বরিশাল জেলা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কৃত, ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. সবুজ আকনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রবিবার (২৫ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একইসঙ্গে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা সবুজ আকনের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখেন।

যদিও বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কারণ উল্লেখ করা হয়নি, জানা গেছে গত ১৯ মে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সবুজ আকনের বিরুদ্ধে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। মামলাটি করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মহানগরীর কাউনিয়া থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

কাউনিয়া থানার ওসি নাজমুল নিশাত বলেন, “আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযুক্ত সবুজ আকন বাবুগঞ্জ উপজেলার বকশির চর গ্রামের বাসিন্দা, তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান আকন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জমি নিয়ে প্রতারণা: ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, প্রেসক্লাবে অভিযোগের ঝড়

জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও এক পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে বরিশালে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন একদল ডেভেলপার পার্টনার ও বিনিয়োগকারী। রোববার (২৫ মে) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ আনেন বিউটি সুপার মার্কেট প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডেভেলপার পার্টনার আবুল হাসান কুদ্দুস জানান, বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে অবস্থিত বিউটি সিনেমা হল সংলগ্ন ৪০ শতক জমি ২০১৩ সালে তারা জুলফিকার উদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা মূল্যে বায়না রেজিস্ট্রি করেন। নগদ এক কোটি টাকা পরিশোধের পর স্ট্যাম্পে চুক্তিভিত্তিক আরও ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দেন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জমির মূল দলিল হস্তান্তর না করে মালিক পক্ষ নানা তালবাহানা শুরু করে।

জমি নিয়ে হেবার নাটক, ডেভেলপার পাল্টে প্রতারণার অভিযোগ

পরবর্তীতে মালিকের মেয়ে সৈয়দ কামরুন্নাহার আখি দাবি করেন, তার দাদা ওই জমি তাকে মৌখিকভাবে হেবা দিয়েছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বায়না বাতিলের জন্য মামলা করা হয়।

২০১৭ সালে জমির মালিক নতুনভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ডেভেলপার পাওয়ার দিয়ে চুক্তি করেন, কিন্তু একই সময় তিনি আরেক ব্যবসায়ী আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে গোপনে চুক্তি করেন। কুদ্দুস জানান, একাধিক সালিশে জমিতে বিনিয়োগ করা ২ কোটি ৭ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং গ্যারান্টি হিসেবে একটি চেক দিয়ে, পরবর্তীতে নতুন এক ডেভেলপার কাজী মফিজুল ইসলামের সঙ্গে রেজিস্ট্রি চুক্তি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মালিক জুলফিকার উদ্দিনের ছেলে সৈয়দ আশিক চৌধুরী হেবা দলিল দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করেন এবং গত ৯ মে বিএনপির নামধারী ৩০-৩৫ জন সহযোগী নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং অভিযোগে বলা হয়, আশিক চৌধুরী ওসিকে “ম্যানেজ” করে তাকে কুয়াকাটা পাঠিয়ে দেন যেন পুলিশ হস্তক্ষেপ না করে। এমনকি তিনি ওসির স্ত্রীকে একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন কুদ্দুস।

ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতারণার কারণে তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে সৈয়দ আশিক চৌধুরী ও ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে ক্লান্ত আমি” চিরকুট লিখে মেডিক্যাল ছাত্রের আত্মহত্যা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সজীব বাড়ৈ (২৩) অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ ও মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করেছেন। তিনি মৃত্যুর আগে একটি চিরকুটে লিখে গেছেন—“নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে করে ক্লান্ত আমি। একটু বিশ্রাম চাই। ক্ষমা করে দিও। এত ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারলাম না।”

শনিবার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সজীব। পরদিন রোববার (২৫ মে) বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের পারিবারিক শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ সময় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

সজীব বাড়ৈ ছিলেন বাকাল গ্রামের বাসিন্দা, দুরারোগ্য ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত সুধীর বাড়ৈর ছেলে। তার বাবা একসময় আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরে “সাথী টেইলার্স”-এর মালিক ছিলেন, তবে অসুস্থতার কারণে বহুদিন ধরে কর্মক্ষম নন। সজীব ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতায় তিনি তার মেডিক্যাল পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

সজীবের রুমমেট সুমন হালদার জানান, সজীব দীর্ঘদিন ধরেই পড়াশোনার চাপ ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ৫০তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এবং তৃতীয় বর্ষে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে আটকে ছিলেন। তার সহপাঠীরা ইতোমধ্যে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্নশিপে গেলেও সজীব পিছিয়ে পড়েন, যা তাকে আরও ভেঙে দেয়।

গত ২২ মে দিবাগত রাতে সজীব নিজ শরীরে ক্লোনাজিপাম ও ফ্লুক্সেটিন গুঁড়া করে ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করেন। সহপাঠীরা তা বুঝতে পেরে তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার বলেন, “সজীব মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছি, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

সজীবের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু, সহপাঠী, এলাকাবাসী ও শিক্ষক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: ঈদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি সম্পন্ন

কোরবানির পর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সব ধরনের বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (২৫ মে) ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট, কাঁচা চামড়ার ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিবারই আমরা দেখি অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এবার আমরা চাচ্ছি, যারা চামড়া পায় তারা যেন ন্যায্য মূল্য পায়। এটি গরিবের হক—যারা এতিমখানা, মাদ্রাসা কিংবা দুঃস্থদের কাছে চামড়া দেয়, তাদের প্রাপ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

তিনি আরও জানান, চামড়া বিক্রিতে আদায় করা হাসিলের হার কমানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫ শতাংশ হাসিল বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আলোচনা করেছি যেন এটি কমিয়ে ৩ শতাংশের মধ্যে আনা যায়। যদিও এবার সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

এ বছর রাজধানীর দুই পাশে মোট ২০টি কোরবানির পশুর হাট বসানো হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিটি হাটে চিকিৎসকের ব্যবস্থা থাকবে যেন অসুস্থ গরু বিক্রি না হয়। সেই সঙ্গে হাটে আগত মানুষ অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসাও নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “কোরবানি সাধারণত তিনদিন চলে, তবে প্রথম দিনেই ৯০ শতাংশ কোরবানি সম্পন্ন হয়। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি যেন বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হয়। তারা আশ্বস্ত করেছে—১২ ঘণ্টার মধ্যেই সব বর্জ্য সরিয়ে ফেলা হবে। এজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।




ইশরাক হোসেনের শপথ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

রোববার (২৫ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দাখিল করেন ইশরাকের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এর আগে গত ২২ মে ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ানোর জন্য দায়ের করা একটি রিট আবেদন হাইকোর্ট সরাসরি খারিজ করে দেন। আদালত বলেন, ওই রিটটি শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে ইশরাকের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের ওই আদেশের পর ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের জানান, সরকার যদি এখন শপথ পড়াতে গড়িমসি করে, তবে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার দ্রুত শপথের ব্যবস্থা করবে।

এর আগে গত ১৪ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন, যাতে ইশরাকের শপথ ঠেকানো এবং তাকে মেয়র ঘোষণা করা বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়। ওই রিটে মামুনুর রশিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী আকবর আলী।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তবে গত ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম সেই ফলাফল বাতিল করে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করেন। পরে ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নেয় এবং ২৭ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে।

বর্তমানে ইশরাকের সমর্থকরা তাকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।




প্রধান উপদেষ্টা ও জামায়াত আমিরের আলোচিত বিষয়

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শনিবার (২৪ মে) বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে বৈঠকে দুটি বিষয় স্পষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় জানানো প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। তার ভাষায়, “নির্বাচনটি এমন সময় হওয়া দরকার যাতে জনগণের বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি না হয়। আবার, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তবে, সব সংস্কার এ সরকারের পক্ষে শেষ করাও সম্ভব নয়।”

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে জামায়াত কি কোনো সময়সীমা দিয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট কোনো সময় দিইনি, তবে দুইটি সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করেছি। যদি সংস্কার দ্রুত শেষ হয়, তাহলে নির্বাচন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি হতে পারে। আর সময় বেশি লাগলে রোজার পরপরই নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে এটিকে দীর্ঘায়িত করা হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে না।”

বৈঠকে জামায়াতের দাবির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, “তিনি আমাদের বক্তব্য গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আমরা মনে করি, তিনি আমাদের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।”

সাংবাদিকরা বিএনপির দাবিকৃত তিনজন উপদেষ্টার পদত্যাগ প্রসঙ্গে জামায়াতের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “পদত্যাগ চেয়েছে বিএনপি, আর ফতোয়া দেবে জামায়াতে ইসলামী—এটা কি মানায়? যাদের পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে, তারাই ব্যাখ্যা করবে। আমরা কারও পদত্যাগ চাইনি।”

বৈঠকে জামায়াতকে সরকারের ডাকার প্রসঙ্গেও ডা. শফিক বলেন, “আমাদের উপস্থিতি বিএনপির মতো না। আমরা নিজেরাই সময় চেয়েছিলাম। আমন্ত্রণ পেয়েছি ঠিকই, তবে আমরাই প্রথমে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের দলের কর্মসূচির কারণে নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে পিছিয়ে রাত ৮টায় বৈঠক হয়।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের অবস্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “তিনি বলেছেন, দেশ আমাদের সবার। আমি এমন একটি অর্থবহ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যেটি সবাই গ্রহণ করতে পারে। আমি যেনতেন নির্বাচন দিতে চাই না।”

এই বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী সুষ্ঠু নির্বাচন, সময়োপযোগী সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে।




ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে বিএনপির আলোচনা

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বৈঠকে বসেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (২৪ মে) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ এলেও বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু আগেই জানানো হয়নি। তবে বিএনপি অনুমানভিত্তিক একটি লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত করে তা বৈঠকে উপস্থাপন করে এবং মূলত সেটিকে কেন্দ্র করেই আলোচনা এগোয়।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপি উল্লেখ করে, গণতন্ত্রের উত্তরণের জন্য একটি সুস্পষ্ট নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়। তারা অভিযোগ করে, গত সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—রাজনৈতিক ও পারিবারিক উভয়ভাবেই। ফলে আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিচার দাবি করে বিএনপি জানায়, ভবিষ্যতে যদি তারা ক্ষমতায় আসে, তবে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে সেসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানায়। তারা মনে করে, নির্বাচন বিলম্বিত হলে দেশে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈঠকে নির্বাচনের রোডম্যাপ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস তারা পাননি। তাদের দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলেও উপদেষ্টা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

বৈঠক নিয়ে সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নে বিএনপি জানায়, এ বিষয়ে মন্তব্য করার আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেলের বক্তব্যের অপেক্ষা করবেন তারা।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, আলোচনা চলাকালে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। বিএনপি মনে করে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে বিচার বা নির্বাচনের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তারা আশা করে, বর্তমান সরকার জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সময়োপযোগী সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করবে, যা ভবিষ্যৎ সরকারও বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও সমানভাবে নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।




প্রধান উপদেষ্টার সাথে এনসিপির আলোচনা

বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শনিবার (২৪ মে) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতারা। বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সরকার থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, ৩০ দিনের মধ্যে “জুলাই ঘোষণাপত্র” জারি করা হবে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন এই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়, সে দাবি তারা জানিয়ে এসেছেন। এ বিষয়ে সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা উভয় পক্ষ থেকেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে” আহত ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া খুব ধীরগতিতে চলছে। নির্ধারিত সঞ্চয়পত্র এখনও অনেক শহীদ পরিবার পাননি এবং মাসিক ভাতা কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে, নাহিদ ইসলাম সাফ জানিয়ে দেন, ছাত্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে এনসিপির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, তারা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন, বরং গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য এবং পদত্যাগ দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত বলে এনসিপি মনে করে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের পদত্যাগের সম্ভাবনার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি চায় তিনি দায়িত্বে থেকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে কাজ করুন। তিনি কোনো দলের প্রতিনিধি নন বরং জনগণ ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার আহ্বানে দায়িত্ব নিয়েছেন। তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই দৃষ্টিভঙ্গি যেন বিবেচনায় থাকে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

কেন সরকার এনসিপিকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, মূলত চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের জন্যই এ বৈঠক। তিনি জানান, ড. ইউনূস বৈঠকে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একটি নতুন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে কিছু পক্ষ সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে, যা তার কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ইউনূস যেন রাজনৈতিক চাপ নয়, বরং জনগণ ও ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন।




ধর্মঘট নিরসনে বৈঠকে বসছে পেট্রোল পাম্প মালিক ও বিপিসি

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ ৭ দফা দাবিতে সারাদেশে শুরু হওয়া পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরী মালিকদের প্রতীকী ধর্মঘটের বিষয়ে সমাধান খুঁজছে সরকার। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধর্মঘট আহ্বানকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান।

তিনি জানান, ধর্মঘট পরিস্থিতি নিরসনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি মালিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো যাচাই-বাছাই করবে এবং তার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমেই চলমান সংকট কেটে যাবে এবং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরী মালিক ঐক্য পরিষদ। তারা সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখার পাশাপাশি ডিপো থেকে জ্বালানি উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাম্পগুলো বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে।

তাদের ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ৭ শতাংশে উন্নীত করা, সওজের ইজারা মাশুল পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা, পাম্প সংযোগ সড়কের ইজারা নবায়নের সময় পে-অর্ডারকে নবায়ন হিসেবে গণ্য করা, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকের ক্যালিব্রেশন এবং ডিপ রড পরীক্ষণ ফি ও নিবন্ধন বাতিল করা, বিভিন্ন লাইসেন্স প্রথা বাতিলসহ বিপণন কোম্পানির বাইরে তেল বিক্রি বন্ধের ব্যবস্থা, ট্যাংকলরি চালকদের লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে জটিলতা দূরীকরণ এবং সকল ট্যাংকলরির জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট দেওয়া।

এছাড়াও দাবি রয়েছে, বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীনভাবে বসতঘর কিংবা খোলা জায়গায় যত্রতত্র তেল বিক্রি ঠেকানোর। মালিকরা বলছেন, এভাবে অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বাজারকে অস্থির করে তুলছে এবং বৈধ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পেট্রোল পাম্প মালিকদের এ আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, “আমরাও চরম সংকটে আছি, ব্যবসা চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবে আমরা এখনই ধর্মঘটে যাচ্ছি না। প্রথমে আল্টিমেটাম দেওয়া হবে, পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে সরকার কমিশন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘদিনেও তা পূরণ হয়নি। শুধু এক টাকা কমিশন বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু বারবার বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচ বাড়ার পরেও কমিশন আর সমন্বয় করা হয়নি। এতে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।

এদিকে, ধর্মঘটের কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন সাধারণ জনগণ ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা। ফলে সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত এই সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন: “এখনো কোনো আশ্বাস পাইনি আর কোনো স্পষ্টতাও দেখছি না”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্টতা দেখতে পাচ্ছি না। উপদেষ্টা পরিষদের কোনো আশ্বাসও পাইনি। শনিবার (২৪ মে) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

নির্বাচন বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা বিরক্ত স্বরে সালাহউদ্দিন বলেন, “সুনির্দিষ্টভাবে এমন কোনো কথা হয়নি। আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি। হয়তো তারা তাদের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানাবে। আমরা সেটির অপেক্ষায় থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “এখন প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় নয়। আগে তারা সংবাদ সম্মেলনে কী বলেন, তা দেখা দরকার। এরপরই আমরা প্রতিক্রিয়া জানাব।”

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, উপদেষ্টা পরিষদ থেকে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধকারী ব্যক্তিদের অপসারণের দাবিতে তারা লিখিতভাবে জানিয়ে এসেছেন। “নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং দুই ছাত্র উপদেষ্টার কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে— আমরা আগে যেমন জানিয়েছিলাম, এবারও তা লিখিত এবং মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।”

এই দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি মিলেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।”

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, মূলত তিনটি বিষয়—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—নিয়ে আলোচনা হয়েছে। “সংস্কারের বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং উনারাও একমত হয়েছেন যে, ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এ কাজ শেষ করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “বিচারব্যবস্থা আদালতের বিষয় এবং বিচারের আওতায় আনা নিয়েও কোনো দ্বিমত দেখা যায়নি। এমনকি ডিসেম্বরের আগেও নির্বাচন আয়োজন সম্ভব—এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।”

আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, “আমরা বলেছি, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হলে দেশে চলমান নৈরাজ্য, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অনিশ্চয়তা দূর হবে। একটি ঘোষণাই দেশে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।