পাকিস্তানে ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে প্রাণ গেল ১৩ জনের, আহত ৯২

প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো।

রবিবার (২৫ মে) পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন-এর বরাতে জানা গেছে, প্রদেশজুড়ে ভারী বর্ষণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসে পড়ার কারণে।

পাঞ্জাব প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (PDMA) জানিয়েছে, সকল নাগরিককে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের সব জরুরি সেবা সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের বিদ্যুৎ লাইন, খুঁটি ও ঝুলন্ত তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 ঘরধসে প্রাণহানি বেশিস্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরনো ও কাঁচা ঘরবাড়িগুলোই ঝড়ের ধকল সহ্য করতে না পেরে ধসে পড়ে। বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে এসব ঘরের নিচে চাপা পড়ে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাঞ্জাব সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন এবং ঘরবাড়ি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




 এক মাস কেটে গেল, চাল পাননি ভোলার ৬৫ হাজার জেলে

ভোলার সাগরগামী জেলেরা সরকারের ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা মেনে তীরে ফিরে এসেছেন অনেক আগেই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার এক মাস পার হলেও এখনো তারা পাননি প্রণোদনার চাল। এতে করে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৬৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ১৫ এপ্রিল, চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এই সময়টিতে জেলেদের দুই ধাপে ৮৬ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কেউ একটি কেজিও পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভোলার দৌলতখানের সাগরগামী জেলে ফারুক মাঝি বলেন,“আমাদের নামে বরাদ্দ থাকলেও সেগুলো দেওয়া হয় অন্যদের। প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছি।”

জেলে শহীদ মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“সরকার বলছে অভিযান চলাকালীন চাল দেবে। কিন্তু এক মাস হয়ে গেল, এখনো পাইনি। এনজিওর কিস্তির চাপ বাড়ছে। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে আছি।”

একই রকম অভিযোগ কাশেম মাঝিরও:“সাগরে না যাইতে পারি, নদীতেও মাছ নাই। কিস্তির চাপ, ধারদেনায় জীবন অচল হয়ে গেছে। অনেকেই চুরি করে সাগরে যায় মাছ ধরতে। এভাবে চললে আমরাও বাধ্য হবো।”

অভিযোগ ও প্রশাসনের অবস্থান

জেলেদের দাবি, বহু প্রকৃত জেলে এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। আর তালিকায় না থাকলে বরাদ্দের চালও মিলছে না। তারা আরও বলেন, প্রণোদনার চাল ছাড়াও এই সময় এনজিও ঋণের কিস্তি মওকুফ বা স্থগিত রাখা উচিত। নয়তো তারা চরম সংকটে পড়ে থাকবেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান,“এবারই প্রথম প্রতিবেশী দেশের সাথে মিল রেখে অভিযান ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিনে কমানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত চাল বিতরণ শুরু হবে।”

বর্তমানে সরকারি হিসাবে ভোলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। যদিও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রকৃত সাগরগামী জেলের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। চাল বিতরণের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৫৬ কেজি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩০ কেজি করে মোট ৮৬ কেজি চাল পাওয়ার কথা রয়েছে প্রতিজনের।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 এনবিআরের দাবিতে সরকারের সম্মতি, আন্দোলন স্থগিতের পথে কর্মকর্তারা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশিরভাগ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এতে করে আন্দোলন স্থগিতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

রবিবার (২৫ মে) বিকেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং দাবির অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছে সরকার। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করা হবে বলে আশ্বাস পেয়েছেন তারা। এজন্য আপাতত আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

এর আগে একই দিন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের নিচে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদ জানায়, সোমবার (২৬ মে) থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও জরুরি পণ্য পরিবহন ব্যতীত কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

কর্মসূচি ঘোষণার সময় তারা চারটি প্রধান দাবি উপস্থাপন করেন:

  1. অবিলম্বে জারি করা বিতর্কিত অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে।
  2. এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে।
  3. রাজস্ব সংস্কার সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সুপারিশ প্রকাশ করতে হবে।
  4. খসড়া সংস্কার প্রস্তাবনায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক রাজস্ব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত সমস্যা ও বঞ্চনার প্রেক্ষিতে তারা যেসব দাবি তুলেছেন, তা বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে এবং কর্মপরিবেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ড. ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠক শুরু

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এক উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। রবিবার (২৫ মে) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্ব শুরু হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকটি দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে অংশ নিয়েছেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, এবি পার্টির মহাসচিব মুজিবর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

এছাড়া প্রথম দফার আলোচনায় আরও অংশ নিয়েছেন বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়কারী টিপু বিশ্বাস এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্বিতীয় দফায় অংশ নেবেন বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে রয়েছেন—হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার এবং ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি।

এ বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 ভোলা-পটুয়াখালী রুটে ফেরি চালুর সম্ভাবনা, আশার আলো দেখছেন উপকূলবাসী

দক্ষিণ বঙ্গের উপকূলীয় দুই জেলা—ভোলা ও পটুয়াখালীর মধ্যে ফেরি যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে নেয়া এ পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলার চরফ্যাশনের দুলারহাট থানার ঘোষেরহাট থেকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট পর্যন্ত নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এই রুটে ফেরি চালুর দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

সম্প্রতি ইস্যু করা এক অফিসিয়াল চিঠিতে বিআইডব্লিউটিএ রুটটি সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেয় এবং ত্রি-বিভাগীয় একটি কমিটির মতামত চায়। এই কমিটিতে থাকবেন বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, পটুয়াখালী এবং ভোলা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীরা। পরিদর্শনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া তার আবেদনে উল্লেখ করেন, চরফ্যাশনের ঘোষেরহাট এলাকাটি জেলা সদর ও বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে দূরবর্তী ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখানকার মানুষের যাতায়াতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। কৃষিপণ্য, ইলিশসহ অন্যান্য মাছ পরিবহন, চিকিৎসা বা শিক্ষা—সবক্ষেত্রেই সময় ও অর্থ ব্যয় বেড়ে যায় বহুগুণ।

তিনি আরও বলেন, “ফেরি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষা সেবায় উপকূলের মানুষ আরও সহজে উপকৃত হতে পারবে।” এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে তারা ফেরি সার্ভিসটি দ্রুত চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা এবং দ্রুত অগ্রগতি আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন চায় এবি পার্টি: মঞ্জু

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া জরুরি।

রবিবার (২৫ মে) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

মঞ্জু জানান, “আমরা বলেছি, ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যথাসম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। তবে সেটা চাপিয়ে দিয়ে নয়, প্রধান উপদেষ্টা যেন সুবিধাজনক সময়ে এই নির্বাচন আয়োজন করেন।”

ছাত্র আন্দোলনের ঐক্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জেনজি, মাদ্রাসা ও পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে যে ঐক্য ছিল, তা ধরে রাখা যায়নি। বরং কিছু উপদেষ্টার কারণে ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে চারটি পক্ষ—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি।”

তিনি জানান, “আমরা উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছি। ইগো বা অহংকার আমাদের এই অবস্থায় এনে দিয়েছে।”

পদত্যাগ নয়, দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে মঞ্জু বলেন, “আপনার, আমার, আমাদের সবার পরাজয়ের সুযোগ নেই। সফল হতেই হবে। আপনি এখন দায়িত্ব ছেড়ে দিলে নির্বাচন ও সংস্কার সব অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই আপনাকে দায়িত্বে থেকেই এগিয়ে যেতে হবে।”

নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হলে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা হতাশ, তবুও আমরা বলেছি হতাশ না হয়ে এগিয়ে যান।”


এস. এল. টি. তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় জনগণ: তারেক রহমান

তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের জনগণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে পাবে।

রোববার (২৫ মে) বিকেলে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার—আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কারে আমরা আন্দোলনরত দলগুলো অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে আসছি। আশা করি, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন হবে।”

বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ হঠাৎ সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরি করেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।” তারেক রহমান মনে করেন, জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকারই এ ধরনের পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা থাকলেও এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নয়। সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, না হলে তা কখনোই কার্যকর বা টেকসই হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সুযোগ নিতে পারে যদি আমরা গড়িমসি করি। তাই গণতন্ত্রকামী জনগণের উচিত সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার ধারা অব্যাহত রাখা এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকা।”

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় দেশে ও বিদেশে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নামছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।”

শেষে তিনি বলেন, “যদিও বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে, তবে জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাই সময়ের দাবি।”

এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাহদী আমিন, বিএলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ভাসানী জনশক্তির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

 




 বরগুনায় ডাকাত সন্দেহে গুলিবিদ্ধ ও গণপিটুনিতে নিহত ১

বরগুনার বামনা উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ধৃত এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। নিহত আনোয়ার হোসেন রিপন (৩৮) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার লক্ষণা গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের হোগলপাতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আনোয়ার হোসেন রিপনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। প্রথমে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে তিনি তার সঙ্গে থাকা পাইপগান দিয়ে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে স্থানীয় সুমন জমাদ্দার তার বৈধ অস্ত্র দিয়ে রিপনের পায়ে গুলি করেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে আবারও মারধর করে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিপনকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি ছুরি ও তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আনোয়ার হোসেন রিপনের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ১১টি মামলা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

বামনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম বলেন,
“ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আনোয়ারকে দেখে ফেলেন নৈশপ্রহরীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলে। গুলি ছোড়ার পর আত্মরক্ষায় বৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি করেন সুমন জমাদ্দার। পরে উত্তেজিত জনতা মারধর করে।”

সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 দেশের স্বার্থে কাজ করুন, ব্যক্তির নয়: নবীন নাবিকদের প্রতি উপদেষ্টার আহ্বান

নবীন নাবিকদের দেশের জন্য নিষ্ঠাভরে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “আপনারা দেশের জন্য কাজ করবেন, কোনো ব্যক্তির জন্য নয়।”

রবিবার সকালে পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এ-২০২৫ ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের আদর্শ অনুসরণ করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে। আপনারাই ভবিষ্যতে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলবেন।”

এদিন ৪৬৩ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটে। প্রধান অতিথি শাখাওয়াত হোসেন কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি প্রশিক্ষণে কৃতিত্ব অর্জনকারী নাবিকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন নাবিকদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “এই তরুণ নাবিকরাই ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




এক পায়ে সংগ্রাম, ‘মামা জিলাপি’র গল্প

ভিক্ষা নয়—শ্রমই তার জীবনের মূলমন্ত্র। পা হারালেও থেমে থাকেননি বরিশালের হানিফ আকন। পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আজ ‘মামা জিলাপি’ নামে পরিচিত তিনি। জীবনযুদ্ধে হার না মানা এই ৫০ বছর বয়সী মানুষটি এখন জিলাপি বিক্রি করে ছয় সদস্যের পরিবার চালাচ্ছেন।

২০১৯ সালে মাছ ধরতে গিয়ে পায়ে মাছের কাঁটা ঢুকে সংক্রমণের কারণে হানিফকে হারাতে হয় তার একটি পা। এরপর শুরু হয় দুর্দশা। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়, সংসারে নেমে আসে অভাব। কিন্তু হানিফ ভিক্ষার পথ না বেছে নেন আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত।

সহায়তায় বদলে গেল জীবন :

হানিফের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘ইভেন্ট ৮৪’ নামক একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন। বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এবং ‘ইভেন্ট ৮৪’ এর অ্যাডমিন সাজ্জাদ পারভেজ তার পাশে দাঁড়ান। সংগঠনটির সহায়তায় হানিফ পান একটি ছোট দোকান, জিলাপি তৈরির সরঞ্জাম এবং পরবর্তীতে আইসিডিএ’র সহায়তায় দোকানে ব্যাটারি ও লাইট।

দোকানে দাঁড়িয়ে হানিফ প্রতিদিন নিজ হাতে তৈরি করেন সুস্বাদু জিলাপি। তার তৈরি জিলাপি খেতে স্থানীয়দের ভিড় লেগেই থাকে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে হানিফের সংগ্রামের খবর প্রকাশিত হলে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন নিজে গিয়ে তার দোকানে যান। পরে বরিশাল শিশু পরিবার (বালিকা দক্ষিণ) অফিসে হানিফ নিজে ভ্যানে করে গিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ডিসি নিজ হাতে জিলাপি তৈরি করে তাকে উৎসাহ দেন এবং শিশু পরিবারের সকল শিশুর জন্য জিলাপির ব্যবস্থাও করেন।

জেলা প্রশাসক হানিফের ঘরের জন্য টিন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন, যা তার জীবন সংগ্রামে বড় একটি সহায়তা হিসেবে যুক্ত হলো।

সমাজে অনেকেই প্রতিবন্ধকতায় ভেঙে পড়লেও হানিফ প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে সম্ভব সবকিছু। তিনি শুধু জিলাপি বিক্রি করছেন না—তিনি অনুপ্রেরণার এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন বরিশালের মানুষের কাছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /