সকল দলই চায় ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন: এলডিপি মহাসচিব

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেছেন, দেশে মাত্র একটি রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন মন্তব্য সত্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে, অন্তত ২০টি নিবন্ধিত দলসহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায়। এলডিপিসহ বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলো স্পষ্টভাবে এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে আর কোনো টালবাহানার সুযোগ নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রেদোয়ান আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখন পরিকল্পিতভাবে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণ আর কোনো ব্যাখ্যা শুনতে চায় না—জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসন করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু বাস্তবে সরকার সেই দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে ক্ষমতায় থাকার পথ মজবুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ৯ মাসে সরকার কী ধরনের সংস্কার করেছে? বরং দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৬৬ কোটি টাকা ও গ্রামীণফোনের ৪ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফ করা হয়েছে। এমনকি স্টারলিংকের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের অংশীদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে। এগুলো কী আদৌ কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কার?
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন, তা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের জন্য যথেষ্ট। এই ৩১ দফা কেবল বিএনপির একক উদ্যোগ নয়—এটি গণতন্ত্রকামী সব রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিফলন। এই দফাগুলো বাস্তবায়ন করলে আর আলাদা করে সংস্কারের প্রয়োজন থাকবে না।
এলডিপির মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন একটিই কথা বলছে—তা হলো অবিলম্বে একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি বলেন, “যত মামলা, হামলা, গুম, খুন—সবই হয়েছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে। এখন আর সময়ক্ষেপণ বা দ্ব্যর্থহীন অবস্থান চলবে না। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে—এটাই জনগণের চূড়ান্ত প্রত্যাশা।”








