গণতন্ত্র এখনও অধরা” — শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে ডা. রফিকুল

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতন্ত্রে ফেরার পথে হাঁটছে না। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র অনুপস্থিত এবং ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।

রবিবার (১ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজক ছিল জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ।

ডা. রফিকুল বলেন, “বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র যেভাবে বিলুপ্ত হয়েছিল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ফের গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছিল। তিনি চাইলে ক্ষমতা ভোগ করতে পারতেন, কিন্তু সেটি না করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন।”

তিনি আরও বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তিনি ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী এবং তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চলমান রয়েছে।”

তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১/১১ সময়ের রাজনীতিতে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো দেশকে ভুলে যাননি। চলমান জুলাই আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব এখন ওপেন সিক্রেট। রাজপথ থেকে আহতদের চিকিৎসা পর্যন্ত তিনি সরাসরি দেখভাল করছেন।”

ডা. রফিকুল ইসলাম বক্তব্যের শেষে বলেন, “আমাদের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া বিএনপি সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জিয়ার আদর্শের একজন সৈনিকও ঘরে ফিরবে না।”




‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর উদ্যোগে জিয়া উদ্যানের লেকে শাপলা ফুল রোপিত হলো

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের মাজার কমপ্লেক্স এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শাপলা ফুলের চারা রোপণ কর্মসূচি পালন করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। রবিবার (১ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রবিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই জামান সেলিম, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন ও ফরহাদ আলী সজীব।

অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান বাদল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ—সহ-সভাপতি হাবিবুল বাশার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ও বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন ঢাবির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান অনিক, শেকৃবির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক মশিউর রহমান মহান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ, শেকৃবির মেজবাহ উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মারুফ, শোয়েব হাসান, অনিক হাসান, শাহরিয়ার হোসেন ও মারুফ মেলিন।

এছাড়া বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ সেতু, ঢাকা মহানগর যুবদল নেতা মইনুল ইসলাম রনি, ফয়সাল হায়দার ও লিটন ফকিরসহ আরও অনেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

পরিচ্ছন্নতা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ ধরনের কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।




পুরানা পল্টনে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ১৭ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর পুরানা পল্টনে একটি ১০তলা ভবনের ৬তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ২ জুন সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাত্র ১৭ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম রনি জানান, সড়ক ফাঁকা থাকায় খবর পাওয়ার মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে—সকাল ৭টা ১ মিনিটে—ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ঘটনার সময় ভবনের অন্যান্য তলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।




সুপ্রিম কোর্টের রায়: আবারও রাজনীতিতে ফিরছে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এক যুগ পর দলটি আবারও বৈধ রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে।

রোববার (১ জুন) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সর্বশেষ শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনজীবী আদালতকে জানান, জামায়াতকে নিবন্ধন প্রদানের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর নির্ভর করছে তাদের সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, আদালতের প্রশাসনিক নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রতীক তালিকা থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে। যদি দলটি নিবন্ধন ফিরে পায়, তবে তাদেরকে নতুন প্রতীক গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ব্যবহারে কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই দলটি চাইলে পূর্বের প্রতীক পুনরায় ব্যবহার করতে পারে।

প্রসঙ্গত, একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করে।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটল, যা জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পথ সুগম করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




“ইসলামকে ক্ষমতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য” — জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা জামায়াতকে নয়, ইসলামকে ক্ষমতায় আনতে চাই।” ইসলামী আদর্শে সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই সংগঠনের প্রতিটি কর্মীকে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩১ মে) বিকেলে নীলফামারীতে জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ইসলামের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারলে নারী-পুরুষ সবাই সমান নিরাপত্তা পাবে। মদীনার রাষ্ট্রের আদর্শে পরিচালিত হলে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব। শিক্ষিত মা হলে জাতি শিক্ষিত হবে, তবে সেই শিক্ষা হতে হবে রাব্বুল আলামিনের নামে।”

আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের চোখের পানি ফেলে সিজদায় পড়ে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে।”

সংগঠনের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনশক্তিকে বুঝে-শুনে পরিচালনা করতে হবে। সংগঠনের কেউ অপরাধ করলে তার বিচার অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী হবে। ব্যক্তি নিজেকে পাহারা দেবে, আর সংগঠন সবাইকে পাহারা দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ নেতৃবৃন্দের রক্ত, মজলুমদের চোখের পানি ও মুখলিছ (নিষ্ঠাবান) নেতা-কর্মীদের ত্যাগ-ত্যাগিতার কারণে আমাদের প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা বেড়েছে।”

জনশক্তিদের কুরআন-হাদিস অধ্যয়ন বাড়ানোর পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে এবং পরিবারের জন্য আরও সময় দেওয়ার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির।




শেখ হাসিনার বিচারকার্য সরাসরি সম্প্রচার হবে টেলিভিশনে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রবিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, কামাল চৌধুরী এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে। ট্রাইব্যুনালের এ বিচারকার্য সরাসরি সম্প্রচার হবে টেলিভিশনে, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “আগামী ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।” তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাতে তিনি জানান, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যার পেছনে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনার অডিও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আজকের বিচারকার্যকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হতে যাচ্ছে, যা নজিরবিহীন বলেও মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

আইনজীবীরা বলছেন, টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং জনসাধারণ পুরো বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন।

এদিনের শুনানি উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




বিএনপি কোনো হুমকি বা ষড়যন্ত্রকে পরোয়া করে না; এটা জনগণের দল

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ষড়যন্ত্র কিংবা হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমন করা যাবে না। মহান আল্লাহ ছাড়া বিএনপিকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। বিএনপি একটি জনগণের দল—যারা এ দলকে রুখতে চায়, তারা ব্যর্থ হবে।

শনিবার (১ জুন) বগুড়া জেলা বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জিয়া এ দেশকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তিনি জন্ম থেকেই প্রস্তুত ছিলেন দেশের নেতৃত্ব দিতে। তাঁর কালজয়ী দর্শনের সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী দল। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান স্বাধীনতার ঘোষণা।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি অন্যায়-অনাচারের দল, যারা বাকশাল কায়েম করে দেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বিএনপি দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অবিচল রয়েছে। বিএনপি একসময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, আজও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়ছে।”

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল,” বলেন জাহিদ হোসেন।

বিএনপির নেতা আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং শিশু ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ বহু যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে দেশের পুনর্গঠনের রূপরেখা দিয়েছেন, যার মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”

আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “শহীদ আবু সাইদ ও মুগ্ধরা কোনো দলের নয়, তারা দেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমরা মনে রাখতে চাই—৪৭ বাদ দিয়ে ৭১ হবে না, ৭১ বাদ দিয়ে ৭৫ হবে না, ৭৫ বাদ দিয়ে ৯০ হবে না, আর ৯০ বাদ দিয়ে ২০২৪-২৫ হবে না। অতএব, সকল গুম-খুনের বিচার করতে হবে।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চান, মাহবুবর রহমান হারেজ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী বেলাল প্রমুখ।




অবশেষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতল পিএসজি

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি) ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে রচনা করল নতুন ইতিহাস। মিউনিখে অনুষ্ঠিত ২০২৪–২৫ মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে ফরাসি জায়ান্টরা।

মিউনিখে খেলা মানেই নতুন চ্যাম্পিয়ন—১৯৯৩ সালে অলিম্পিক মার্শেইর পর এবার পিএসজির সাফল্যে যেন সেই অলিখিত নিয়ম আবারও সত্যি হলো। বিশাল জয় দিয়ে কেবল ইউরোপ সেরা হওয়ার তৃপ্তিই নয়, একই সঙ্গে লিগ ও কাপ মিলিয়ে ট্রেবল (তিনটি শিরোপা) নিশ্চিত করল ক্লাবটি।

শুরুর বাঁশি বাজতেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে লুইস এনরিকের দল। বল দখলে আধিপত্য রেখে একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা করে তোলে ইন্টার মিলানকে। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই পিএসজির বল দখলের হার ছিল ৬৩ শতাংশের বেশি।

১২তম মিনিটে ভিতিনহার দুর্দান্ত পাস থেকে গোলের সূচনা করেন সাবেক ইন্টার তারকা আশরাফ হাকিমি। এর মাত্র আট মিনিট পর দ্বিতীয় গোলটি করেন ম্যাচে প্রথম গোলের অ্যাসিস্ট দেওয়া ডুজুয়ে। ডেম্বেলের সঙ্গে বোঝাপড়ায় দুর্দান্ত এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই উইঙ্গার।

প্রথমার্ধের বাকি সময়টাতে কিছুটা সামলানোর চেষ্টা করলেও কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়তে পারেনি ইন্টার মিলান। উল্টো পিএসজির আক্রমণ রুখতেই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে।

বিরতির পর কিছুটা গোছানো শুরু করলেও গোল মুখে জোরালো কিছু করতে পারেনি ইতালিয়ান ক্লাবটি। বরং দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিধ্বংসী রূপে দেখা যায় পিএসজিকে। ৬৩ মিনিটে ডেম্বেলের ব্যাকহিল থেকে ভিতিনহার পাসে গোল করেন দিজেরে দুয়ে। ৭৩ মিনিটে ডেম্বেলের আরেকটি অ্যাসিস্ট থেকে চতুর্থ গোলটি করেন কাভারাত্সখেলিয়া।

শেষের দিকে আরও এক গোল যোগ করে পিএসজি। ৮৬ মিনিটে বারকোলার পাস থেকে সেনি মায়ুলু স্কোরলাইন দাঁড় করান ৫-০ তে। ফাইনালের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে।

একসময় মেসি, নেইমার ও এমবাপে নিয়ে ইউরোপ সেরা হবার স্বপ্ন দেখলেও সে পথে সফল হয়নি পিএসজি। এবার নতুন প্রজন্মের তারকা ডেম্বেলে, ভিতিনহা, হাকিমি, কাভারাত্সখেলিয়া ও মায়ুলুর অসাধারণ পারফরম্যান্সে সেই স্বপ্নপূরণ হলো।

ইতিহাস গড়ে ইউরোপ সেরার মুকুট জয়ে উল্লসিত প্যারিসিয়ানরা। এখন ফুটবলবিশ্ব চেনে নতুন রাজাকে—প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন।




ছাত্রদল-বামজোটের কার্যক্রম ‘সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের নিন্দা

ছাত্রদল ও বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শনিবার (৩১ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখলেও কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের ‘ফ্যাসিবাদী চরিত্র’ অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলো এখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ঢাকার সরকারি গ্রাফিক আর্টস কলেজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), কক্সবাজার পলিটেকনিকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজে শিবিরের ‘হেল্প ডেস্কে’ হামলার ঘটনায় তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ইসলামিয়া কলেজ ও রংপুর অঞ্চলেও তাদের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফরিদপুরে এক ছাত্রীকে নির্যাতন, রাজধানীর আদাবরে এক নারীকে হুমকি এবং অন্যান্য এলাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রদল নেতারা জড়িত। অথচ এ ঘটনায় নারী অধিকার সংগঠনগুলো নীরবতা পালন করছে, যা পক্ষপাতদুষ্ট মানবাধিকার চেতনার প্রকাশ বলে মন্তব্য করে ছাত্রশিবির।

ছাত্রশিবির অভিযোগ করে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মতোই ছাত্রদল এখন ক্যাম্পাসে জোর-জুলুম চালাচ্ছে। তারা দাবি করে, ৩০ মে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ায় দুই নারী শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বামজোটকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ আনা হয়।

বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, রাজশাহী মহানগরের ছাত্রদল নেতা আহনাফ তাহমিদ এবং ছাত্র ইউনিয়নের শাহরিয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্য সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করছে, যা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ছাত্রশিবির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, যদি ছাত্রদল ও বামজোট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে সরে না আসে, তবে তারা ‘৩৬ জুলাইয়ের চেতনায়’ দেশব্যাপী ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে লাল সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।




নিবন্ধন ও প্রতীক নিয়ে আপিলের রায় আজ: সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আপিল বিভাগের বহুল প্রত্যাশিত রায় আজ ১ জুন (রোববার) ঘোষণা করা হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় মামলাটি ১ নম্বরে রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। দলটি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যেখানে সংবিধান সংশ্লিষ্ট গুরুতর আইনি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। শুনানি শেষে এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষায়।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সূচি এখনও ঘোষণা না করলেও, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। জামায়াত ইসলামীও পিছিয়ে নেই। দলটি ইতোমধ্যেই ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক পুনরুদ্ধার না হওয়ায় দলটি এক ধরনের আইনি অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

দলটির আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন শেষ পর্যায়ে এসেছে বিষয়টি। তিনি আশাবাদী যে আজকের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূচি চালিয়ে এসেছে জামায়াত। দলে হতাশা থাকলেও শীর্ষ নেতারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। আজকের রায় সে প্রত্যাশার ফলাফল নিয়ে আসবে কি না, তা জানতে চোখ এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে।

জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন আপিল বিভাগের রায়ের দিকে। এই রায়ের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে—নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাচ্ছে কি না জামায়াতে ইসলামী।