানান, গোহিল ২০২৩ সালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে “আদিতি ভরদ্বাজ” নামের এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগে আসেন, যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানি এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হন।

সিদ্ধার্থ বলেন, “ওই নারী গোহিলকে ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নবনির্মিত ও নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলোর ছবি ও ভিডিও পাঠাতে বলেন। গোহিল সেই অনুরোধ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতেন।”

গোহিল তার নিজের আধার কার্ড ব্যবহার করে ২০২৩ সালের শুরুতে একটি সিম কার্ড সংগ্রহ করেন, যা ওই নারী এজেন্টের ব্যবহারের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এই নম্বরের মাধ্যমেই বিএসএফ ও আইএএফ-এর স্থাপনাসমূহের ভিডিও ও ছবি পাঠানো হতো।

পরে ফরেনসিক বিশ্লেষণে জানা যায়, এই তথ্য পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত নম্বরগুলো পরিচালিত হতো পাকিস্তান থেকে। এ ছাড়াও, গোহিলের কাছে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নগদ ৪০,০০০ টাকা সরবরাহ করেন, যা গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে।

ATS জানায়, পহেলা মে গোহিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলে তিনি তথ্য পাচারের কথা স্বীকার করেন। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল।

গোহিলের সঙ্গে মিলে আরও অন্তত ১০ জনকে গত কয়েক সপ্তাহে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন একজন ইউটিউবার, একজন ব্যবসায়ী এবং একজন নিরাপত্তারক্ষী। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এসব ঘটনা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির অংশ হিসেবে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।




সীমান্তে পুশ-ইন: বিএসএফ শিখিয়ে দিয়েছিল কী বলতে হবে

বিএসএফ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইনের নতুন এক অভিযোগ সামনে এসেছে। ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ১৭ জনের একজন, জাহানারা খাতুন, দাবি করেছেন—ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাকে ও অন্যদের গুলি ছুঁড়ে দৌড়াতে বলেছিল এবং কী বললে ধরা পড়লে বাঁচা যায় তাও ‘শিখিয়ে’ দিয়েছিল।

গত শনিবার ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে জাহানারা খাতুনসহ ১৭ জনকে আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। বিজিবি জানায়, তারা সবাই ভারত থেকে পুশ-ইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন।

জাহানারা বলেন, “বিএসএফ আমাদের বলেছে যে আমরা দুটো গুলি মারবো। গুলি মারার পরে তোমরা সব দৌড় মারবা। তো ওরা দুটো গুলি মারে। তখন আমরা সবাই ভেগে দৌড় মারি। সামনে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়ি।”

তিনি আরও দাবি করেন, ধরা পড়লে কী বলতে হবে—তাও আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বিএসএফ:
“ওরা বললো, যদি ধরা পড়ো তাহলে বলবা যে আমরা ইন্ডিয়া যাচ্ছিলাম, সীমান্তে বিএসএফ তাড়া দেয়ায় আবার ফিরে এসেছি।”

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ধরণের পুশ-ইন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

এ ধরনের পুশ-ইনের ঘটনা সীমান্ত এলাকায় মানবিক ও কূটনৈতিক জটিলতা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।

এই বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে মার্চ ফর ইউনূস

ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে 'মার্চ ফর ইউনূস'

ঢাকার শাহবাগে ‘মার্চ ফর ইউনূস’ নামে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবি জানানো হয়েছে। আয়োজকরা ‘আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন’ স্লোগান তুলে ধরেছেন।

আজ শনিবার (২৪ মে) বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ মোড়ে ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে সমবেত হয়েছেন, যেখানে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের ছবি রয়েছে ।

বিক্ষোভের মূল দাবি হলো, ড. ইউনূসকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখা এবং নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করা। বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের আগে সংস্কার জরুরি ।

ড. ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে তার সমর্থকরা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা তাকে পদত্যাগ করতে দেবেন না ।

বিক্ষোভের ফলে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




একনেক সভায় ১০ প্রকল্প উপস্থাপন

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে আজ শনিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে একনেক সভার গুরুত্ব প্রতিবারই ব্যাপক, আর আজকের এই সভাও ছিল তার ব্যতিক্রম নয়।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বাসসকে জানিয়েছেন, আজকের সভায় দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। এসময় উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্যরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং প্রতিটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, ব্যয় ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করেন।

উল্লেখযোগ্য হলো, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে টেকসই অগ্রগতি অর্জন করা যায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সভার সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজকের একনেক সভায় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করার দিকেও গুরুত্বারোপ করা হয়। সভা শেষে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভোলায় ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক, আশ্রয়হীন চরবাসীর রাত কাটে দুশ্চিন্তায়

ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ ও ‘মন্থা’র সম্ভাব্য আঘাতে ভোলার উপকূল ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরফ্যাশনের ঢালচর, কুকরি-মুকরি, মনপুরা, লালমোহন, তজুমদ্দিন ও দৌলতখানের বিচ্ছিন্ন চরের কয়েক লাখ মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের ভয় একসঙ্গে বয়ে আনছে ভয়াবহ মানবিক সংকট।

“আবারও সব হারানোর ভয়”,বললেন ঢালচরের হোসেনেয়া বেগম

চরফ্যাশনের ঢালচরের বাসিন্দা হোসেনেয়া বেগম বলেন, “গত বছর রিমালে আমার ঘর ভেঙে গিয়েছিল। এখন অন্যের জমিতে ছোট ঘর তুলে কোনোমতে বাস করছি। আবার ঘূর্ণিঝড় আসার খবর শুনে রাতে ঘুম আসে না। জানি না এবারও না আবার ঘর হারাতে হয় কিনা।”

হোসেনেয়ার স্বামী একজন জেলে ছিলেন। তাদের পাঁচ সদস্যের পরিবার এখন নদীভাঙনের ক্ষত ও দুর্যোগের ভয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। তিনি বলেন, ক্ষতি সত্ত্বেও সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাননি।

আশ্রয়কেন্দ্র নেই, নিরাপত্তা নেই  চরবাসীর একমাত্র ভরসা পুলিশ ফাঁড়ি

ঢালচরে প্রায় ৫০০ পরিবারের ২ থেকে ৩ হাজার মানুষের বসবাস, কিন্তু নেই কোনো আশ্রয়কেন্দ্র। ঝড়ের সময় সেখানে আশ্রয় নেওয়ার একমাত্র স্থান একটি তিনতলা পুলিশ ফাঁড়ি। একই অবস্থা কুকরি-মুকরি, চর নিজাম, চর পাতিলা, চর সিকদারসহ আরও বহু চরে। বিচ্ছিন্ন চর হওয়ায় এখানকার মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের সময় নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন না।

চর কুকরি-মুকরির বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, “ঝড় এলে আতঙ্কে থাকি, কিন্তু ঘরবাড়ি ফেলে কোথাও যেতে পারি না। আশ্রয়কেন্দ্র নেই, যাতায়াতের পথ নেই।”

আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ ও ‘মন্থা’  প্রস্তুতি কেমন?

ভোলা আবহাওয়া অফিস জানায়, মে মাসের ২৩ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো বড় কোনো সংকেত দেওয়া হয়নি, তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলার ৩০০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে কিছু দুর্বল বাঁধ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “জেলায় ৮৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১৪টি কিল্লা রয়েছে। শনিবার সব দপ্তর নিয়ে প্রস্তুতি সভা হবে। পর্যাপ্ত খাবার ও ত্রাণ মজুদ রয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন চরবাসীদের নিরাপদে রাখতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নতুন ভবন প্রস্তুত, তবু চালু নয় পিরোজপুর হাসপাতাল,বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি

পিরোজপুর সদর হাসপাতালের নতুন ২৫০ শয্যার ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও তা এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেনি গণপূর্ত বিভাগ। ফলে সীমিত সুবিধা নিয়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগীকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বর্তমানে ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে তিনগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল চত্বরজুড়ে মেঝে, করিডোর ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী। ভোগান্তি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

প্রায় ৫ বছর বিলম্বে শেষ নির্মাণকাজ, তবু উদ্বোধনের অপেক্ষায়: 

২০১৭ সালে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেয় সরকার। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। তবে তিনবার সময় বাড়িয়ে তা শেষ হয় ২০২4 সালের ডিসেম্বরে। পাঁচ মাস পার হলেও ভবনটি এখনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে মেসার্স খান বিল্ডার্স ও বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেড নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে লিফট এবং বিদ্যুৎ সংযোগজনিত সমস্যার কারণে হস্তান্তর বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

সেবা পাচ্ছেন না, অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৫০০-এর বেশি রোগী আসছেন চিকিৎসার জন্য। তাদের অনেকেই জায়গা না পেয়ে মেঝেতে, করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ঘন ঘন বদলি, পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব এবং জরুরি বিভাগে রোগী এলে তাড়াতাড়ি রেফার করার অভিযোগও রয়েছে।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুর্শিদ শেখ বলেন, “নতুন ভবন নির্মিত হলেও চালু না হওয়ায় আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। রোগী আসলেই বরিশাল, খুলনা বা ঢাকায় রেফার করা হয়।”

গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহিম আহমেদ জানান, “লিফট ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। লিফটের দাম বাড়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”

হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, “ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী আসেন। আমাদের সামর্থ অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন ভবন চালু হলে সেবার মান বাড়বে এবং রোগীদের কষ্ট কমে আসবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




১৫ দিন প্রেমের পর বিয়ে, স্বামীর ঘরে ঝুলছিল নুসরাতের মরদেহ

বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকা থেকে নুসরাত বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ মে) সকালে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নুসরাতের মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নুসরাত বেগম চান্দখালী এলাকার মো. বাবু খানের স্ত্রী। বাবু খান চান্দখালী এলাকার শামীম খানের ছেলে। নুসরাতের বাবার বাড়ি জামালপুর জেলায়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেল তিনটার দিকে বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকার একটি ঘর থেকে নুসরাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কর্মরত অবস্থায় নুসরাতের সঙ্গে গত বছরের ৩ আগস্ট পরিচয় হয় এসি মেকানিক মো. বাবু খানের। এরপর তারা ১৮ আগস্ট বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নুসরাতের সঙ্গে তার বাবা মায়ের যোগাযোগ ছিল না। বৃহস্পতিবার বিকেল নুসরাত গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে চান্দখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে নুসরাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নুসরাতের বাবার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বরগুনার যুবকের মৃত্যু, বাড়িতে শোকের ছায়া

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ খোকন ওরফে সুলতান হাওলাদার (৪০)। স্থানীয় সময় ২১ মে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদের আল খারিজ সড়কের আজিজিয়া এলাকার রাবেয়া হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের দিকে যাওয়ার সময় রাস্তা পার হওয়ার মুহূর্তে একটি মাইক্রোবাস খোকনকে চাপা দেয় এবং প্রায় ২০০ গজ টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত খোকনের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামে। তিনি ১০ বছর ধরে সৌদিতে একটি মিশরীয় কেমিক্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিন মাস আগে ছুটি কাটাতে দেশে এসেছিলেন। খোকনের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা জানান, কিছুদিন আগে তার হার্নিয়ার অপারেশন হয়, ড্রেসিং করাতে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু রাতে সৌদি আরব থেকে ফোনে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

এই মর্মান্তিক খবরে নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র ১৩ বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী।

সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহমান মোল্লা জানান, স্থানীয় পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে হিমঘরে পাঠিয়েছে। কর্মস্থলের সহায়তায় লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

নিহতের পরিবার সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলার জেলেরা এখনো বঞ্চিত প্রণোদনার চাল থেকে

সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে গত ১৫ এপ্রিল। ইতিমধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও ভোলার সরকারি তালিকাভুক্ত ৬৫ হাজার জেলে এখনো পাননি সরকার ঘোষিত প্রণোদনার চাল। এতে করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব জেলে পরিবার।

এই নিষেধাজ্ঞায় ভোলার ৭ উপজেলার জেলেরা তাদের ট্রলার ও জাল নিয়ে তীরে ফিরে এসেছেন। জাল মেরামত আর নৌকা সারাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও পরিবার চালাতে গিয়ে পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। অনেকের অভিযোগ, চাল বরাদ্দ এলেও তা প্রকৃত জেলেদের না দিয়ে দেওয়া হয় অন্য পেশার লোকদের হাতে। আবার অনেক জেলের নামই নেই নিবন্ধিত তালিকায়।

দৌলতখান উপজেলার জেলে ফারুক মাঝি বলেন, “আমাদের বরাদ্দের চালও আমাদের কাছে পৌঁছায় না। যারা বিতরণ করে, তারা নিজেদের মতো করে তালিকা বানিয়ে চাল বিতরণ করে। ফলে আমরা প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত থাকি।”

আরেক জেলে কাঞ্চন মাঝি বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানছি, কাজ করছি না, আয় বন্ধ। কিন্তু চাল তো পাইনি। এনজিওর কিস্তি দিতে পারছি না, লোকজন এসে বাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকে। কিভাবে চলবো?”

শহিদ মাঝি নামে আরেক জেলে বলেন, “নদীতে মাছ নাই, সাগরে যাওয়া নিষেধ, কিস্তি-ঋণ বেড়েই চলেছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে সাগরে যাচ্ছে মাছ ধরতে। এমন চলতে থাকলে আমাদের সামনে হয় মরার, নয়তো চুরির পথই খোলা থাকবে।”

জেলেরা দাবি করেছেন, মৎস্য বিভাগের অবহেলার কারণেই অনেকে নিবন্ধিত হতে পারেননি। তাই দ্রুত প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরি করে চাল বিতরণ এবং এই সময়ের জন্য ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, “এবারই প্রথম ৬৫ দিনের জায়গায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। চাল বরাদ্দ পেলেই দ্রুত বিতরণ শুরু করা হবে।”

জানা গেছে, চলমান নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ২১ জুন। এই সময় জেলেদের জন্য দুই ধাপে মোট ৮৬ কেজি চাল দেওয়ার কথা, প্রথম ধাপে ৫৬ কেজি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩০ কেজি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /