ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার, গৌরনদীতে দোকান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের সাদ্দাম বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলেকে না পেয়ে তার বাবাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে বাজারের অন্তত ১৫টি দোকান বন্ধ রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ছাত্রলীগ সমর্থিত শামীম হাওলাদারকে আটক করতে পুলিশ বাজারে অভিযান চালায়। তবে তাকে না পেয়ে তার বাবা ৭০ বছর বয়সী শাজাহান হাওলাদার খোকনকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া শাজাহান হাওলাদার খোকন সাদ্দাম বাজার কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি চার্চ অব বাংলাদেশ সাধু ফিলিপ গির্জার নৈশপ্রহরী হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।

সাদ্দাম বাজারের সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান বলেন,
“শাজাহান হাওলাদার খোকন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। শুধু তার ছেলে ছাত্রলীগ সমর্থিত—এই কারণে পুলিশ তাকে খুঁজতে এসে বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের জানামতে, তার কিংবা তার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে এভাবে গ্রেপ্তার করায় আমরা ক্ষুব্ধ।”

তিনি আরও জানান, শাজাহান হাওলাদার খোকন বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল গ্রামের শাহেব আলী হাওলাদারের ছেলে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই তারা দোকান বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিখ হাসান রাসেল বলেন,
“শাজাহান হাওলাদার খোকনকে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করা ব্যবসায়ীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিষয়টির নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, ফিরল প্রাথমিক সদস্যপদ

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত বরিশাল মহানগর বিএনপি ও মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ পুনর্বহাল করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা দলীয় ফোরামে আবেদন জানালে তা পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আপাতত কেবল প্রাথমিক সদস্যপদই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন—
বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফিরোজ আহমেদ,
২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার,
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক,
২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির,
৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু,
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা বেগম,
২৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী সেলিনা বেগম,
৩০ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা পারভীন,
মহানগর মহিলা দলের সাবেক সহসভাপতি মোসা. জেসমিন সামাদ শিল্পী,
১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান,
মো. কামরুল আহসান রুপন এবং
১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. জাবের আব্দুল্লাহ সাদী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ কঠোরভাবে অনুসরণ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

জনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন এলাকা, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্রবেশপথ এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের সামনের এলাকা। এসব স্থানে কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে ইচ্ছামতো সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়টি মাথায় রেখেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কাজ না করেই ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুর্ভোগে পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ

বিগত সরকারের প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কাজ না করেই প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে বৈঠাকাটা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার প্রকল্পে এই ভয়াবহ অনিয়মের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির অধিকাংশ অংশে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ। নাজিরপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি। পাশাপাশি জেলার সবচেয়ে বড় ভাসমান সবজির বাজার বৈঠাকাটায় যাওয়ার একমাত্র পথ হওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা। খানাখন্দে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা উল্টে আহত হচ্ছেন যাত্রী, ভাঙছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ। রোগী পরিবহনেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘বরিশাল প্রশস্তকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় মেসার্স ইফতি ইটিসিএল প্রা. লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারটি প্যাকেজে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে এই সড়ক সংস্কারের কাজ পায়। ২০২৪ সালের জুনে কাজ শুরুর কথা থাকলেও ২০২৫ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় পার হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ভাই এবং ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি কোনো কাজ না করেই পুরো অর্থ উত্তোলন করে নেন।

বৈঠাকাটা এলাকার বাসিন্দা তৌফিক শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছয়-সাত বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। পাকা রাস্তা এখন গ্রামের মেঠোপথের মতো। কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়ায় পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ আজ অসহায়।”

অটোরিকশা চালক তরিকুল শেখ বলেন, “এই ১৭ কিলোমিটার পথ আগে আধা ঘণ্টায় পার হওয়া যেত। এখন এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, রোগী পরিবহনে কেউ আসতে চায় না।”

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেও, কাজ না করেই কীভাবে পুরো অর্থ উত্তোলন করা হলো—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ সম্পন্নের চেষ্টা চলছে।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগের যেসব কাজে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং যেগুলো তদন্তাধীন, সেগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দ্রুত কাজ শেষ করতে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বানারীপাড়ায় অস্ত্রসহ আ.লীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন তারিকুল ইসলাম। তিনি সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশ ঘর তল্লাশি করতে চাইলে তারিকুল ইসলাম নিজেই আলমারি থেকে একটি অবৈধ পাইপগান, ৮ রাউন্ড কার্তুজ, দুটি দেশীয় ধারালো ছেনা ও একটি রামদা বের করে দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আত্মরক্ষার জন্য এসব অস্ত্র নিজের কাছে রাখতেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন ও সংরক্ষণের অভিযোগে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে গাছবোঝাই ঠেলাগাড়িসহ আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে, দুই গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গাছবোঝাই একটি ঠেলাগাড়িসহ পুরোনো আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন যুবক আহত হয়েছেন এবং দুই গ্রামের মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল গ্রামে, চুন্নু সরদারের বাড়ির সামনের আয়রন ব্রিজে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন ব্রিজ দিয়ে বড় গাছ বোঝাই একটি ঠেলাগাড়ি পার হওয়ার সময় হঠাৎ ব্রিজের একাংশ ভেঙে পড়ে যায়। এতে গাছসহ ঠেলাগাড়িটি নিচের খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ব্রিজ পার হচ্ছিলেন আরিফ নামের এক যুবক, তিনি আহত হন।

এই দুর্ঘটনার পর থেকে কটকস্থলসহ আশপাশের দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. চুন্নু সরদার বলেন, ‘ব্রিজটি অনেক পুরোনো ও দুর্বল ছিল। আগেই গাছ ক্রেতা মাসুদ সরদারকে এই ব্রিজ দিয়ে ভারী গাছ পরিবহন না করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধ অমান্য করেই গাছ পরিবহনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।’

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, নচেৎ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাগরে নিখোঁজ ১৭ জেলে, দুই বছর পর ফেরার আশায় পরিবার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো বাড়ি ফেরেননি বরগুনার ১৭ জেলে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারগুলো। তবে সম্প্রতি নিখোঁজ জেলেদের ভারতের একটি কারাগারে আটক থাকার তথ্য পাওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্বজনেরা।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে সাগরে যাওয়া ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের একটি মাছধরা ট্রলার নিখোঁজ হয়। ওই ট্রলারে থাকা ১৭ জন জেলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি জানা গেছে, তারা ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

বরগুনা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-১) কামরুজ্জামান জানান, নিখোঁজ জেলেদের পরিবার থেকে ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাজধানীর এসবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলেরা ঘূর্ণিঝড়ের সময় দিকভ্রান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজ ১৭ জেলের মধ্যে ১৬ জন বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের সাতজন এবং ঢলুয়া ইউনিয়নের নয়জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। অপর একজন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেংরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের জীবন কাটছে চরম দুর্ভোগে। ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী এলাকার বাসিন্দা ইউনুস সরদারের মা তারাবানু (৭০) ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করেন। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে ছেলের ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ছেলেকে ভারতের কারাগারে থাকার খবর পেয়ে আবার নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি পেয়েছেন। তিনি শুধু চান, জীবিত অবস্থায় ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে।

একই গ্রামের আরেক নিখোঁজ জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার জানান, দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় ছিল। সম্প্রতি স্বামী জীবিত আছেন—এই খবর পাওয়ায় তারা সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে আটক থাকার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের আবেদন পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কিছুটা সময় লাগলেও জেলেদের দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুই বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর একটাই চাওয়া—রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগে প্রিয়জনদের দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নারীর শ্রমে ঘুরছে বরগুনার প্রান্তিক অর্থনীতি

কৃষি, মৎস্য ও তাঁতশিল্পে প্রান্তিক নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বদলাতে শুরু করেছে উপকূলীয় জেলা বরগুনার অর্থনৈতিক চিত্র। সংসারের চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে মাঠ, নদী ও তাঁতঘরে নারীদের অবিরাম শ্রম আজ পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত তৈরি করছে।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা সদর ও চরদুয়ানী ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের গৃহবধু নারীরা দলবদ্ধভাবে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পুরুষের সহায়তা ছাড়াই তারা ধানসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য ও মৌসুমি ফসল উৎপাদন করছেন। ধান কাটা, মাড়াই, সিদ্ধ ও শুকানো থেকে শুরু করে চাল ভাঙানো পর্যন্ত সব কাজ নিজেরাই সম্পন্ন করছেন তারা। বলেশ্বর নদীসংলগ্ন গাববাড়িয়া গ্রামে ধান কাটার মৌসুমে নারীদের দলবদ্ধ শ্রম এখন নিয়মিত দৃশ্য।

স্থানীয় নারী কৃষক রোকেয়া বেগম, আলেয়া বেগম ও জোছনা বেগম জানান, কৃষিকাজে সফল হওয়ায় তারা এখন নিজেরাই আয় করছেন এবং সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি আর্থিকভাবে কারও ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে না।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করে এসব নারী কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। তাদের উদ্যোগ টেকসই করতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

মৎস্য খাতেও বরগুনার নারীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয় উপজেলায় পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার জেলের বসবাস। এর মধ্যে অন্তত ১০ হাজার জেলেবধূ সরাসরি মাছ আহরণে যুক্ত। তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা গ্রামের জেলে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী আলেয়া বেগম প্রতিদিন ভোরে স্বামীর সঙ্গে নদীতে গিয়ে জাল তোলা, মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কাজে অংশ নেন। একই সঙ্গে ঘরের কাজ ও সন্তানদের দেখভালের দায়িত্বও তাকেই সামলাতে হয়।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, উপকূলীয় জেলে পরিবারের নারীরা পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করলেও তাদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত হয়নি।

অন্যদিকে তালতলী উপজেলার রাখাইন পল্লীগুলোতে হস্তচালিত তাঁতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাখাইন নারীরা। মায়ানমার থেকে আনা সুতা দিয়ে তারা শীতের চাদর, শার্ট পিস, লুঙ্গি, গামছা ও ব্যাগ তৈরি করছেন। শীত মৌসুম ও ঈদকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তালতলীর ১৭টি রাখাইন পল্লীতে দুই শতাধিক হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। কোনো কোনো পরিবারে একাধিক তাঁত পরিচালিত হচ্ছে।

ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অংতেন তালুকদার বলেন, তাঁতশিল্প রাখাইন নারীদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ। এই শিল্প তাদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার প্রতীক।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগই উপকূলীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচনে এসব কর্মঠ নারী অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং নারীদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি মিললে বরগুনার এই প্রান্তিক নারীরাই ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডুবোচর ও নাব্য সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা–বরিশাল নৌরুট

ঘন কুয়াশা, ডুবোচর ও তীব্র নাব্য সংকটের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা–বরিশাল নৌরুট চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। শীত মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ৩১টি নৌপথের মধ্যে অন্তত ২২টিতে পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ নৌপথজুড়ে সংকেতবাতি, ভাসমান বয়া ও মার্কারের অভাব। ফলে কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চালাতে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন চালকরা, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমেই ঘন কুয়াশার মধ্যে মেঘনা নদীতে একাধিক লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে চাঁদপুরের হাইমচর সংলগ্ন নীলকমল বাংলাবাজার এলাকায় ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের সঙ্গে ঝালকাঠিগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন।

একই রাতে সদরঘাট থেকে চাঁদপুরগামী ইমাম হাসান-৫ লঞ্চটি প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে যাত্রা করে। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে নোঙর করা একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে লঞ্চটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। পরদিন ডুবুরিরা ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

সদরঘাট নৌ-পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওইদিন ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪টি নৌযানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর কিছুদিন আগেও একই নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে বরিশালগামী এম খান-৭ঈগল-৪ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়, যদিও এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথে কুয়াশাজনিত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে। সেদিন ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ৪৭ জনের মৃত্যু এবং ৩১ জন নিখোঁজ হন। ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চটি তীরে ভেড়াতে না পেরে মাঝনদীতে ভাসছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

লঞ্চযাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদ–এর আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, রাতের বেলায় নদীপথে চলাচলের জন্য বাঁক, চর ও ডুবোচর এলাকায় বয়া, সংকেতবাতি ও মার্কার থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এসব অবহেলিত। নিয়মিত সংরক্ষণ ও নজরদারি থাকলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

ঢাকা–বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ ও কার্গো জাহাজের চালকরাও অভিযোগ করে বলেন, শীত এলেই নাব্য সংকট ও ঘন কুয়াশা এই নৌপথকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। বিশেষ করে ডুবে থাকা বা অর্ধডুবন্ত বাল্কহেড বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। কুয়াশার মধ্যে বয়া ও বিকন বাতির অভাবে নৌযান প্রায়ই চরে আটকে যাচ্ছে।

চালকরা জানান, ঢাকা থেকে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, মেহেন্দীগঞ্জ, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, চরফ্যাশন, বাউফল, হিজলা ও মুলাদীসহ বহু নৌপথে বর্তমানে তীব্র নাব্য সংকট ও ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে বয়া থাকলেও তাতে সংকেতবাতি জ্বলে না।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১ নভেম্বর রাতে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা বোগদাদিয়া-৭ লঞ্চটি মেঘনা নদীর একটি ডুবোচরে আটকা পড়ে। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এমভি অথৈ-১ লঞ্চ এক সপ্তাহ ধরে ডুবোচরে আটকে ছিল।

ঢাকা–বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি মানামী লঞ্চের পরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, শীতকালে পানি কমা স্বাভাবিক হলেও এবার শীত শুরুর আগেই পানি নেমে গেছে। আগে নভেম্বর মাসে লঞ্চ ডুবোচরে আটকাত, এবার অক্টোবর থেকেই সেই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।

নাব্য সংকটের প্রভাব পড়েছে ফেরি চলাচলেও। বরিশালের মীরগঞ্জ–মুলাদী ফেরি রুটে নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করা না যাওয়ায় বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করতে হচ্ছে, এতে জ্বালানি খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নবনীতা বিশ্বাস জানান, হিজলা এলাকায় নাব্য সংকট নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে। হাইড্রোলজি বিভাগের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (নৌপথ) আব্দুস সালাম বলেন, চাঁদপুর ও বরিশাল বিভাগের প্রয়োজনীয় স্থানে বয়া, মার্কার ও সংকেতবাতি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় প্রাণ গেল ঠিকাদারের

বরিশালে তীব্র শীতের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক ঠিকাদারের মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাশেদুল শেখ (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে চারটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত রাশেদুল শেখ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক এলাকার বারোকানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালাম শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে তিনি বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে চলমান তীব্র শীত ও উত্তর দিকের হিমেল বাতাসে বরিশালের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর ও হকাররা। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে অনেককেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

শীত থেকে বাঁচতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। যদিও কুয়াশার প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে উত্তরের হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দিনের বড় অংশে সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডার অনুভূতি বেড়েই চলেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের একই দিনে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি, অর্থাৎ চলতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি কম।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে একাধিক রোগী কিংবা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, শীতের এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান এবং অপ্রয়োজনে ভোর বা গভীর রাতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে শীতের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫