ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলায় গভীর উদ্বেগ জামায়াত আমিরের

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “২১ জুন রাতে ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অতর্কিত হামলা চালিয়ে দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন করেছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন, রীতিনীতি ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট অবমাননা।”

তিনি আরও বলেন, “এই হামলা অবৈধ, অযৌক্তিক এবং সম্পূর্ণ আগ্রাসী। এর মাধ্যমে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।”

বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সম্প্রতি মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড স্বীকার করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। অথচ সেই মিথ্যা অজুহাতে হামলা চালানো হয়েছে। এটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর ভিত্তিহীন ও সরাসরি হামলার উদাহরণ।”

জামায়াত আমির বলেন, “এই আগ্রাসন শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাসী এ ঘটনায় হতবাক।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”




জুলাই বিপ্লবের সমর্থকদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গড়বে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি ‘উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সোমবার (২৩ জুন) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী সম্মুখ সারির সমন্বয়ক, বিপ্লবের প্রতি সহানুভূতিশীল শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ব্যক্তিরা। উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম আরও সুসংহত ও দিকনির্দেশনামূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্ব তাদের কার্যদিবসের প্রথম দিনেই এই তদন্ত কমিটি গঠন করবে। উক্ত কমিটিকে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র (হোয়াইট পেপার) উপস্থাপন করতে হবে।

সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তারিখ একদিন পিছিয়ে আগামী বুধবার (২৫ জুন) নির্ধারণ করা হয়েছে।




ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে যাত্রীরা

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় ঢাকা থেকে অন্তত ১৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে করে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

সোমবার রাতে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও বাহরাইন সাময়িকভাবে আগমন ও বহির্গমন—দুই ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে।

এরপর রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে ঢাকা থেকে এসব গন্তব্যে সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে দোহা, দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত ও মানামাগামী যাত্রীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ ও গালফ এয়ারসহ একাধিক এয়ারলাইন্স তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে। যেসব ফ্লাইট যাত্রা শুরু করেছিল, সেগুলো নিরাপত্তার কারণে ঢাকায় ফিরে এসেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট বাতিলের তথ্য শেষ মুহূর্তে জানানো হওয়ায় হোটেল খোঁজা, খাবার ও যোগাযোগ নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের। তবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের আপাতত ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়েছে এবং ফ্লাইট রিশিডিউলের কাজ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত ফ্লাইট চালু করা হবে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের প্রতি নির্ধারিত যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।




কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী ইরান: রয়টার্স

মার্কিন প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান, কাতারের মধ্যস্থতায় এই অগ্রগতি এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত তারা। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানির সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের ফোনালাপের মাধ্যমে এ সম্মতির ভিত্তি তৈরি হয়।

জানা গেছে, সোমবার (২৩ জুন) কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার পরপরই কাতারের প্রধানমন্ত্রী ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে আনতে আহ্বান জানান। তিনি জানান, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ইরান কিংবা ইসরায়েল কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, দেশটির প্রবাসী মন্ত্রী আমিচাই চিকলি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ। এটি ইতিহাসে সাহস, বিশ্বাস ও নৈতিক স্পষ্টতার নিদর্শন হয়ে থাকবে।”

অন্যদিকে, এর আগে সিএনএনকে দেওয়া এক মন্তব্যে ইরানের একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, তারা যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব পাননি এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবেন।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো অনুপস্থিত, তবে কাতারের মধ্যস্থতায় এই সঙ্কট কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।




লন্ডনের বৈঠকে কেটেছে অনিশ্চয়তা, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে পারে: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত। সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণফোরামের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিএনপি ও গণফোরামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এনডিএমের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে অংশ নেয় বিএনপি। এতে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে আমীর খসরু বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত। নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি জাতীয় সরকারের মাধ্যমে এসব বাস্তবায়ন হবে।”

লন্ডনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কেটে গেছে। জাতি এখন নির্বাচনের সুড়ঙ্গপথে প্রবেশ করেছে।”

নির্বাচনের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, “নির্বাচনের শিডিউল, মনোনয়ন জমা, বাছাইসহ সব প্রক্রিয়ার তারিখ নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে। অতীতেও তা শেষ সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে।”

বৈঠকে উপস্থিত গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে একটি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। গত বছরের ৫ আগস্ট সেই সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এরপর দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও লন্ডনের স্মরণীয় বৈঠকের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিএনপিসহ সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিচ্ছে। আমরা কমিশনকে জানিয়েছি—যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো যেন জাতীয় সংসদে অবিলম্বে পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।”




পুতিনকে চিঠি দিলেন খামেনি, রুশ সহায়তা চাইল ইরান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগিতা চেয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সোমবার (২৩ জুন) মস্কো সফরে গিয়ে চিঠিটি পুতিনকে হস্তান্তর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

খামেনির চিঠি পুতিনের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন। একই দিনে রুশ বার্তাসংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরান ও রাশিয়া একসঙ্গে অবস্থান সমন্বয়ের কাজ করছে।

মস্কো পৌঁছানোর পর পুতিন ও আরাগচির মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চিঠি ইরান-রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং ইরান আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে।

ইরানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর কখনোই সরাসরি অন্য রাষ্ট্রের কাছে সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা চায়নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে খামেনির এই চিঠি এক যুগান্তকারী রাজনৈতিক ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে।

উল্লেখ্য, ১৩ জুন থেকে ইরানে ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনেও ইরানবিরোধী হামলার কঠোর সমালোচনা করে রাশিয়া। দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এবার ইরান প্রকাশ্যে মিত্র রাশিয়ার সহায়তা চাইল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।




ইরান কি তাহলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে যাচ্ছে?

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এক সতর্কবার্তা দেন। যার কারণে আলোচনায় আসে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা নিয়ে ।

বিশ্বের শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোর একটি এই হরমুজ প্রণালী। প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরে পৌঁছায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং তার সমপরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে যত তেল এবং তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহ হয়, তার এক পঞ্চমাংশই যায় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির পার্লামেন্ট ‘হরমুজ প্রণালী বন্ধ’ সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ার করে বলেন, মার্কিন হামলার জন্য ওয়াশিংটনকে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রোধে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “যদি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে, সেটি হবে তাদের জন্য অর্থনৈতিক আত্মহত্যার শামিল। কারণ, ওই পথ দিয়েই তাদের নিজের তেলও রপ্তানি হয়।”




তেলের দাম বাড়লে শত্রুর লাভ, সবাই সতর্ক হোন: হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিশ্ব নেতাদের ও জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের তেলের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানান।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “প্রত্যেকে তেলের দাম কম রাখুন। আমি নজর রাখছি! আপনারা শত্রুর হাতে খেলার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এটি করবেন না!”
যদিও তিনি পোস্টে নির্দিষ্টভাবে কাউকে লক্ষ্য করে এই মন্তব্য করেছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, বার্তাটি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত ও ওপেক প্লাস দেশগুলোর উদ্দেশে।

এই বার্তা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে। গত শনিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এই হামলার জেরে ইরানের পাল্টা জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হানার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ ৫ শতাংশ বেড়ে ৮১ ডলারে পৌঁছায়, যদিও সোমবার সকাল নাগাদ তা কিছুটা স্থিতিশীল হয়। এর আগে, বছরের শুরুতে কিছু তেল কোম্পানি সতর্ক করেছিল—ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ওপেক প্লাস দেশগুলোর অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে তেলের দাম কমে যাচ্ছে, যা উৎপাদন হ্রাসে বাধ্য করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক হামলার কারণে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে, বিশেষত হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায়। কারণ, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি এখান দিয়ে রপ্তানি হয়।




চীন সফরের আমন্ত্রণ পেলেন তারেক রহমান: সিপিসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)।

সোমবার (২৩ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, সম্প্রতি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পিপলস গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সিপিসির পলিটব্যুরো সদস্য ও ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ডেপুটি চেয়ারম্যান লি হংঝং এই আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

শায়রুল কবির খান জানান, বৈঠকে বিএনপি ও সিপিসির মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া, পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বৈঠকের মাধ্যমে দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আঞ্চলিক রাজনীতিতে চীনের নেতৃত্বকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বহুপাক্ষিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

উপস্থিত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন কৌশলগত সংলাপ আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়ক হবে।




নূরুল হুদা মবকাণ্ডে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি বিএনপির

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে ঘিরে ‘মবকাণ্ডে’ বিএনপির কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “বিএনপি ‘মব কালচার’-এ বিশ্বাস করে না। আমরা বরাবরই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে, এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি অনুসরণের দাবিতে আন্দোলন করছি।”

তিনি বলেন, “সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার গ্রেফতার এবং বিচার প্রক্রিয়া যেন আইনসঙ্গতভাবে হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। তবে তার সঙ্গে যে অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে, তা আমরা সমর্থন করি না। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যদি আমাদের দলের কেউ এতে জড়িত থাকে, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়া হবে।”

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “আমরা চাই, কোনো ব্যক্তি যত বড় অপরাধীই হোন না কেন, তার সাংবিধানিক এবং আইনগত অধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়।”

রবিবার (২২ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরায় সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদার বাসার সামনে তাকে ঘেরাও করে জনতার একটি অংশ। এসময় তার গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে কে এম নূরুল হুদা অন্যতম দায়ী। তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করার অন্যতম হাতিয়ার। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে তিনি সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নষ্ট করেছেন।”