ঝালকাঠিতে মৌসুমে চালের দাম বেড়ে বিপাকে ভোক্তা

বোরো ধানের ভরা মৌসুমেও ঝালকাঠিতে হঠাৎ করে চালের দাম বেড়ে গেছে। বাজারে কোনো দৃশ্যমান সংকট না থাকলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন মানের চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো।

স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২৫ কেজির প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত। মোটা চাল যেমন বুলেট ও গুটি স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা দরে, মাঝারি মানের পাইজাম ও বালাম ৬০ থেকে ৬৭ টাকায় এবং মিনিকেটের মতো সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮৫ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এগুলোর দাম ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। উত্তরবঙ্গের চাতালগুলো থেকে ঝালকাঠিতে চালের বড় একটি অংশ সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওইসব অঞ্চলে ধান সঠিকভাবে শুকানো যাচ্ছে না, ফলে উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে।

এছাড়া বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর চাল মজুদের প্রবণতাও বাজারে সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোকাম থেকে অধিক পরিমাণ চাল কিনে সংরক্ষণ করায় সাধারণ বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এই কৃত্রিম সংকটেই মূলত চালের দাম বাড়ার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, ভোক্তারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় চালের দামে এমন উর্ধ্বগতি রোধ করা যাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গডফাদারদের ধরতে না পারলে মাদক দমন অসম্ভব : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদকবিরোধী অভিযানকে কার্যকর করতে শুধু বাহকদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, তাদের পেছনের গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (২৫ জুন) ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৩২টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মাদকের বাহকদের ধরার পাশাপাশি এখন সময় এসেছে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার। শুধু বাহকদের ধরে মাদক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। গডফাদারদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনারা যেসব দাবি করেছেন, তা পূরণ করা হয়েছে। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করা।”

সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশের বাহিনী সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করে রোজগার করছে, সংসার চালাচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই চক্র ভাঙার চেষ্টা করছি। যদিও এখনো পুরোপুরি সফল হইনি, তবে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন অনেক নতুন ‘বদি’ তৈরি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে বাহক নয়, মূল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপই একমাত্র উপায়।”




এনবিআরের সংস্কারবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধনের ইঙ্গিত অর্থ উপদেষ্টার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের ইন্ধন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এনবিআরের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পেছনে বিগত সরকারের কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের প্রভাব থাকতে পারে। আগে এনবিআরে অ্যাকাউন্টেবিলিটি ও ট্রান্সপারেন্সি ছিল না। আগের সরকারের সময় কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী বিশেষ সুবিধা পেতেন, অথচ ভালো ব্যবসায়ীরা উপেক্ষিত ছিলেন। এনবিআর তখন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর ধারেকাছেও ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ধারণা, কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থ এখানে জড়িত থাকতে পারে। না হলে ক্যারিয়ার নিয়ে কর্মকর্তারা এতটা ক্ষিপ্ত হতেন না। যদি অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে এমন আচরণ যৌক্তিক নয়। যদিও আমি সরাসরি ব্যবসায়ীদের দোষ দিচ্ছি না।”

এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন—এটা এনবিআরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এনবিআরের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করে যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। কারণ এটি শুধু কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, বরং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।”

তিনি আরও বলেন, “চাকরি করতে গেলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হয়, শৃঙ্খলা থাকা জরুরি। এনবিআর কর্মকর্তাদের উচিত হবে সেই দায়িত্ববোধ অনুসরণ করা।”

সরকার এনবিআরকে দুটি পৃথক বিভাগে—রাজস্ব সংগ্রহ শাখা এবং নীতি প্রণয়ন শাখা—হিসেবে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এতে প্রশাসন ক্যাডারের আধিপত্য বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আন্দোলনে নেমেছেন বিসিএস (কর) ও বিসিএস (শুল্ক ও আবগারী) ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

বর্তমানে আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে আন্দোলন ও কর্মবিরতি চলছে। প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান পুলিশ পাহারায় নিয়মিত অফিস করছেন।




২০২৬ সালের জুলাইয়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে যাচ্ছে পায়রা বন্দর

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল কার্যক্রমে প্রবেশ করবে বলে জানিয়েছেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবাল।

বুধবার (২৫ জুন) সকালে বন্দরের প্রথম টার্মিনাল ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বন্দরের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “এই বন্দরের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এটি একটি আধুনিক, পূর্ণাঙ্গ ও প্রতিযোগিতামূলক সমুদ্রবন্দরে রূপ নেবে।”

তিনি জানান, বর্তমানে বন্দরের চ্যানেলের গভীরতা সাড়ে ছয় মিটারের বেশি, ফলে এখানে ৪০-৫০ হাজার মেট্রিকটন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাদার ভেসেল ভিড়তে পারছে। ভবিষ্যতে গভীরতা বাড়িয়ে সাড়ে ১০ মিটার করা হবে। এজন্য দুটি ড্রেজার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু করা হবে, যাতে খরচ কমে আসে।

চেয়ারম্যান মাসুদ ইকবাল আরও বলেন, বন্দর ঘেঁষা দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমেই ড্রেজিংয়ের খরচ মেটানো সম্ভব। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নদীপথে ও সড়কপথে স্বল্প দূরত্বের কারণে এই বন্দর হবে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী।

বর্তমানে বন্দরে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ ৬৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি, ৩ লাখ ২৫ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড, ১০ হাজার বর্গমিটার সিএফএস শেড এবং নিরাপদ চ্যানেলে ১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা। এতে দ্রুত পণ্য লোড-আনলোড করা যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বন্দরে এখন পর্যন্ত ৫২৯টি আন্তর্জাতিক জাহাজ এবং ৩৪২৬টি দেশীয় লাইটারেজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২,০৭৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, মোংলা, পায়রা, পানগাঁও ও ল্যান্ড পোর্টের পরিচালক সুমন হাওলাদার, ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট ফেডারেশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মামুনুর রশিদ এবং পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন।

বক্তারা বলেন, পায়রা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ অপারেশন শুরু হলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অনগ্রসর এলাকাগুলোর শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে বিশাল ভূমিকা রাখবে। তারা দ্রুত সীমাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি এই সম্ভাবনাময় বন্দরের উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

চেয়ারম্যান মাসুদ ইকবাল নিজ বক্তব্যে সবাইকে পায়রা বন্দরের অগ্রযাত্রায় অংশগ্রহণ ও সহায়তা করার আহ্বান জানান এবং বলেন, “এই বন্দর হবে দেশের অর্থনীতির নতুন দিগন্ত।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে চীন: মির্জা ফখরুল

চীন সফরের দ্বিতীয় দিনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সান ওয়েইডংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে বাংলাদেশ সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও জানান, কৃষি, শিল্প, গার্মেন্টস, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীন তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

এর আগে সোমবার (২৩ জুন) চীনের পিপলস গ্রেট হলে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরো সদস্য এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংঝংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন ফখরুল। সেখানে তিনি আঞ্চলিক রাজনীতিতে চীনের নেতৃত্বের ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে সেটিকে বহুপাক্ষিক পর্যায়ে বিস্তারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ সফর থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।




নগর ভবনে হামলাকারীরা বিএনপির কেউ নয়, উপদেষ্টা আসিফের ঘনিষ্ঠ কেউ: ইশরাক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, হামলাকারীরা বিএনপি বা শ্রমিক দলের কেউ নয়। দলকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে বিএনপির স্লোগান ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে নগর ভবনে হামলায় আহতদের দেখতে এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক জানান, গত দুই দিন ধরে নগর ভবন ও এর আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে নাগরিক সেবা পুরোদমে চালু হয়েছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্থবিরতা কাটিয়ে জনতার সহযোগিতায় এ সেবা কার্যক্রম পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ অগ্রগতি ব্যাহত করতেই বহিরাগত অস্ত্রধারী ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্মম হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এ হামলায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং আরও ১০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলাকারীদের কাছে স্ক্রু ড্রাইভার, হাতুড়ি, দেশীয় অস্ত্র এবং একজনের কাছে পিস্তলও ছিল। একজন নেতাকর্মীর ফুসফুসে ছুরি মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

ইশরাক বলেন, “এই হামলা ছিল দুইটি উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত—প্রথমত, আমার নাম ব্যবহার করে আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব হিসেবে তুলে ধরা; দ্বিতীয়ত, জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করা।”

তিনি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া রুবেল ও কর্মচারী আরিফুজ্জামান প্রিন্সকে হামলার নেতৃত্বে থাকার জন্য দায়ী করেন। এরা দুজনই অতীতে মেয়র সাঈদ খোকন ও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নানা সুবিধা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইশরাক বলেন, কিবরিয়া রুবেল উপদেষ্টা আসিফের গাড়ি ব্যবহার করতেন এবং দুর্নীতি, টেন্ডার ভাগাভাগি ও লুটপাটের মাধ্যমে বিপুলভাবে লাভবান হয়েছেন। সেই সুবিধা ধরে রাখতেই ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন’ নামে হামলা সংগঠিত করেছেন তারা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। নগর ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না হামলাকারীদের বিচার সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। একই সঙ্গে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এই ভবন আপনাদের। নির্ভয়ে আসুন, আপনাদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”




জনগণ এখন সচেতন, তারা প্রতীক নয় দলীয় কর্মকাণ্ড দেখে ভোট দেবে: জামায়াত নেতা বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, জনগণ এখন আর শুধু নির্বাচনী প্রতীক দেখে ভোট দেয় না, বরং দলীয় কর্মকাণ্ড ও আদর্শ বিবেচনা করেই ভোট প্রদান করে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর গেন্ডারিয়া সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীলদের সমাবেশ ও ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুলবুল বলেন, “কারা হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাট করেছে, তা এখন জাতির সামনে দিবালোকের মতো পরিষ্কার। তরুণ প্রজন্ম বলছে—বয়কট সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ ও আহতদের পরিবারের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না, বরং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটবে। শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বুলবুল জানান, জামায়াত প্রকৃত শহীদ পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে সহায়তা দিয়েছে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণে ১৫০০ পৃষ্ঠার দশ খণ্ডের বই প্রকাশ করেছে।

দেশে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল শুধু নির্বাচনের কথা বলছে, কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও গণহত্যার বিচার চায় না। তারা বরং ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটছে।”

জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে বলেও আশ্বাস দেন বুলবুল।

তিনি আহ্বান জানান, দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে আনতে।




জামায়াত আমির ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠকটি ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে।

বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়াও পারস্পরিক আগ্রহের নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাক্ষাতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

বৈঠকটি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে এ ধরনের বৈঠককে রাজনৈতিক সংলাপ ও সম্পর্ক রক্ষার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




নগরবাসীর জন্য সুখবর: সপ্তাহজুড়ে মিলবে ডিএসসিসির সেবা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আগামী শুক্র ও শনিবারও খোলা থাকবে। ছুটির দিন হলেও নগরবাসী সব ধরনের নাগরিক সেবা পাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নগর ভবনের পাশাপাশি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ ডিএসসিসির সব পর্যায়ের অফিস খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিকভাবে সেবা প্রদান করা হবে।

এর আগে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গতকাল সোমবার (২৩ জুন) নগর ভবনের প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে সেবা কার্যক্রমও। তবে সঙ্গত কারণেই এখনো চলছে ইশরাক অনুসারীদের অবস্থান কর্মসূচি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ডিএসসিসির সব নাগরিক সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ সময় নগর ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে এবং প্রতিটি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচি পালন করেন দক্ষিণ সিটির ইশরাকপন্থি কর্মচারীরা।

পরে ঈদ বিরতির পর ১৫ জুন থেকে ফের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে করে নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ তালাবদ্ধ থাকে। তবে সোমবার (২৩ জুন) সব তালা খুলে সেবা কার্যক্রম আবার চালু করা হয়।

নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে এবং সেবা সচল রাখতে এবার সপ্তাহের ছুটির দিনেও অফিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিলো ডিএসসিসি।




ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে এনসিপির তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল

রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটি।

সোমবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল চলাকালে তাদের ‘এনসিপি জিন্দাবাদ’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘হামলা করে সংস্কার বন্ধ করা যাবে না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে, দলটির কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আহত হন শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক শফিকুল ইসলাম, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুর রব, ঢাকা মহানগর নেতা আসিফ উদ্দিন সম্রাট এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারীবাগ থানার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সুমন হোসেন।

এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।