ড. ইউনূস-তারেক বৈঠক নিয়ে সমালোচকদের প্রশ্ন তুললেন রিজভী

লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, “এই বৈঠক অনেকের মনে জ্বালা ধরিয়েছে। কেন এই জ্বালা? আপনাদের উদ্দেশ্য কী?”

শনিবার (১৪ জুন) গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরে মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে রিজভী বলেন, রমজান ও ঈদের কারণে এপ্রিল মাসে নির্বাচন কঠিন হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের সময়টি উত্তম বলে মত দেন তিনি।

জামায়াতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “আপনারা পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ সালের বিরোধিতা, ৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচন, আবার ৯৫ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। এখন আবার আওয়ামী লীগকে মাফ করার কথা বলেন। এটাই কি নিরপেক্ষতা?”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে আন্দোলনকারীদের হত্যা, দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া মাথা নত করেননি বলেই আজও জেলে থাকতে হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।




ইরান হামলার লাইভ সম্প্রচার দেখতে বিশ্ববাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা পুনরায় ইসরায়েলে হামলা চালাবে এবং সেই হামলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, “আগামী প্রতিক্রিয়াটি হবে আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী, বিস্তৃত এবং দৃশ্যমান। বিশ্বের সবাইকে সরাসরি দেখার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বার্তা কেবল ইসরায়েল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র পশ্চিমা বিশ্বের জন্যও সতর্কবার্তা। বিশেষ করে মার্কিন ডিফেন্স স্যাটেলাইট ও ড্রোন সিস্টেমগুলোর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায় তেহরান।

এদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে ১৩ জুন ভোররাতে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত আটটি শহরে সমন্বিত বিমান হামলা চালায়। এ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানের শতাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।




লন্ডনে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের উদ্বেগ: প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

লন্ডনে বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক এবং যৌথ বিবৃতিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যত্যয় বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৪ জুন) সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির অবস্থান তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক এবং পরে যৌথ প্রেস ব্রিফিং করার ঘটনা স্বাভাবিক রাজনৈতিক আলোচনার চেয়ে ভিন্ন বার্তা দেয়। এর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা একটি দলের প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করেছেন বলে মনে করে জামায়াত। যা তার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে এবং দেশের জনগণের মধ্যে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান উপদেষ্টা এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথক ও যৌথ বৈঠক করেছেন। কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে কোনো একটি দলের সঙ্গে আলোচনার পর যৌথ বিবৃতি দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। দলের মতে, দেশে ফিরে এসে সকল দলের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হতো।

জামায়াতের বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। এরপর লন্ডনে গিয়ে নির্দিষ্ট একটি দলের সঙ্গে বৈঠক ও যৌথ প্রেস ব্রিফিং করায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দলটি আরও মনে করে, সরকারপ্রধান হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে বহু রাজনৈতিক দল সক্রিয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে শুধু একটি দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সঠিক পন্থা হতে পারে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াত আশা করছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে এবং বিচার ও সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে উদ্ভূত সংশয় নিরসনে তার পক্ষ থেকে জাতির সামনে সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ।




অবশেষে অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক হলো চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাসেবা

দীর্ঘ ১৮ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা শনিবার (১৪ জুন) থেকে স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে। সকাল থেকেই হাসপাতালের সব বিভাগে পুরোদমে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।

হাসপাতাল ভবন সকাল থেকেই কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা যথারীতি তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে রোগী ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগে স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসা প্রদান শুরু হয়েছে।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “সকাল থেকেই আমরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছি। রোগীরাও নিয়মিত আসছেন। যার যেটা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে।”

হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও আহতদের চিকিৎসা সমন্বয়ক ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, “আজ সকাল থেকেই সব বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছি। চিকিৎসক ও নার্সরাও আগের মতোই কাজ করছেন। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করছি, আর কোনো বিভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না। রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে আবারও আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, বিভিন্ন কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। ফলে বিপাকে পড়েছিলেন বহু রোগী। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।




দশমিনা ও গলাচিপায় উত্তেজনার জেরে ১৪৪ ধারা জারি বহাল

পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপায় বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার (১৩ জুন) রাতে এই আদেশ জারি করা হয়, যা বলবৎ থাকবে রোববার (১৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত।

প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার আওতায় থাকবে—দশমিনা উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়ন ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন, এবং গলাচিপা পৌর শহর ও এর আশপাশের এলাকা। যথাক্রমে দশমিনা ও গলাচিপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) পৃথকভাবে আদেশ জারি করেন এবং স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে জনগণকে বিষয়টি জানিয়ে দেন।

আদেশে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য বা দেশীয় অস্ত্র বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পাঁচজন বা ততোধিক মানুষের একসঙ্গে চলাফেরা বা অবস্থান করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর চারাবুনিয়ায় দা দিয়ে গলা কেটে সৎমা ও দাদিকে হত্যা

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত ৮টার দিকে চরবিশ্বাস বাজারে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একই রাতে গলাচিপার পাতাবুনিয়া গ্রামে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রশাসনের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চার দিনের সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

যুক্তরাজ্যে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাঁকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

সফরকালে অধ্যাপক ইউনূস লন্ডনের হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
এই সফরে তিনি ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের স্পীকারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও সফরের এক পর্যায়ে তিনি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস এই সফরে ‘কিং চার্লস তৃতীয় হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এর সম্মাননায় ভূষিত হন। মানুষের কল্যাণে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সফর শুধু একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না—রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও এটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“অন্তর্ঘাতকারীদের সতর্ক নজরে রাখতে হবে”—উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সতর্ক বার্তা

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভেতরের ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

পোস্টে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ লেখেন, “অন্তর্ঘাতকারীদের থেকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। তারা একবার ব্যর্থ হলেও থেমে থাকে না—পুনরায় নতুন ষড়যন্ত্র নিয়ে ফিরে আসে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ বাংলাদেশপন্থীদের জয়ের পথ সুগম হয়েছে। এই বোঝাপড়াটা যদি জুলাই ঘোষণাপত্র, জুলাই সনদ, সংস্কার, বিচার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে চলমান থাকে, তাহলে বাংলাদেশের বিজয় সুনিশ্চিত।”

এর আগে, আরেকটি পোস্টে তিনি লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এক বৈঠকের ছবি শেয়ার করেন। সেখানে দুই নেতার হাস্যোজ্জ্বল করমর্দনের মুহূর্ত ধরা পড়ে। পোস্টে আলোচনার আরও কিছু দৃশ্যও প্রকাশ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দুই নেতার বৈঠক এবং উপদেষ্টার এমন পোস্ট দেশের আসন্ন নির্বাচনী ও কৌশলগত চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বেড়েই চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ ; একদিনে পাঁচ জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুইজন পুরুষ এবং তিনজন নারী। মৃতদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের চারজন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন রয়েছেন। চলতি বছর এটি এখন পর্যন্ত একদিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই আক্রান্ত হয়েছেন ১২৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮৮ জন পুরুষ এবং ৭১ জন নারী। একই সময়ে ১০৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৫ হাজার ৫৭০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৫ হাজার ১১ জন রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সকল নাগরিককে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানিয়েছে।




ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও তারেক রহমানের বৈঠক দেশের রাজনীতির এক টার্নিং পয়েন্ট : মির্জা ফখরুল

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠককে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য ‘সুসংবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আজ বহুল প্রতীক্ষিত একটি সুসংবাদের প্রত্যাশায় ছিলাম। ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক নিয়ে গোটা জাতি উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল। আমি আগেই বলেছিলাম—এই বৈঠকটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। বাস্তবেও সেটিই ঘটেছে।”

তিনি জানান, বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় নির্বাচন ইস্যুই ছিল প্রধান। তারেক রহমান নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি গৃহীত হয়েছে। ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দু’পক্ষ সম্মত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তারেক রহমান আবারও প্রমাণ করেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলী তার রয়েছে। এই বৈঠকে তিনি অত্যন্ত সফল হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে আমি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।”

ড. ইউনূসকেও ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “সবকিছু যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে গিয়েছিল, তখন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “চতুর্দিকে যখন অনিশ্চয়তা ছিল, তখন দুই নেতা প্রমাণ করেছেন—বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনের সময় একত্রিত হতে পারে এবং সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।”




ড.মুহাম্মদ ইউনুসের যুক্তরাজ্য সফরের মধ্যে দিয়ে যে পাঁচটি অর্জন হলো বাংলাদেশের

চার দিনের সরকারি সফর শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত ৯ জুন ঢাকা থেকে লন্ডনে পৌঁছানোর পর এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি অর্জনের কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে সফরের অর্জনগুলো তুলে ধরেন প্রেস সচিব। সেখানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠককে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য ‘গেম ওভার’ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন।

প্রেস সচিবের উল্লেখিত পাঁচটি অর্জন নিম্নরূপ:

১. ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে বৈঠক ও পুরস্কার অর্জন:
রাজা চার্লসের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ একটি পুরস্কার গ্রহণ করেন ড. ইউনূস। একইসঙ্গে ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে তার একান্ত ৩০ মিনিটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস সচিবের মতে, এই অর্জন জুলাই অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের চলমান যুগান্তকারী পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতীক।

২. ইতিহাসের অংশ ঐতিহাসিক বৈঠক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) নেতার মধ্যে এই ঐতিহাসিক বৈঠককে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য ‘গেম ওভার’ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দেন শফিকুল আলম।

৩. বৈদেশিক সম্পদ জব্দ:
যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ঘনিষ্ঠ এক সহকারীর ৩২০টি সম্পত্তি জব্দ করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড। এনসিএর মতে, এটি তাদের ইতিহাসে এককভাবে সর্ববৃহৎ সম্পদ জব্দের ঘটনা। প্রেস সচিবের ভাষায়, এটি দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের জন্য কঠিন বার্তা এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ইউনূস সরকারের কার্যক্রমের অংশ।

৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসারিত:
ব্রিটিশ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধানসহ বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে। প্রেস সচিব আশা প্রকাশ করেন, এসব বৈঠকের ফলে বৈশ্বিক সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আরও নিবিড় সহযোগিতার পথ সুগম হবে।

৫. রোহিঙ্গা সংকটে অগ্রগতি:
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রশ্নেও কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে বলে জানান শফিকুল আলম।

প্রধান উপদেষ্টার এই সফরকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।