বিএনপি জাতীয় ঐকমত্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপি জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, অর্থবিল ও আস্থাভোট ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২ জুলাই) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের অষ্টম দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সালাহউদ্দিন।

তিনি বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। জাতীয় ঐকমত্যের জন্য বিএনপি আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”

সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রস্তাব

এদিনের আলোচনার মূল বিষয় ছিল সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় সম্ভাব্য সংশোধনী। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সীমানা নির্ধারণে ‘আর্টিকেল ১১৯’ এর আলোকে বিশেষায়িত একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে দলগুলো প্রায় একমত হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি বিচারিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে শুরু হয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা প্রস্তাব করেছি, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হোক যেখানে বিচার বিভাগকে বাদ দিয়ে অন্য গ্রহণযোগ্য উপায়ে প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ সম্ভব হয়।”

তিনি আরও জানান, বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন মাস, আর যদি কোনো অনিবার্য কারণে বিলম্ব ঘটে, তাহলে আরও এক মাসের সুযোগ রাখা যেতে পারে।

“স্বৈরতন্ত্র রোধে প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ নির্ধারণে একমত”

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি প্রস্তাব করেছে প্রধানমন্ত্রী যেন জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারেন। এ নিয়ে বেশিরভাগ দলের মধ্যে ইতোমধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেজন্যই এ সীমা নির্ধারণ জরুরি।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারেই থাকবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা।

শেষে তিনি বলেন, “কারও একক ইচ্ছায় নয়, বরং সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।”




আলেমদের হতে হবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “আলেমদের শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আন্তরিকতা ও ঐক্যের পথ বেছে নিতে হবে।”

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ.) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতি’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “নিজেদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করলে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন পিছিয়ে যাবে। কক্সবাজারে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার পাশাপাশি ৭১টি মন্দিরে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা ধর্মীয় সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “আলেমদের কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি যুগের ভাষা ও প্রযুক্তি আয়ত্তে নিতে হবে। শুধু আরবি নয়, বাংলা ও ইংরেজিতেও দক্ষ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত মানবসেবা পুঁজি নয়, দরকার মন-মানসিকতা। সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু বাণী নয়, দরকার কাজের মাধ্যমেই উম্মাহর উপকার সাধন।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলার ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. যায়েদ বিন মুহাম্মদ, সৌদি প্রশিক্ষক ড. বরিক বিন মুহাম্মদ, ড. সাউদ বিন আবদুল আজিজ এবং ড. মনছুর বিন আবদুল আজিজ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জামিয়া প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সালাহুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস আবদুল গফুর নদিম। সমাপনী বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জামিয়াতুন নূর আল আলামিয়ার পরিচালক আল্লামা ওবাইদুল্লাহ হামযা।

সপ্তাহব্যাপী এই কর্মশালাটি সৌদি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। গত রবিবার সৌদি প্রতিনিধি দল জামিয়ার ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়।

এর আগে সকালে ধর্ম উপদেষ্টা কক্সবাজার সার্কিট হাউজে সরকারি যাকাত ফান্ড থেকে অর্থ বিতরণ করেন এবং বেলা ১২টার দিকে কৃষ্ণানন্দধাম মন্দিরে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 

 

 




রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তন করে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা চলছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের অষ্টম দিনে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জীবনের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। কেউ যেন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা বিচারিক হত্যার শিকার না হন—এটাই আমাদের চাওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও বড় অবদান রয়েছে। এটি একটি সম্মিলিত সাফল্য, যেটি শুধু অর্জন করলেই হবে না, বরং তা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।”

সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে আলী রীয়াজ জানান, বিভিন্ন দল, জোট ও ব্যক্তি পর্যায়ে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাগুলো আশাব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, “আমরা হয়তো সবসময় কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারি না, কখনও হতাশাও আসে। তবে সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে আমরা জুলাই মাসের মাঝামাঝি নাগাদ একটি সম্মিলিত সনদে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী।”

উল্লেখ্য, চলমান এই সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।




আদালত অবমাননায় শেখ হাসিনাকে কারাদণ্ড

আদালত অবমাননার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মোহিতুল হক চৌধুরী ও বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

রায়ে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি, মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা আদালতে আত্মসমর্পণের পর অথবা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে দণ্ড কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় সাজা ঘোষণা করল কোনো আদালত। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম সাজার রায়।

মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর জোহা।

এর আগে ১৯ জুন আদালত মামলার স্বচ্ছ বিচারের স্বার্থে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেয়। ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও শাকিল বুলবুলকে ৩ জুন আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা কেউই আদালতে হাজির হননি বা কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।

ফলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাদের ৩ জুন ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়। এরও কোনো সাড়া না মেলায় আদালত আজ তাদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।

মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্যে ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি’—এমন মন্তব্য উঠে আসে, যা আদালতের প্রতি অবমাননাকর এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।




বাংলাদেশের ওয়ানডে যাত্রা শুরু, টস জিতে ব্যাটিং এ শ্রীলঙ্কা 

দীর্ঘ দুই দশক পর ওয়ানডে ক্রিকেটে এক নতুন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। পঞ্চপাণ্ডব খ্যাত মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ ছাড়া এই প্রথম কোনো ওয়ানডে ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, ভেন্যু সেই পুরনো আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, যেখানে ২০০৫ সালে সর্বশেষ এমন পঞ্চপাণ্ডবহীন ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ।

রঙিন পোশাকে নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলো আজ (মঙ্গলবার)। সাদা পোশাকে সিরিজ হারার পর কলম্বোতে শুরু হলো তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়েছে।

ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার অধীনে বাংলাদেশ একাদশে জায়গা পেয়েছেন দুই নতুন মুখ—উইকেটকিপার-ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন এবং বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। অপরদিকে, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার একাদশেও অভিষেক হয়েছে মিলান রত্নায়েকে নামের এক পেস অলরাউন্ডারের।

বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), জাকের আলী অনিক, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ:
নিশান মাদুস্কা, পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কামিন্দু মেন্ডিস, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), জানিথ লিয়ানাগে, মিলান রত্নায়েকে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মহিশ থিকশানা, ইশান মালিঙ্গা ও আসিথা ফার্নান্দো।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি যুগের অবসান এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে। এখন দেখার পালা, মিরাজের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স উপহার দেয়।




আজ মিরাজের নেতৃত্বে হতে যাচ্ছে পঞ্চপাণ্ডব বিহীন প্রথম ওডিআই

ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চলতি জুলাই মাসেই তিনি এই দায়িত্ব পান এবং আজ (বুধবার) তার অধীনে প্রথমবারের মতো মাঠে নামছে টাইগাররা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়।

সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিদায়ে পুরোপুরি নতুন নেতৃত্বের অধ্যায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের জন্য এটিকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক মিরাজ। কলম্বোয় সিরিজ শুরুর আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে আমরা সিনিয়রদের মিস করব। তারা দীর্ঘদিন দেশের হয়ে খেলেছেন। তবে এখন যারা দলে এসেছে, তাদের জন্য এটা ভালো সুযোগ। ভালো করলে স্থায়ী হওয়া যাবে। আমি বিশ্বাস করি, দল হিসেবে আমরা ভালো করব।”

মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের জায়গায় কাদের খেলানো হবে, এ বিষয়ে মিরাজ জানান, “আমরা পরিকল্পনা করছি কারা তাদের জায়গায় মানিয়ে নিতে পারে। এই ধরনের রদবদল এক-দুই সিরিজে হয়ে যাবে না। সময় দিতে হবে। একসঙ্গে এত সিনিয়র খেলোয়াড় চলে যাওয়া দলের জন্য কঠিন, তবে আমরা চেষ্টা করছি ওই জায়গাগুলোতে উন্নতি আনতে।”

তিনি আরও বলেন, “ওডিআই না খেলার একটি সময় গেছে এবং এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ফাঁকা হয়ে গেছে। তারা অবসর নিয়েছেন এবং দলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। আমি অধিনায়ক হিসেবে ভাবছি, ওই দুই জায়গার মধ্যে একটিতে নিজেই ব্যাটিং করব, আরেকটিতে লিটন দাসকে খেলানো যেতে পারে। কারণ এই দুটি পজিশন থেকেই ম্যাচের বড় স্কোর গড়ে তোলা যায়।”

আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, “বিশ্বকাপের জন্য হাতে অনেক সময় রয়েছে। কিছু নতুন খেলোয়াড় এসেছে, যারা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে। আমরা পরিকল্পনা করছি কীভাবে এই সময়ের মধ্যে দলটাকে প্রস্তুত করা যায়।”

সিনিয়রদের অবসরের পরবর্তী সময়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মিরাজ, তবে তরুণদের নিয়ে গড়া দলকে সামনে এগিয়ে নিতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।




জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সপ্তম দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের সপ্তম দিনের বৈঠক রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শুরু হয়েছে। বুধবার (২ জুলাই) সকাল সোয়া ১১টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়।

বৈঠকে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এছাড়া উপস্থিত রয়েছেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং ড. আইয়ুব মিয়া।

আজকের আলোচনায় মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হলো: নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের বিধান।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপে মোট ২০টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত ৯টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, আর কয়েকটি প্রস্তাবে আংশিক ঐকমত্য পাওয়া গেছে। তবে কোনো প্রস্তাব এখনো আলোচনার তালিকা থেকে বাদ পড়েনি।

আলোচনায় আসা উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার, সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি, ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোট, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ এবং সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি পুনর্নির্ধারণ।

এছাড়া যেসব প্রস্তাব এখনো আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া, জরুরি অবস্থা ঘোষণার নিয়ম, স্থানীয় সরকারে নারীর প্রতিনিধিত্ব, উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি এবং জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সব প্রস্তাব নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে একটি সম্মিলিত সুপারিশ পত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




জুলাই জাগরণের দিনলিপি ২

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দিনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির প্রথম দিনেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিক্ষোভ, গণসমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিন রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নীলক্ষেত থেকে শুরু হয়ে সায়েন্স ল্যাব, বাটা সিগন্যাল হয়ে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার বাইরেও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন প্রায় ২০ মিনিট।

গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে প্রথাগত স্বৈরতন্ত্র থেকে একটি ভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠে। যেখানে নির্বাচন থাকলেও ভোটাধিকার অনুপস্থিত ছিল। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলা হলেও তার প্রয়োগ হয়নি। উন্নয়নের নামে তৈরি হয় মুনাফাভিত্তিক একটি লুটপাটতন্ত্র। এই তন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজনীতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী, পৃষ্ঠপোষক সাংবাদিক ও কিছু সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবী।

ফলে সাধারণ মানুষের ঘামে অর্জিত রেমিটেন্স এবং করের টাকা শুধু লুটই হয়নি, তাদের উপর চাপানো হয়েছে বৈদেশিক ঋণের বিশাল বোঝাও। মানুষের এই বঞ্চনা থেকেই জন্ম নেয় দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, যার বিস্ফোরণ ঘটায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সরকার একদিকে এই গণআন্দোলন দমন করতে চেয়েছে, অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালো আইন প্রয়োগ করে তৈরি করেছে ভয়ভীতির এক সামাজিক বলয়, যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে। কিন্তু বাস্তবতায় সেই ভীতি আর ধরে রাখা যায়নি।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পথ ধরেই শুরু হয় এই নতুনধারার ছাত্র বিক্ষোভের রাজনীতি। ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গী ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।  যারা পরে গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক হয়ে উঠেন।

২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি’র। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই উঠে আসে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। যার মূল কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন সেই প্রজন্মের চেতনাসম্পন্ন ছাত্রনেতারা। সাহিত্যে, সমাজসেবায় ও চিন্তাশীল পাঠচক্রের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই নেতৃত্ব বৃহত্তর গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এস এল টি তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম।




‘জুলাই অভ্যুত্থান নয়, এটি ছিল একটি বিপ্লব’ — সরকারকে প্রত্যাখ্যান করল বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ

সরকার ঘোষিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ কর্মসূচিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন ‘গণঅভ্যুত্থান’ নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বিপ্লব’। এই বিপ্লবকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা হিসেবে সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগকে আখ্যায়িত করেছে তারা।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ এসব মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে ১৪ জুলাই ‘বিপ্লব দিবস’ ও ৫ আগস্ট ‘বিজয় দিবস’সহ সাতদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন। ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে এ ছিল এক রক্তাক্ত বিজয়। এই বিপ্লব আমাদের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অধিকার ও ম্যান্ডেট দিয়েছে। অথচ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ নামে ক্ষুদ্র করে উপস্থাপন করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও ক্ষমতাসীন দলগুলো সাংবিধানিক সংস্কারের নামে পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোয় ফিরে যেতে চাইছে। “তারা জুলাই বিপ্লবের বিপ্লবী চেতনা হরণ করে সংবিধান সংশোধন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং মেয়াদ নির্ধারণের মতো কিছু সীমিত সংস্কারের ভেতর দিয়ে ফ্যাসিস্ট কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়,” বলেন তিনি।

সংগঠনের বক্তব্যে দাবি করা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থান’ শব্দটি দিয়ে আন্দোলনের গৌরবকে খর্ব করা হচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্মকে রাষ্ট্র পরিচালনার এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, “এই বিপ্লব আমাদের মাঝেই থাকবে—যদিও আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, তবে বিপ্লবের আত্মা আমাদের পথ দেখাবে।”

সরকার ঘোষিত কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে যে সাতটি দিবস পালন করা হবে তা হলো:

  • ১৪ জুলাই: বিপ্লব দিবস
  • ১৫ জুলাই: নারী প্রতিরোধ দিবস
  • ১৬ জুলাই: শহীদ দিবস
  • ১৮ জুলাই: গণপ্রতিরোধ দিবস
  • ১৯ জুলাই: প্রবাসী সংহতি দিবস
  • ৩ আগস্ট: জুলাই বিপ্লব ইশতেহার দিবস
  • ৫ আগস্ট: বিজয় দিবস

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান। সঞ্চালনা করেন ফজলুর রহমান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মুহিব মুশফিক খান, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লা, মাদরাসা-ই-আলিয়া শাখার আহ্বায়ক রাকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।




জুলাই স্মরণে বিএমইউ’র আলোচনা সভা: উন্নত চিকিৎসা ও মানবিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ যেন অমূল্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা ও প্রশাসনিক অঙ্গনের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিএমইউ আয়োজিত র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আধুনিক, মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারলেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই ছিল আমাদের ইতিহাসের এক মোড় ঘোরানো সময়। সেই দুঃসময়ে ছাত্র-জনতার ঐক্য, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগে যে সম্ভাবনার সূচনা হয়েছিল, তা আজ বাস্তবে রূপ দিতে হবে। বিএমইউ শুধু একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি গণতন্ত্র, মানবতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতের দক্ষ চিকিৎসক ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা এখন আমাদের কর্তব্য। তাহলেই আমরা শহীদদের ঋণ শোধ করতে পারব।”

বিএমইউ-এর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বিগত সরকার মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। সেই সময় ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। এখন এই ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ আসবে।”

গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে যে পথ খুলেছে, আজ আমাদের দায়িত্ব সেই পথ রক্ষা করা। আধুনিক, মানবিক ও জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।”

বিএমইউ-এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, “এই আন্দোলনের কারণেই আমরা আজ নেতৃত্বের জায়গায় আছি। আমাদের কর্তব্য—আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করা।”

জুলাই মাসজুড়ে বিএমইউ হাতে নিয়েছে একগুচ্ছ কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রামাণ্যচিত্র ও স্থিরচিত্র প্রদর্শনী, রক্তদান ও স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং ক্যাম্প, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বহির্বিভাগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, উন্নতমানের রোগী আহার বিতরণ, কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং স্মরণসভা।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমীন, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. ইকবাল মাহমুদ রনি, ডা. সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।