ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হোসেইন সালামি নিহত

ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলের রাতভর পরিচালিত বিমান হামলায় তেহরানের আইআরজিসি সদর দপ্তরে আঘাত হানার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল সালামি। হামলার পর শুক্রবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।

২০১৯ সাল থেকে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন জেনারেল হোসেইন সালামি। তিনি ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বেই ইরান আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

ইসরায়েলের এই হামলায় রেভল্যুশনারি গার্ডসের সদর দপ্তরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

এই হামলার ঘটনায় ইরানজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইরানি সেনাবাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডস ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ইরানের একমাত্র সামরিক বাহিনী নয়; বরং এটি দেশটির রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। আইআরজিসি ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশটির প্রভাব বিস্তারে সংগঠনটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিবিসি জানিয়েছে, আইআরজিসি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা হিসেবে দেশটির নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে বড় প্রভাব রাখে।

এর আগে একই রাতে ইসরায়েল ইরানের একাধিক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, এই হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ধ্বংস করতে চায়।




ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা

ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পূর্বে রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।

ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করা। এই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে। কারণ ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষাই এখন প্রধান লক্ষ্য।”

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, অভিযানে ডজনখানেক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার দাবি, ইরানের কাছে এমন পরিমাণ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ১৫টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “নেশন অব লায়ন্স”। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে আসা তাৎক্ষণিক হুমকির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, তেহরান শহর ও আশপাশে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ইরানি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন প্রেস টিভি জানায়, হামলায় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক বিজ্ঞানীর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলাকে “প্রতিরোধমূলক আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরান থেকে শিগগিরই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা রয়েছে। হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভোর ৩টা থেকে জরুরি কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগম স্থলও বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা সেনাদের ওপর হামলা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।”

এর আগে, গত বুধবার ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়লে এবং যুদ্ধ শুরু হলে ইরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে।




ভারতে বিমান দুর্ঘটনা ; যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।  যেখানে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে পাঠানো শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, আহমেদাবাদে ২৪২ জন যাত্রীবাহী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ড. ইউনূস অত্যন্ত মর্মাহত। শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক সহানুভূতি ও সমবেদনা।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুঃসময়ে আমরা ভারতের জনগণ ও সরকারের পাশে আছি। প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি ৮২৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পরই আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন।




ভারতের বিমান দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ পাকিস্তানের

ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে ভারতের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

বৃহস্পতিবার এক্স (সাবেক টুইটার)–এ দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আজ আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে বিষণ্ণ। আহত ও নিহতদের পরিবারগুলোর এই অপূরণীয় ক্ষতির সময় আমরা তাদের পাশে রয়েছি এবং সমবেদনা জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার প্রভাব যাদের ওপর পড়েছে, তাদের জন্য আমাদের প্রার্থনা রইল।”

এদিকে, দুর্ঘটনার পর এক বিবৃতিতে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে “বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “কেউ বুঝতেই পারেনি কী ঘটল। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল, বিমানটি ঠিকভাবেই উড়ছিল।”

এর আগে ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটিতে ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার লিটার জ্বালানি। তিনি বলেন, “অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয় এবং কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

প্রসঙ্গত, আহমেদাবাদের আকাশে মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ।




তাপপ্রবাহ কমলেও ২৫ জেলা এখনো দাবদাহে, বৃষ্টির আভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের

সারা দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি শুরু হলেও আজও দেশের ২৫টিরও বেশি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী পাঁচদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সারাদেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

বর্তমানে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাগেরহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় এই তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টা থেকে একই ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১৫ জুন) ও সোমবার (১৬ জুন) দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানেও দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে দেশের সার্বিক তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।




আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল বলা যায় কি না: ড. ইউনূসের প্রশ্ন

আওয়ামী লীগকে আদৌ রাজনৈতিক দল বলা যায় কি না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, গত বছরের জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ মাস পার হয়ে গেলেও দলটির কেউ এখনো দুঃখ প্রকাশ করেনি। বরং ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার (১১ জুন) যুক্তরাজ্যের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের রয়্যাল ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে ড. ইউনূস এসব মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি জানান, আগামী জুলাইয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে এবং এ ঘোষণার ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সংলাপে উপস্থিত একজন অংশগ্রহণকারী ড. ইউনূসকে প্রশ্ন করেন, “এপ্রিলের শুরুতে আপনারা নির্বাচন ঘোষণা করেছেন। সেনাবাহিনী ও কিছু রাজনীতিক এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে অনেকেই বলছেন নির্বাচনটি সুষ্ঠু হবে না।”

উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, “আমার মতে, এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন। সময়টি সঠিক এবং জনগণ প্রস্তুত। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাররা প্রকৃত অর্থে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। নতুন ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে যারা ভোটার হয়েছেন তারা প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং নতুন বাংলাদেশের জন্য ভোট হবে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আমরা এই অঙ্গীকার করেছি যে, যেসব তরুণরা জীবন দিয়েছে, তাদের স্বপ্নকে সম্মান জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ব। এজন্য আমরা সংস্কার, অপরাধীদের বিচার এবং নির্বাচন — এই তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করা হয়েছে। এসব কমিশনের সুপারিশগুলো দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। সংসদ, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা ও সিভিল সার্ভিসসহ সবকিছুতেই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংলাপে উপস্থিত এক প্রশ্নকারী জানতে চান, কেন সংস্কারের জন্য সরাসরি ভোটারদের ওপর আস্থা রাখা হচ্ছে না এবং কেন কমিশন বা রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “ভোটের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন আনাটা অবশ্যই উত্তম হতো, কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সব দলের সম্মতিতে সুপারিশগুলো গ্রহণ করা এবং পরে জুলাই ঘোষণাপত্রে সেগুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করা। সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলগুলোর মধ্যে একমত হওয়া কঠিন কাজ হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যেন সর্বসম্মত ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায়।




আবারও বাড়ছে করোনা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ সতর্কবার্তা

বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। বিভিন্ন দেশে চিহ্নিত হচ্ছে ভাইরাসটির নতুন নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (১১ জুন) দুপুরে অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে দেশে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সে কারণে দেশের সকল স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইএইচআর ডেস্কগুলোকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৭টি নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলো হলো:

১. জনসমাগম এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক পরুন।
২. শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করুন।
৩. হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখুন (কনুই বা টিস্যু ব্যবহার করে)।
৪. ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন।
৫. সাবান ও পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে ফেলুন।
৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করবেন না।
৭. আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশে পুনরায় করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে করোনার টিকা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, অক্সিজেন, হাই-ফ্লো ক্যানুলা, আইসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধা প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় কেএন-৯৫ মাস্ক, পিপিই, ফেস শিল্ডসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এসব প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই নতুন করে বড় বিপর্যয় এড়াতে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ফিরল কর্মচাঞ্চল্য, সাগরে নামছে জেলেরা

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বুধবার (১১ জুন) মধ্যরাত থেকে বঙ্গোপসাগরে আবারও মাছ ধরা শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে পটুয়াখালীর মহিপুর, আলিপুর, কুয়াকাটা ও কলাপাড়াসহ উপকূলীয় মৎস্যঘাটগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। নিষেধাজ্ঞার দিনগুলোতে নিস্তব্ধ পড়ে থাকা ঘাটগুলোতে এখন চলছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা, ফিরে এসেছে জীবিকার গতি।

জেলেরা জাল গুছিয়ে ট্রলারে তুলছেন বরফ, খাবার, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় মালামাল। অনেকে ইতোমধ্যে সাগরের পথে যাত্রা শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা হাজারো জেলে ও ট্রলার শ্রমিকের মুখে এখন আশার আলো। দীর্ঘ অবসরের পর সাগরে ফিরতে পেরে তাঁরা অনেকটাই উজ্জীবিত।

মহিপুর মৎস্য বন্দরের জেলে রফিক হাওলাদার বলেন, “দীর্ঘদিন বসে ছিলাম, কোনো আয়-রোজগার ছিল না। ধার-দেনায় চলতে হয়েছে। এখন যদি ভালো মাছ ধরি, তাহলে পরিবার নিয়ে একটু স্বস্তিতে থাকা যাবে।” তার মতো আরও অনেকেই জানালেন, একটাই লক্ষ্য—ভরপুর ইলিশের মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানো।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর ছিল। এই সময়কালে মাছের প্রজনন বেড়েছে, ইলিশের ঘনত্বও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।” তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো নিয়মিত নজরদারি চালিয়েছে।

নিরাপত্তা ও নজরদারিতে রয়েছে কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ এবং মৎস্য অধিদপ্তর। তারা নিশ্চিত করেছে, ট্রলার চলাচল ও মাছ ধরা হবে নিয়ম মেনে, নিরাপদে।

উপকূলের মানুষের জন্য ইলিশ মৌসুম মানে শুধুই মাছ ধরা নয়—এটা জীবনের রুটি-রুজি, জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি যাত্রা। তাই সাগরে নামার এ সুযোগকে ঘিরে জেলেদের মনে এখন নতুন আশার উদয় হয়েছে। রুপালি ইলিশের অপেক্ষায় থাকা ঘাটগুলো যেন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে—ফিরে আসবে সমৃদ্ধি, ঘুরে দাঁড়াবে উপকূল।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২০ এপ্রিল থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের জন্য বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। তবে এবার জেলেদের দাবির প্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে মিল রেখে সময় এগিয়ে আনা হয়। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারগুলো রওনা দিচ্ছে আশার সাগরে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ: ড. ইউনূস

লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে বাংলাদেশে ১৭ বছর পর ইতিহাসের সবচেয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১১ জুন) অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন কেবল একটি সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়। এটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য তরুণদের রক্তদানে উৎসাহ পাওয়া একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। সংস্কারের জন্য আমরা কমিশন গঠন করেছি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে। এখন আমরা সেসব কমিশনের সুপারিশের অপেক্ষায় আছি।”

তিনি জানান, “আমরা এমন একটি নির্বাচন করতে যাচ্ছি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে।”

জাতীয় ঐকমত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের দায়িত্ব সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। আমরা জুলাই মাসে একটি জাতীয় সনদ ঘোষণা করব, যা ভবিষ্যতের জন্য পথনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার সময় হয়ে আসছে :ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফেরার পথে আছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১০ জুন) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক সাহেব নিশ্চয়ই দেশে ফিরবেন, অবশ্যই দেশে ফিরবেন।” তবে তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ তিনি জানাননি।

এর আগে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হয়েছে। বৈঠকটি দলীয় সংকট নিরসনে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন মহাসচিব।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় উন্নত বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, উনি আগের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেক ভালো আছেন। ডাক্তাররাও তাই বলছেন। তিনি অনেক ভালো আছেন।”

বিএনপি মহাসচিবের এই ঘোষণা দলের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।