সকল দলই চায় ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন: এলডিপি মহাসচিব

এলডিপি মহাসচিব

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেছেন, দেশে মাত্র একটি রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন মন্তব্য সত্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে, অন্তত ২০টি নিবন্ধিত দলসহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায়। এলডিপিসহ বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলো স্পষ্টভাবে এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে আর কোনো টালবাহানার সুযোগ নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. রেদোয়ান আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখন পরিকল্পিতভাবে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণ আর কোনো ব্যাখ্যা শুনতে চায় না—জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসন করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু বাস্তবে সরকার সেই দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে ক্ষমতায় থাকার পথ মজবুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ৯ মাসে সরকার কী ধরনের সংস্কার করেছে? বরং দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৬৬ কোটি টাকা ও গ্রামীণফোনের ৪ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফ করা হয়েছে। এমনকি স্টারলিংকের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের অংশীদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে। এগুলো কী আদৌ কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কার?

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন, তা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের জন্য যথেষ্ট। এই ৩১ দফা কেবল বিএনপির একক উদ্যোগ নয়—এটি গণতন্ত্রকামী সব রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিফলন। এই দফাগুলো বাস্তবায়ন করলে আর আলাদা করে সংস্কারের প্রয়োজন থাকবে না।

এলডিপির মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন একটিই কথা বলছে—তা হলো অবিলম্বে একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি বলেন, “যত মামলা, হামলা, গুম, খুন—সবই হয়েছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে। এখন আর সময়ক্ষেপণ বা দ্ব্যর্থহীন অবস্থান চলবে না। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে—এটাই জনগণের চূড়ান্ত প্রত্যাশা।”

 

 

 

 




ডক্টর ইউনূস ছাড়া সবাই ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায়: মির্জা আব্বাস

মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দেশের জনগণ চায় ডিসেম্বরেই জাতীয় নির্বাচন হোক, এবং সেই দাবি আদায় করেই ছাড়বে। যদি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হয়, তাহলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা আব্বাস এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “একজন বিদেশি ব্যক্তিকে দেশে এনে তথাকথিত রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই সংস্কারের নামে এখন নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা বলছি, একটি দল নয়—একজন লোকই নির্বাচন চায় না, আর তিনি হলেন ড. ইউনূস।”

বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ সময় বলেন, “সমগ্র জাতি এখন নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। আমাদের প্রত্যাশা, খুব শিগগিরই একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে এবং তারা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবে।”




সুইজারল্যান্ডে ভয়াবহ হিমবাহ ধস: সম্পূর্ণ বিলীন ব্লাটেন গ্রাম

হিমবাহ ধস

সুইজারল্যান্ডে আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত ব্লাটেন গ্রামে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো গ্রামকে তছনছ করে দিয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে ছোট আকারে ভূমিধস শুরু হলে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৩০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এ সিদ্ধান্ত প্রাণহানি ঠেকাতে সহায়তা করলেও ভয়াবহ হিমবাহ ধসে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে গ্রামটি। বরফ, কাদা এবং পাথরের বিশাল স্রোতে ভেঙে পড়েছে বসতবাড়ি, অবকাঠামো এবং স্থানীয়দের জীবনের মূল ভিত্তিগুলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই এক ভয়ানক গর্জনের সঙ্গে বিশাল বরফ ও কাদার ঢল নেমে আসে, মুহূর্তেই গ্রামটি ঢেকে যায় ধবধবে সাদা ধ্বংসস্তূপে। এখন গ্রামটির বেশিরভাগ এলাকা বরফ ও পাথরের স্তূপে পরিণত হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের প্রবণতা বেড়ে গেছে। আল্পস অঞ্চলে এরকম ঘটনা এখন আর ব্যতিক্রম নয়—বরং প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে।

সুইস সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চলছে শোকের আবহ।

এই বিপর্যয় আবারও স্পষ্ট করে দিল—জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনকার বাস্তবতা। এবং বিশ্বের কোনো কোণাই আজ আর একে থেকে পুরোপুরি নিরাপদ নয়।




জাতীয় ঐক্যে বাধা হয় এমন মন্তব্য করা উচিত নয় : আজহারুল ইসলাম

জাতীয় ঐক্য গঠনে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু প্রচার করা যাবে না, যা বিভাজন সৃষ্টি করে।”

দীর্ঘ ১৪ বছর পর কারামুক্ত হয়ে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মহানগর আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বুলবুল নিজেই।

আজহারুল ইসলাম বলেন, “জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দ্বীনের দাওয়াত ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী শালীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, দেলাওয়ার হোসেন, কামাল হোসাইন, ড. আব্দুল মান্নান, শামসুর রহমান, অধ্যাপক মোকাররম হোসেন খান, মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, ডা. মোবারক হোসেন, কামরুল আহসান হাসান, ডা. আতিয়ার রহমান, নূর নবী মানিক, শেখ শরিফ উদ্দিন, সৈয়দ সিরাজুল হক, আমিনুর রহমান, শাহিন আহমেদ খান, শরিফুল ইসলাম এবং প্রচার ও মিডিয়া সহকারী সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন।




ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া সম্ভব : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা হলে ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন ঘোষণার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর রমনা ইনস্টিটিউশনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না করায় দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের জবাবদিহিহীনতা এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বিনিয়োগ থমকে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কারের ব্যাপারে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। তাহলে ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব। এটি সরকারের জন্য কোনো জয় বা পরাজয়ের বিষয় নয়, বরং গণতন্ত্র ও জনগণের বিজয়ের সুযোগ।

আলোচনায় তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ হলেও জবাবদিহিমূলক নয়। জনগণের সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত নন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দল ছাড়া প্রশাসননির্ভর রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।

বক্তব্য শেষে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং রুহুল কবির রিজভী।




চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের পাশে তারেক রহমান, দিলেন আর্থিক সহায়তা

গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার ‘জুলাই যোদ্ধা’ যারা বর্তমানে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) তার পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয় এসব আহত যুবকদের কাছে।

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সহায়তা পৌঁছে দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। তারা ‘বিষপান’ করা আহত চারজনের সঙ্গে দেখা করে তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং সহমর্মিতা জানান।

প্রতিনিধিদল চিকিৎসকদের সাথেও কথা বলেন এবং জানান, তারেক রহমান সব সময় তাদের পাশে আছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ ও ফরহাদ আলী সজীব।

এছাড়াও ছিলেন—
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ড্যাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ছাত্রদল ও শেকৃবি ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতারা।

জানা গেছে, গত রোববার (২৫ মে) দুপুরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার যুবক— শিমুল, মারুফ, সাগর ও আখতার হোসেন তাহের—বিষপান করেন। পরে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।




যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও তেল আমদানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে শুল্ক আলোচনায় সুবিধা নিতে তুলা ও জ্বালানি তেল আমদানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। জাপানে ‘নিক্কেই এশিয়া ফোরাম’-এ অংশ নিতে গিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেহেতু বিশ্বের প্রায় সব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চান, তাই আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানির প্রস্তাব দিয়েছি। এতে করে শুল্ক ইস্যুতে আলোচনায় আমাদের অবস্থানও শক্ত হবে।”ড. ইউনূস জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ মধ্য এশিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তুলা আমদানি করে। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কিনতে আগ্রহী ঢাকা। “তুলা আমদানির উৎস যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য অনেকটাই ঠিক হয়ে যাবে,” বলেন তিনি।

চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৬.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল ২.৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তুলা আমদানির পরিমাণ ৩৬১ মিলিয়ন ডলার । বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করে, যার প্রায় ১২.৫ শতাংশ সমগ্র আমদানির অংশ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। তারা আমাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়েও চিন্তা করছে বাংলাদেশ, যদিও এ ক্ষেত্রে দেশটি এখনও মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর।তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিষয়ে আলোচনার দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। শুল্ক কতটা কমানো যাবে, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি নিয়ে প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা এটিকে হুমকি হিসেবে দেখছি না। বরং সুযোগ হিসেবে দেখছি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য।” তবে ড. ইউনূস এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। আদালত জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী বাণিজ্য নীতি নির্ধারণের অধিকার কংগ্রেসের। সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এছাড়া দেশেই ১১-১২ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে লুটপাট হয়েছিল, যার একটি অংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই অর্থ দুটি ফান্ডে রাখা হবে ,একটি শিক্ষা খাতে, অপরটি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার জন্য। পাশাপাশি এই টাকা দিয়ে গরিব মানুষকে উদ্যোক্তা বানানো হবে, যাতে তারা নিজের জীবন বদলে ফেলতে পারে।”




ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের আহ্বান সোবহানের

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, “দলকে সংগঠিত করতে হলে দুর্দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তারেক রহমানেরও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।”

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিএনপি মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক সদ্য প্রয়াত হারুন-অর রশিদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সোবহান আরও বলেন, “যেসব নেতাকর্মী বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সম্মান দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। একইসঙ্গে যারা জিয়াউর রহমানের পরিবারকে কটাক্ষ করে এখনও দলে সক্রিয়—তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বাদ দিতে হবে।”

তিনি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের মধ্যে ঐক্যের ওপরও গুরুত্ব দেন।
তার ভাষায়, “বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি মহল অতীতের মতোই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমন পরিস্থিতিতে ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখা ছাড়া কোনো পথ নেই।”

রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত এ স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন শিকদার।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন:

  • জেলা উত্তর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক ফারুক
  • আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলাম
  • গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক আকন
  • জেলা উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম মোর্শেদ মাসুদ
  • আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শোভন রহমান মনির
  • গৌরনদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হাওলাদার
  • জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এসএম হীরা
  • উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদার
  • মরহুম হারুন-অর রশিদের ছেলে আব্দুর রহমান

আলোচনা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম  / 




চন্দ্রদ্বীপে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে মধ্যস্থল চায় এলাকাবাসী

পটুয়াখালীর বাউফলের নবগঠিত ১৫ নম্বর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন নির্মাণে সবার জন্য সুবিধাজনক একটি মধ্যবর্তী স্থানে ভবন স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দিয়ারা কচুয়া চর মিয়া জান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান ইউপি ভবনটি ইউনিয়নের এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় অধিকাংশ বাসিন্দাকে সেবা পেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। ভবনটি যদি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয়, তাহলে সবার জন্য সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও আরও কার্যকর হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিএনপির সাবেক সভাপতি সামশুল হক হাওলাদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল খান, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কালাম হাওলাদারসহ আরও অনেকে।

এছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, তরুণ সমাজ ও সচেতন নাগরিকরাও মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে এ দাবির প্রতি সংহতি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গর্ভধারণ ছাড়াই দুধ দিচ্ছে বাছুর, চাঞ্চল্য বরিশালে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় গর্ভধারণ ছাড়াই মাত্র ১১ মাস বয়সী একটি বকনা বাছুর দুধ দিচ্ছে—এমন অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩-৩.৫ কেজি দুধ দিচ্ছে এই বাছুরটি।

উজিরপুর উপজেলার মুন্সীরতালুক গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গরু পালন করে আসছেন। তবে এমন ঘটনা এবারই প্রথম দেখলেন। প্রায় দশদিন আগে সকালে গরুর ঘরে সামান্য পরিমাণ দুধ পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে অবাক হন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাছুরটির ওলান ফোলা দেখে হাত দিয়ে নারাচারা করতেই দুধ বেরিয়ে আসতে থাকে।

প্রথমদিকে তারা দুধটি ফেলে দিতেন, তবে এখন নিয়মিত দুধ দোহন করে পরিবারের সদস্যরা ও আশেপাশের মানুষ সেটি পান করছেন। অনেক কৌতূহলী মানুষ প্রতিদিন গরুটিকে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন। এমনকি কুসংস্কার থেকে কেউ কেউ মানত করে দুধ কিনেও নিচ্ছেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করায় তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। স্থানীয় সাংবাদিক সৈকত বাড়ৈ বলেন, “গর্ভধারণ ছাড়া গরু দুধ দিতে পারে—এটা শুনেছি কিন্তু কখনো নিজের চোখে দেখিনি। এটা সত্যিই আশ্চর্যের।”

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকার বলেন, “ঘটনাটি বিরল হলেও একেবারে অস্বাভাবিক নয়। হরমোনের তারতম্যের ফলে এ ধরনের শারীরিক পরিবর্তন হতে পারে। এটি কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুধ পুষ্টিকর ও নিরাপদ। দুধ পান করতে কোনো সমস্যা নেই।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /