গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা পাবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, নতুনভাবে দেশ গড়ে তুলতে হলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বিকেলে রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের ইমাম সম্মেলনে তিনি বলেন, “আগামী দিনে তরুণদের হাতে কেমন বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে এই হ্যাঁ বা না ভোটের উপর। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা পাবেন একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জুলাই সনদ যদিও কালো কালিতে লেখা হলেও এটি মূলত জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ বলার মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব।”

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না। জনগণ যদি হ্যাঁ বলেন, তবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না সংস্কার আটকে রাখার। দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে জনগণের টাকা লুটপাট হয়েছে। হ্যাঁ ভোট দিলে অনেক ক্ষেত্রে এই লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ হবে।”

তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, “বাংলাদেশে যাতে আবার কোনো ফ্যাসিবাদ তৈরি না হয়, তার জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। গণভোট সেই সজাগ থাকার অন্যতম হাতিয়ার।”

সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২




বরগুনায় সরিষার বেশি ফলনে কৃষক খুশি, লাভে মুখরোচক দৃশ্য

বরগুনা জেলায় সরিষার অধিক ফলনে কৃষকেরা খুশি। কুয়াশাছন্ন শীতের সকালে বরগুনার শিশিরে ভেজা হলুদ সরিষা ক্ষেত এক অপরূপ দৃশ্য উপস্থাপন করছে। বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী ও বেতাগীর বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন সোনালি সরিষার মধ্যে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমন ধান কেটে পতিত ও একফসলি জমিতে সরিষা চাষ বেড়েছে। কম খরচে স্বল্প সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে। এ বছর জেলায় বারি-১৪, ১৭, ১৮, ১৯ এবং টরি-৭সহ উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা চাষ হচ্ছে।

সরিষা তোলার পর একই জমিতে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব, যা কৃষককে এক জমিতে দুই ফসলের সুফল দেয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরগুনা সদর উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। বিশেষ করে নলটোনা ও বুড়িরচর ইউনিয়নে সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হলো বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৯ এবং বিনা সরিষা-১১।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িরচর ইউনিয়নের কৃষক হামেদ মৃধা (৬০) খরচ কম হওয়ায় ৪০ কড়া জমিতে সরিষার আবাদ করে মাত্র ১৪,০০০ টাকা খরচে ৪২,০০০ টাকা আয় করেছেন। ঢলুয়া নলটোনা ইউনিয়নের কৃষক রবিউল (৫৫) ২০ কড়া জমিতে ৭,০০০ টাকা খরচ করে তিন গুণ লাভ করেছেন। বেতাগীর গেন্দু মিয়া (৬২) জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার ফলন আরও বাড়বে।

বরগুনা শহরের ভ্রাম্যমাণ সরিষা তেল ব্যবসায়ী কাইয়ুম হোসেন (৫২) বলেন, গত তিন বছর ধরে তিনি সরিষার তেলের ব্যবসা করছেন। বরগুনায় সরিষার পর্যাপ্ত চাষ না হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের পাবনা জেলা থেকে সরিষা কিনে এখানে মেশিনে ভেঙে বিক্রি করেন। প্রতি লিটার সরিষার তেল বিক্রি করেন ২৪০ টাকায়, প্রতিমণ সরিষা ক্রয় করে ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৭–৮ হাজার টাকার তেল বিক্রি হয়।

সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর কৃষকদের প্রণোদনা ও বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নলটোনা ইউনিয়নে গাজীমাহমুদ গ্রামের সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরিষা একটি লাভজনক ফসল। প্রদর্শনী ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহী করা হয়েছে। বিনা চাষেও সরিষার আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর জেলায় সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। হলুদ ফুলে ভরা সরিষা ক্ষেত শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং কৃষকের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক। সচেতন মহল মনে করছেন, বরগুনার কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নিলে জেলায় ১২ মাস সরিষার আবাদ সম্ভব, যা মানুষের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কুয়াকাটা-কলাপাড়া-পটুয়াখালী সড়ক: ৭০ কিলোমিটারে ১৫ বিপজ্জনক বাঁক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-কলাপাড়া-পটুয়াখালী ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কে অন্তত ১৫টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁক পেরিয়ে বাস ও ট্রাক চলাচলে ক্রমশ দুর্ঘটনা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় আসা পর্যটকবাহী বাসের চালকরা।

বাসচালকরা জানাচ্ছেন, কুয়াকাটা থেকে কলাপাড়ায় যাত্রাপথে বিপজ্জনক বাঁকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কচ্ছপখালী লেক, হলদিবাড়িয়া খালের কালভার্ট, পাখিমারা স্কুল, মাস্টার বাড়ি ইত্যাদি। কলাপাড়া থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত রয়েছে সেকান্দর খালী, বান্দ্রা, কলঙ্ক, খুড়িয়ার খেয়াঘাটের আগে, আমতলী বন্দরের আগে, আমতলী ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন, ঘটখালী, আমরাগাছিয়া, মহিষকাটা, ইটভাটা, শাখারিয়া স্কুলসহ আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট।

দ্রুতগতির বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন বাঁকগুলো ঘুরতে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সতর্কতা সংবলিত নির্দেশনা স্থাপন করা রয়েছে, তারপরও দ্রুতগতিতে আসা যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না।

বাসচালক আল আমিন জানান, “পটুয়াখালী-কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কটির চওড়া কম। ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ২০টির মতো। নিয়মিত চলাচল করলেও দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরিচিত চালকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।”

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “এই বাঁকগুলো চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। দ্রুতগতিতে যানবাহন চালকরা অসতর্ক হলে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সড়কটি প্রশস্তকরণের সময় বাঁকগুলো ঠিক করা যেতে পারে।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো ঠিক করে সড়কটি নিরাপদ করা হবে, যাতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা কমানো যায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




পিরোজপুরে শীতার্তদের মাঝে জেলা প্রশাসনের কম্বল বিতরণ অব্যাহত

পিরোজপুরে শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা বাজার ও নূরানী গেট এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের শিক্ষা ও আইসিটি শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাহমুদুর রহমান মামুন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিস তানজিলা কবির ত্রপা, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড আল আমিন

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা সমাজের অবহেলিত ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেজন্য প্রশাসনের এই তদারকি ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, আজকের কম্বল বিতরণে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ সুবিধা পেয়েছেন। এর আগে শীত শুরু হওয়ার সময় থেকে ইয়াতিমখানা, ছিন্নমূল, আবাসন, হাসপাতালসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় দেড় হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শীতার্তদের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধক উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা হাটে জমেছে প্রাণ, পর্যটক ও বেচাকেনা উভয়েই রঙিন

ঝালকাঠির ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা হাট বর্ষার শুরুতেই হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক আকৃষ্ট হচ্ছেন এখানকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভাসমান বাজারের প্রাণবন্ত দৃশ্য দেখতে।

ঝালকাঠিতে ৫৬২ হেক্টর জমিতে চাষ করা পেয়ারা বিক্রি হবে ন্যূনতম ১০-১২ কোটি টাকায়, যা স্থানীয় ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। জেলার সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা, ভিমরুলী, শতদাসকাঠি, খাজুরা, মিরাকাঠি, ডুমুরিয়া, জগদিশপুর, হিমানন্দকাঠি, কাপড়কাঠিসহ ২০টি গ্রামে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই ফল চাষ হয়ে আসছে। চাষিরা প্রথাগত সর্জন পদ্ধতিতে কান্দি কেটে পেয়ারা চাষ করে আসছেন, যা মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস।

এ বছর সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কিছুটা ফলন কম এবং আকার ছোট হলেও, পেয়ারা দাম বেশি হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১,০০০–১,১০০ টাকায়, আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০–৫০ টাকায়।

ভাসমান হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমে ওঠে চমৎকার বেচাকেনার দৃশ্য। পাইকাররা ছোট-বড় নৌকায় এসে সরাসরি টাটকা পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। খালজুড়ে শত শত ডিঙ্গি নৌকা যেন ভ্রাম্যমাণ দোকান, যা এই হাটকে করে তুলেছে দক্ষিণাঞ্চলের এক জীবন্ত পর্যটন কেন্দ্র।

এই হাট কেবল ফল বিক্রির স্থান নয়, বরং এটি এক ধরনের জীবনের উৎসব। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং পেয়ারা থেকে জেলি, জ্যাম উৎপাদনে সহায়তা করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লা আল মামুন বলেন, উন্নত জাতের পেয়ারা চাষে চাষিদের সহযোগিতা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে চোরকে শাস্তি, শীতের রাতে পুকুরে ২০ বার ডুব

বরিশালে নগরীর সদর রোডের বিবির পুকুরে চোরকে শাস্তি হিসেবে টানা ২০ বার ডুব দেওয়া হয়েছে। ঘটনা একটি অভিনব ও নজিরবিহীন পদ্ধতিতে ঘটেছে, যেখানে কোন মারধর ছাড়াই অপরাধীর শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর সদর রোড এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পার্কিং করা মোটরসাইকেলের হেলমেট চুরির ঘটনা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকরা অবশেষে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে ওই চোরকে হাতেনাতে ধরেন।

আটক ব্যক্তি ইউসুফ হোসেন, নিজেকে উজিরপুর উপজেলার মশাং গ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। তিনি বর্তমানে নগরীর সাগরদী এলাকায় বসবাস করেন। শাস্তি দেওয়ার আগে তিনি সবার সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুরোধ জানান যেন তাকে মারধর না করা হয়।

এরপর স্থানীয়রা একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। ইউসুফ নিজে পুকুরে নেমে কান ধরে একের পর এক ২০ বার ডুব দিতে রাজি হন। প্রতিটি ডুবের সময় তিনি নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকেন।

শেষে স্থানীয় কয়েকজন তাকে কাছের দোকান থেকে নতুন প্যান্ট ও টি-শার্ট কিনে দিয়ে ছেড়ে দেন। এভাবে নগরবাসীর উদ্যোগে চোরকে শাস্তি দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।




বরিশালে জাল টাকাসহ চার কিশোর গ্রেফতার, শহরে আতঙ্ক

নগরীর বাজার ও দোকানগুলোতে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া জাল টাকার কারণে সাধারণ মানুষ ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চরম সতর্ক হয়ে পড়েছিলেন। তবে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কৌশলগত অভিযান চালিয়ে চার কিশোরকে গ্রেফতার করেছেন, যারা সংঘবদ্ধভাবে জাল নোট তৈরি ও ছড়িয়ে দিতো।

গ্রেফতারকৃত কিশোররা

ডিবি পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরকে আটক করা হয়। তাদের নাম হলো:

  • শাওন (১৭), ঝাউতলা তৃতীয় গলি, হাসপাতাল রোড
  • আলভি (১৮), নথুল্লাবাদ এলাকা
  • তানভীর (১৮), ভাটিখানা এলাকা
  • আলিফ (১৬), শহরের বাসিন্দা

তারা সবাই শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিবরণ

শাহেদের মতে, শহরের বগুড়া রোডের একটি চায়ের দোকানে শাওন ও আলিফ ১০০ টাকার জাল নোট দিয়ে সিগারেট ক্রয় করতে যায়। দোকানদারের সন্দেহের ফলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেন। এরপর ডিবি অভিযান চালিয়ে তানভীরের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ১০০ ও ৫০ টাকার জাল নোট, কম্পিউটার ও প্রিন্টার জব্দ করে। পরে নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে আলভিও গ্রেফতার হন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য

ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ফিরোজ বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা শহরের বিভিন্ন দোকান ও বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দিত। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

বরিশালবাসী এই ঘটনায় সতর্ক হয়ে উঠেছেন। শিশু-কিশোরদের এমন কর্মকাণ্ড সমাজে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাক ও দৃষ্টিহীন রাশিদা বেগম: সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, জীবন সংগ্রামের পথে

মানুষের জীবন কখনো কখনো সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দেয়। রাশিদা বেগম সেই নিঃসঙ্গতার জীবন্ত উদাহরণ। বাক ও দৃষ্টিহীন এই নারী, স্বামীহীন, গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে প্রতিদিনের রুটি-রুজির জন্য ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করছেন। পাশাপাশি ৮ বছরের একমাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের মৃত নুরু চৌধুরীর মেয়ে রাশিদা বেগম। জন্ম থেকেই বাক প্রতিবন্ধী হলেও তার দু’চোখে ছিল আলো দেখার স্বপ্ন। বিয়ের দুই বছর পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দৃষ্টি হারান তিনি। স্বামীর সংসার থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাবা-মাও মৃত্যুবরণ করার পর রাশিদা একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন।

বর্তমানে রাশিদা বেগমের কাছে নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই খাদ্য বা চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ। বাজার, মসজিদের সামনে বা রাস্তায় বসে সহযোগিতার অপেক্ষায় দিন কাটান। স্থানীয় মানুষের সামান্য সহায়তায় বেঁচে থাকলেও সরকারি কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বা পুনর্বাসন সুবিধা তিনি এখনো পাননি। কখনো খোলা আকাশের নিচে, কখনো প্রতিবেশীর বারান্দায় রাত কাটাতে হয় তাকে।

রাশিদার একমাত্র ছেলে ৮ বছর বয়সী। মা–ছেলের জীবনযাত্রা বর্তমানে অনিশ্চিত। শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মৌলিক জীবনচাহিদা পূরণে রাশিদা অভিভাবক হিসেবে প্রায় একা লড়ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, “এরকম অসহায় মানুষদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা উচিত।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, “অসহায় রাশিদা বেগমের খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।” যদিও সরকারি সহায়তার আশ্বাস আছে, বাস্তবে তার জীবনযাত্রা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

রাশিদা বেগমের কষ্টময় মুখে এবং চোখে প্রতিফলিত জীবনের যন্ত্রণার গল্প আমাদের মানবিক সহানুভূতির আবেদন জানায়। তার বয়সের শেষভাগে মাথা গোঁজার নিরাপদ জায়গা এবং সন্তানের জন্য সুরক্ষিত জীবনই যেন একমাত্র আকাঙ্ক্ষা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠি বিএনপির দুর্গে আঘাত হানতে প্রস্তুত জামায়াত ও ‘ইসলামী জোট’

সবুজ মাঠ, গাছগাছালি, নদী-নালা, খাল-বিল, অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত পরিপাটি জেলা ঝালকাঠি। জেলার দুটি আসনেই বিএনপির ধানের শীষের ভোট বেশি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকবার জনগণের ভোটেও তা প্রমাণ হয়েছে। তবে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুর্গে আঘাত হানতে প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী জোটবদ্ধ দলগুলো। তাই বিএনপির ভোটব্যাংকখ্যাত এ জনপদে একক আধিপত্য শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান এলাকার ভোটাররা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনা দলগুলো সমন্বয় করে প্রার্থী দেবে এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে চারদিকে।

ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে ভোটের মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। জেলার চারটি উপজেলা নিয়ে দুটি সংসদীয় আসন গঠিত হয়েছে। উভয় আসনেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা দেড় ডজনের বেশি। বিপরীতে জামায়াত দিয়েছে একক প্রার্থী। তবে সেটাও চূড়ান্ত নয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ভোটের মাঠে লড়ার জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর। এরপর তুলনা করা যাবে কার চেয়ে কে বেশি জনপ্রিয়তায় শক্তিশালী ও ভোটের মাঠে প্রভাব কার বেশি থাকবে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া) ॥ রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে তৎপর আছেন বিএনপির আট নেতা। তারা সবাই দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে বেশি আলোচনায় আছেন ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত ও নিউইয়র্ক দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা।

এছাড়া জাতীয়তাবাদী গবেষণা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি রফিক হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের সহসভাপতি ও রাজাপুর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. জাকারিয়া লিংকন এবং সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমানও প্রচারের মাঠে সরব রয়েছেন।
তারা সবাই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও সক্ষমতার জানান দিচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন। এলাকায় ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন বলে তারা দাবি করছেন। তাদের মধ্যে প্রচারে এগিয়ে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম জামাল। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে তিনি পরাজিত হন। একই পরিণতি হয় ২০১৮ সালেও।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে গিয়ে জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। বারবার কারাবরণও করেছি। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। তাই আমি মনে করি দল এবার আমাকে মনোনয়ন দিয়ে এই ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।’
বিএনপির মনোয়নপ্রত্যাশী সেলিম রেজা বলেন, ‘দেশের বাইরে অবস্থান করলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সর্বদা জাগ্রত ও সক্রিয় ছিলাম। এ কারণে বিভিন্ন সময় রোষানলেও পড়ি। দেশে পরিবারের লোকজনকেও হয়রানির শিকার হতে হয়। আশা করি নিরাশ করবে না।’
ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম বলেন, ‘একযুগ ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ জনসেবামূলক বিভিন্ন কাজ করে জনগণের মন জয় করেছি। এরপরও চারবার দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হই। এবার আশা করি দল আস্থা রাখবে।

ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আজম সৈকত বলেন, ‘কিশোর বয়স থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলে অংশগ্রহণ করি। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন- সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। ফ্যাসিবাদী সরকারের মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দলের পাশে সব সময় ছিলাম, আছি এবং থাকব। দলীয় স্বার্থে মনোনয়ন পাব বলেও আশাবাদী।’
অপরদিকে এই আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের রাজাপুর উপজেলা শাখার সাবেক আমির ও বর্তমান জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হেমায়েত উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। তিনি রাজাপুর-কাঠালিয়ার প্রত্যন্ত জনপদে জনসাধারণের সঙ্গে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তার পক্ষে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজ, স্বেচ্ছাশ্রম ও অর্থায়নে বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা ও সেতু সংস্কারসহ সামাজিক কাজ করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে দলটি।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘জনগণ আমাকে ভোট দেবে না, ইসলামী হুকুমাত কায়েম করার জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবে।’
ইসলামিক স্কলার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। বিভিন্ন মিডিয়ায়, স্থানীয় এবং জাতীয় সম্মেলনে ইসলামের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন। জামায়াত তৎপর থাকলেও এখনো পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য ইসলামী দল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্য দলগুলো। তবে জামায়াতের সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রচার আছে সেক্ষেত্রে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হককে জামায়াতসহ অন্য দলগুলো যৌথ সমর্থন দিতে পারে।
রাজাপুর-কাঠালিয়া আসনে ইসলামী দলগুলো সমন্বয় করে প্রার্থী দিলে ইসলামী রাষ্ট্র এবং কুরআনের আইন কায়েমের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কোনো ব্যক্তির মতাদর্শ নয়, আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশিত পথ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ঝালকাঠি-২ (সদর উপজেলা ও নলছিটি) ॥ ঝালকাঠি সদর উপজেলা ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্তত আটজন। তাদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জীবা আমিনা আল গাজী, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম নূপুর এবং জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা জিএম আব্দুস সবুর কামরুল জোর প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অগ্রভাবে অংশ নিচ্ছেন তারা।

জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি জুলফিকার আলী ভুট্টোর মরণোত্তর উপনির্বাচনে স্ত্রী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ২০০০ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী আমির হোসেন আমু নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট কারচুপিতে জয়ী হন। এরপর ২০০১ সালের চারদলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনে বিজয়ী হন ইলেন ভুট্টো। তারই ধারাবাহিকতা ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পান ইলেন ভুট্টো। তিনি সে যাত্রায় পার হতে না পারলেও এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালেও দলের টিকিট পান তিনি। তবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপির টিকিট দেওয়া হয় জীবা আমিনার হাতে।
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের দিকে রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হলেও সভা-সমাবেশে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল ইলেন ভুট্টোকে। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় তাকে নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, ইলেন ভুট্টো ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। এরপর তাকে কেউ খুঁজে পায়নি। আওয়ামী শাসনামলে তার নামে হয়নি কোনো মামলাও।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জীবা আমিনা বলেন, ‘২০১৮ সালে নির্বাচনী প্রচারে নামায় বাড়িতে হামলা, পথে পথে সন্ত্রাসী হামলায় গাড়ি ভাঙচুর করে। এরপর বিভিন্নভাবে হামলা-মামলা দিয়ে নির্যাতন ও হয়রানি করে ফ্যাসিবাদী সরকার। এত কিছুর পর নেতাকর্মীদের আগলে রাখার চেষ্টা করেছি। এবার দল তার প্রতিদান দেবে বলে প্রত্যাশা রাখি।’

 

মাহবুবুল হক নান্নু ছাত্রদল মনোনীত বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি, বিএনপির বর্তমান সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত দিনে রাজধানী ঢাকাসহ ঝালকাঠির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তিনি একাধিকবার কারাবরণও করেন। নির্বাচনের মাঠে লড়ার ইচ্ছা তার বহু আগের। বেশ কয়েকবার তিনি দলের মনোনয়নও চান। এবারও তিনি আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
২০২০ সালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। দলের দুঃসময়ে তিনি জেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছেন। তার নামে একাধিক মামলাও হয়েছে। তার বাসায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে ভাঙচুর চালায়।
দলের আরেক ত্যাগী নেতা মনিরুল ইসলাম নূপুরও মনোনয়ন পাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাহিদার আলোকে রাজনীতি করছি। এবার দল আমাকে টিকিট দেবে বলে আশা রাখি।

জিএম আব্দুস সবুর কামরুল জানান, ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন-সংগ্রামে জেলায় ও কেন্দ্রে সব সময় অগ্রভাগে ছিলাম। এজন্য অনেক হামলা ও মামলা সহ্য করতে হয়েছে। একাধিকবার কারাবরণ করেছি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সব সময়ই রেখেছি, যা এখনো বহাল আছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে তার অবমূল্যায়ন হবে না, বরং বিজয় নিশ্চিত বলেও আশা করেন তিনি।
এদিকে বারবার কারা নির্যাতিত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার এম জি জাকারিয়াও এবার বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। গত ১৫ বছরে তার নামে আওয়ামী লীগ ৪৫টি মামলা দিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে শেখ নেয়ামুল করীমকে। যিনি বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক ছিলেন। তিনি ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তার পক্ষ হয়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজনও প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে এখনো মনোনয়ন প্রদান করা হয়নি। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ধর্মীয় আলোচক নবমুসলিম ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন। ঝালকাঠির ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করে তাকে সমন্বিত মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন করার প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।




বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করল সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:  দেশে বইছে নির্বাচনের হাওয়া আর এ নির্বাচনকে অবাদ ও সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনা করার জন্য বিদেশী নাগরিকদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন ‍নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিদেশি নাগরিকদের আগমন, অবস্থান ও প্রস্থান নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে ভিসা প্রদানে  এ নতুন নির্দেশনা জারি করে সরকার।

আগমনী ভিসাসহ (অন অ্যারাইভাল ভিসা) সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রেই এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৫ শাখার উপ-সচিব মো. শফিকুল ইসলামের সই করা এক আদেশে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা ২০০৬ ও পরবর্তীতে জারি করা প্রজ্ঞাপনের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাস থেকে সুনির্দিষ্ট ভিসা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিনা ভিসায় আগত বিদেশিদের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র অনুসরণ করে আগমনী ভিসা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের সময় আগমনের উদ্দেশ্য, স্পন্সরকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, হোটেল বা আবাসস্থল, ফিরতি টিকিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো অনিয়ম, ব্যত্যয় বা সন্দেহ থাকলে ভিসা দেওয়া যাবে না।

বিদেশি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ পর্যবেক্ষণে আগত বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নির্ধারিত নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ’ লেখা সিলসহ আগমনী ভিসা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশে পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে ভিসা ফি মওকুফের সুযোগও রাখা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান, আগমন ও প্রস্থানের সময় স্পেশাল ব্রাঞ্চ, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।

এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্থল ও নৌবন্দর থেকে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান ও আগমন-প্রস্থানের বিস্তারিত তথ্য প্রতিদিন নিয়মিতভাবে এক্সেল ফরমেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বহিরাগমন অনুবিভাগ) বরাবর ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।