করোনায় স্বস্তির দিন: নতুন রোগী ৬, কেউ মারা যায়নি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য স্বস্তির খবর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে মোট ১০৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

নতুন রোগীসহ দেশে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৮ জনে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত থেকে ২৯ হাজার ৫০৬ জনেই রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ এবং প্রথম মৃত্যু ঘটে ১৮ মার্চ। এরপর ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন করে মারা যান, যা এখন পর্যন্ত মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন হিসেবে বিবেচিত।

স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।




ফেসবুকে বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রচার

গত কয়েকদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তি নিয়ে বরিশাল জেলার তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর রয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে “যে কয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত” হিসেবে দেশের ৩৯টি সংসদীয় আসনের কথা উল্লেখ করে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের নামোল্লেখ রয়েছে।

বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসার পর শুক্রবার (২০ জুন) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রুহুল কবির রিজভীর হুবহুব ওই স্বাক্ষরটি কম্পিউটারের মাধ্যমে স্ক্যান করে একটি ভূয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বসানো হয়েছে। পরবর্তীতে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য কয়েকজন বির্তকিত নেতার সমর্থকরা তা ফেসবুকে প্রকাশ করেছে। যার প্রতিবাদ হিসেবে দলীয় পেইজ থেকে ইতোমধ্যে রুহুল কবির রিজভী একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন।

যেখানে তিনি (রিজভী) “যে কয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত” শিরোনামে প্রচার করা বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণরুপে মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

কেন্দ্রীয় বিএনপির ওই নেতা আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে মনোনয়ন নিয়ে কারো কোন কথা বলার এখতিয়ার নেই। তারেক রহমান যে পর্যন্ত নিজ মুখে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা না করবেন, সেই পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের বিভ্রান্তি না হওয়ার জন্য তিনি আহবান করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্টের ১৭ বছরে যেসব সাবেক এমপি কিংবা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না। যারা দলের দুর্দীনে তৃণমূল পর্যায়ে হামলা-মামলার স্বীকার নেতাকর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন, তারাই মূলত ফ্যাসিস্টের দোসরদের সমন্ময়ে নিজেদের পক্ষে নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ফলশ্রুতিতে এধরনের মিথ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে অপপ্রচার করানো হচ্ছে।

বিষয়টি তারেক রহমানকে অবহিত করা হয়েছে দাবি করে কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই নেতা আরও বলেছেন, বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় কোন কোন নেতা ও সাবেক এমপির কারণে শারিরিক অমানুষিক নির্যাতনের পর অদ্যবর্ধি তারেক রহমানকে প্রবাসে থাকতে হচ্ছে তা তিনি (তারেক রহমান) ভুলে যাননি। যাদের কারণে ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন আসনে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছিলো, যাদের কারণে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে সরেজমিনে আসতে হয়েছিলো তা জনগন ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা ভুলে যায়নি। মূলত সেইসব বির্তকিত ব্যক্তিদের দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অনেক আগেই প্রত্যাখান করেছেন। তারা এখন পালিয়ে যাওয়া হাসিনার দলের বিচ্ছিন্ন নেতাকর্মীদের পূনবার্সন করে জনসমর্থন দেখাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বরিশালের ছয়টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে প্রার্থীদের নামোল্লেখ করা হয়েছে। যাদের নামোল্লেখ রয়েছে তাদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের মর্যাদার আসন হিসেবে পরিচিত বিভাগীয় শহর বরিশাল-৫ (সদর) আসনে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। তবে ওই আসনে বিএনপির সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের দুঃসময় থেকে অদ্যবর্ধি মাঠে কাজ করে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। এছাড়াও সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় কমিটির (পদ স্থগিত) সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের নাম এসেছে। তবে ওই আসনে কঠিন শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে বিএনপির কঠিন দুর্দীনে হামলা ও একাধিক মামলায় কারাভোগ করেও প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আগলে রাখা দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান। এছাড়াও সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলাম। যেকারণে একাধিকবার হামলা ও মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করতে হয়েছে। তারপরেও কখনও দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাইনি। তিনি আরও বলেন, দলের দুর্দীনে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে নেতাকর্মীদের সংঘঠিত করে রেখেছি। আগৈলঝাড়া উপজেলার শতকরা প্রায় ৬০ পাসেন্ট ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ আসনে যে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে তারা আর সেই পুরনো রূপে ফিরে যেতে চাননা। তাই তারা (হিন্দু সম্প্রদায়) সমাবেশ করে আমাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। তাই দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে বলে আমি শতভাগ বিশ্বাস করছি।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এস শরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুর নাম এসেছে ওই ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে। তবে এ আসনে বিএনপির সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহমুদ জুয়েল, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টু এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীনের নাম আসলেও এখান থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মুলাদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সত্তার খান ও ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনের প্রায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের নাম এসেছে। তবে দীর্ঘদিন থেকে ওই আসনে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ। এছাড়াও ওই আসনে সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল খালেক হাওলাদার ও জেলা উত্তর বিএনপির আহবায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ।

ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে কোন প্রার্থীর নাম না থাকলেও ওই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান মাসুদ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা সোলায়মান সেরনিয়াবাত।

বরিশালের প্রায় প্রতিটি আসনের বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জানিয়েছেন, বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা ও সাবেক সাংসদগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার তথা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পুরো দেশ এবং দলের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। পাশাপাশি অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়ন সহ্য করে যারা এলাকায় থেকে দলের হয়ে কাজ করেছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা না হলে এবার ভোট পাওয়া কষ্টকর হবে।




দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যের ডাক দিলেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে সবকিছু নতুন করে গড়ে তোলার। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশকে আবার গড়তে হবে।

শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে ‘মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অনেক প্রাণ গেছে, অনেক ছাত্র জীবন দিয়েছে। তাদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। এই আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে—গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনের, রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়া অঙ্গনও আজ ধ্বংসের মুখে। এটি রাজনীতি মুক্ত রাখা উচিত। ক্রীড়া খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে ইন্টারন্যাশনাল টিমের খেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও মান উন্নত হবে।”

এ সময় তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার শপথ নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনকেও নতুনভাবে গড়ে তুলি।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস, ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস প্রমুখ।




রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান তারেক রহমানের

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, “বিশ্ব শরণার্থী দিবস একটি আন্তর্জাতিক উপলক্ষ, যা জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতি বছর ২০ জুন পালিত হয়। এই দিনে বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের অবদান ও দুর্দশার প্রতি আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে জাতিগত সহিংসতা এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ বাস্তবতায় বিএনপি এই দিবসের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে এবং শরণার্থীদের মর্যাদাসম্পন্ন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সক্রিয় সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে গড়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির। সেখানে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে, যারা মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে নিজেদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ মানবিক কারণে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে দীর্ঘ আট বছর পরও এই সংকট সমাধানে কোনো স্থায়ী অগ্রগতি হয়নি।”

তারেক রহমান বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ। তাই সরকারের উচিত সক্রিয় ও কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যেন তারা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববাসীকে এই সংকটের গভীরতা বোঝাতে হবে। মিয়ানমার কীভাবে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করেছে, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে—এসব বিষয় আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে হবে।”

বিবৃতির শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আমি বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি আরও কার্যকর সহযোগিতা ও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমি বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব শরণার্থীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি।”




চীন সফরে যাচ্ছে বিএনপি প্রতিনিধি দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আগামী ২২ জুন রোববার চীন সফরে যাচ্ছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে এই সফরে নেতৃত্ব দেবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার চীনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত লিউ ইউইনের আমন্ত্রণে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে যান বিএনপির নেতারা। সেখানে সফর সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, ইসমাঈল জবিউল্লাহ্, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আহমেদ পাভেল।

সফরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে এ সফরকে ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।




ইজরায়েলে টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান

ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর থেকে এই হামলা শুরু হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, “ভোর থেকে ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠছে। ইরান থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে, যা ঠেকাতে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।”

আইডিএফ আরও জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের দ্রুত নিকটবর্তী বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান— সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আইডিএফ।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।




সাইবার হামলার শঙ্কা: দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখেছে ইরান

সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে ইরান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইরানের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ‘টার্গেটেড’ ব্যক্তিদের ওপর সম্ভাব্য নজরদারি রুখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “শত্রু পক্ষ একটি সাইবার বাহিনী গঠন করেছে—যার লক্ষ্য ইরানের অনলাইন অবকাঠামো ধ্বংস করা। তারা যেন দেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই ইন্টারনেট আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।”

তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিসরে কিছু সংযোগ এখনও চালু রয়েছে।

এদিকে, দেশটির সাধারণ জনগণ অভিযোগ করছেন, বৃহস্পতিবার থেকে তারা মোবাইল ডিভাইস কিংবা ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে কোনো ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছেন না। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপে প্রবেশ করতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন।

ইরানে এর আগেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা নিরাপত্তা হুমকির সময় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এবারের ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা সরাসরি সাইবার হামলার হুমকির সঙ্গেই যুক্ত বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।




ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে ফ্যাসিবাদে রূপ নেয়: এনসিপি নেতার সতর্কবার্তা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অতীতের রাষ্ট্রকাঠামোয় ত্রুটি থাকার কারণেই দেশে গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি কাঠামোটি সঠিকভাবে গঠিত হতো, তবে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। যারা এখনও আলোচনায় অনড়, তারা বাস্তবতা উপলব্ধি করছেন না।”

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “জনগণবিচ্ছিন্ন ক্ষমতাকাঠামো কখনো টিকে থাকতে পারে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ভোটে হওয়া উচিত।”

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একই ব্যক্তি বারবার প্রধানমন্ত্রী হলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে এবং তা ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদী রূপ নেয়। এতে দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক কাঠামোও ভেঙে পড়ে। তাই আমরা ঐকমত্য কমিশনের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছি।”

সংসদের উচ্চকক্ষ প্রসঙ্গে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “নিম্নকক্ষে মোট ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে আসন বরাদ্দ দেওয়ার পক্ষে আমাদের দল মত দিয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল এখনো অতীতের ত্রুটিপূর্ণ ক্ষমতাকাঠামোতে ফিরে গিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। সেইসঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী উপাদান’ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা। তিনি এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দায়ও উল্লেখ করেন।




ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ‘সম্মানিত মানুষদের’ আনন্দিত করেছে: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাবি করেছেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিশ্বের ‘সম্মানিত ও মর্যাদাবান’ মানুষদের আনন্দিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটির শুরুতে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং সাধারণ মানুষের ওপর চালানো সহিংসতার দৃশ্য দেখানো হয়।

এরপরই ভিডিওতে ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলে আঘাত হানার দৃশ্য এবং হামলার পর মানুষের আনন্দ-উল্লাসের মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়: “এমন ক্ষেপণাস্ত্র, যা বিশ্বের সম্মানিত ও মর্যাদাবান মানুষদের আনন্দ দিয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই বার্তা মূলত ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব পোষণকারী জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে ফিলিস্তিন, লেবানন ও অন্যান্য মুসলিম দেশের মানুষের আবেগ উসকে দিতেই দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘ন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এমন একটি সময়ে ভিডিওটি প্রকাশিত হলো, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই এ মুহূর্তে স্নায়ুচাপ তীব্র আকার ধারণ করেছে।




কেউ আল জাজিরা দেখলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিন: ইসরায়েলি মন্ত্রী

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে নিয়ে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বেন-গভির বলেন, “আল জাজিরাকে যদি ইসরায়েলে সংবাদ প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”

তিনি আরও দাবি করেন,“ইসরায়েলে কেউ আল জাজিরার সম্প্রচার দেখলে, তার বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েল সরকার আল জাজিরা আরবি, আল জাজিরা মুবারাশ-সহ তাদের রিপোর্টার, ক্যামেরাপারসন ও প্রযোজকদের বিরুদ্ধে কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার পরেও আল জাজিরার কিছু সীমিত কার্যক্রম এখনো ইসরায়েলে চালু আছে, বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সীমিত রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে।

আন্তর্জাতিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা ও বেন-গভিরের বক্তব্যকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর চাপ বলে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল আল জাজিরার সম্প্রচারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বার্তা প্রবাহের ওপর প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী।

ইতামার বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্যে স্পষ্ট, ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আল জাজিরার প্রতি আরও কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারে। একই সঙ্গে এটি মিডিয়ার স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারের প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।