দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে নিম্নাঞ্চলের বহু জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সর্বশেষ পরিমাপ অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়া নদীগুলো:

  • বরিশালের কীর্তনখোলা নদী: ২৩ সেন্টিমিটার উপরে
  • ঝালকাঠির বিষখালী নদী: ২৩ সেন্টিমিটার উপরে
  • ভোলার দৌলতখানে সুরমা-মেঘনা নদী: ২৪ সেন্টিমিটার উপরে
  • তজুমদ্দিনে সুরমা-মেঘনা নদী: ১২ সেন্টিমিটার উপরে
  • ভোলা খেয়াঘাটে তেতুলিয়া নদী: ৩৬ সেন্টিমিটার উপরে
  • বরিশালের হিজলা নদী: ৫২ সেন্টিমিটার উপরে

পানি বাড়ার ফলে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীর কিছু নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্থানীয় জনগণকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার কোনো স্থায়ী প্রভাব দেখা যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইশরাক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত আপিল রায়ের পর: সিইসি

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের মেয়র পদ সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপিল বিভাগের রায় এখনো হাতে পাইনি। যখন রায় হাতে পাব, তখন সেটি পরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”

রায় সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “টেলিভিশনের স্ক্রলে ভেসে আসা তথ্য দেখে তো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে তারপর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এর আগে, সকালে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ঘোষণা সংক্রান্ত গেজেট স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

বিকেলে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ এবং মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

এখন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে আসার পর নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




খুব শিগগিরই দেশে গণতন্ত্র ফিরবে: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, “খুব শিগগিরই আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখতে পাবো।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা এখনো প্রতিনিয়ত বাধার মুখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, “এই দিনটি আমাদের জীবনে ফিরে আসে এক গভীর বেদনার স্মৃতি নিয়ে। শুধু আমাদের পরিবার নয়, সমগ্র জাতি সেই দিনটি হারিয়েছিল এক দূরদর্শী দেশপ্রেমিক নেতাকে।”

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য একটি নাম উল্লেখ করে বলেন, “যে চট্টগ্রামে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তিনি নিজেকে এই দেশের অঙ্গ করে গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশ পেয়েছে গণতন্ত্র, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা এবং একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ। তিনি ছিলেন এক সফল, সৎ এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।”

খালেদা জিয়া আরও বলেন, “যে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে শহীদ জিয়া জীবন দিয়েছেন, সেই গণতন্ত্র আজও ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—তার দেখানো পথ অনুসরণ করে শিগগিরই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

তিনি দলের সব স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রাজনীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। সেটাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”

আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।




উপদেষ্টা পরিষদে পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নিরপেক্ষ নয় এবং সেখানে পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত ব্যক্তিরা আছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আপনার উপদেষ্টা পরিষদ নিরপেক্ষ নয়। দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। আরেকজন উপদেষ্টা ২০ বছর বিদেশে ছিলেন, এখন বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে দেশে এসেছেন। এছাড়াও কয়েকজন উপদেষ্টা আছেন যারা ফ্যাসিবাদী আচরণে লিপ্ত।”

তিনি বলেন, “যদি সত্যিকার সংস্কার চান, তাহলে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে শুরু করুন। সরিষার ভেতরে ভূত রেখে সংস্কার সম্ভব নয়। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে সকল সংস্কার সম্ভব। আপনি যদি না পারেন, আমাদের বলুন—আমরাই করে দেব।”

তার বক্তব্যে উঠে আসে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মেধার মূল্যায়নের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান মেধাবীদের এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিতেন। এখন তারেক রহমান ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার’ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই চর্চা আবার শুরু করেছেন।”

শ্বেতপত্র বিষয়ে সালাহউদ্দিন দাবি করেন, “৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, ৪ লাখ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে—এসব তথ্য শ্বেতপত্রে রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন আমাদের রাজনৈতিক পাঠ্যপুস্তক হওয়া উচিত। ৬৬ শতাংশ সামরিক বুলেট ব্যবহার হয়েছে—এসব তথ্য জানা জরুরি।”

তিনি ভবিষ্যতের রাজনীতি বিষয়ে আরও আলোচনা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, “শুধু আবেগনির্ভর স্লোগানে রাজনীতি চলবে না। ভবিষ্যতের রাজনীতি নিয়ে ব্যাপকভাবে সেমিনার আয়োজন করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জাপানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে বাংলাদেশীদের

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ শ্রমিক নেবে জাপান—এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টোকিওতে ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “জাপানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের অগ্রাধিকার। এটি শুধু কাজের সুযোগ নয়, জাপানকে জানারও একটি দ্বার উন্মোচন করবে।”

সেমিনারে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়:

  1. বিএমইটি ও কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ)
  2. বিএমইটি, এনবিসিসি (জাপানের ৬৫টি কোম্পানির ফেডারেশন), ও জেবিবিআরএ (জাপান-বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি)

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১৮ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে অর্ধেকই ২৭ বছরের নিচে। সরকারের দায়িত্ব হলো তাদের সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া।”

জাপানি প্রতিনিধি মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, “বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং জাপানি কোম্পানিগুলো তাদের নিয়ে আগ্রহী।”

এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা জানান, তাদের ফেডারেশন আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

ওয়াতামি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে বলেন, তারা বাংলাদেশে পরিচালিত স্কুলে প্রতিবছর ১৫০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেন এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ৩০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেইটিসিও চেয়ারম্যান হিরোআকি ইয়াগি বলেন, বাংলাদেশিদের জাপানে কাজের সুযোগ বাড়ছে, তবে ভাষাশিক্ষায় ঘাটতি রয়েছে।

জাপানের শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি জানান, “জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, শ্রমিক সংকট বাড়ছে। বাংলাদেশ এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।”

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিক সংকট ১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আরও দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারে।




ইশরাকের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি, গেজেট বহাল: আপিল বিভাগ

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে, ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট স্থগিত চেয়ে করা ‘লিভ টু আপিল’ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে), প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে ইসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ড. মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং ইশরাকের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও এ কে এম এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু।

ইসির আইনজীবী জানান, গেজেট প্রকাশে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের দরকার থাকলেও, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ১০ দিন সময় বাকি ছিল। তাই ইসি আপিল না করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। এখন নতুন করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই। শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে ইসি স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গেজেট বহাল রয়েছে এবং ইসির হাতে এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আছে। চাইলে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, শপথের জন্য গেজেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৬ মে। এখনো ইশরাক শপথ নেননি। তার আইনজীবীরা বলছেন, তার মেয়র পদ পাওয়ার দাবি এখনো আইনগতভাবে বহাল।

এর আগে, হাইকোর্ট গত ২২ মে রায় দিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করেন। এরপর ২৫ মে আপিল করা হয়। এই আবেদন শুনানির জন্য চেম্বার আদালত ২৯ মে দিন নির্ধারণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ চূড়ান্ত আদেশ দেয়।

পেছনের প্রেক্ষাপটে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন এবং পরদিন গেজেট প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালের ৩ মার্চ ইশরাক ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেন। এরপর ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করে এবং ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।

এখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার ইসির। এর ফলে, এখন ইশরাকের শপথ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।




চাকরি অধ্যাদেশ বাতিল চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। তারা জানিয়েছেন, আপাতত কর্মবিরতি বন্ধ থাকলেও দাবি আদায়ের আন্দোলন থেমে নেই।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এক ঘণ্টার কর্মবিরতির পর কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম জানান, প্রধান উপদেষ্টা আগামী শনিবার দেশে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই রোববার (১ জুন) তারা আশাব্যঞ্জক কোনো ফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের একটি সময়সীমা থাকা উচিত। ঈদের আগে চারদিন সময় রয়েছে, এর মধ্যেই ভালো কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন তারা। রোববার উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সোমবার মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায় থেকেও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হবে।

নুরুল ইসলাম বলেন, ভালো খবর এলে সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ঈদ উদযাপন করবেন তারা। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদ সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন দেয়। এতে কিছু কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই চাকরিচ্যুত করার বিধান রাখা হয়, যা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।




বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আমিনুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির পদে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। সেই গুঞ্জন এবার বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে। সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নাম এই পদে শোনা যাচ্ছিল আগেই, তবে এখন তা অনেকটাই নিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার রাতে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাসভবনে গিয়ে দেখা করলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেখানেই ফারুককে পদ ছাড়ার বার্তা দেওয়া হয়। তবে ফারুক কিছু প্রশ্ন তুললে ক্রীড়া উপদেষ্টা তাতে কোনো উত্তর দেননি। পরে তিনি পদত্যাগ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার জন্য কিছুদিন সময় চেয়ে নেন।

সরকার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিসিবির নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসায় তার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

আজ দুপুরের আগেই একটি গণমাধ্যমকে আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমাকে এখনো বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিতে বলা হয়নি। গতকালের আলোচনাতেও আমি ছিলাম না। তবে ১০-১৫ দিন আগে ক্রীড়া উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আমাকে অল্প সময়ের জন্য কোনো একটি দায়িত্বে দেখতে চায়। আমি এতে রাজি আছি।’

তার এই বক্তব্য থেকেই ধারণা করা যাচ্ছে, বিসিবিতে শিগগিরই বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সরকার বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে চাচ্ছে যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সরকারের হস্তক্ষেপ হিসেবে না দেখে। কারণ, সেটি হলে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তবে সবকিছু মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, ফারুক আহমেদকে সরিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকেই বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি করা হচ্ছে।




জনগণের জন্য একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা দরকার : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক, নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই টালবাহানা শুরু হয়েছে এবং কথিত অল্প সংস্কার ও অতিরিক্ত সংস্কারের ভেতরে আটকে যাচ্ছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।

বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের রায় অবজ্ঞা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা অতীতের স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা আদালতের নির্দেশ মানে না, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তাদের কাছ থেকে সংস্কারের কতটুকু আশা করা যায়? পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে মানুষের মানসিকতার সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “নর্থ কোরিয়ার সংবিধানেও ‘ডেমোক্রেটিক’ লেখা আছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তাই শুধু কি লেখা আছে, তা নয়— বাস্তবে কী হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। সরকার যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যাতে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা হারিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যদি কেউ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে চান, তবে সরকার থেকে পদত্যাগ করে সাধারণ জনগণের কাতারে এসে নির্বাচনে অংশ নিন। জনগণ যদি ভোট দেয়, তাহলে পুনরায় সরকারে যান।”

তিনি আরও জানান, গত দেড় দশকে ভোটার তালিকায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যারা এখনও একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “এই নতুন ভোটারদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেওয়া।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে এমন সরকার তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১০ মাস পার করেও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি।

তারেক রহমান দাবি করেন, “আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।” তিনি তরুণ সমাজ ও দেশবাসীকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।

সমাবেশে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের কাছে যান, তাদের প্রত্যাশা জানুন এবং তাদের মন জয় করুন। কারণ, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক শক্তির উৎস।”

বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে স্লোগান দেন:
‘দিল্লি নয়, দিল্লি না; নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।




বাংলাদেশে জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ৭ জুন

বাংলাদেশে ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ৭ জুন, শনিবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কোরবানির মহিমায় উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা।

বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে জিলহজ মাসের গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, ৭ জুন (শনিবার) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বর চালু রাখা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইন্দোনেশিয়ায়ও ২৮ মে চাঁদ দেখা গেছে। এসব দেশে ৫ জুন পালিত হবে আরাফাতের দিন এবং ৬ জুন ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।