শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত: ফখরুল

 

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং দলের প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “গণহত্যা, ফ্যাসিবাদ এবং দমননীতির পক্ষে কাজ করার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে। তার সঙ্গে যারা এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। এমনকি দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত।”

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নটি ছিল—বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমাতে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির অবস্থান কী?

মির্জা ফখরুল বলেন, “ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা কাজ করে, তারা শাস্তির উপযুক্ত। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, বিরোধী দলগুলোর ওপর হত্যা, গুম, দমন চালিয়েছে। আমিই ১১২টি মামলার আসামি এবং ১৩ বার কারাবরণ করেছি।”

এর আগে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কদ্দুস এবং অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিনকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে দেখতে যান। পরে তিনি আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভিনকে দেখতে যান এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, “ফরিদা পারভিন উপমহাদেশের একজন গুণী শিল্পী, বিশেষ করে লালনসংগীতে তিনি অদ্বিতীয়। তার চিকিৎসায় সরকারকে আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।”

নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে ফখরুল বলেন, “নির্বাচন প্রয়োজন জনগণের জন্য। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার ছাড়া রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। আমরা আগে থেকেই সংস্কারের দাবি করে আসছি। নির্বাচন ও সংস্কার পাশাপাশি চলতে পারে।”

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে দেশকে সঠিক পথে নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




১৫ কিমি দূরে ভেসে উঠল আসিফের মরদেহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফের মরদেহ ১৫ কিমি দূরে উদ্ধার

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে স্নান করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদের মরদেহ অবশেষে পাওয়া গেছে। বুধবার (৯ জুলাই) সকালে সৈকত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ার সৈকত সংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

খবর পেয়ে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আসিফ আহমেদের বড় ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী হিমছড়ি পয়েন্টে ঘুরতে গিয়ে সমুদ্রে গোসলে নামলে স্রোতের টানে তারা নিখোঁজ হন। কিছু সময় পর কে এম সাদমান রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসিফ আহমেদের মরদেহ পাওয়া গেলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অপর শিক্ষার্থী অরিত্র হাসান।

তিন শিক্ষার্থীই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন আবাসিক হলের ছাত্র ছিলেন। সাদমান রহমান ঢাকার মিরপুরের, আর আসিফ ও অরিত্র বগুড়ার বাসিন্দা।

সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সতর্কতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রে নামার সময় পর্যাপ্ত নির্দেশনা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরগুনায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

বরগুনার তালতলী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে নৌবাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন তালতলী নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ঈমন। অভিযানে বরগুনা সদর উপজেলার লতাকাটা এলাকার আব্দুল লতিফ মুসাল্লীর ছেলে মো. পারভেজ (৪০) ও মো. বারেকের ছেলে মো. রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নৌবাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, তারা ট্রলারে করে লতাকাটা থেকে তালতলী বাজার এলাকায় গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে এসেছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি গাঁজা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তালতলী নৌবাহিনীর ডিটাচমেন্টে নেওয়া হয় এবং পরে তাদেরকে তালতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূলে নৌবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




যুবদল নেতা আরিফ হত্যা: সুব্রত বাইনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

রাজধানীর হাতিরঝিলে যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে সুব্রত বাইন আদালতের হাজতখানায় রয়েছেন।

এর আগে গত ২৩ জুন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। ওইদিন ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে গুলি করা হয় যুবদল নেতা আরিফ সিকদারকে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। নিহত আরিফ ঢাকা মহানগর উত্তরের ৩৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন।

এ ঘটনায় তার বোন রিমা আক্তার বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় সুব্রত বাইনের সহযোগী মাহফুজুর রহমান বিপুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত করছে ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।

অন্য আসামিরা হলেন—ইয়াছিন, আসিফ হোসেন, অনিক, মিরাজ, আশিক, ইফতি, জাফর ইমাম তরফদার মন্টু, রতন শেখ ও আলিফ।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদসহ চারজন। এরপর অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় আদালত সুব্রত বাইনের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন

এস এল টি/ চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ‘আরোহন’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বরিশালে নবগঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আরোহন’-এর আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির সদস্য সচিব লাবণ্য রহমান জানান, “জেলা প্রশাসককে আমাদের সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করতেই এই সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মহোদয় আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের কথা শুনেছেন এবং যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”

প্রসঙ্গত, ‘সৃজনশীলতায় সৃষ্টিশীল অঙ্গন’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ‘জুলাই বিপ্লব’-এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অরাজনৈতিক ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আরোহন’ গত ৪ জুলাই আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটি ২৮ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

সংগঠনের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সাগর বলেন, “আমরা সত্যকে সত্য বলার সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যেভাবে কলুষতা ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আরোহন চায় ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে শুদ্ধ সাংস্কৃতিক কর্মী তৈরি করতে।”

জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন এ সময় বলেন, “বরিশালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বরাবরই গর্বের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিছু বিরোধ রয়েছে। আমি আশা করি ‘আরোহন’ সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চা অব্যাহত রাখবে এবং বরিশালের সাংস্কৃতিক জগতে নতুনত্ব নিয়ে আসবে।”

সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহন হোসেন, সদস্য সচিব লাবণ্য রহমানসহ আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ৬ দফা দাবিতে বরিশালে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি

নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ৬ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী স্বাস্থ্য সহকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে এলেও সরকার তাদের দাবি পূরণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে তারা চরম অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এই স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন—
১. নিয়োগবিধি সংশোধন করে শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক (বিজ্ঞান) সংযুক্ত করা,
২. নিয়োগে ১৪তম গ্রেড প্রদান,
৩. ইনসার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ,
৪. টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান,
৫. ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতির ব্যবস্থা,
৬. পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক এ কে এম মইনুদ্দিন খোকন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি জিয়াউল হাসান কাবুলসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার নেতৃবৃন্দ।

তাদের দাবি, স্বাস্থ্যখাতে মাঠপর্যায়ে এই বিপুল সংখ্যক জনবল দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। অথচ তাদের পেশাগত মর্যাদা, প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কাঠামো আজও অবহেলিত। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে বলে জানান তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




প্রতিরক্ষা সচিবের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, আইএসপিআরের সতর্কবার্তা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের ছবি ও দাপ্তরিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল সচিবের নাম ভাঙিয়ে মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

আইএসপিআর জানায়, প্রতারকরা ০১৩৩৭-৪০৯৩১৮ এবং ০১৩৩৯-০৫৪০০৮ নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণামূলক যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেউ যদি এমন ঘটনার শিকার হন, তবে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং দেশের জনগণকে এ বিষয়ে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




যমুনা ও সচিবালয় এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ডিএমপির ফের গণবিজ্ঞপ্তি

সচিবালয় ও যমুনা এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার (বিপিএম-সেবা) স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল বুধবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অরডিন্যান্স-১৯৭৬ এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে—বাংলাদেশ সচিবালয় সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, যার মধ্যে রয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টু রোড ক্রসিং।

এই সব এলাকায় কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি কিংবা ধর্মঘটের আয়োজন করা যাবে না।

ডিএমপি জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ গত ৭ জুন একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সংস্থাটি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




“গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর আহ্বান এনসিপির”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে, যা মুজিববাদী ও আওয়ামী শাসনের সংবিধানকে প্রতিস্থাপন করবে।” তিনি আরও বলেন, নতুন সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও ব্রিটিশবিরোধী লড়াইয়ের প্রকৃত ইতিহাস প্রতিফলিত হতে হবে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় এক পথসভা ও পদযাত্রায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে মুজিববাদী ও আওয়ামী সংবিধান দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংবিধান রাষ্ট্র ও সমাজকে বিভক্ত করেছে এবং কখনোই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগোয়নি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গুম-খুনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। দেশের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন—যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ স্বৈরাচারী হতে না পারে।”

বসুন্ধরা গ্রুপ ও দেশের মিডিয়া নিয়ে সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বসুন্ধরা একটি মাফিয়া গ্রুপে পরিণত হয়েছে। তারা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। মিডিয়া হয়ে উঠেছে জনগণকে জিম্মি করার হাতিয়ার। বসুন্ধরা ও এস আলমের মতো লুটেরা গোষ্ঠীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরও যারা ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। গণজাগরণে অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্ম কারও ভয় পায় না। ভয়ের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার যে কোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”

সিরাজগঞ্জ ও নাটোরে এনসিপির পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যারা প্রকাশ্যে বা পরোক্ষভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের মনে রাখা উচিত—এনসিপির নেতাকর্মীরা কোনো আঘাত বিনা প্রতিরোধে মেনে নেবে না।”

পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম-সচিব মাহিন সরকার, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।




মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে :প্রধান উপদেষ্টা

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও পক্ষপাতহীন ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে, যাতে প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটিত হয় এবং প্রজন্মের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছায়।”

সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন সম্পত্তির সদ্ব্যবহার এবং ট্রাস্টের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এই ট্রাস্টকে আবার জীবন্ত করতে হবে। তাদের অধীনে কী ধরনের এন্টারপ্রাইজ হতে পারে এবং কাজের পরিধি কী হবে—তা নির্ধারণে দ্রুত একজন পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে এবং পরবর্তীতে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি প্রকল্পে যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট হতে হবে।”

বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানান, মন্ত্রণালয়ের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা অবকাঠামোগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নেই। এসব স্থাপনায় রণাঙ্গনের বর্ণনা বা মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের চিত্র নেই বরং একটি নির্দিষ্ট পরিবারের ছবি ও সামগ্রী দিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তেমন কোনো গবেষণা হয়নি।”

ফারুক ই আজম আরও অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধাভোগী শ্রেণি হিসেবে গড়ে তুলেছিল। বরাদ্দ সম্পত্তি, অর্থ ও সুযোগ-সুবিধাকে দলীয়করণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন অনেক মূল্যবান সম্পত্তি এখনো অরক্ষিত রয়েছে, এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।”

সভার শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।