আধিপত্যের খেলায় চীনের নতুন ট্রাম্প কার্ড!

চীনের দুটি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পের মধ্যে বৃহত্তমটির নতুন একটি ছবি সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে, যা এ পর্যন্ত পাওয়া বিমানের সবচেয়ে স্পষ্ট সামনের দৃশ্য তুলে ধরেছে। অজ্ঞাতনামা এই যুদ্ধবিমানটির ছবি দূর থেকে দীর্ঘ লেন্সে ধারণ করা হয়েছে, যেখানে এর তিনটি উন্মুক্ত নিচের দিকের অস্ত্র বহনকারী বেলি দেখা যাচ্ছে। এই অস্ত্র কক্ষগুলো সম্মিলিতভাবে ফিফথ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান যেমন এফ-৩৫ বা জে-২০ এর তুলনায় বহুগুণ বেশি সংখ্যক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমানটির নাকের বিশাল কন যেটি আশপাশে থাকা মানুষদের তুলনায় স্পষ্ট বোঝা যায়, তা প্রায় নিশ্চিত করে যে, এতে বিশ্বের যেকোনো যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক বড় এবং শক্তিশালী রাডার ব্যবহৃত হচ্ছে। ছবিতে আরও দেখা গেছে, মূল অস্ত্র কক্ষের উভয় পাশে দুটি ছোট অস্ত্র কক্ষও রয়েছে, যেগুলোতে নতুন প্রজন্মের পিএল-১৬ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলের মতো হালকা অস্ত্র বহনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানটির নিচের অংশে আরও অস্ত্র কক্ষ থাকতে পারে, যেখানে রোটারি অস্ত্র র‍্যাকের ব্যবস্থা থাকতেও পারে, যা অতিরিক্ত গোলাবারুদ বহনের সুযোগ তৈরি করবে।

এই যুদ্ধবিমানে বড় অভ্যন্তরীণ অস্ত্র কক্ষ, উন্নত সেন্সর ব্যবস্থা এবং প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি ধারণের সক্ষমতা রয়েছে— যা সাধারণ আকারের যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা দেয়। অনেকে মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণাধীন ষষ্ঠ প্রজন্মের এফ-৪৭ যুদ্ধবিমানও আকারে বিশাল হবে, তবে এখন পর্যন্ত কেবল চীনের প্রকল্পগুলোর প্রোটোটাইপ বিমানগুলোই পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সাম্প্রতিক ছবিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই নতুন যুদ্ধবিমানটি একটি টুইন-সিটার বা দ্বৈত পাইলট কনফিগারেশন ব্যবহার করছে, যেখানে পাইলটরা পাশাপাশি বসে। দুটি আলাদা হেডস-আপ ডিসপ্লের সবুজ প্রতিফলন এটি নিশ্চিত করে। এই ধরনের ককপিট ডিজাইন চীনের বর্তমান J-20, J-16, J-10C ও JF-17 ব্লক ৩ যুদ্ধবিমানেও দেখা যায়।

এই দ্বৈত পাইলটের নকশা এমন সব বিমান মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো দীর্ঘ সময় ও দূরত্বের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। যদিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং এআই ব্যবহারে অগ্রগতি হচ্ছে, তবুও ষষ্ঠ প্রজন্মের এসব বিমানের জটিল অপারেশন পরিচালনায় একটি পাইলটের একার পক্ষে তা সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই বিমানটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Pacific Theatre) দীর্ঘ পাল্লার গমনক্ষমতা ও স্ট্রাইক ক্ষমতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইনের বাইরেও কার্যক্রম চালাতে পারবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের জন্য এ অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শন ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

এই নতুন যুদ্ধবিমানটিকে অনেকেই J-36 নামে অভিহিত করছেন, যদিও সরকারিভাবে এখনও এর নাম বা শ্রেণি ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রযুক্তি, অস্ত্র ও আকারের দিক থেকে এটি যে চীনের সামরিক বিমানবাহিনীর এক যুগান্তকারী সংযোজন হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

 

 




“জাতীয় নির্বাচন পেছানোর ঘোষণায় জনগণ ব্যথিত: বিএনপি মহাসচিব”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছরের এপ্রিল মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এই সময়সীমা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।”

শুক্রবার দিবাগত রাতে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি বহুবার বলেছে, আমরা দ্রুত নির্বাচন চাই। আমাদের প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবেন। কিন্তু তার ঘোষণায় পুরো জাতিই হতাশ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত শুধু বিএনপি নয়, দেশের সব জনগণকেই হতাশ করেছে। এমন বিলম্বিত সময়সীমা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।”

এ বিষয়ে বিএনপি শিগগিরই দলের অবস্থান স্পষ্ট করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বলেও জানান তিনি।




ঈদ উপলক্ষে ‘ফিরোজা’য় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মিলনমেলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। শনিবার (৭ জুন) রাতে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’-তে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন হয়।

সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক আনন্দঘন মুহূর্ত। আমাদের নেত্রীকে কেন্দ্র করে আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি বহু সফলতা অর্জন করেছে। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বললে আমরা নতুন করে অনুপ্রাণিত হই।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের প্রতি বেগম জিয়ার অবিচল আস্থা আমাদের প্রতিটি কথোপকথনে প্রতিফলিত হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বাইরে কোনো ব্যবস্থাই দেশের উপকারে আসতে পারে না।”

মির্জা ফখরুল জানান, বেগম জিয়া আগের তুলনায় ভালো আছেন এবং দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশ ও জনগণের কল্যাণ কামনায় দোয়া চেয়েছেন।

রাত সাড়ে ৮টায় ‘ফিরোজা’য় প্রবেশ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেন।

পরবর্তীতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হালিম, আফরোজা খানম রিতা প্রমুখ নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই উপস্থিতি বিএনপির ঐক্য ও খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচল আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।




মাছ নেই, ঈদ নেই: ভোলার জেলেপল্লীতে হতাশা আর ধারদেনার উৎসব

ভোলার মেঘনার তীরে নোঙর করে রাখা সারি সারি জেলে নৌকা যেন মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবিকার সংকটে থাকা মানুষগুলোর দুর্ভোগের। নদীতে নেই মাছ, নেই উপার্জন—আর সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে ঈদের আনন্দও।

আজ শনিবার ঈদের দিনে দুপুরে ভোলা সদরের শিবপুর জেলেপল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত নৌকা অলস পড়ে আছে পাড়ে। মাছের অভাবে জেলেরা আর আগের মতো নদীতে যেতে পারছেন না। যারা যাচ্ছেন, তারাও ফিরে আসছেন খালি হাতে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরার অনুমতি পেলেও নদীতে আশানুরূপ মাছ মিলছে না। আবহাওয়াজনিত কারণে বহু দিন নদীতেও নামতে পারেননি। ফলে সংসার চলছে ধারদেনায়, আর ঈদের আনন্দও হয়ে উঠছে ঋণের বোঝা।

শিবপুরের জেলে আসাদ মাঝি বলেন,“ধার করে ছেলেমেয়েদের মুখে এক টুকরো মাংস তুলে দিয়েছি। জানি না, আর কতদিন এভাবে চলতে হবে।”

ডালিম মাঝি ঈদের রুটি ও মাংসের আয়োজন করেছেন ধার করা টাকায়। তার নৌকাতেই পরিবারকে রুটি বানাতে দেখা গেছে। আক্কেল বেপারী সন্তানকে দান করা সামান্য মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াচ্ছিলেন—চোখে মুখে মিশে ছিল অজানা শঙ্কা।

চরফ্যাশনের জেলে আলাউদ্দিন মাঝি বলেন,“ছেলেকে নিয়ে ঈদ করতে ধার করেছি। নদীতে মাছ না থাকায় অনেক সময় খরচই উঠছে না।”

জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীর পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও দূষণের কারণে আগের মতো মাছ মিলছে না। অথচ এই সময়টাই ছিল মাছ ধরার মৌসুম।

বরিশাল বিভাগীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলা সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত জানান, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ জেলে পরিবার চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন,“সরকার মাসে ৪০ কেজি করে চাল দিচ্ছে মাত্র অর্ধেক জেলেকে। বাকি অর্ধেক বঞ্চিত। আমরা চাই, সবাইকে সমান সহায়তা দেওয়া হোক এবং চালের পরিমাণও বাড়ানো হোক।”

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অফিসের সহকারী পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান জানান,“বিভাগে ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৯ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে তাদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে।”

তবে অনেক জেলে এখনও তালিকার বাইরে রয়েছেন। বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানিয়েছেন, নতুন জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। তালিকাভুক্ত হলে তারাও সহায়তার আওতায় আসবেন।

এইভাবে ঈদের দিনও জেলেপল্লীতে আনন্দের পরিবর্তে ছায়া ফেলেছে অনিশ্চয়তা ও চরম দারিদ্র্য।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ত্যাগের আলোয় গড়ে উঠুক মানবতা: এনসিপির ঈদ বার্তা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)।
শনিবার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদুল আজহা শুধুমাত্র পশু কোরবানির উৎসব নয়—এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক। এই দিনে কোরবানির পশুর পাশাপাশি আত্মঅহংকার, স্বার্থপরতা ও অন্যায়ের সঙ্গে আপসের মানসিকতাকেও বিসর্জন দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

শুভেচ্ছা বার্তায় আরও বলা হয়, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্য ও ন্যায়ের পথ সুগম করাই হওয়া উচিত ঈদের মূল শিক্ষা।

এনসিপি মনে করে, অতীতের জুলাই অভ্যুত্থানে জাতি যেভাবে ত্যাগ ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়। সাহসী মানুষদের হাত ধরেই সমাজে আসে প্রকৃত রূপান্তর।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঈদের এই পবিত্র দিনে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই ঘোষণা’ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ, ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের পরিশুদ্ধির মূল ভিত্তি হলো ত্যাগের শিক্ষা।এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিশ্ব মুসলিমকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঈদুল আজহাকে ‘কুরবান বায়রাম’ বলে উল্লেখ করেন পুতিন। এতে তিনি বলেন, “এই উৎসব মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন, যা পূর্বপুরুষদের শিক্ষা, করুণা এবং সহানুভূতির চেতনায় ভরপুর। মুসলিম সম্প্রদায় সেই শিক্ষা ধারন করে পরবর্তী প্রজন্মে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাশিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা নিজেদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়ার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে অবদান রাখছে। এসব অবদান বিশেষ স্বীকৃতি এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

রাশিয়ায় সরকারিভাবে চারটি ধর্ম—খ্রিস্টান, ইসলাম, ইহুদি ও বৌদ্ধধর্ম—স্বীকৃত। প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।

ঈদুল আজহার এই বার্তায় পুতিন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা দেন।




ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধান ও নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মো. শাহীন ইকবাল। শনিবার (৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের উৎসবমুখর সময়েও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বাহিনীর এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় দিক থেকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাক্ষাৎকালে তাঁরা দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ এবং উন্নয়ন প্রসঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

জানা গেছে, এই সাক্ষাৎটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্য এবং প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি শ্রদ্ধা ও ঈদের শুভেচ্ছা জানাতেই মূলত তারা যমুনা অতিথি ভবনে আসেন। ইউনূস তাদেরকে আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সাক্ষাৎ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, এই সাক্ষাৎ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানসূচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শুভেচ্ছা বিনিময়ের অংশ হিসেবে এই সাক্ষাৎকেও রাষ্ট্রীয় সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রয়াসের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঢাকা শহরে নেমে এসেছে নীরবতা

ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা হারিয়েছে তার চিরচেনা ব্যস্ততা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীবাসী ছুটে গেছেন নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে। ফলে ফাঁকা হয়ে পড়েছে ঢাকার সড়কগুলো, নেমে এসেছে এক নিস্তব্ধতা।

শনিবার (৭ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও নেই যানজট, নেই মানুষের ভিড়। কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টন, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, আগারগাঁও ও শ্যামলীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহনের উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়।

সড়কে গাড়ি ও মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এক ধরনের অচেনা নীরবতায় ঢেকে গেছে পুরো নগরী। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল শুরু হয়। গণপরিবহন ছিল অত্যন্ত সীমিত, যার ফলে রাজধানীতে ঈদ পালন করা মানুষদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শহরের এক বাসযাত্রী জানান, “বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা বাস পেয়েছি। রাস্তা একদম ফাঁকা, বাসেও যাত্রী নেই তেমন। ভাড়া একটু বেশি চেয়েছে, ঈদের বকশিশ হিসেবে ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছি।”

এক পরিবহনের চালক বলেন, “নামাজ পড়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। রাস্তায় যাত্রী একেবারেই কম। সবাই এখন কোরবানির কাজে ব্যস্ত, বিকেলে যাত্রী বাড়বে।”

ঈদের এই ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র নগরবাসীর জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি সড়কে থাকা অল্প সংখ্যক যাত্রীদের জন্য কিছুটা কষ্টেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




হানাহানির রাজনীতি ফেরার আশঙ্কা নেই: এনসিপি নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দেশে যেন আর হানাহানির রাজনীতি ফিরে না আসে—এটাই সবার প্রত্যাশা। তিনি দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পূর্বে আন্দোলনের সময় তাঁর নিজ বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল।

শনিবার (৭ জুন) ঈদুল আজহার নামাজ শেষে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের নিজ গ্রামের মসজিদে স্থানীয়দের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হান্নান মাসউদ বলেন, “৫ আগস্টের আগে চলমান আন্দোলনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের মানুষকে পাড়ায়-মহল্লায় শোষণ করেছে। আমার বাড়িতে আগুন লাগানোরও চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমার গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষ সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এই গ্রামের মানুষ আমার আপনজন, তারা সব সময় শান্তি চায়। আমরা কখনোই চাই না দেশে আবার হানাহানির রাজনীতি ফিরে আসুক।”

বক্তব্য শেষে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। এ সময় এনসিপির হাতিয়া প্রতিনিধি মো. ইউসুফ রেজাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




ঈদেও দায়িত্বে নিবেদিত বাংলাদেশের ফুটবলাররা

আসন্ন এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে ঈদুল আজহার দিনেও নিবিড় প্রস্তুতিতে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ১০ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি, যেখানে লড়বে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। সেই ম্যাচ সামনে রেখে ঈদের ছুটির মধ্যেও থেমে নেই জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীসহ দলের সবার প্রস্তুতি।

রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থান করছে জাতীয় দল। ঈদের সকালে হোটেলের কাছাকাছি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসলিম খেলোয়াড়রা। সকাল ৭টায় তারা জামাতে অংশ নেন এবং পরিধান করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উপহার দেওয়া সাদা পাঞ্জাবি। নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে জাতীয় দলের সদস্যরা কোলাকুলি করেন আন্তরিকতায়।

বাফুফের নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ, সাখওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন ও ইকবাল হোসেনও জাতীয় দলের সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে সবাই হোটেলে ফিরে নাশতায় অংশ নেন, যেখানে সেমাইসহ ছিল ঈদের বিশেষ আয়োজন। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন একে অপরের সঙ্গে, কেউ কেউ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন ভিডিও কলে।

খেলোয়াড়দের সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাময়িক ছুটি দেওয়া হয়। ঢাকায় যারা পরিবার নিয়ে বসবাস করেন, তারা স্বল্প সময়ে পরিবারে গিয়ে ঈদ উদযাপন করেন। অন্যরা চাইলে ক্যাম্পের বাইরে নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারেন। তবে বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত যথারীতি অনুশীলনে অংশ নিতে হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার অধীনে।

নারী ফুটবল দলও এশিয়ান কাপ অভিযানে রয়েছে। মিয়ানমারে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে তাদের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রস্তুতি হিসেবে সম্প্রতি জর্ডানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে নারী দল। তিন ধাপে দলটি দেশে ফিরেছে গতকাল রাতে। তাদের পুনরায় অনুশীলন শুরু হবে আগামী পরশু দিন। যদিও কেউ কেউ দুই দিনের জন্য বাড়ি গেছেন, তবুও অনেকেই রয়ে গেছেন ক্যাম্পেই — যাওয়া-আসার কষ্ট ও ট্রাফিক ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই তারা থেকে গেছেন রাজধানীতে।

নারী ফুটবলারদের জন্যও বাফুফে দিয়েছে ঈদের বিশেষ উপহার। ঈদের দিনটিকে কেন্দ্র করে ফুটবলারদের প্রতি দেখানো হয়েছে আলাদা যত্ন। খেলোয়াড়রা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঈদের আনন্দও ভাগ করে নিচ্ছেন দলগতভাবে। জাতীয় দল যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনও দেশ ও দায়িত্বই তাদের কাছে অগ্রাধিকার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম