৩১ দফা সংস্কারই ভবিষ্যতের পথনির্দেশক: সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, এটাই ভবিষ্যতের পথনির্দেশক।  তিনি আরো বলেছেন, ‘হে সংস্কার, তোমাকে পাওয়ার জন্য আর কতকাল আলাপ-আলোচনা করব, খানাপিনা করব?’ – এই বাক্য দিয়েই তিনি বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার প্রতি ইঙ্গিত করেন।

শনিবার (২৮ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে স্মরণ করে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও স্মারক গ্রন্থ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

সালাহউদ্দিন বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব যদি সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা কিসের ঐকমত্য? আলোচনা করে জাতির মঙ্গল হয় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “সংবিধান কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়, বাইবেল নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদার ভিত্তিতে পরিবর্তন সম্ভব হওয়া উচিত। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া—এটা স্থায়ী কিছু নয়।”

সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সংবিধানের এমন কিছু ধারা সংশোধন করেছে, যেন তা কখনো আর পরিবর্তনযোগ্য না থাকে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন সংস্কার চাই, যা সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তিত হতে পারে। বিএনপিই সংস্কারের পথিকৃৎ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিষ্ঠার দেড় বছর আগেই আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, যা রাজনৈতিক মহলে মহাকাব্যে পরিণত হয়েছে।”

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জিয়াউর রহমানের সৎ ও কর্মময় জীবন অনুসরণ করাই হবে তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ পথ।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, লেখক মুসা আল হাফিজ, কবি তুহিন খান, ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ প্ল্যাটফর্মের সহ আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্রেইনের সাঈদ আবদুল্লাহ। ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন ব্রেইনের প্রতিষ্ঠাতা রুমি আহমেদ।




জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণকে সম্পৃক্ত করে দোয়া, সমাবেশ, আলোচনা সভা, সেমিনার ও গণমিছিলসহ নানা আয়োজনে পালিত হবে এই কর্মসূচি।

কর্মসূচির বিস্তারিত:

  • ১ জুলাই: গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের স্মরণে দেশব্যাপী শাখা পর্যায়ে দোয়া অনুষ্ঠান।
  • ২–৪ জুলাই: দরিদ্র, অসহায়, দুস্থ ও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ।
  • ৮–১৫ জুলাই: শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়।
  • ১৬ জুলাই: অকুতোভয় প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া (রংপুরে)।
  • ১৯ জুলাই: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ এবং শহীদ পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে জামায়াত আমিরের অংশগ্রহণ।
  • ২০–২৪ জুলাই: গণ-আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা নিয়ে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম।
  • ২৫–২৮ জুলাই: গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
  • ২৯–৩০ জুলাই: নারী ও ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা।
  • ১ আগস্ট: জাতীয় সেমিনার, যেখানে শহীদদের স্মরণে প্রকাশিত ১০ খণ্ডের স্মারকের ইংরেজি ও আরবি অনুবাদ মোড়ক উন্মোচন করা হবে।
  • ১–৩ আগস্ট: ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
  • ৫ আগস্ট: “গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন” উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশব্যাপী গণমিছিল।
  • ৬–৮ আগস্ট: সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও আলেম-ওলামাদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫ আগস্ট দিনটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, যেদিন পতিত স্বৈরাচার দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। সেই বিজয়কে স্মরণ করতেই দলটি ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে।

তিনি দেশের গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণের প্রতি এসব কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এসময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “গণমাধ্যম অতীতে যেমন নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখেছে, ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থে তেমন অবদান রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”




ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘মব’ বলা যায় না, এটা ফ্যাসিস্টদেরই ষড়যন্ত্র : হেফাজতে ইসলাম

চলমান ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘মব’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতা বলে চিহ্নিত করাকে ‘ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, এই আন্দোলন গণপ্রতিরোধের অংশ এবং একে ‘মব’ হিসেবে অভিহিত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।

শুক্রবার (২৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,
“জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা নিছক কোনো দলীয় চুক্তির ফসল নয়, বরং ফ্যাসিস্ট আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি গণজাগরণের ফসল।”

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, গণহত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পূর্বতন সরকারের দোসরদের অনেকেই এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব হলেও সেই দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে। তবে তিনি বলেন,
“যেখানে সরকার ব্যর্থ, সেখানে ‘জুলাই বিপ্লবের প্রহরী’ ছাত্র-জনতাই এগিয়ে আসছে।”

হেফাজতের এই নেতা আরও বলেন,
“আজকের ছাত্র-জনতার ফ্যাসিবাদবিরোধী ভূমিকা নিয়ে যেসব মহল ‘মব’ মন্তব্য করছে, তারা মূলত ভবিষ্যতের ফ্যাসিস্ট প্রকল্পের ছক একে নিচ্ছে। তবে ছাত্র-জনতা তা সফল হতে দেবে না।”

ইতিহাস প্রসঙ্গ টেনে ইসলামাবাদী বলেন,
“২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতা যে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে জীবন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে এক মহাকাব্যিক গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে।”

তিনি আরও বলেন,
“গণঅভ্যুত্থান সফল হলেও এখনো ‘জুলাই বিপ্লব’ পূর্ণতা পায়নি। তাই ফ্যাসিবাদ মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গণপ্রতিরোধ চলবে ইনশাআল্লাহ।”

হেফাজতের বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের ভূমিকা প্রশংসিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে আংশিক হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, ছাত্র-জনতার যে কোন বিপ্লববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সংগঠনটি সক্রিয় থাকবে।




অনিয়ম-অনৈতিকতার অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ থেকে সরে দাঁড়ালেন উমামা ফাতেমা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্যতম আলোচিত নেতৃত্বধারী ছাত্রনেতা উমামা ফাতেমা সংগঠনটির সব কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (২৮ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

পোস্টে উমামা আন্দোলনের অভ্যন্তরে চলমান অনিয়ম, অনৈতিকতা ও নেতৃত্বের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি এখন সুবিধাবাদীদের দখলে, যেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো পরিবেশ নেই।

তিনি লেখেন,
“বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক এখানেই শেষ। আমি জুলাই অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার দায়বদ্ধতা থেকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হই। কিন্তু দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বার্থরক্ষার রাজনীতির কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হই।”

উমামা অভিযোগ করেন, দলের ভেতরের একাংশ পরিকল্পিতভাবে তাকে অপদস্থ ও দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।
“যে মানুষদের সঙ্গে আমি মিছিল করেছি, মিটিং করেছি, তারাই পরে জুনিয়রদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ‘smear campaign’ চালায়।”

তিনি আরও দাবি করেন, সংগঠনের ভেতরে নেতৃত্বের জায়গায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ভাই-ব্রাদার গ্রুপিং-এর সংস্কৃতি শক্তভাবে জমে গেছে।
“প্ল্যাটফর্মে যারা প্রকৃত পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন, তারাও সুবিধাবাদীদের দাপটে কাজ করতে পারেননি।”

উমামা ফাতেমা জানান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল এবং বিভিন্ন শাখা কমিটি গঠনে তিনি অসংখ্যবার অনিয়ম ও আপত্তির কথা জানালেও তার বক্তব্যকে উপেক্ষা করা হয়।
তিনি বলেন,
“কমিটিগুলোর অনুমোদন যারা দিয়েছেন, সাংবাদিকরা কেন তাদের মুখোমুখি হন না? পেইজের অ্যাডমিন এক্সেস থেকেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে সংগঠনের নিজস্ব পেজ থেকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে এবং সংগঠন থেকে দূরে রাখতে এক ধরনের ‘সাইলেন্ট টর্চার’ চালানো হয়েছে।

উমামা আরও বলেন,
“মার্চ-এপ্রিলে এসব পরিস্থিতি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। যারা সামনে কাজ করার কথা বলতেন, রাতের অন্ধকারে হেয়ার রোডে গিয়ে পদ-পদবির জন্য দরকষাকষি করতেন।”

কাউন্সিল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“ভোটে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বাইরে একজন হঠাৎ করে মেম্বার হয়ে যান। এতে আমি লজ্জিত। এখান থেকে ভালো কিছু আসবে না, সেটা বুঝে আমি সব ধরনের সমর্থন ও কাউন্সিলে প্রদত্ত ভোটও প্রত্যাহার করছি।”

তিনি জানান, তার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল দেশের কল্যাণ, কিন্তু বাস্তবে সেটি সম্ভব হয়নি।
“জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু এই প্ল্যাটফর্ম সেই স্বপ্নকে পণ্য করে তুলেছে। আমি যারা স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে, তাদের কখনো ক্ষমা করব না।”

সততার সঙ্গে রাজনীতিতে থাকা সম্ভব নয়— এমন উপলব্ধির কথা জানিয়ে উমামা বলেন,
“অনেক কিছু নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আমি পারিনি। আমি এসব পলিটিক্যালি ক্যাশ করতে পারি নাই। আমি এগিয়ে যেতে চাই, পেছনের ৮-৯ মাসকে ঝেড়ে ফেলতে চাই।”

অন্তিম বার্তায় তিনি দেশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন,
“আমি ভেঙে পড়ছি না, সবকিছু গুছিয়ে আনছি। ফি আমানিল্লাহ।”

উমামা ফাতেমার এই ঘোষণায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




চীন সফর সফল, বিএনপি-কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক আরও দৃঢ় : মির্জা ফখরুল

চীন সফরকে “সফল ও ফলপ্রসূ” আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, সফরের মাধ্যমে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে বেইজিং সফর শেষে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন,
“এই সফর ছিল রাজনৈতিক, আমরা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। পলিটব্যুরোর নেতাদের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত সফল এবং গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে। দুই দলের মধ্যে পার্টি-টু-পার্টি সম্পর্ক আরও নিবিড় ও শক্তিশালী হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপিও চীনের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যা তারা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

দুই দলের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি রাজনৈতিক সংলাপ আয়োজনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

চীনের অগ্রগতি নিয়ে ফখরুল বলেন,
“আমরা অভিভূত যে, প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীন অল্প সময়েই উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।”

গত ২২ জুন রাতে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনে যায়। সফরের অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন তারা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—চীনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী সান ওয়েইডং, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও, এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংঝং।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন—দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহ উল্লাহ, সুকোমল বড়ুয়া, জহির উদ্দিন স্বপন, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার।

এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।




শ্রীলঙ্কার কাছে লজ্জাজনক ইনিংস ব্যবধানে হার টাইগারদের

তীব্র ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস ও ৭৮ রানের ব্যবধানে কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হলো বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে হেরে ১-০ ব্যবধানে সিরিজও হাতছাড়া হলো টাইগারদের। গলে প্রথম ম্যাচ ড্র হলেও কলম্বোয় আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল না সফরকারীরা।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে যখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১১৫, তখনই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে তখনো ৯৬ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ, হাতে মাত্র ৪ উইকেট। লড়াইয়ের শেষ ভরসা ছিলেন লিটন দাস। তবে চতুর্থ দিনের শুরুতেই সেই আশাও শেষ হয়ে যায়। দিনের চতুর্থ বলেই প্রবাথ জয়াসুরিয়ার বলে উইকেটকিপার কুশল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন লিটন (১৪ রান)। এরপর একে একে আউট হন নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম এবং এবাদত হোসেন। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৩৪ বলের মধ্যে।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ২৪৭ রানে। জবাবে শ্রীলঙ্কা পাথুম নিশাঙ্কার ১৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের উপর ভর করে ৪৫৮ রানে পৌঁছে যায়। ফলে ২১১ রানের বিশাল লিড পায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় বাংলাদেশ। ওপেনার এনামুল হক বিজয় গলে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হওয়ার পরেও কলম্বোয় সুযোগ পান, তবে এবারও হতাশ করেন। ১৯ রান করে ফিরে যান তিনি। ৩ বল পর বিদায় নেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম (১২ রান)। এরপর মুমিনুল হক (১৫), শান্ত (১৯), মুশফিক (২৬), ও মিরাজ (১১) সবাই থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।

শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২১১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। টপ অর্ডার থেকে টেল এন্ড পর্যন্ত ব্যর্থতায় টেস্টে চরমভাবে পর্যুদস্ত হয় সফরকারীরা।

এই হারে শুধু ম্যাচই নয়, সিরিজটাও হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ। গলে ভালো লড়াই করলেও কলম্বো টেস্টে পুরোপুরি ছন্দহীন ছিল টাইগাররা — ব্যাটিং ব্যর্থতাই মূল ভরাডুবির কারণ।

শেষ ফলাফল:
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস ২৪৭, দ্বিতীয় ইনিংস ২১১
শ্রীলঙ্কা: একমাত্র ইনিংস ৪৫৮
ফল: শ্রীলঙ্কা জয়ী ইনিংস ও ৭৮ রানে
সিরিজ ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ১-০ ব্যবধানে জয়ী




ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশের প্রথম অধিবেশন শুরু, হাজারো নেতাকর্মীদের আগমন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় মহাসমাবেশের প্রথম অধিবেশন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই অধিবেশনের সূচনা হয়।

জাতীয় নির্বাচন সংস্কার, বিচার ও প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবিতে আয়োজিত এই মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। সকালের দিকে মৎস্যভবন, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। অনেকে পায়ে হেঁটেই সমাবেশে যোগ দেন।

সমাবেশের প্রথম অধিবেশনে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখছেন। উপস্থিত রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।

এর আগে শুক্রবার (২৭ জুন) সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি জানান, দেশব্যাপী কয়েক হাজার গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছে এবং লঞ্চ ও ট্রেনযোগে লাখো মানুষের ঢাকায় আগমনের প্রত্যাশা রয়েছে।

দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, এই মহাসমাবেশ থেকে আগামী রাজনীতির জন্য একটি নতুন বার্তা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিআর পদ্ধতিনির্ভর নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে ঐকমত্য পোষণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে মূল অধিবেশন শুরু হবে, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।




নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন আজ

আজ ২৮ জুন, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন। তিনি ১৯৪০ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এই অর্থনীতিবিদ ২০০৬ সালে ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের এক নতুন মডেল উপস্থাপন করে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন। ইউনূস ও তার গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল বিশ্বের অন্তত ৪০টি দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে।

ড. ইউনূসের পিতা দুলা মিঞা সওদাগর ছিলেন একজন মহুরী এবং মাতা সুফিয়া খাতুন। তার স্ত্রী অধ্যাপক দিনা আফরোজ এবং তাদের রয়েছে দুই কন্যা।

ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। চট্টগ্রাম কলিজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬তম স্থান অর্জন করেন। এরপর চট্টগ্রাম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৬১ সালে চট্টগ্রাম কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে অধ্যাপক হন।

১৯৬৫ সালে ফুলব্রাইট স্কলারশিপে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পান তিনি। ১৯৭১ সালে আমেরিকার ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার’ গঠন করে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য শুরু করেন ‘গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রকল্প’। ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এই উদ্যোগ ১৯৮৩ সালে পূর্ণাঙ্গ ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক (১৯৮৭), যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেলসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ড. ইউনূস। গত বছরের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের ছাত্র-জনতার বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে একদফা শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের পর, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে তিনি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।

আজ তার জন্মদিনে দেশ-বিদেশে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।




সরকারি দাবি প্রত্যাখ্যান, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ চলবে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পরও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা বলছে, আগামীকাল শনিবার (২৮ জুন) থেকে ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।

শুক্রবার রাতে ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব সেহেলা সিদ্দিকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “২৬ জুন অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়ে যে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। আলোচনায় আমন্ত্রণ না জানানোয় ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও ছিল না। তাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলবে।”

অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এনবিআর সংস্কার আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ১. এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন ও মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি প্রত্যাহার।
২. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাম্প্রতিক দুটি বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা।
৩. আগামী ১ জুলাই বিকাল ৪টায় এনবিআর সংস্কার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে রাজস্ব আইন সংশোধন বিষয়ে আলোচনা সভা।

তবে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ জানায়, “দেশ ও রাজস্বের স্বার্থে আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে দাবি বাস্তবায়নের আগে আন্দোলন থেকে পিছু হটার প্রশ্নই আসে না। আমরা প্রধান উপদেষ্টার সানুগ্রহ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

সংগঠনটি জানায়, শাটডাউন কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ব্যতীত ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে কাজ বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে এনবিআরের প্রতি শান্তিপূর্ণ ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচিও চলবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান কর্মসূচির কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি ও জনসেবায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সকল কর্মকর্তাকে নিজ নিজ দপ্তরে ফিরে কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




দেশের সকল ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অনিবার্য : গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের সব ইসলামী শক্তির মধ্যে শিগগিরই সমঝোতা হতে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমসমাজ বুঝতে পেরেছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য।

শুক্রবার (২৭ জুন) মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আমিরদের নিয়ে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের দ্বিতীয় দিনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, অচিরেই দেশের সব ইসলামী শক্তির মধ্যে একটি নির্বাচনী সমঝোতা হবে। ইসলামী মূল্যবোধ, শহীদদের স্বপ্ন ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমাদের এই ঐক্য জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতারা শহীদের মৃত্যু বরণ করেছেন, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব সেই ত্যাগের প্রতিদান দেওয়া— আসন্ন নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে। আমাদের তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করে আদর্শিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”

শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতারা— এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, ড. খলিলুর রহমান মাদানী এবং অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “জামায়াতে ইসলামী জনমতকে ইসলামের পক্ষে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য— দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব তৈরি করা। আমরা বিশ্বাস করি, এই পথেই দ্বীনের বিজয় সম্ভব হবে, মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন।”

তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন এক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সেই লক্ষ্য পূরণে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত। এ সময় তিনি দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছে— “আসুন আমরা সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ি।”

সাবেক সংসদ সদস্য পরওয়ার বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং পূর্বের অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন কোনো দলীয় লড়াই নয়, বরং দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। যারা এদেশে ইসলামী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, এই নির্বাচন তাদের বিরুদ্ধেও স্পষ্ট জবাব হবে।”