লন্ডনে  বৈঠকে বসছেন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান

আগামী ১৩ জুন লন্ডনে বৈঠকে বসছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকটি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলবে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। তিনি জানান, লন্ডনে ড. ইউনূস যে হোটেলে অবস্থান করবেন, সেখানেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কৌশলগত নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির অবস্থান ইতোমধ্যেই পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা জানালেও, সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় এগিয়ে এনে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে বিএনপি বরাবরই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবি করে আসছে। ফলে আসন্ন বৈঠকটি দুই পক্ষের মতপার্থক্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অংশ নিতে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।




চারদিনের সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চারদিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার (১০ জুন) যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে সাক্ষাৎ এবং ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ। রাজপরিবারের হাতে এই পুরস্কার গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পাশে একটি বিশেষ সম্মান প্রদর্শিত হবে।

লন্ডন সফরের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আগামী শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই বৈঠকের বিষয়টি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে আলোচিত হয় এবং তারেক রহমান নিজেই দলের নেতাদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেছেন।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এই বৈঠক বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈঠকটি সফল হলে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় আসবে এবং বিভিন্ন বহুমুখী সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এই সফর ও বৈঠক বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পালাবদল ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের বৈঠক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে পারে: মির্জা ফখরুল

আগামী ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠককে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকটি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠককে আমরা স্বাগত জানাই। এটি আমাদের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

ফখরুল আরও বলেন, “আমরা মনে করি এটি একটি বড় রাজনৈতিক ইভেন্ট। অনেক সমস্যার সমাধানের পথ খুলে যেতে পারে। নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে। এটা নির্ভর করবে আমাদের নেতাদের ওপর যে, তারা এই ইভেন্টকে কীভাবে কাজে লাগান।”

তিনি জানান, ড. ইউনূস যে হোটেলে অবস্থান করবেন, সেখানেই এই দুই ঘণ্টার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও এ বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

এ সময় তিনি বলেন, “বিএনপি বিপ্লবী দল নয়, বরং আমরা নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় যেতে চাই। যে কোনো সময় ভোট হলে আমরা প্রস্তুত।”

এর আগের দিন সোমবার, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গুলশানে। ভার্চুয়ালি এতে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।

আল-আমিন



কলাপাড়ায় অবৈধ করাতকলের দাপট

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বৈধতার চেয়ে অবৈধ করাতকলের সংখ্যাই বেশি। সংরক্ষিত বনাঞ্চল, নদীর তীর, এমনকি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোতেও গড়ে তোলা হয়েছে এসব করাতকল। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে আর রাতের অন্ধকারে গোপনে চলছে ম্যানগ্রোভ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক গাছের নির্বিচার চেরাই। বন বিভাগের নিয়ম, পরিবেশ আইনের ধারা, সবই যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।

উপজেলা জুড়ে থাকা ৬৯টি করাতকলের মধ্যে ৩৫টি অবৈধ। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি মহিপুর রেঞ্জে—সেখানে ৩২টি করাতকলের ২৪টি চলছে কোনোরকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া। অথচ এই করাতকলগুলো খাজুরা, কুয়াকাটা, গঙ্গামতি ও ধুলাসারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে। নদীর তীর এবং বেড়িবাঁধের বাইরেও গড়ে তোলা হয়েছে করাতকল। জনসাধারণের চলাচলের প্রধান কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে, এমনকি কুয়াকাটা পৌর এলাকার মসজিদের পাশেও বসানো হয়েছে করাতকল।

স্থানীয়রা বলছেন, এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা পরিবেশ বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র করাতকল বসিয়ে রেখেছেন। কাঠ চেরাইয়ের জন্য গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফলে বন ধ্বংসের গতি দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। পরিবেশ কর্মী কামাল হাসান রনি জানান, এসব করাতকলের কারণে পুরো অঞ্চলের বনাঞ্চল চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। খাপড়াভাঙ্গা নদীতীর, যেখানে রয়েছে ম্যানগ্রোভ গাছের বিস্তৃত বন, সেখানে দখল করে করাতকল বসানো হয়েছে।

২০১২ সালের ২৭ মে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রক্ষিত, অর্পিত বা সংরক্ষিত বনভূমি থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ (পৌর এলাকা ছাড়া)। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, সরকারি অফিস এবং জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল বসানো যাবে না। এমনকি দিনে নির্ধারিত সময়ের (সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) বাইরে করাতকল চালানোও নিষিদ্ধ।

এইসব নিয়ম-কানুন কোথাও মানা হচ্ছে না। কলাপাড়া ক্যাম্পের আওতায় থাকা ৩৭টি করাতকলের ১১টিই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। লালুয়ার বানাতি বাজারে অবৈধ করাতকল বন্ধে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’-এর সংগঠক নজরুল ইসলাম জানান, উপকূলীয় কলাপাড়ার পরিবেশ এমনিতেই দুর্যোগপ্রবণ। এই অঞ্চলের বনভূমিই মানুষকে প্রাথমিকভাবে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। অথচ সেই বনই আজ অবৈধ করাতকলের কারণে ধ্বংসের পথে। তিনি বনবিভাগের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।

এ ব্যাপারে মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তিনি সদ্য যোগ দিয়েছেন এবং শিগগিরই সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কলাপাড়া বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, করাতকলগুলোর লাইসেন্স নবায়ন এবং বৈধ করণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনটি করাতকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ করাতকল বন্ধ করা না গেলে কলাপাড়ার বনভূমি ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আশ্রয়কেন্দ্রের ভয়াবহ সংকটে উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

বরিশাল বিভাগজুড়ে ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়লেও প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্রের ঘাটতি এখনো চরম পর্যায়ে। প্রতিবারই ঘূর্ণিঝড়ের আগমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। অনেক স্থানে একটি নিরাপদ স্থানের জন্যও ছুটতে হয় মাইলের পর মাইল।

দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোর অন্যতম হচ্ছে পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলা। এসব জেলার অনেক চর, নদীতীরবর্তী অঞ্চল এবং উপকূলবর্তী এলাকা এখনো পর্যন্ত আধুনিক বা টেকসই কোনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের আলো দেখেনি। বিশেষ করে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মাঝামাঝি অবস্থিত চরগুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। ঢালচর ও পূর্ব ঢালচরে প্রায় চার হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও সেখানে নেই একটি সাইক্লোন শেল্টারও।

একই অবস্থা আরও ৯টি চরে, যেখানে একটিও আশ্রয়কেন্দ্র নেই। ফলে সামান্য জলোচ্ছ্বাস বা ঝড়েও সেখানে দুর্যোগ ভয়াবহ রূপ নেয়। ভোলায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ, অথচ সেখানে ৮৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যা বাস্তব চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। গবাদি পশু রক্ষায় ব্যবহৃত মাটির কিল্লাও মাত্র ১৪টি। হাজার হাজার গবাদি পশু ঝুঁকিতে থাকছে প্রতি দুর্যোগেই।

বরগুনার বিষখালি নদীতীরবর্তী উত্তর ডালঙাঙ্গা, লতাবাড়িয়া ও মাছখালি গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব অঞ্চলে নেই কোনো পাকা স্থাপনা কিংবা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানকার বাসিন্দারা প্রতিটি দুর্যোগকালে জীবন বাঁচাতে উঁচু জায়গা বা গাছেই আশ্রয় নেন। বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, জেলার অধিকাংশ পুরাতন কেন্দ্র ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নতুন করে কেন্দ্র নির্মাণ এবং পুরনোগুলো সংস্কারের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালীতেও অবস্থা একই রকম উদ্বেগজনক। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় সেখানে আশ্রয় নিতে পারে জেলার মোট জনসংখ্যার ১০ ভাগের ১ ভাগও নয়। ফলে দুর্যোগ এলেই উপকূলজুড়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটে হাজার হাজার মানুষের।

সরকারি তথ্য বলছে, বরিশাল বিভাগজুড়ে ৩ হাজার ২৯৫টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৭১টির জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। বরিশালে ৫৪১টির মধ্যে ২০০টি মেরামতের তালিকায় রয়েছে, পটুয়াখালীতে ৮৪০টির মধ্যে ৫৮টি সংস্কারযোগ্য, পিরোজপুরে ২৬৬টির মধ্যে ২০০টি ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় এবং বরগুনায় ৬৭৩টির মধ্যে ৫৫০টিরও বেশি শেল্টার সংস্কার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে নতুন ৩৮৮টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কার ও নতুন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটি যেন বিলম্ব না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলজুড়ে এই সংকট যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সহিংসতার আতঙ্কে উত্তপ্ত মণিপুর, চলছে কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ

জাতিগত সহিংসতায় বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর নতুন করে আরও বড় ধরনের দাঙ্গার আশঙ্কায় রয়েছে। হিন্দু মেইতেই ও খ্রিস্টান কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজ্যজুড়ে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রোববার রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।

ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে। কিন্তু তাতেও অস্থিরতা কমেনি। শনিবার চরমপন্থি গোষ্ঠী আরামবাই তেংগোল (এটি)-এর কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তারের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবিতে উগ্রবাদীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

পরে রাজ্যপাল বিজেপি, এনপিপি ও কংগ্রেসের ২৫ জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধিরা রাজ্যের সংকটাপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। রাজ্যপাল আশ্বস্ত করেন যে, স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজ্যের বিষ্ণুপুর জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া ইম্ফাল পূর্ব, ইম্ফাল পশ্চিম, কাকচিং ও থৌবাল জেলায় চার বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশে এসব এলাকায় পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এনআইএ ও মণিপুর পুলিশের যৌথ অভিযানে ‘এটি’-র কথিত সেনাপ্রধান কানন মেইতেই-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইম্ফাল পশ্চিম জেলার কোয়াকিথেল এলাকায় শত শত মানুষ পুলিশের গাড়িবহর থামিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ে।

২০২৩ সালের ৩ মে রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর আরামবাই তেংগোল (এটি) গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। সশস্ত্র এই মেইতেই গোষ্ঠী কুকি সম্প্রদায়ের জনগণের ওপর একাধিক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে ভারতীয় প্রশাসনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ’ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বারবার সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা না গেলে, মণিপুরের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।




ঈদের তৃতীয় দিনেও চলবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম: আসিফ মাহমুদ

ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও দেশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। রোববার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

উপদেষ্টা জানান, ঈদের দিনসহ পরবর্তী দুই দিন—মোট তিন দিন ধরে কোরবানি হয়ে থাকে। ঈদের দ্বিতীয় দিনেও বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বর্জ্যও তৈরি হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই এসব বর্জ্য অপসারণের কাজ সফলভাবে শেষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি করা পশুর বর্জ্য নিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে দ্বিতীয় দিনের কোরবানির বর্জ্য। যদিও অনেকেই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করেননি, তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

আসিফ মাহমুদ বলেন, ঈদের দিন রাতেই সব সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তিনি জানান, মোট ৩৫ হাজার ২৭২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঈদের আনন্দ ত্যাগ করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ জন্য তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুত সিটি করপোরেশন

ধর্মীয় দিক থেকে ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও কোরবানি করা বৈধ, ফলে অনেক মানুষ আজও পশু কোরবানি করছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিটি করপোরেশনগুলো ঈদের তৃতীয় দিনেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ ও শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ঈদের তিন দিনজুড়ে সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সিটি করপোরেশনসমূহ।




অরাজনৈতিকীকরণের পথে শিক্ষা ব্যবস্থা: অন্তর্বর্তী সরকারের নজরকাড়া সিদ্ধান্ত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ১০ মাসে দেশের মোট ২২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারের আমলে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বদলের ঘটনা ঘটল। এসব পরিবর্তনে বাদ পড়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, তাঁদের পরিবার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের নাম।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ৪ জুন ২৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

নামকরণে পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে এখন থেকে ব্যক্তিনির্ভরতার পরিবর্তে স্থানীয়তা ও গণগ্রাহ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক বা পারিবারিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছিল, সেগুলোর নাম সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা বা এলাকা অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নাম পরিবর্তনের কিছু উদাহরণ

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ’ এবং ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’।

২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদল করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন নাম সংশ্লিষ্ট জেলার নামে নির্ধারিত হয়। যেমন, নেত্রকোনার ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং কিশোরগঞ্জের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন পরিচিত ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে।

১৫ এপ্রিল অধ্যাদেশ জারি করে আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’। খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় ‘খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’।

২৯ মে প্রকাশিত আরেক প্রজ্ঞাপনে ৩৭ জেলার ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, ওই কলেজের নাম পরিবর্তন করা হবে না।

কারিগরি ও প্রাথমিক শিক্ষাতেও পরিবর্তন

১৩ এপ্রিল কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এদিন ১৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল আরও ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়, যার মধ্যে ছিল ১৬টি স্কুল, ৩টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ২টি কলেজ।

প্রাথমিক স্তরেও ব্যাপক নাম পরিবর্তন হয়েছে। গত ১০ মাসে পাঁচ দফায় মোট ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম বদলানো হয়েছে। সর্বশেষ ১৮ মে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরকারের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষকদের মত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “জাতীয় প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নামে হওয়া উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে। আমরা সেই নীতিতেই কাজ করছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি একটি ‘অরাজনৈতিকীকরণ প্রক্রিয়া’, যার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের নিরপেক্ষতা এবং অরাজনৈতিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার তুলে ধরতে চাইছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনামলে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রতীক ব্যবহার করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, রাস্তাঘাট, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, এমনকি প্রকল্প ও ভবনের নামকরণ করা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ধারা থেকে সরে এসে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।




যুক্তরাজ্য সফরে আজ রওনা হচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

চার দিনের সরকারি সফরে আজ ( ৯ জুন) সোমবার যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সফরে তিনি ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং রাজা চার্লসের হাত থেকে গ্রহণ করবেন ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’।

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন।

এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা জোরদার করাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সফরকালীন সময়ে রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রেস সচিব আরও জানান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফরের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী এক বিবৃতিতে জানান, “এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর। প্রধান উপদেষ্টা ৯ জুন ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ১৪ জুন দেশে ফিরবেন।”

সফরের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন অধ্যাপক ইউনূস। সফরসূচিতে আরও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।




১২ ঘণ্টারও কম সময়ে ঢাকার বর্জ্য সরানো হলো!

রাজধানী ঢাকায় কোরবানির ঈদের পশু জবাইয়ের পর সৃষ্ট সব বর্জ্য মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি শুধু প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় নয়, বরং জনকল্যাণে নিবেদিত স্থানীয় সরকারের প্রতিশ্রুতিশীল পদক্ষেপের বাস্তব উদাহরণ। নগরবাসীর সহযোগিতা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাজধানী দ্রুত পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, যারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন তারা আমাদের নীরব নায়ক। প্রচারের আড়ালে থাকা এই পরিশ্রমীরা প্রকৃতপক্ষে নগরীর সৌন্দর্য রক্ষাকারী। কোরবানির ঈদের প্রকৃত বীর তারাই, যাদের ত্যাগে শহর পেয়েছে পরিচ্ছন্ন চেহারা।

তিনি জানান, শুধু ঢাকা নয়, দেশের সব সিটি করপোরেশনেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। এ বছর ৩৫ হাজার ২৭২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঈদের আনন্দ উপেক্ষা করে সবার ঈদ উদযাপনকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।