“রাজনীতিকে আমরা কঠিন করে তুলব এবং জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসবো” — হুঁশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “আমরা রাজনীতির নিয়মই শুধু পাল্টাবো না, রাজনীতির খেলাও পাল্টে দেব। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেব, এবং সবাইকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করব।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে নড়াইল শহরের পুরাতন বাস টার্মিনালে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, “যারা গলফ খেলিয়ে, হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চান, তারা ফাউল করছেন। তারা শিগগিরই ‘রেডকার্ড’ দেখে মাঠ ছাড়বেন।” তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে হুদা ও রকিব কমিশন রাতের আঁধারে ভোট ‘কেটে নিয়েছে’, এমনকি মৃত ব্যক্তিকেও ভোট দিতে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন।

শাপলা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “আমাদের নির্বাচন কমিশন এখন মিটিংয়ের আগেই ফলাফল জানিয়ে দেয়। গতকালই তারা বলে দিয়েছে আমাদের শাপলা মার্কা দেওয়া হবে না, অথচ মিটিং হয়েছে আজ। এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে?”

হাসনাত আরও বলেন, “আমাদের কাছে খবর আছে—কোন নির্বাচন কমিশনার কোথায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ক্যান্টনমেন্টে কারা গিয়েছেন, কে গলফ খেলেছেন। রিমোট কন্ট্রোল কোথায় আছে, তাও আমরা জানি।”

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এরশাদ ও জিএম কাদেরের মতো অনেক রাজনীতিক নির্বাচনের আগে ক্যান্টনমেন্ট বা বিদেশে গিয়ে ‘পরামর্শ নিয়ে’ সিদ্ধান্ত নিতেন—সরকারে থাকবেন না বিরোধী দলে।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা। বক্তারা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের অধিকার আদায়ে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে রক্তদানের মহৎ উদ্যোগ বিএনপির

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পটুয়াখালীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান টোটন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং পটুয়াখালী জেলার কৃতী সন্তান ডা. সাইফুল আজম রঞ্জু।

বক্তব্য দেন ড্যাব সদস্য ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডা. মো. মহিবুল্লাহ্ রুবেল।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক ও সেবাপ্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ড্যাব জানায়, জাতীয় সংকটে মানবিক সেবা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তারা অবিচলভাবে কাজ করে যাবে।




জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন সাবেক আইজিপি, ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী

জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে সম্মতি দিয়েছেন তিনি।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া বক্তব্যে মামুন বলেন, “জুলাই-আগস্টে চলমান আন্দোলনের সময় আমাদের বিরুদ্ধে যে হত্যা-গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। আমি নিজেকে দোষী হিসেবে মেনে নিচ্ছি এবং রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতের সামনে সব তথ্য তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহযোগিতা করব।”

এ সময় ট্রাইব্যুনাল তার রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। মামুনের আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের আবেদন করেন। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন।

এর আগে একই দিনে, ২০২৫ সালের আলোচিত জুলাই গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালত প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩ আগস্ট এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ আগস্ট তারিখ ধার্য করেছেন। মামলার অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন ও জায়েদ বিন আমজাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এই মামলার মাধ্যমে ২০২৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।




‘দেশের মালিক জনগণ; জনগণ যাদের চাইবে তারাই দেশ পরিচালনা করবে’ — ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে জনগণ। তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত দেওয়ার মালিক দেশের জনগণ। তারা যাকে গ্রহণ করবে, তারাই দায়িত্ব পাবে এবং দেশ পরিচালিত হবে।”

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলোচনায় ডা. জাহিদ হোসেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টের সমালোচনা করে বলেন, “সাংবাদিকদের রক্তচক্ষু দেখানোর মতো ভাষা আপনি প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু আপনি একবারও ভাবেননি—এই ভাষা স্বৈরশাসকদের। এটাই সেই শাসকদের ভাষা, যারা কথায় কথায় গুম করত।”

তিনি আরও বলেন, “মাহমুদুর রহমান, শফিক রহমানের মতো সিনিয়র সাংবাদিকেরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৬২ জন সাংবাদিক গুম হয়েছেন। আজ আবার সেই ভাষা ও আচরণ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এটি কি সঠিক? যদি আগামীর বাংলাদেশের কথা বলেন, তাহলে পুরনো মানসিকতা নিয়ে তা সম্ভব নয়।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।




“ফ্যাসিস্ট আক্রমণে জড়িতদের দলগতভাবে বিচার হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে, এবং একইসঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত।

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস ও অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, “শেখ হাসিনা দ্য রেসপনসিবল ফর দ্য কিলিং অব থাউজ্যান্ডস অব পিপল—তিনি এককভাবে গণহত্যার জন্য দায়ী। তার বিচার শুরু হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যারা এই গণহত্যা ও ফ্যাসিস্ট আক্রমণের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা কাজ করেছে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের হয়ে যারা যুক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেকের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নিজে ১১২টি মামলার আসামি ছিলাম এবং ১৩ বার জেলে গিয়েছি।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “যত দ্রুত দেশকে নির্বাচনের ট্র্যাকে তোলা যাবে, তত দেশের মঙ্গল। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি বিএনপি। এই দলই একদলীয় শাসন থেকে দেশকে এনে দিয়েছে বহুদলীয় এবং সংসদীয় গণতন্ত্র।”

সংস্কার ও নির্বাচনের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “সংস্কার এবং নির্বাচন একে অপরের পরিপূরক। সংস্কারের দাবি আমরাই তুলেছি এবং এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছি। যারা ভাবছে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই, তারা আবার চিন্তা করুন। দেশের জন্য একটি নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন, যাদের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে।”

মির্জা ফখরুল এ সময় দেশকে রক্ষা করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দাখিল পরীক্ষায় দেশসেরা

দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দেশের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবছর ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২২৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং মাত্র একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

মাদরাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা গাজী শহিদুল ইসলাম জানান, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আযীযুর রহমান কায়েদ প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় এবার পাসের হার ৯৯.৭৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। ফলাফলের দিক থেকে ঢাকার দারুন্নাজাত আলিয়া মাদরাসায় পাসের হার ছিল ৯৬ শতাংশ এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় ৯৭ শতাংশ। গড় ফলাফলে এনএস কামিল মাদরাসা সবার শীর্ষে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও জেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে।

  • ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২২২ জন অংশগ্রহণ করে ২১২ জন উত্তীর্ণ হয়, যার মধ্যে ৫৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
  • সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১৫ জনের মধ্যে ২১২ জন পাস করে, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন।
  • ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে ৩৮ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৩২ জন পাস করে এবং ২ জন জিপিএ-৫ পায়।
  • কুতুবনগর আলিম মাদরাসা থেকে ৩৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
  • উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয় ৮১ জন, তবে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার বলেন, “জেলার সম্পূর্ণ ফলাফল এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফলাফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আজকেও একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছি।”

উল্লেখযোগ্য ফলাফল ও উদ্যোগে ঝালকাঠি জেলার শিক্ষা অগ্রগতির ইতিবাচক বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।




বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসকের টেস্ট বাণিজ্য ও ভুল ওষুধের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে গাণিতিক চিহ্ন ব্যবহার করে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের টেস্ট বাণিজ্যে নিয়োজিত থাকার এবং রোগীর ব্যবস্থাপত্রে একই ওষুধ দুইবার লেখার মাধ্যমে ভুলভাল চিকিৎসা সেবা দেওয়ার।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা হাসপাতালের বাইরে থাকা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে এক শ্রেণীর চিকিৎসকরা গোপনে কমিশন বাণিজ্য করছেন। রোগীর টেস্টের ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক গাণিতিক চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর ফলে রোগীরা বাধ্য হয় ওই সেন্টারে টেস্ট করাতে, অন্যত্র গেলে হয়রানির শিকার হন।

ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শাহাদাত মৃধা নামে এক ব্যক্তি জানান, তার মামিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক টেস্টের জন্য ‘৭’ নাম্বারের গাণিতিক চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠান। অন্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে গেলে রোগীর প্রতি গরম আচরণ করা হয় এবং ভুল ওষুধও দেওয়া হয়।

গত ২০২২ সালে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়াও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ডা. মনিরুজ্জামান রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বিএনপির সমর্থক দাবি করে ক্ষমতার প্রভাব বজায় রেখেছেন।

অভিযুক্ত ডা. মনিরুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও ভুলভাল ওষুধ লেখার কথা স্বীকার করেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনকে দেওয়া হয়েছে এবং প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




জুলাই গণহত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন।

এই মামলায় কারাগারে থাকা আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হন। অপর দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তাদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন।

গত ১ জুলাই এ মামলার শুনানি সম্পন্ন হয় এবং ৭ জুলাই আদেশ ঘোষণার জন্য ১০ জুলাই তারিখ ধার্য করা হয়। আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথেষ্ট সুস্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য হওয়ায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতায় বহু নাগরিক হতাহত হন। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা পরিকল্পিত ও নির্মম দমন-পীড়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।

এই মামলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গঠন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১০ জুলাই

এদিন সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ও সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, চানখাঁরপুল, বঙ্গবাজার, শিক্ষা চত্বর, মৎস্য ভবন, জিপিও, গুলিস্তান, রামপুরা ব্রিজ, আগারগাঁও, হাতিরঝিল মোড়, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মগবাজার-সাতরাস্তা ফ্লাইওভারসহ ১৭টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ‘ব্লকেট’ তৈরি করে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মহাখালী ও কারওয়ান বাজার রেলক্রসিংয়ে কাঠের গুঁড়ি ফেলে রেল চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে ঢাকা থেকে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সবচেয়ে শক্তিশালী আন্দোলন চলে মহাখালী এলাকায়, যেখানে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা আমতলীতে অবস্থান নিয়ে ফ্লাইওভার ও রেলক্রসিং অবরোধ করে রাখেন।

বাংলা ব্লকেডের প্রভাবে রাজধানী ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশালসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন।

‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে সারাদেশে প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। রাজধানী ঢাকা কার্যত দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, কারণ শহরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ।

ডুয়েট (গাজীপুর): ঢাকা-জয়দেবপুর-শিমুলতলী সড়ক ও ঢাকা-রাজশাহী রেলপথ অবরোধ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ।

খুলনার বিএল কলেজ: খুলনা-যশোর মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েট: ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: বৃষ্টিতে ভিজেই সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ।

বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এদিন সকালে কোটা বাতিলের পরিপত্র বাতিল চেয়ে সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ ৭ আগস্ট পর্যন্ত সব বিষয়ের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এতে কার্যত আগের হাইকোর্ট রায় বহাল থাকে—যেটি কোটা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল।

এরপরই দুপুরে শাহবাগ মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ ৫% কোটা রেখে সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করতে হবে। যৌক্তিক সংস্কার ছাড়া আন্দোলন চলবে।”

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে থাকা সারজিস আলম বলেন, “নির্বাহী বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কেউ যদি আজকেই ঘোষণা দেন বা ত্রুটিহীন পরিপত্র জারি করেন, তাহলে আমরা রাজপথ ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরব। রাজপথ আমাদের স্থায়ী জায়গা নয়।”

তবে শিক্ষার্থীদের এই ঘোষণার পরই নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান, আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান জানাতে বলেন।

তবে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড়, এবং বলেছে—যতক্ষণ পর্যন্ত সংসদে আইন পাস করে যৌক্তিক সংস্কার না হবে, ততক্ষণ তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবে না।




ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে শফিকুল আলম বলেন, “আজ প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।”

তিনি জানান, “ভোটের আগে যেকোনো ধরনের সহিংসতা রুখতে এবং ভোটের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ডিসি, এসপি, ইউএনও ও থানার ওসি পর্যায়ে রদবদলের নির্দেশনাও এসেছে, যা হবে একটি র‍্যান্ডম পদ্ধতিতে।”

নির্বাচন উপলক্ষে প্রায় ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, “তাদের সবাইকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “নির্বাচনকালীন বাহিনী কোথায় কীভাবে মোতায়েন হবে, বর্ডার এরিয়া, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আনসার, পুলিশ, বিজিবি বা সেনাবাহিনী কীভাবে কাজ করবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”

প্রেস সচিব বলেন, “১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী তরুণদের জন্য আলাদা ভোটার তালিকা তৈরি এবং নির্বাচনী কেন্দ্রে পৃথক ভোটিং বুথ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এটি একটি বড় লজিস্টিক্যাল ইস্যু হলেও এর বাস্তবায়ন যাচাই করে দেখতে বলা হয়েছে।”

এছাড়া, আনুমানিক ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬ হাজার কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “এই কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকেও জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনাও রয়েছে।”

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশনাও এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সেজন্য ম্যাজিস্ট্রেটদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সাধারণত নির্বাচনের সময় চার দিন নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকে। এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে সাত দিন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু রাখা যায়।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও বৈঠকে আলোচিত বিভিন্ন বিষয় সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।