দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ০৯ জুলাই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া এবং উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ সাঈদ খান মঙ্গলবার (৯ জুলাই) হঠাৎ করেই কোটা সংস্কার ও হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। তাঁদের এই আবেদনের পর দ্রুততার সঙ্গে পরদিন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করে আদালত। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়, এই দুই শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে জড়িত নন।
এই পরিস্থিতিতে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, আগামীকাল (১০ জুলাই, বুধবার) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী সড়কে অবরোধ করবেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “অনেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বলছেন। আমরাও চাই না সাধারণ মানুষ কষ্ট পাক। কিন্তু এখনো আমাদের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের কোনো আলোচনা হয়নি বা আশ্বাস পাইনি। সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কোটা বৈষম্য নিরসন করতে হবে। এখন আমাদের কোনো দাবি আদালতের কাছে নয়, দাবি একমাত্র নির্বাহী বিভাগের কাছে।”
এদিন বড় ধরনের কোনো কেন্দ্রীয় আন্দোলন কর্মসূচি না থাকলেও সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট, ক্লাস বর্জন এবং অনলাইন-অফলাইনে ব্যাপক গণসংযোগ চালান শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাঁদের ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেন।
অবরোধ কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। একই দিনে বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। একইসঙ্গে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এদিন মশাল মিছিলও করেন।
এছাড়া দুপুর ১২টায় কলেজ গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা। হবিগঞ্জের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে অংশ নেন। এক দফা দাবিতে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।







