গাজায় মানবিক সহায়তার নামে মৃত্যুর ফাঁদ?—ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস এক তীব্র বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “ভয়াবহ ও ইচ্ছাকৃত অপরাধ” সংঘটনের অভিযোগ এনেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী খাদ্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের নির্দয়ভাবে ফাঁদে ফেলে গুলি চালাচ্ছে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, ২৭ মে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা এইড ফাউন্ডেশন সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন।

মিডিয়া অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, “এগুলো কোনো সাহায্য কেন্দ্র নয়—এগুলো এখন মৃত্যুকূপ। এগুলো স্থাপন করা হয়েছে এমন উন্মুক্ত ও বিপজ্জনক এলাকায়, যেগুলো দখলদার বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে। ভয়াবহ খাদ্য সংকটে থাকা সাধারণ মানুষদের সেখানে টেনে নিয়ে গিয়ে তাদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে।”

গাজা কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে “সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড” আখ্যা দিয়ে বলেছে, “এই সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রের নামে চালানো হামলার নৃশংসতা এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য এখন স্পষ্ট—এটি মানবিক সঙ্কটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জনগণকে নিঃশেষ করার অপচেষ্টা।”

তারা জাতিসংঘ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা গাজার সীমান্ত ক্রসিংগুলোকে ইসরায়েলি শর্ত ছাড়াই পুরোপুরি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে অবরুদ্ধ জনগণের মাঝে নিরাপদে সহায়তা পৌঁছানো যায় এবং আরও প্রাণহানি ঠেকানো যায়।

গাজায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মানবিক সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে বহু সহিংসতা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেক বেসামরিক মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন চরম খাদ্য সংকটে দিন পার করছেন—বিশেষ করে শিশুরা রয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকিতে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখেও ইসরায়েল এ ধরনের অভিযানের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছে যে তারা কেবলমাত্র “আত্মরক্ষার” ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের এই কৌশল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় যে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ (man-made famine) তৈরি হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বর্তমানে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। অধিকাংশ হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র ওষুধ, সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ সংকটে অচল হয়ে পড়েছে, যেখানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

এই অবস্থাকে “জরুরি মানবিক বিপর্যয়” আখ্যা দিয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—নীরবতা নয়, পদক্ষেপই পারে রক্ষা করতে হাজারো নিরপরাধ জীবন।




না ফেরার দেশে পবিপ্রবির অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান

পবিপ্রবির অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষার একজন উজ্জ্বল বাতিঘর, নিঃস্বার্থ অভিভাবক, কোমল হৃদয়ের মানুষ অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান—আজ আর আমাদের মাঝে নেই।

সোমবার (২ জুন) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

এই বিদায় শুধুই একজন শিক্ষকের নয়—এটি এক অসাধারণ মানবিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। তিনি ছিলেন শিক্ষক, নেতা, পথপ্রদর্শক—আরো বেশি করে ছিলেন আমাদের ‘জিল্লু ভাইয়া’—আপনজনের মতো নির্ভরতার নাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনেই যাঁর স্নেহময় স্পর্শ পেয়েছিল শত শত শিক্ষার্থী, সেই তিনিই আজ চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। তাঁর হাসিমাখা মুখ, আন্তরিক দৃষ্টি, হৃদয় নিংড়ানো কথাগুলো আজ স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে থাকল।

শিক্ষা ও গবেষণার দীপ্ত পথচলা
ড. মো. জিল্লুর রহমান ১৯৯৪ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে বিএ (সম্মান) এবং ১৯৯৫ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০০৯ সালে তিনি ‘Shakespearean Tragedies and Social Realism’ বিষয়ে এমফিল এবং ২০২২ সালে সম্পন্ন করেন তাঁর পিএইচডি গবেষণা—“The Second Generation English Romantic Poets and Kazi Nazrul Islam: A Comparative Study”।

পেশাগত জীবন ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব
২০০৭ সালে পবিপ্রবিতে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে তিনি সহকারী অধ্যাপক (২০০৯–২০১৪), সহযোগী অধ্যাপক (২০১৪–২০১৮), এবং ২০১৮ সাল থেকে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ভাষা ও যোগাযোগ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে এবং ২০২৪ সালের আগস্টে নিযুক্ত ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা (DSW) হিসেবে তাঁর কর্মদক্ষতা ছিল প্রশংসনীয়।

একই সঙ্গে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস পটুয়াখালী জেলার রোভার স্কাউটের সিনিয়র সহসভাপতি, রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত।

প্রকাশনা ও গবেষণা প্রকল্প
তাঁর গবেষণা ও লেখালেখির পরিধি ছিল বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ। দেশি-বিদেশি জার্নালে তিনি প্রকাশ করেছেন ২০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ। পাশাপাশি কাজ করেছেন দুটি গবেষণা প্রকল্পে—“English for Specific Purposes at PSTU” (2022–2023) এবং “Expediting Students’ English Writing Skill through Performance Assessment” (2024–2025)। তাঁর ভাষার শুদ্ধতা, ভাবের গভীরতা, আর বিশ্লেষণের মৌলিকতা পাঠকদের কাছে বারবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থেকেছে।

জীবনের শেষ অধ্যায়: ধৈর্য, দোয়া ও আশাবাদ
জীবনের শেষদিকে তিনি আক্রান্ত হন ফুসফুস ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে। তবুও ছিলেন মানসিকভাবে দৃঢ়, কথায় সদ্ব্যবহার ও হৃদয়ে আশার আলো। অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান ছিলেন এক আলোকবর্তিকা, যিনি শুধুমাত্র জ্ঞান নয়—মানবতা, সহনশীলতা এবং ভালোবাসার পাঠ পড়িয়ে গেছেন। আজ এই মানুষটির মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কর্ম, তাঁর স্মৃতি, তাঁর জীবনদর্শন আমাদের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে চিরকাল।




‘এক মাসেই সম্ভব সব সংস্কার’, বললেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমদ

“এমন কোনো সংস্কার নেই, যা এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়”—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২ জুন) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সংবিধান ছাড়া অন্যান্য সকল সংস্কার নির্বাহী আদেশ বা অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে করা সম্ভব। আমরা বৈঠকে সেটাই তুলে ধরেছি। তাই নির্বাচন ডিসেম্বরের পর হওয়ার কোনো যুক্তি নেই।”

সংস্কার কমিশন নিয়ে বিএনপির অবস্থান
সালাউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি তিন দিন ধরে সংস্কার কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং লিখিত মতামতও জমা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রস্তাবই গ্রহণ করব, যা জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করবে ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে সহায়ক হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নীতিতে এসব সংস্কার গৃহীত হলে দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চাই।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মতামত
ডিসেম্বরেই নির্বাচন সম্ভব—এমন বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচনের আগে জরুরি সংস্কারগুলো এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলও ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন চায়।”

প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি তিনি কারও প্রতি পক্ষপাত দেখাবেন না। জাতি তার কাছ থেকে নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করে।”

সংবিধান সংশোধনী ও ঐকমত্যের সম্ভাবনা
বিএনপি নেতা জানান, কিছু বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য সম্ভব। “একটি সম্মিলিত সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এসব সংস্কার নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।”

শেষে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আন্তরিক হলেও সময় অনেকটাই পেরিয়ে গেছে। এই জুন মাসের মধ্যেই একটি সম্মিলিত প্রস্তাবনা তৈরি করা সম্ভব।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গৌরনদী পৌরসভার বৈধ মেয়র দাবি, আদালতে বিএনপি প্রার্থীর আবেদন

গৌরনদী পৌরসভার বৈধ মেয়র হিসেবে নিজেকে দাবি করে আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান। সোমবার (২ জুন) দুপুরে বরিশালের প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই আবেদন করা হয়।

আবেদনকারী শরীফ জহির ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারির তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার আবেদন গ্রহণ করে আদালতের বিচারক মো. ইউনুস খান শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান।

কি বলা হয়েছে মামলার আবেদনে?
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারিছুর রহমান ও তার সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার করেন এবং পেশিশক্তির মাধ্যমে কারচুপি করে প্রকৃত বিজয় ছিনিয়ে নেন। ফলস্বরূপ, শরীফ জহির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন এবং ওই দিন বিকেলে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

পুনঃনির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ:
এরপর ২০২৪ সালের ২৬ জুন গৌরনদী পৌরসভায় উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচএম জয়নাল আবেদীনকে হারান। তবে ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাকেও অপসারণ করা হয়।

মামলা করতে এত দেরি কেন?
এ বিষয়ে শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান জানান, “হারিছুর রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী আচরণের কারণে আমি দীর্ঘদিন মামলা করতে পারিনি। প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছি বহুবার।” তিনি আরও বলেন, “আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করি ন্যায় বিচার পাবো।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মে মাসে মূল্যস্ফীতির হালকা কমতি, স্বস্তিতে ভোক্তারা

দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসে কিছুটা কমেছে। এক মাস আগের তুলনায় কমেছে খাদ্য ও অখাদ্য উভয় খাতে মূল্যস্ফীতির হার। ফলে সামান্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ জনগণ।

সোমবার (২ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, এ চিত্র দেখা গেছে।

বিবিএস জানায়, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, কমেছে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতিও সামান্য হ্রাস পেয়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ কম।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত (নন-ফুড) মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে। এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, মে মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। হ্রাস পেয়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

গ্রাম ও শহরভিত্তিক তথ্য:

  • গ্রামাঞ্চলে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
  • শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য খাতে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং অখাদ্য খাতে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্যের দাম কমায় এ পরিবর্তন হলেও সামগ্রিকভাবে এখনও মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভারত থেকে পুশইনের সংখ্যা বেড়ে চলছে, মৌলভীবাজারে অনুপ্রবেশে উদ্বেগ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত এক মাসে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৩৩৭ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে পুশইন করেছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ও পাল্লথল সীমান্ত দিয়ে। এছাড়া জুড়ী উপজেলার রাজকি, কুলাউড়ার মুরইছড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই, বাগীছড়া ও চাম্পাছড়া সীমান্ত দিয়েও পুশইনের ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩৭ জনকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের সময় আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলায় ২৫১ জন, জুড়ীতে ১০ জন, কুলাউড়ায় ২১ জন এবং কমলগঞ্জে ৫৫ জনকে আটক করা হয়। তবে আরও কয়েক শতাধিক ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করলেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে। এদের অধিকাংশের বাড়ি নড়াইল, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আটক ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আসামে বসবাস করছিলেন। হঠাৎ করে ভারতীয় পুলিশ তাদের বাড়িঘর ভেঙে হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরার মানিকভান্ডারে নিয়ে গিয়ে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। পরে বিএসএফ তাদের সীমান্ত গেট খুলে ধলই দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।

স্থানীয়রা অনেকে জানান, সীমান্ত দিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যদিও বিজিবি কয়েকশ লোককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে, বাকিরা স্থানীয় দালালদের সহায়তায় বা বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কেউ কেউ বিকাশের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গাও ছিলেন, যারা পরে চট্টগ্রামে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে ৫২-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান ও ৪৬-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া জানান, আটককৃতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




মেজর সিনহা হত্যা: বহুল আলোচিত মামলার আপিলের রায় আজ হাইকোর্টে

বহুল আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দাখিল করা আপিলের রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। সোমবার (২ জুন) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন।

গত ২৯ মে এ মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা দিপ্তী, জসিম সরকার এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ ও লাবনী আক্তার।

২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার যাবতীয় নথি বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সগীর হোসেনের বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ জুন শুরু হয় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের মূল শুনানি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। ঘটনার পাঁচদিন পর নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সিনহার হত্যাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন। আজকের রায়ে উচ্চ আদালত এ মামলার বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখবে নাকি সংশোধন করবে, তা নির্ধারিত হবে।




সফর শেষে প্রধান উপদেষ্টাকে যে বার্তা দিলো জাপান

আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু এ বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। গত ৩০ মে শুক্রবার, টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, মানবসম্পদ উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে শিগেরু জানান, জাপান চায় বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থান নিক যেখানে আঞ্চলিক ঐকমত্য ও শান্তি বজায় থাকে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমদ মনে করেন, জাপানের এই বার্তার পেছনে রয়েছে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক। করিডর সংক্রান্ত কিছু বিষয় এবং আরাকান আর্মি ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে জাপান চায় আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সমন্বয় রেখে চলুক।

ছয়টি সমঝোতা স্মারক ও ঋণ-অনুদান চুক্তি

প্রধান উপদেষ্টার সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • বাংলাদেশ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (JBIC) মধ্যে চুক্তি
  • বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (BSEZ)-এ জমি ইজারা নিয়ে ওনোডা ইনকরপোরেশন এবং ন্যাক্সিস কোম্পানি লিমিটেড-এর সঙ্গে পৃথক দুটি চুক্তি
  • গ্লাগিট, মুসাশি সেইমিৎসু ও বিআইডিএ-এর মধ্যে শিল্প খাত উন্নয়ন সংক্রান্ত চুক্তি
  • সাইফার কোর কোম্পানির ২০ মিলিয়ন ডলারের তথ্য নিরাপত্তা বিনিয়োগ
  • জাইকা ও বিআইডিএ-এর মধ্যে প্রশাসনিক সহযোগিতা চুক্তি

১০৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদান

জাপান সরকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, রেল উন্নয়ন ও জলবায়ু স্থিতিশীলতায় ১০৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে—

  • ৪১ কোটি ৮০ লাখ ডলার উন্নয়ন নীতি ঋণ (জলবায়ু ও অর্থনৈতিক সংস্কারে)
  • ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথকে ডুয়াল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের জন্য
  • ৪২ লাখ ডলার বৃত্তি বাবদ অনুদান

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা

যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে বাংলাদেশ ও জাপান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে এবং দ্রুত চুক্তি সম্পন্নের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি টহল নৌকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

ইন্দো-প্যাসিফিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব

দুই দেশই মুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের লক্ষ্যে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছে। এ ছাড়া, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) দ্রুত সম্পন্ন করতে আলোচনার গতি বাড়াতে সম্মত হয়েছে উভয়পক্ষ।

বিনিয়োগে উৎসাহ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করতে বিডা’র ওয়ান স্টপ সার্ভিস, প্রিপেইড গ্যাস মিটার, ব্যাটারিচালিত সাইকেল কারখানা এবং তথ্য নিরাপত্তার পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এমওইউ-গুলোকে স্বাগত জানানো হয়।

মানবসম্পদ ও বাস্তুচ্যুত জনগণ

উভয়পক্ষ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়াতে সম্মত হয়েছে। রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ না করে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, বাস্তুচ্যুত জনগণের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কৃতজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাপান সরকারের প্রতি বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প বৃদ্ধি বেল্ট (BIG-B) এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ (MDI)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। উভয় দেশই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




যেমন হচ্ছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট _

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট আজ উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিকেল ৩টায় তার বাজেট বক্তব্য রেকর্ড করা হবে এবং সন্ধ্যা ৪টায় তা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হবে। অন্যান্য বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলোকেও বিটিভির ‘ফিড’ থেকে একই সময়ে সম্প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বাজেটের আকার গত অর্থবছরের তুলনায় সামান্য কম। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। তবে বাস্তবায়নের সময় তা কাটছাঁট হয়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকায়।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একটি প্রস্তাবিত বাজেট আগের বছরের তুলনায় আকারে ছোট হচ্ছে। জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত থাকায় এবারের বাজেট নিয়ে কোনো সংসদীয় আলোচনা বা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে না। পরিবর্তে বাজেট ঘোষণার পর নাগরিকদের মতামত আহ্বান করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেই মতামতের আলোকে বাজেটে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে ২৩ জুনের পর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর করা হবে।

এছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় ভাতা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন—রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা রাখার চেষ্টা থাকবে বাজেটে।

এভাবেই অনন্য এক প্রেক্ষাপটে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আজ উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট।




গণতন্ত্রে অংশগ্রহণমূলক ধারায় ফিরছে রাজনীতি: বিএনপি নেতারা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পাওয়ায় দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিপূর্ণতা এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এ রায় অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে রবিবার (১ জুন) আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে, ফলে দলটির আবারও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের পথ উন্মুক্ত হয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “বিএনপি শুরু থেকেই বহু মত ও পথের সমর্থক। গণতন্ত্রে ভিন্নমতের অবস্থান থাকা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বহুত্ববাদী রাজনীতির চর্চাকে শক্তিশালী করবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এই সংগ্রামে জনগণের সমর্থন যার সঙ্গে থাকবে, সেই শক্তিই হবে প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তি। অতীতের বিভাজন ভুলে আমরা সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

বিএনপি নেতারা মনে করেন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়া সেই বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ বলেই তাঁরা মনে করছেন।