বরিশাল শহরের বান্দ রোডে অবস্থিত ‘প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড’ শিশুপার্কে বাড়ানো হয়েছে প্রবেশ ও রাইডের ফি, তবে বাড়েনি সেবার মান কিংবা রাইডের সংখ্যা—এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থীরা। একইসঙ্গে, কর্মচারীরাও দুর্ব্যবহার, অস্বচ্ছ নিয়োগ ও ন্যায্য বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
২০০১ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের জমিতে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন প্রতিষ্ঠা করেন প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড। তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেন তাঁর স্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ। বর্তমানে পার্কটির পরিচালনায় রয়েছেন সালাউদ্দিন কবির ও মহসীনা শহীদ নীলা।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে পার্কটির নতুন পরিচালনার অধীনে প্রবেশ ফি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা এবং প্রতিটি রাইডের ফি ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু দর্শনার্থীদের মতে, কোনো নতুন রাইড সংযোজন বা সেবার মানোন্নয়ন হয়নি।
দর্শনার্থী আসমা আক্তার বলেন, “রাইডের দাম বাড়লেও সুবিধা নেই। তবুও বাচ্চাদের নিয়ে আসতেই হয়।”
অন্যদিকে, পার্কের পরিচালক নীলা দাবি করেন, “রাইড বাড়ানো হয়েছে,” যদিও এই দাবি দর্শনার্থীরা মেনে নিচ্ছেন না।
পার্কে কর্মরত ৩৬ জন কর্মচারীর নেই কোনো নিয়োগপত্র, নেই নির্ধারিত ছুটি কিংবা নির্ভরযোগ্য ওভারটাইম সুবিধা। বেতনের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈষম্য। কর্মচারীরা জানান, সর্বনিম্ন বেতন ৬ হাজার টাকা, আর ওভারটাইম প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ৫০ টাকা।
এক কর্মচারীর ভাষায়, “আমাদের কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ছাঁটাই করা হয় কথায় কথায়। অথচ নতুন দু’জন নারীকে নিয়োগপত্রসহ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের বেতন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি।”
পরিচালক সালাউদ্দিন কবিরের বিরুদ্ধে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরির অভিযোগও তুলেছেন কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, তাঁর পিস্তলের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
ম্যানেজার সোহরাব আলী দাবি করেছেন, “বেতন বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। নিয়োগপত্রের জন্য প্রক্রিয়া চলছে।”
তবে পরিচালক কবির একাধিক অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “ওরা পার্টটাইম কর্মী, তাই নিয়োগপত্রের দরকার নেই। সবকিছুর খরচ বেড়েছে, তাই ফিও বাড়ানো হয়েছে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “পার্কের দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত এবং কর্মচারীদের অধিকার রক্ষা নিয়ে আমরা যথাযথ তদন্ত করব।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /