আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ; তীব্র নিন্দা ফিলিস্তিনিদের

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢুকে পড়েছে কয়েক ডজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এসব বসতি স্থাপনকারী অতর্কিতভাবে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এসব বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলের নাগরিক, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের জমিতে অবৈধভাবে বসতি গড়ে তুলেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছায়ায় তারা আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে এবং সেখানে ধর্মীয় আচারও পালন করে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ঐতিহাসিকভাবে মসজিদ চত্বরটি কেবল মুসলিমদের উপাসনার জন্য নির্ধারিত— এমন চুক্তি আছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। এমনকি জেরুজালেমের প্রধান রাব্বির দপ্তর থেকেও ইহুদিদের এই স্থানে উপাসনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে দেশটিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইহুদি গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপ এই চুক্তির বিরোধিতা করছে। তারা আল-আকসা প্রাঙ্গণের একাংশে সিনাগগ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। পূর্বেও এ ধরনের দাবি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।




পুলিশ সংস্কারের দাবি জানালো এনসিপি ও ছাত্র সংগঠনগুলো

পুলিশ বাহিনীর ভেতরে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পুলিশের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সহ একাধিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, পুলিশের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে জনগণের মধ্যে আস্থা কমে যাচ্ছে। বক্তারা বলেন, অবিলম্বে একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।

সংগঠনগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, পটিয়া থানার একটি সাম্প্রতিক ঘটনায় দায়ী ওসিকে অপসারণ না করে কেবল রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের মূল দাবির পরিপন্থি। তাদের মতে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যায়।

তারা আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভেতরে যদি এ ধরনের অনিয়মকে উপেক্ষা করা হয়, তাহলে তা বাহিনীর কার্যকারিতা ও জনসাধারণের নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে এখনই কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইমন সৈয়দ, বাগছাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন।

উল্লেখ্য, ১ জুলাই পটিয়া থানায় রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দীপঙ্কর দেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা না থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ নিয়ে থানা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরদিন মহাসড়ক অবরোধসহ থানা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি পালন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।




বাংলাদেশে ওএইচসিএইচআরের মিশন খোলার প্রক্রিয়া খসড়া পর্যায়ে

বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (OHCHR) একটি মিশন শাখা খোলার বিষয়ে প্রক্রিয়া এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনো এটি খসড়া পর্যায়ে আছে। খসড়া আদান-প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত রূপ পেলে এবং এমন একটি অবস্থায় পৌঁছালে যেখানে একটি শব্দও পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না, তখনই আমরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করব। তার আগে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা ঠিক হবে না।”

তৌহিদ হোসেন জানান, জাতিসংঘের ওএইচসিএইচআরের মিশন খোলার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক নীতিগতভাবে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

এছাড়া জাতিসংঘের পরবর্তী আবাসিক সমন্বয়কারীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে নতুন জাতিসংঘ প্রতিনিধি নিয়ে বাংলাদেশের কোনো অস্বস্তি আছে কিনা— এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “এগ্রিমো (রাজনৈতিক সম্মতি) দিতে হবে আমাদের পক্ষ থেকে। আমরা এখনো এগ্রিমো প্রসেস করিনি। কাজেই সেটি সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।”

উল্লেখ্য, বর্তমানে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন গোয়েন লুইস।




“গণঅভ্যুত্থান দমন করতে ককটেল হামলা, এদেশে মাফিয়াতন্ত্র এখনো আছে ”—কর্মসূচি চলাকালে নাহিদের অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটলেও দেশে মাফিয়াতন্ত্র এখনো টিকে আছে।” তিনি নতুন বাংলাদেশ গঠনে ‘সংস্কার আগে, নির্বাচন পরে’ এই নীতির ওপর জোর দেন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার হাতিখানা কবরস্থানে জুলাই শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় শহীদের স্মরণে দোয়া পরিচালনা করেন সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আলমগীর ইসলাম।

নাহিদ বলেন, “দেশ গড়তে আমরা জুলাই পদযাত্রা শুরু করেছি। উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলছে। এটি আমরা শিগগিরই সারাদেশে ছড়িয়ে দেব। উন্নয়ন কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক হতে পারে না, উন্নয়ন ভাবনায় পুরো দেশকে রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস ধরে রাখতে হবে। আজও যারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, তারা এই গণঅভ্যুত্থান ব্যাহত করতে চায়। তবে মানুষ আবারও রাজপথে নামবে, আর এবার কাউকেই ক্ষমা করা হবে না।”

পরে তিনি সৈয়দপুরের বিহারী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং পাঁচমাথা মোড়ে একটি গণসংযোগে অংশ নেন। বিকেলে নীলফামারী জেলা শহরের চৌরঙ্গীতে আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, “জনগণের উদ্দীপনা এখন অভাবনীয়। তাদের দমন করতেই ভয় দেখানো হচ্ছে, হামলা চালানো হচ্ছে।”

পথসভায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “নতুন বাংলাদেশ মানে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। যেসব প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদ জন্ম নেয়, তা বন্ধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক সংস্কার ও সংবিধানের সংশোধন। বর্তমানে দেশে যে সংবিধান চালু আছে, তা ‘আওয়ামী বিধান’, প্রকৃত সংবিধান নয়।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

এর আগে, এনসিপির জুলাই পদযাত্রা সৈয়দপুরে পৌঁছালে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের সামনে জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবদুল মজিদ ও স্থানীয় নেতা তানজিমুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান।




৩৬ জুলাই (৩ জুলাই, তিন পর্ব)

জুলাইয়ের প্রথম দিনেই আত্মপ্রকাশ করা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ছিল তেসরা জুলাই।

এদিন ঢাকার বাইরে বিশেষ করে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।

৩ জুলাই মুক্তির মিছিলে নতুন করে যুক্ত হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করে এবং শাহবাগে বিক্ষোভ করে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এই মোড়টি দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।

ঢাকা আরিচা মহাসড়ক ছাড়াও ৩ জুলাই ময়মনসিংহের কয়েকটি সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি মহাসড়ক এবং বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তিনের ঘোষিত কর্মসূচির পক্ষে নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করে।

আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। বেলা তিনটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

যখন কোন মেধাবী প্রার্থী নিজের যোগ্যতা নিয়েও কাঙ্খিত চাকরি পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলেন তখন তার মধ্যে জন্ম নেয় গভীর হতাশা। এই হতাশা শুধু ব্যক্তিগত নয়। এর প্রভাব বিস্তৃত হয় সমাজের গভীরে। তারা যখন দেখেন তাদের মেধা ও পরিশ্রমের কোন মূল্যায়ন হচ্ছে না তখন তারা হয়ে পড়েন বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ ও হতাশা ধীরে ধীরে পরিণত হয় সামাজিক অসন্তোষে।

বারবার শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন, বিদেশি মডেল কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চাপিয়ে দেয়া, শিক্ষার্থীদের বইয়ের পরিবর্তে ডিভাইসে আসক্তি জাগানো কারিকুলাম দিয়ে প্রজন্মকে মেধাহীন করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামল জুড়ে। সর্বোপরি কোটা পদ্ধতি ও দলীয়করণে চাকুরীর অনিশ্চয়তায় থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই আন্দোলন।

এস এল টি তুহিন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম।




কুড়িগ্রামে এনসিপির পথসভা ; কঠোর হুশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লার

“নতুন বাংলাদেশে আর কোনো চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা দখলবাজির জায়গা নেই” — কুড়িগ্রামে এক পথসভায় এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়ার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ফলকের সামনে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে বক্তব্যে হাসনাত বলেন, “আওয়ামী লীগ পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে রূপ দিতে চেয়েছিল, আর তার পরিণতি দেশবাসী দেখেছে। আমরা চাই পুলিশ গণতান্ত্রিক হোক, জনগণের পুলিশ হোক। এনসিপি কোনো রাজনৈতিক পুলিশ চায় না, আমাদের বিশ্বাস জনতাই আসল ক্ষমতা।”

তিনি আরও বলেন, “পটিয়ার ঘটনা যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তিও অনিবার্য। আমাদের স্বাধীনতা ছিল না, কিন্তু নতুন বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। দুর্নীতিবাজদেরও কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, আলেমদের দাড়ি ধরে টেনে বের করে দেওয়া হয়েছে মসজিদের মিম্বর থেকে। আলেমদের কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে—এমন বাংলাদেশ আর হতে দেওয়া যাবে না।”

পথসভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “আমরা ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতি করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য সারাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সংগঠন গড়ে তোলা। জনগণের সহযোগিতায় আমরা এই রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েছি।”

সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, “জেলার মানুষের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটতে হবে না—এমন ব্যবস্থা গড়তে হবে। রাজারহাটে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা নিজ জেলাতেই উচ্চশিক্ষা নিতে পারে।”

এ সময় দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “যারা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ক্ষমতার অপব্যবহার, মামলা বাণিজ্য ও লুটপাটে জড়িত, তারা যেন আপনাদের নেতা না হয়। কুড়িগ্রামের সংগ্রামী মানুষের শক্তিই হবে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।”

পথসভা শেষে এনসিপির নেতারা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দেন, যেখানে কর্মসূচির পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

২০২৬ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২ জুলাই) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে নারী এশিয়ান কাপ ফুটবলে এক পা দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। গ্রুপের অন্য ম্যাচে বাহরাইন-তুর্কমেনিস্তান ২-২ গোলে ড্র করেছে। এতে সি গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলবে। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বসবে এই আসর।

প্রধান উপদেষ্টা বার্তায় বলেন, “এই সাফল্য শুধু নারী ফুটবলের নয়, বরং গোটা জাতির জন্য গর্বের বিষয়। এটি আমাদের দেশের সম্ভাবনা, প্রতিভা এবং অদম্য চেতনার এক অনন্য নিদর্শন।”

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।




প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ঘোষণা: রাজনীতিতে নয়, ফিরতে চান সাংবাদিকতা ও লেখালেখির জগতে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব শেষে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে সাংবাদিকতা ও লেখালেখির পেশায় ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (২ জুলাই) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার কিছু বন্ধু বলেছেন, আমি নাকি কোনো বড় রাজনৈতিক দলে বা সদ্য গঠিত একটি দলে যোগ দিতে যাচ্ছি। কিন্তু সোজা কথায় বলি— আমি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আসক্ত নই। একজন এমপি বা রাজনৈতিক ‘বিগ শট’ হয়ে যে ধরনের জীবনযাপন করতে হয়, তাতে আমার কোনো আগ্রহ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “সিঙ্গাপুর বা ইউরোপের মতো দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে ভালো আর্থিক সুবিধা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতি করে ভালো থাকা মানেই দুর্নীতির পথে যাওয়া। আমি সে পথে হাঁটতে চাই না।”

প্রেস সচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষে তিনি সাংবাদিকতা ও লেখালেখির জগতে ফিরে যেতে চান। তার ভাষায়, “আমার কিছু বই লেখার পরিকল্পনা আছে। আমি চাইলে সারা জীবন শুধু ‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়েই লিখে যেতে পারি। আমি জীবনে এত স্বতঃস্ফূর্ত, সাহসী ও ব্যাপক রাজনৈতিক সংগ্রাম আর দেখিনি। রবার্ট কেরো যেমন তার জীবন উৎসর্গ করেছেন লিন্ডন জনসনের ওপর লেখালেখিতে, আমিও তেমনি ‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে কাজ করে যেতে পারি। যদিও কেউ কেউ ‘বিপ্লব’ শব্দটা পছন্দ করেন না।”

পোস্টে তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালনের সময় তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কিছু কর্মীর কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন। শফিকুল আলম লিখেছেন, “গত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীর কাছ থেকে হুমকি পেয়েছি। তবে এগুলো হয়তো তাদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ। যারা দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়েছে।”

শেষে তিনি লিখেছেন, “আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই আমরা ফিরে যাব। আমি আমার অন্তর্বর্তীকালীন জীবনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”




 শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়, লজ্জাজনক রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ

 শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে লজ্জাজনক পরাজয়ের শিকার হলো বাংলাদেশ। মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারিয়ে ৭৭ রানে ম্যাচ হারলো টাইগাররা। এর মাধ্যমে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই—৪৯.২ ওভারে—২৪৪ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৬ রান করেন চারিথ আসালঙ্কা। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসান দুর্দান্ত পারফর্ম করেন, শ্রীলঙ্কাকে আড়াইশ রানের আগে থামাতে মূল ভূমিকা রাখেন তারা।

২৪৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চমৎকার সূচনা পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন এনে দেন ২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। ইমন ১৩ রানে আউট হলেও তামিমের সঙ্গে তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত গড়েন জয়ের ভিত। মাত্র ১৭ ওভারেই দলীয় শতক স্পর্শ করে বাংলাদেশ।

তবে এরপরই হঠাৎ ধসে পড়ে টাইগারদের ইনিংস। শান্ত রানআউট হলে ১০০ থেকে ১০৫ রানের মধ্যেই আরও ছয় ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। এই ধাপে ব্যর্থতার পরিচয় দেন লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদি হাসান মিরাজ, তানজিম সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। লিটন, মিরাজ ও তাসকিন কোনো রান না করেই আউট হন।

লেজের দিকের ব্যাটারদের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন জাকের আলি। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করলেও তা ম্যাচ বাঁচাতে যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩৫.৫ ওভারে ১৬৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এই হারে ৭৭ রানের ব্যবধানে প্রথম ওয়ানডে হারলো বাংলাদেশ। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল সেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়, যেখানে মাত্র ৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।




সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ নিয়ে ফারুকের অভিযোগ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে এবং তার স্পষ্ট প্রমাণ হলো সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখার সমাবেশ’। তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে এই ষড়যন্ত্রের চিহ্ন স্পষ্ট।”

বুধবার (২ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার শিরোনাম ছিল— ‘পিআর পদ্ধতির নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নাগরিকদের করণীয়’

“লন্ডনে বৈঠকের সময়েই মাঠে নামানো হলো ষড়যন্ত্র”

ফারুক অভিযোগ করেন, “যখন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠক চলছে ও একটি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তখনই দেশে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক নেতা প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি এবং সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না— এমন বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা

আলোচনা সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের দিকেও সমালোচনার তীর ছোড়েন ফারুক। তিনি বলেন, “আপনারা দশ-এগারো মাস সময় পেয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কার হয়নি। আপনারা যদি দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে থাকেন, তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিন। ফেব্রুয়ারিতে অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন।”

অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য

সভায় সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটন। বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য রহিমা শিকদারসহ আরও অনেকে।

তারা সকলেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।