দলে ফিরলেন লিজা, সামলাবেন সাংগঠনিক দায়িত্বও

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির অব্যাহতিপ্রাপ্ত নারী মুখপাত্র ফাতেমা খানম লিজাকে পুনরায় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও পালন করতে পারবেন।

শনিবার (২৪ মে) সংগঠনের আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন ও সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ১৭ মে একটি আদেশে ফাতেমা খানম লিজাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মাদক সেবন ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কিছু ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সে সময় সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাকে মুখপাত্র পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সংগঠনটি আবারও তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে সাংগঠনিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করেছে।




“জুলাই সনদ ও পুরনো নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নে সরকারের প্রতি নাহিদের আহ্বান”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত সকল জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। তিনি বলেন, ওই সময়ে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। ভোট হয়েছে রাতে, ডামি প্রার্থীদের মাধ্যমে। এসব নির্বাচন নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

শনিবার (২৪ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, প্রধান উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, তিনি যেন সব দায়িত্ব শেষ করে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এখনও অনেক পরিবার সঞ্চয়পত্র পায়নি এবং মাসিক ভাতা কার্যক্রম শুরু হয়নি। দ্রুত এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আগের নির্বাচনগুলো নিয়ে আদালতে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেগুলোকে আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশনের ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। তাই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও জানান, সরকারকে বলা হয়েছে—জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার প্রক্রিয়া, গণপরিষদ ও আইনসভা নির্বাচনের একটি সমন্বিত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। জুলাই মাসের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ আসতে পারে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে জুলাইয়ের মধ্যে যেসব নির্বাচন হবে, সেগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে হবে।




সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

শনিবার (২৪ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে এক অনির্ধারিত বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। শের-ই-বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠকে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য কাজ করছে। তবে সরকারের স্বকীয়তা, সংস্কার কার্যক্রম, বিচার প্রক্রিয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে যেসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, তা দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জনগণের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি মূল দায়িত্ব—নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার—নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। এতে আরও বলা হয়, কোনো ধরনের অযৌক্তিক দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য বা এখতিয়ার বহির্ভূত কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ বিঘ্নিত হলে তা জাতির ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।

উপদেষ্টা পরিষদের মতে, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া অগ্রসর করা এবং স্বৈরাচারকে রুখে দেওয়ার জন্য একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। এ বিষয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত শুনবে এবং নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

পরিশেষে, উপদেষ্টা পরিষদ জানায়, শত বাধা সত্ত্বেও গোষ্ঠীস্বার্থ উপেক্ষা করে সরকার তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যদি বিদেশি চক্রান্ত ও পরাজিত শক্তির ইন্ধনে সরকারকে অকার্যকর করার চেষ্টা চলতে থাকে, তবে সরকার জনসমক্ষে সব কারণ তুলে ধরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।




নির্বাচনী রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি বিএনপির

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠকে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির  নেতারা। শনিবার (২২ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’-এর সামনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে দলের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। আলোচনার বিষয়বস্তু পূর্বে নির্ধারিত না থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দলটি একটি লিখিত প্রস্তাব নিয়ে আসে এবং সেটি উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি জানান, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করে আসছে। এই বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে—বিশেষ করে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এই দাবি তোলা হয়।

বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিচার দাবি করেছে বিএনপি। তিনি জানান, বিচার অসম্পূর্ণ থাকলে, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকারে গেলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই বিচার সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে দ্রুত একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। মোশাররফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন বিলম্ব হলে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাগমন ঘটতে পারে, যার দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।

বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায় না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। বরং শুরু থেকেই দলটি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারা জানান, আলোচনা হয়েছে মূলত তিনটি বিষয়ে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি না মিললেও তারা অপেক্ষা করবেন সরকারের প্রতিক্রিয়ার জন্য।

আলোচনার বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, সরকার সংস্কারে ঐক্যমত তৈরি এবং দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া হবে বিচার বিভাগের মাধ্যমেই এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া সালাহউদ্দিন জানান, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ কয়েকজনের অপসারণের দাবি লিখিতভাবে ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার জানিয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে।

বৈঠকের ফলাফলে বিএনপি সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন জানান, দলের প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করবেন।




ভোলায় ঘূর্ণিঝড় মন্থা মোকাবিলায় জরুরি সভা, প্রস্তুত আশ্রয়কেন্দ্র ও মেডিকেল টিম

ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’র সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিয়েছে দ্বীপ জেলা ভোলা। শনিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান। তিনি জানান, জেলার ৮৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১৪টি মাটির কিল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রস্তুত ১৩ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক: 

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এর অধীনে জেলার ১৩,৮৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে মাঠে কাজ করার জন্য। ঝুঁকিপূর্ণ চরাঞ্চলের অর্ধ লক্ষাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, জেলার সাত উপজেলায় খোলা হয়েছে ৮টি কন্ট্রোল রুম এবং গঠন করা হয়েছে ৯৮টি মেডিকেল টিম।

দুর্যোগকালীন সময়ে খাদ্য ও ওষুধ সংকট এড়াতে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ এবং প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে যেকোনো জরুরি চাহিদা দ্রুত পূরণ করা যায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই না কেউ আতঙ্কিত হোক। বরং সবাইকে সচেতন হয়ে আমাদের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনার খেয়াঘাটে হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধি, যাত্রীদের ক্ষোভ

বরগুনার ১৪টি খেয়াঘাটে হঠাৎ করে ভাড়া ২৫ শতাংশ বাড়ানোয় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। প্রতিদিন খাকদোন, পায়রা ও বিষখালী নদী পাড়ি দিতে হাজার হাজার যাত্রীকে খেয়া ব্যবহার করতে হয়। নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ায় যাত্রা এখন তাদের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা পরিষদের অধীনে নতুন ইজারার আওতায় ২০ টাকার খেয়া ভাড়া বাড়িয়ে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কার্যকর থাকবে আগামী তিন বছর। অথচ জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমলেও ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে হতবাক সাধারণ মানুষ।

যাত্রীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ:

রাব্বি নামের এক যাত্রী বলেন, “মাত্র ১০ মিনিট লাগে নদী পার হতে, অথচ দিতে হচ্ছে ২৫ টাকা। এটা অন্যায় ও অযৌক্তিক। আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।”

পুরাকাটা খেয়াঘাটের যাত্রী রিপন বলেন, “আগে যে খেয়া ১০ টাকায় পার হত, এখন সেটা ২৫ টাকা! এইভাবে তো আমাদের কষ্ট আরও বাড়ছে।”

ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে বিভিন্ন ঘাটে যাত্রীরা মানববন্ধন করেন এবং বরগুনা প্রেসক্লাবের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মৌখিক আলোচনা করেন।

জেলা পরিষদ জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করার নিয়ম রয়েছে। সর্বশেষ ইজারার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দরদাতার সঙ্গে সমন্বয় করে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “নিয়ম মেনেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি আয়ের টাকা দিয়ে খেয়াঘাটের উন্নয়ন করা হবে, যার সুবিধা ভবিষ্যতে যাত্রীরা পাবেন।”

তবে বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, “খেয়া ঘাটে ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। আমরা লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে ভাড়া কমানোর অনুরোধ জানাবো।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ধ্বংসপ্রায় বরগুনা-বেতাগী সড়ক, দুর্ভোগে যাত্রীরা

বরগুনা-বেতাগী-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ, যা বর্ষার পানিতে ভরে গিয়ে যাত্রীদের জন্য রীতিমতো যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া থেকে নিয়ামতি পর্যন্ত এই দীর্ঘ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে পথচারী, চালক ও সাধারণ যাত্রীদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষায় এই গর্তগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় গাড়ি চলাচলে তীব্র সমস্যা দেখা দেয়।

🔧 সংস্কারের অভাবে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ ::

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১২ সালে এই সড়কে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং ২০১৫ সালের ৫ মে ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারকাজ শেষ করে। এরপর আর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কার হয়নি।

বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোলাম হোসেন বলেন, “সড়কটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে। প্রতিদিন আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”

একইভাবে মাহিন্দ্রা চালক আব্দুস সেবাহান বলেন, “বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে গেলে গাড়ি চালানো ভয়াবহ কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

🏗 প্রকৌশল বিভাগ বলছে ‘চাহিদা পাঠানো হয়েছে’ ::

বেতাগী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শেষ তৌফিক আজিজ জানান, “সড়কটির সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু হবে।”

তবে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি এমন অবস্থায় থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাঁরা হতাশ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে চরমোনাই পীর

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি পীর সাহেব চরমোনাই হিসেবে পরিচিত।

আগামীকাল ২৫ মে, রবিবার বিকাল ৫:৪৫ মিনিটে সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন:

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
  • আমার বাংলাদেশ পার্টি (আ.ব.প.)
  • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
  • খেলাফত মজলিস
  • গণঅধিকার পরিষদ
  • নেজামে ইসলামী পার্টি
  • হেফাজতে ইসলামের নেতারা

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও করণীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথনকশা এবং স্বৈরতন্ত্রের সাথে যুক্তদের বিচারের বিষয়ে আলোচনা হবে। শীর্ষ নেতারা সরকারকে রাজনৈতিক সংস্কার ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পরামর্শ দেবেন বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালের প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড: ফি বাড়লেও বাড়েনি সুবিধা

বরিশাল শহরের বান্দ রোডে অবস্থিত ‘প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড’ শিশুপার্কে বাড়ানো হয়েছে প্রবেশ ও রাইডের ফি, তবে বাড়েনি সেবার মান কিংবা রাইডের সংখ্যা—এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থীরা। একইসঙ্গে, কর্মচারীরাও দুর্ব্যবহার, অস্বচ্ছ নিয়োগ ও ন্যায্য বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

২০০১ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের জমিতে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন প্রতিষ্ঠা করেন প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড। তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেন তাঁর স্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ। বর্তমানে পার্কটির পরিচালনায় রয়েছেন সালাউদ্দিন কবির ও মহসীনা শহীদ নীলা।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে পার্কটির নতুন পরিচালনার অধীনে প্রবেশ ফি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা এবং প্রতিটি রাইডের ফি ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু দর্শনার্থীদের মতে, কোনো নতুন রাইড সংযোজন বা সেবার মানোন্নয়ন হয়নি।

দর্শনার্থী আসমা আক্তার বলেন, “রাইডের দাম বাড়লেও সুবিধা নেই। তবুও বাচ্চাদের নিয়ে আসতেই হয়।”

অন্যদিকে, পার্কের পরিচালক নীলা দাবি করেন, “রাইড বাড়ানো হয়েছে,” যদিও এই দাবি দর্শনার্থীরা মেনে নিচ্ছেন না।

পার্কে কর্মরত ৩৬ জন কর্মচারীর নেই কোনো নিয়োগপত্র, নেই নির্ধারিত ছুটি কিংবা নির্ভরযোগ্য ওভারটাইম সুবিধা। বেতনের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈষম্য। কর্মচারীরা জানান, সর্বনিম্ন বেতন ৬ হাজার টাকা, আর ওভারটাইম প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ৫০ টাকা।

এক কর্মচারীর ভাষায়, “আমাদের কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ছাঁটাই করা হয় কথায় কথায়। অথচ নতুন দু’জন নারীকে নিয়োগপত্রসহ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের বেতন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি।”

পরিচালক সালাউদ্দিন কবিরের বিরুদ্ধে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরির অভিযোগও তুলেছেন কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, তাঁর পিস্তলের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

ম্যানেজার সোহরাব আলী দাবি করেছেন, “বেতন বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। নিয়োগপত্রের জন্য প্রক্রিয়া চলছে।”

তবে পরিচালক কবির একাধিক অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “ওরা পার্টটাইম কর্মী, তাই নিয়োগপত্রের দরকার নেই। সবকিছুর খরচ বেড়েছে, তাই ফিও বাড়ানো হয়েছে।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “পার্কের দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত এবং কর্মচারীদের অধিকার রক্ষা নিয়ে আমরা যথাযথ তদন্ত করব।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 গৌরনদীতে আওয়ামী লীগের ৩ নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় আওয়ামী লীগের তিন নেতা-নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। চাঁদশী এলাকায় বিএনপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৩ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ::

  • গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিম টিটু
  • উপজেলা মহিলা লীগের সদস্য ছবি বেগম
  • গৌরনদী পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন

গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, চাঁদশী এলাকায় বিএনপি নেতা বাচ্চু সরদার ও ফিরোজ হাওলাদারের ওপর হামলার মামলায় এজাহারভুক্ত এবং সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের পর শনিবার (২৪ মে) দুপুরে তাদের বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন ওসি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /