ভারতের ‘স্বার্থ অনুযায়ী’ গঙ্গা চুক্তির নতুন খসড়া, উদ্বেগে বাংলাদেশ

আগামী বছর মেয়াদ শেষ হতে চলেছে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির। এর আগে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তারা ‘নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী’ নতুন একটি গঙ্গা চুক্তির ব্যাপারে চিন্তা করছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদ পানি চুক্তি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা চুক্তিও নতুন করে পর্যবেক্ষণে নিচ্ছে ভারত সরকার। এতে বর্তমান চুক্তির বিকল্প, পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ নতুন কাঠামোর চিন্তা করছে তারা। ভারতের যুক্তি, দেশটির কৃষি, সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ উন্নয়নমূলক খাতে পানির চাহিদা অনেক বেড়েছে। ফলে বর্তমান চুক্তি তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তি শেষ হবে ২০২৬-এ

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হয়। এটি ছিল একটি ৩০ বছরের চুক্তি, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে ভারত।

বিশেষ করে ১১ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সময়ে, দুই দেশ প্রতি ১০ দিনের জন্য ৩৫ হাজার কিউসেক হারে পানি পাবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ ছিল। কিন্তু ভারতের বর্তমান পরিকল্পনায় এই পরিমাণ আরও ৩০-৩৫ হাজার কিউসেক বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

কৃষি ও সেচের জন্য বাড়তি পানি দাবি

ইকোনোমিক টাইমস জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার উভয়ই নতুন পানি বণ্টন কাঠামোতে সম্মত। তারা বলছে, সেচ, নদী নৌচলাচল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনে তাদের আরও বেশি পানির দরকার।

ফারাক্কা বাঁধ এবং বাংলাদেশের উদ্বেগ

উল্লেখ্য, গঙ্গা নদীর ফারাক্কা বাঁধটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে। বাঁধটি ১৯৭৫ সালে চালু করে ভারত, যার মাধ্যমে গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে প্রবাহিত করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বন্দরের নৌ চলাচল সচল রাখা।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা বাঁধে পানি আটকে রাখার ফলে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে পানি সংকট দেখা দেয়, যা কৃষি ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চুক্তি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দাবি

বিশ্লেষকরা বলছেন, পানিবণ্টনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে উভয়পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন চুক্তির আলোচনা হওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




আজ থেকে শুরু শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা আজ (শুক্রবার) থেকে শুরু হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

এই উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ১২৮টি ইসকন মন্দির ও আশ্রমে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে উৎসবটি। উৎসব শেষ হবে আগামী ৫ জুলাই বিকেল ৩টায় উল্টোরথের শোভাযাত্রার মাধ্যমে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথদেব হচ্ছেন জগতের নাথ বা ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ ঘটে এবং তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথদেবের প্রতিমূর্তি স্থাপন করে তা নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

ঢাকায় ইসকন আয়োজিত রথযাত্রা উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে স্বামীবাগ আশ্রম। আজ সকাল ৮টায় বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর দেড়টায় আলোচনা সভা শেষে বিকেল ৩টায় রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদ্বোধন করা হয়।

ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, ঢাকায় রথযাত্রার শোভাযাত্রাটি স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট মাজার ও দোয়েল চত্বর হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। ৫ জুলাই উল্টোরথে একই রুটে রথ ফিরিয়ে আনা হবে।

উৎসব উপলক্ষে ঢাকায় আরও কয়েকটি স্থানে রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরান ঢাকার জগন্নাথ জিউ ঠাকুর মন্দির (তাঁতীবাজার), রামসীতা মন্দির (জয়কালী রোড) এবং একনাম কমিটি (শাঁখারীবাজার) সহ বিভিন্ন মন্দির।

নয়দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসবে রয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, ধর্মীয় নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি।

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।




বিভ্রান্তি নয়, আইন অনুযায়ী খিলক্ষেত থেকে মণ্ডপ সরানো হয়েছে: রেল উপদেষ্টা

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের জমিতে স্থাপিত একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি জানান, গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিছু ব্যক্তি পূর্বানুমতি ছাড়াই রেলের জমিতে অস্থায়ী মণ্ডপ নির্মাণ করেন। পূজার আয়োজনের সময় তারা পূজা শেষে মণ্ডপটি সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পূজা শেষ হওয়ার পর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তা সরাননি।

ফাওজুল কবির বলেন, “পূজার আয়োজকরা পরে সেখানে স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন, যা রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছিল না। তাদের একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি।”

তিনি জানান, জনস্বার্থে ও সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার খিলক্ষেত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা—দোকানপাট, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, কাঁচাবাজার এবং সর্বশেষ অস্থায়ী মণ্ডপটি সরানো হয়।

অস্থায়ী মণ্ডপে থাকা প্রতিমাগুলো যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে বালু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফাওজুল কবির আরও বলেন, “মণ্ডপ সরানোকে কেন্দ্র করে যেকোনো বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ আইনের বাইরে কিছু করেনি, বরং জনস্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”




মানবিক বিবেচনায় আনিসার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন: শিক্ষা উপদেষ্টা

স্ট্রোক আক্রান্ত মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থী আনিসা আহমেদের বিষয়ে মানবিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানীর সরকারি মিরপুর বাংলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদ তার অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছান এবং পরীক্ষা দিতে পারেননি। এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআর আবরার বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিসার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই শিক্ষার্থীর দুঃসময়ে তার পাশে আছি এবং তাকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”




শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ব্রেকিং নিউজে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন সাংবাদিক শফিকুল আলম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ব্রেকিং নিউজ প্রকাশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও প্রবীণ সাংবাদিক শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। সেখানে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশ বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে আমার ব্রেকিং নিউজের জন্য দ্য সোসাইটি অব পাবলিশারস ইন এশিয়া (এসওপিএ) ২০২৫ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছি। এটি আমার জন্য একটি বড় খবর।”

শফিকুল আলম তার পোস্টের সঙ্গে পুরস্কারের ছবিও যুক্ত করেছেন। ছবিতে দেখা যায়, তিনি ‘অনারেবল মেনশন’ ক্যাটাগরিতে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় শফিকুল আলম আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির (Agence France-Presse) ঢাকা ব্যুরো প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তার নেতৃত্বে প্রকাশিত ব্রেকিং নিউজটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এসওপিএ অ্যাওয়ার্ডটি এশিয়ার সংবাদপত্র, অনলাইন ও ম্যাগাজিন সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রদান করা হয়।




এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই বিশৃঙ্খলা, শিক্ষাবোর্ডের কঠোর পদক্ষেপ

এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র বিতরণে অবহেলার অভিযোগে রাজধানীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের ঢাকা-৯ কেন্দ্র (কেন্দ্র কোড-৫১২) — নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা প্রথম পত্র (বিষয় কোড ১০১) পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র বিতরণে দায়িত্বে অবহেলা করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা মাহমুদ। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর প্রেক্ষিতে তাকে কেন্দ্র সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হারুনুর রশিদকে।

শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বিষয়টি জেলা প্রশাসক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে একযোগে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আয়োজিত পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৫১ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

প্রথম দিনেই ১৯ হাজার ৭৫৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ৪৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। বোর্ডের সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১১ থেকে ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।




নতুন শর্তে এনটিআরসিএর ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি, বয়সসীমা ও কোটা নিয়মে পরিবর্তন

অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জাতীয় মেধাতালিকা (মেরিট লিস্ট) প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাত থেকে প্রার্থীরা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে এই তালিকা দেখতে পারছেন।

এর আগে, গত ২২ জুন এনটিআরসিএ ‘ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি’ অনুযায়ী ১ লাখ ৮২২টি এমপিওভুক্ত শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করে। এসব পদে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে ১০ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত। আবেদনকারীদের টেলিটক নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা ফি জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

এবারের নিয়োগে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে রয়েছে ৪৬ হাজার ২১১টি পদ, মাদরাসা পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৫০১টি এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ১১০টি পদ।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অষ্টাদশ নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের তারিখ (৪ জুন ২০২৫) অনুসারে যাদের বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে, শুধু তারাই আবেদনের যোগ্য। একইসঙ্গে সনদের মেয়াদ গণনা করা হবে ফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত। নারী কোটাতেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করলে সুপারিশ বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত




‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণায় এনসিপি নেতাদের তীব্র আপত্তি

৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) পৃথক ফেসবুক পোস্টে এ আপত্তি জানান।

আখতার হোসেন তার পোস্টে লেখেন, “নতুন বাংলাদেশ দিবস সেদিন হবে, যেদিন ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আসবে এবং মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হবে।”

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্ম ৫ আগস্ট। ওই দিন সাধারণ ছাত্র-জনতা সরকার পতনের ইতিহাস গড়েছে। ৮ আগস্ট নয়। ৫ আগস্টের এ অর্জনকে সরকারের দখলে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।”

সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, “৮ আগস্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতার সূচনা হয়নি। বরং এই দিনে দ্বিতীয় স্বাধীনতার চেতনা দুর্বল করার, ছাড় দেওয়ার ও বিপ্লবকে বেহাত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৫ আগস্টই প্রকৃত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’।”

উল্লেখ্য, ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করে। তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক পরিপত্রে ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিভাজন দেখা দিয়েছে। এনসিপি নেতারা ৫ আগস্টকেই নতুন বাংলাদেশের সূচনাদিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।




জুলাই অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলায় এসআই সুকান্তকে আবারও জেল হাজতে প্রেরণ

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত কুমার দাশকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অধীন বর্তমানে কর্মরত এসআই সুকান্ত কুমার দাশের বিরুদ্ধে খুলনায় সংঘটিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন ও গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে জানান, “খুলনা সদর থানার পাঠানো মামলার অধিযাচনপত্র পাওয়ার পর আমরা সুকান্তকে বিষয়টি জানাই। তিনি স্বেচ্ছায় থানায় উপস্থিত হলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠান।”

এর আগে গত মঙ্গলবার খুলনার ইস্টার্ন গেট এলাকায় এসআই সুকান্তকে স্থানীয় জনতা মারধর করে খানজাহান আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কিন্তু সেদিন রাতেই তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে কেএমপি সদর দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা সরে গেলে তালা ভেঙে বের হন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে আন্দোলন থামেনি; বুধবার বিকেলে ফের কেএমপি ঘেরাও করে পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগের দাবি জানায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টা থেকে, যখন আন্দোলনকারীরা কেএমপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা খানজাহান আলী সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এসআই সুকান্তকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান বৈঠক নিয়ে জোট গঠনের গুঞ্জন অস্বীকার করলেন উপদেষ্টা

চীনের কুনমিংয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় বৈঠককে ঘিরে জোট গঠনের জল্পনা-কল্পনা তৈরি হলেও বাংলাদেশ তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, “আমরা কোনো জোট গঠন করছি না।”

তিনি বলেন, “এই উদ্যোগটি মূলত চীনের, এবং এটি একেবারেই অফিসিয়াল পর্যায়ের—রাজনৈতিক নয়। সেখানে একটি প্রদর্শনীর সময় তিন দেশের পররাষ্ট্র সচিবেরা সাইডলাইনে বৈঠক করেছেন। আলোচনা ছিল কেবল কানেক্টিভিটি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিকে ঘিরে। জোট গঠনের কোনো বিষয় সেখানে ছিল না।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “এটা ছিল একটি প্র্যাকটিক্যাল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার প্রয়াস। এটিকে বেশি স্পেকুলেট করা ঠিক হবে না। আমরা মনে করি না, এই বিষয়টি নিয়ে আর বাড়তি কিছু বলার দরকার আছে।”

ত্রিপক্ষীয় ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব

বৈঠকে চীন ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি যৌথ কর্মপরিষদ (Joint Working Group – JWG) গঠনের প্রস্তাব আসে বলে জানা গেছে। তবে তিন দেশের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নতা দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “কোনো কিছু অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের বক্তব্যে পরিষ্কার করে দিয়েছি যে বৈঠকটি কোনো কাঠামোগত বা বড় ধরণের চুক্তির অংশ ছিল না। প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখেছে, আমরাও তাই করেছি।”

জোট গঠন তৃতীয় কোনো দেশকে লক্ষ্য করে কি না—এমন প্রশ্নে পরিষ্কার জবাব

জোট গঠনের আলোচনা তৃতীয় কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দেন, “অবশ্যই নয়। টার্গেট করার মতো কিছু নেই এখানে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এটি কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে নয়।”

তিনি বলেন, “যদি ভারত, নেপাল বা অন্য কোনো দেশ কানেক্টিভিটি নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করতে চায়, আমরাও রাজি আছি। এমন বৈঠক করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। এটা নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ করার প্রয়োজন নেই।”

উল্লেখ্য, কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক নিয়ে সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হলো, এটি কোনো জোট গঠনের সূচনা নয়, বরং একটি যৌথ আলোচনার প্ল্যাটফর্ম মাত্র।