চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফর: সঙ্গে ২৫০ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি

তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও। শনিবার (৩১ মে) দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে অভ্যর্থনা জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

এই সফরে মন্ত্রী ওয়েনতাওয়ের সঙ্গে রয়েছেন প্রায় ২৫০ জন চীনা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

শনিবার বিকেল ৫টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন চীনের প্রতিনিধি দল।

রোববার (১ জুন) রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ-চীন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্মেলন’। সম্মেলনের আয়োজন করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা, যারা প্রায় ১০০টি উদ্যোগের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছয় থেকে সাতটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরাও থাকছেন।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত পাঁচটি পৃথক ‘ম্যাচমেকিং সেশন’-এ অংশ নেবেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। সেশনগুলোতে আলোচনার বিষয়বস্তু হবে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত।

এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি চূড়ান্তে এগোচ্ছে দুই দেশ

বাংলাদেশ ও জাপান চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা।

বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা বাংলাদেশকে ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রচেষ্টায় পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় ড. ইউনূস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে জাপানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গত ১০ মাসে আমরা জাপানের কাছ থেকে যে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন পেয়েছি, তা আমাদের সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় করেছে।”

চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াও উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জাপানের কাছে মাতারবাড়িতে ভূমি ভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালীতে এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা চেয়ে সহযোগিতা চান। একইসঙ্গে তিনি অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং মেঘনা-গোমতী নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণে সফট লোনের আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা আরও আহ্বান জানান, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বাংলাদেশে অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করে এবং শিল্প মূল্য শৃঙ্খলে যুক্ত হয়। তিনি জাপানকে দক্ষ শ্রমিক কর্মসূচি চালুর অনুরোধ জানান যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানে কাজের সুযোগ পান।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা চেয়ে ড. ইউনূস জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকদের জন্য আরও বেশি পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাপানের ভূমিকা বৃদ্ধির আহ্বানও জানান ড. ইউনূস।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেন, “বাংলাদেশ যেন তার চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, সে জন্য টোকিও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।”

তিনি ৩৮ বছর আগে বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিচারণা করে বলেন, যমুনা সেতুর উদ্বোধনে অংশগ্রহণ ছিল একটি স্মরণীয় ঘটনা। একইসঙ্গে তিনি ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ জানান।

এই বৈঠককে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন দুই দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইপিএ স্বাক্ষর হলে তা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফর: বিদেশি বিনিয়োগে স্বস্তির আভাস

দীর্ঘদিনের বিদেশি বিনিয়োগ খরা কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমনই আশাবাদ। আজ (৩১ মে) শনিবার ঢাকা সফরে আসছেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও, সঙ্গে থাকছে শতাধিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর বিশাল প্রতিনিধি দল। এ সফর থেকেই আসতে পারে উল্লেখযোগ্য কিছু বিনিয়োগ ঘোষণাও।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ-চীন যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিশনের বৈঠকে অংশগ্রহণ। তবে এর পাশাপাশি গঠনমূলক বিনিয়োগ আলোচনাও হবে। শনিবার বিকেলে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ওয়েনতাও। রোববার পাঁচটি সেশনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ম্যাচমেকিং’ বৈঠকেও অংশ নেবেন চীনা প্রতিনিধি দল, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন।

চীনা প্রতিনিধি দলের সফরকালে গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শনের পাশাপাশি গার্মেন্টস খাতেও পৃথক বৈঠক রয়েছে। সোমবার যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিশনের মূল বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানায়, সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আমদানি-রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিডার এক কর্মকর্তা বলেন, “চীনা প্রতিনিধিরা কিছু বিনিয়োগের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করছি। তবে পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়।”

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগ থমকে আছে। গ্যাস সংকট, উচ্চ ব্যবসায় খরচ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বড় বাধা। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে গ্যাস সরবরাহ এবং ব্যয় হ্রাস করতে হবে।”

এদিকে, চীনা বিনিয়োগে সরকারের আশাবাদ থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সতর্কতা রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চীনা বিনিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য যুদ্ধ ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পটভূমিতে এমন বিনিয়োগ স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ইতিমধ্যে বিনিয়োগ, শ্রম ও বাণিজ্য খাতে সংস্কার চালিয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধানে হটলাইন এবং কল সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহ রয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল), লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, বায়ু বিদ্যুৎ ও সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে কিনা, তা নির্ভর করছে কার্যকর চুক্তি ও ঘোষণার ওপর। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী, এই সফর অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় সফলতা হয়ে উঠতে পারে।




জামায়াত একটি আদর্শ নেতৃত্ব ও কল্যানমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে : ডা.তাহের


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, “জামায়াত একটি কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, দলের মূল উদ্দেশ্য হলো—সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সৎ, যোগ্য ও আদর্শ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

শুক্রবার (৩০ মে) চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় দক্ষিণ জেলা জামায়াত আয়োজিত এক সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাহের বলেন, “অতীতে শহীদ আমিরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এমনকি তাদের পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলো দুর্নীতিমুক্ত ছিল—এমন সত্য স্বীকার করতেও তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার বাধ্য হয়েছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, “১৯৭১ সালে স্বাধীনতার লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাকশাল কায়েম করে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর একের পর এক সরকার দেশকে দুর্নীতির অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে। সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট সরকার ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। এমনকি উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন—এ ধরনের নজির ইতিহাসে বিরল।”

তাহের আরও বলেন, “বর্তমানে জনগণ নতুন আস্থার জায়গা খুঁজছে এবং তারা জামায়াতের দিকেই তাকিয়ে আছে। আমাদের দায়িত্ব জনগণের সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়া এবং দেশকে নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এবং জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক।

শিক্ষাশিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, প্রার্থীরা ও সাংগঠনিক ব্যক্তিত্বরা।




চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলায় ভূমিধসের ঝুঁকি, আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

দেশের সাতটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস এবং প্রধান শহরগুলোতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় আবহাওয়া অফিসের জারি করা সতর্কবার্তায় জানানো হয়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ৪৪ থেকে ১৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এ ধরনের অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কিছু অংশে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, সাতক্ষীরা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল গভীর নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়েছে। এটি প্রথমে স্থল নিম্নচাপে এবং পরে আরও দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে শেরপুর ও তৎসংলগ্ন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নচাপের এই প্রভাব আগামী এক-দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রাখতে পারে। জনসাধারণকে পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের উপহার পাঁচটি পেট্রোল বোট

বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি পেট্রোল বোট উপহার হিসেবে দেবে জাপান। শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জাপান আগামীতেও পাশে থাকবে বলে আবারও আশ্বাস দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাপান সরকার বাজেট সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ একাধিক খাতে বাংলাদেশকে ১.০৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেবে।

এ সময় প্রেস সচিব আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়িকে ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক লজিস্টিকস, পোর্ট, এনার্জি এবং ফিশারিজ হাবে রূপান্তর করা। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এই অঞ্চলে ‘নিউ সিঙ্গাপুর’ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে জাপান—বৈঠকে এমন আশ্বাস মিলেছে বলে জানান তিনি।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু ১৫ বাংলাদেশী

চলতি বছরের পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৮০ হাজার ৭২৩ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। তাদের মধ্যে শুক্রবার দিনগত মধ্যরাত পর্যন্ত ২০৮টি ফ্লাইটে তারা সৌদি পৌঁছান। হজ পোর্টালে প্রকাশিত ‘পবিত্র হজ-২০২৫ প্রতিদিনের বুলেটিন’-এ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে, হজ পালনকালে সৌদি আরবে আরও তিনজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৫ জন হজযাত্রী মারা গেলেন। সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজন হলেন—গাজীপুরের পূর্ব টঙ্গীর আবুল কালাম আজাদ (৬২), মাদারীপুরের মোজলেম হাওলাদার (৬৩) এবং জয়পুরহাটের মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৫৩)। তারা সবাই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গিয়েছিলেন।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৫ হাজার ২০০ জন এবং বাকি ৮১ হাজার ৯০০ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করছেন।

হজযাত্রী পরিবহনে এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ১০৪টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৭৬টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২৮টি ফ্লাইট।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি যাত্রা শুরু হয় ২৯ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইটটি যাবে আজ ৩১ মে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১০ জুন এবং শেষ হবে ১০ জুলাই।




পূর্ণ বিশ্রামে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। ফলে গত দুই দিন ধরে তিনি কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি।

শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি মর্যাদার নেতা জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী রোববার থেকে সভাপতি রাকিব পুনরায় সংগঠনের কর্মসূচিতে সক্রিয় হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। নেতাকর্মীদের গুজব থেকে সতর্ক থাকার জন্য কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে সংগঠনের অভ্যন্তরে ও বাইরে ছাত্রদল সভাপতিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদল বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের অসুস্থতা ও পদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সংসদের এই বিবৃতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

“নতুন বাংলাদেশ” গঠনে জাপানি কোম্পানিগুলোর সহায়তা চেয়ে এবং আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৩০ মে) জাপানে চলমান সফরের তৃতীয় দিনে টোকিওতে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন জাপানি কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “আপনাদের এখানে দেখে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। গত ১০ মাসে আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি তৈরি করছি, এবং এই প্রক্রিয়ায় জাপানের সহযোগিতা অত্যন্ত মূল্যবান।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরশাসনের অবসান আমাদের নতুন জীবনের সূচনা এনে দিয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সহযোগিতা। আমরা একটি নতুন, উদ্যমী বাংলাদেশ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে পুরোনো ত্রুটিগুলো দূর করে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাব।”

ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে এবং তা অতীতের বিষয় হয়ে উঠবে। “এটি জাতির জন্য একটি বড় সুযোগ,” বলেন তিনি, “আমরা কঠিন সময় পার করেছি এবং চাই তা পেছনে ফেলতে।”

আলোচনার শুরুতে জেট্রোর চেয়ারম্যান ও সিইও নোরিহিকো ইশিগুরো বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা প্রদর্শন করেছে।”

জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটি (জেবিসিসিইসি) এর চেয়ারম্যান এবং মারুবেনি কর্পোরেশনের বোর্ড সদস্য ফুমিয়া কোকুবু বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত ৮৫% জাপানি কোম্পানি প্রত্যাশা করছে, এ বছরই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) সই হবে। একইসঙ্গে তিনি কর নীতিতে সংস্কারেরও আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কোনও প্রকল্প বন্ধ হয়নি, কোনও ব্যবসা স্থগিত হয়নি – এটি ইতিবাচক বার্তা।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:

  • সুমিতোমো কর্পোরেশনের সিইও শিঙ্গো উয়েনো
  • ইউগলেনা কোং লিমিটেডের সিইও মিতসুরু ইজুমো
  • জেরা-এর প্রধান বৈশ্বিক কৌশলবিদ স্টিভেন উইন
  • জেবিআইসির সিনিয়র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজুনোরি ওগাওয়া
  • ওনোডা ইনকর্পোরেটেডের প্রেসিডেন্ট শিগেয়োশি ওনোদা
  • জেট্রোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজুয়া নাকাজো
  • আইডিই-জেট্রোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়ুমি মুরায়ামা

সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।




বর্তমান সভ্যতা ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে : ড. মুহাম্মদ ইউনুস

বর্তমান সভ্যতাকে আত্মবিধ্বংসী আখ্যা দিয়ে তরুণদের প্রতি ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের টোকিওতে সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সভ্যতা তৈরি করেছি, যা ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। পরিবেশের ওপর চলমান নিপীড়ন মানবজাতির টিকে থাকার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।”

ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ ধারণাটি তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে ঘিরে—

  1. শূন্য দারিদ্র্য
  2. শূন্য বেকারত্ব
  3. শূন্য কার্বন নিঃসরণ

তিনি বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি মিলে একটি থ্রি জিরো ক্লাব গঠন করতে পারেন, যেখানে তারা অঙ্গীকার করবেন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পরিহার করার।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ সম্পদ অল্প কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত, যা একটি অভিশাপ। সবাই কেবল মুনাফা অর্জনের দিকেই মনোযোগী। এর বিপরীতে নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল হয়ে পৃথিবী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।”

চাকরিকে সৃজনশীলতার অন্তরায় আখ্যা দিয়ে তিনি তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন। “মানুষ জন্মগতভাবে উদ্যোক্তা,”—উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি তোমার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকে, তবে তুমি কিছুই না। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই সৃজনশীলতা আছে।”

তিনি ছাত্রছাত্রীদের আহ্বান জানান একটি নতুন পৃথিবীর কল্পনা করতে—“কারণ কল্পনা মানুষকে নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা শক্তি উন্মোচনের সুযোগ দেয়।”

বক্তৃতায় তিনি স্মরণ করেন কীভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করার সময় তিনি পাশের একটি গ্রামে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসকে সোকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সামাজিক উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদানের জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সুজুকিও বক্তব্য রাখেন।