“আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদের রাজনীতি দেখতে চায় না জনগণ”—ফরিদপুরে আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদের রাজনীতি দেখতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, “সুশীলতার মোড়কে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংক মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ পদযাত্রা উপলক্ষে এনসিপি সারাদেশের ৬৪টি জেলা সফর করছে।

ভারতের দালালি ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অভিযোগ

আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “ভারতের দোসররা এখনো চায় আওয়ামী লীগকে গোপনে ফিরিয়ে আনতে। তারা বলে আওয়ামী লীগ ছাড়া নাকি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। অথচ সেই আওয়ামী লীগই ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাতের আঁধারে ভোট করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আর এই আওয়ামী লীগের কোনো স্থান নেই।”

গোপালগঞ্জে হামলার প্রসঙ্গ তুলে কঠোর প্রতিক্রিয়া

গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের ওপর জঙ্গিবাদের দীক্ষা নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু গোপালগঞ্জের মাটিতে মুজিববাদ মুর্দাবাদ স্লোগানকে তারা দমন করতে পারেনি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ দেশে গুম, খুন ও নির্যাতনের রাজনীতি চালিয়েছে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি সত্যিকার অর্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষা করতে হয়, তবে দলীয়ভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগের সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।”

সুশীল সমাজকে হুঁশিয়ারি

সুশীল সমাজের কিছু অংশের ভূমিকাকে ইঙ্গিত করে আখতার হোসেন বলেন, “যারা সুশীলতার মোড়কে আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—বাংলাদেশের মানুষ সেই ফ্যাসিবাদী মতাদর্শকে আর বরদাশত করবে না। এই দেশ সব দল ও মতের মানুষের জন্য।”

নেতাদের অংশগ্রহণ

পথসভায় আখতার হোসেন ছাড়াও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। স্লোগান পরিচালনায় ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

এই পদযাত্রা ও পথসভা ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।




১৮ জুলাই ‘ফ্রি ইন্টারনেট ডে’: পাঁচ দিন মেয়াদি ১ জিবি ডাটা পাবেন সব মোবাইল গ্রাহক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১৮ জুলাই (শুক্রবার) দেশজুড়ে ‘ফ্রি ইন্টারনেট ডে’ পালন করা হবে। এদিন স্মরণীয় করে রাখতে দেশের সব মোবাইল ফোন গ্রাহককে পাঁচ দিন মেয়াদি ১ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট ডাটা দেওয়া হবে। এ উদ্যোগ নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ৩ জুলাইয়ের নির্দেশনা এবং ৮ জুলাই কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯ জুলাই দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটরদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফ্রি ডাটা সংগ্রহের পদ্ধতি

বিটিআরসি জানায়, ফ্রি ইন্টারনেট ডাটা সংগ্রহ করতে গ্রাহকদের নিজ নিজ অপারেটরের নির্ধারিত কোড ডায়াল করতে হবে। কোডগুলো হলো:

  • গ্রামীণফোন (জিপি): 1211807#
  • রবি: *41807#
  • বাংলালিংক: 1211807#
  • টেলিটক: 1111807#

এই কোড ডায়াল করলেই গ্রাহকরা ১৮ জুলাই থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন মেয়াদি ১ জিবি ইন্টারনেট প্যাক চালু করতে পারবেন।

সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণার নির্দেশনা

বিটিআরসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্রি ইন্টারনেট ডে সম্পর্কে সর্বসাধারণকে অবগত করতে এই বার্তাটি টেলিভিশনের স্ক্রলে প্রচার করতে হবে। নির্ধারিত স্ক্রল বার্তাটি হলো:

*“জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ১৮ জুলাই সব মোবাইল ফোন গ্রাহক পাচ্ছেন ৫ দিন মেয়াদি ১ জিবি ফ্রি ডাটা। ফ্রি ডাটা পেতে ডায়াল করুন— জিপি 1211807#, রবি 41807#, বাংলালিংক 1211807#, টেলিটক 1111807# — ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।”

সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং জাতীয় ঐতিহাসিক দিবসকে স্মরণে রাখতে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




আদর্শ ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু জুলাই সহযোদ্ধাদের সাথে আছি : শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, “ছাত্রশিবিরের আদর্শিক ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের ওপর কোনো হুমকি এলে ছাত্রশিবির বসে থাকবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকালের গোপালগঞ্জের ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ থেকে এখনো ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতিগতভাবে এখনো আদর্শ নির্ধারণে দ্বিধায় আছি। সংবিধানে গণতন্ত্র বললেও, সমাজতন্ত্রের কথাও বলি—যা একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

নবীনদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণা

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “পৃথিবীতে কোনো অর্জনই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি অর্জন আরও বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম আমরা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেই শুরু করেছি। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরাও যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা শেষ করতে পারে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের লক্ষ্যে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকেও এমন আয়োজনের আহ্বান জানাই।”

শিক্ষার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের সাহসিকতা অভূতপূর্ব। তবে সমাজ বদলাতে হলে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে।”

তিনি বলেন, “গঠন কঠিন, ভাঙা সহজ। সমাজ পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের আগে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।”

ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, “ছাত্ররাজনীতি মানেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি নয়। ছাত্রশিবির তার ব্যতিক্রম হিসেবে আদর্শের কথা বলছে।” তিনি গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “তাদের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই।”

শিবিরের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, “যেমন ১৯৭১ ছিল পাকিস্তানি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে, তেমনি জুলাই বিপ্লব ছিল ১৫ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। ২৪ সালের আন্দোলন বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কল্পনা করা যায় না।”

শিক্ষার্থীদের অনুভূতি

অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে শিবিরের ভালো কাজ দেখেছি। আজ তা চোখে দেখলাম। আশা করি, শিবির সামনে আরও ভালো আয়োজন করবে।”

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জয়নব হাসান বলেন, “আমি রাজনৈতিক নই, তবে সচেতন। এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য শিবিরকে ধন্যবাদ জানাই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জবি শিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




সালাহউদ্দিনের প্রশ্ন : “গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে কারা?”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তুলেছেন—গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস কারা পাচ্ছে এবং কোথা থেকে পাচ্ছে? তিনি বলেন, “আমরা ডেমোক্রেসির জন্য আন্দোলন করেছিলাম, কিন্তু আজ সারাদেশে মবোক্রেসির রাজত্ব চলছে।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সরকারের নির্লিপ্ততা ও ব্যর্থতার অভিযোগ

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে, তারা এই সাহস পাচ্ছে সরকারের নির্লিপ্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা থেকেই।” তিনি দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে নানা ইস্যু তৈরি করে বিএনপিকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সবসময় সহযোগিতামূলক আচরণ করেছি। কিন্তু এখন যেভাবে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিশ্রুত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “লন্ডন বৈঠকের পর আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হলেও নির্বাচন কমিশনকে এখনও অফিসিয়ালি কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, “অতিসত্ত্বর সরকার নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত বার্তা দেবে এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেবে।”

নতুন রাজনৈতিক দল ও পরিকল্পিত ইস্যু তৈরির অভিযোগ

সালাহউদ্দিন বলেন, “নতুন একটি রাজনৈতিক দল আবেগ তাড়িত হয়ে অপরিকল্পিতভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করছে, যার ফলে ফ্যাসিবাদী শক্তি গণঅভ্যুত্থানের সৈনিকদের ওপর হামলা করছে।”

তিনি দাবি করেন, “এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে একটা পরিকল্পিত অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বলা যায় সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এর মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল ও বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে।”

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মত

এনসিপির ‘নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়’ মন্তব্যের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, “শাপলা প্রতীক না পেলেই কি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়? দেশের আরও বহু মার্কা আছে। ধানের শীষ তো জাতীয় প্রতীক হিসেবে বহু বছর ধরে স্বীকৃত।”

গণতান্ত্রিক ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে যেন কোনো ফাটল না পড়ে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। না হলে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।”

তিনি শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এই দেশের মানুষ আর তার শাসন দেখতে চায় না।”
সমাবেশের শেষদিকে তিনি শপথ নিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই ঐক্যকে আমরা ইস্পাত কঠিন বন্ধনে বেঁধে রাখবো এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাব।”




জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া চলমান; স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জনদৃষ্টিগোচর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশন প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত কমিশনের এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠকে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক এবং ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

বৈঠকে কমিশনের কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং জানানো হয়, জুলাই সনদের খসড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কমিশনের সদস্যদের অব্যাহত অবদান ও নিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “এই প্রক্রিয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এতে প্রতিফলিত হবে। কাজেই পুরো কাজটি হতে হবে স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান, যাতে জনগণ বিশ্বাস রাখতে পারে। কমিশনের বৈঠকগুলো টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হওয়ায় দেশ-বিদেশের মানুষ তা প্রত্যক্ষ করছে এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।”

বৈঠকে অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে ৮টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে কমিশন। আরও সাতটি বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে চলমান জাতীয় ঐকমত্য প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ ধারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




গোপালগঞ্জের ঘটনায় অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় জড়িত কেউই পার পাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “যারা অন্যায় করেছে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে, কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থার নজরে ছিল কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, গোয়েন্দাদের কাছে কিছু তথ্য ছিল, তবে ঘটনার ব্যাপকতা এত বড় হবে, তা তারা ধারণা করতে পারেননি।

এনসিপির পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আপনারও মতামত থাকতে পারে। যার যেটা বলার আছে, সে সেটা বলবে।”

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “অপরাধীদের কাউকে ছাড়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




গোপালগঞ্জের মানুষকে মুজিববাদ থেকে মুক্ত করার ঘোষণা নাহিদ ইসলামের

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষকে মুজিববাদ থেকে মুক্ত করব।” বৃহস্পতিবার ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা-পরবর্তী এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “ফ্যাসিস্টরা গোপালগঞ্জকে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করেছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, গোপালগঞ্জের সাধারণ কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হন, তবে যারা সন্ত্রাসে জড়িত, তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, দেশের জনগণ গোপালগঞ্জ অভিমুখে পদযাত্রার জন্য প্রস্তুত ছিল। “আমরা অবশ্যই গোপালগঞ্জে যাব, এবং সেটা খুব শিগগিরই,” যোগ করেন তিনি।

আলোচনায় নাহিদ ইসলাম প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারপন্থী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমরা শান্তিপূর্ণ পথ মেনে চললেও ফ্যাসিস্ট হামলা হলে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে লাঠি হাতে তুলব, যেমন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অস্ত্র হাতে নিতে প্রস্তুত ছিলাম।”

তিনি অভিযোগ করেন, “গতকাল দেশবাসী রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদীদের সন্ত্রাসী রূপ দেখেছে। আমরা এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ দিচ্ছি। তবে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আবারও গোপালগঞ্জে মার্চ করব। এবার ফিরে আসার জন্য নয়, বরং গোপালগঞ্জের জনগণকে মুক্ত করেই ফিরব।”

তিনি জানান, ৬৪ জেলায় পদযাত্রা সম্পন্ন করে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ‘জুলাই সনদ’ ও ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

পথসভা সঞ্চালনা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১৭ জুলাই

১৭ জুলাই সকালের আলো ফোটার আগেই জানা যায় ক্যাম্পাসগুলোয় শিক্ষার্থীদের বিজয়ের খবর: ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগমুক্ত হয়। ১৬ তারিখ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলগুলোয় এই প্রতিরোধ শুরু হলেও, দ্রুতই তা ছেলেদের হলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এই অভূতপূর্ব ঘটনার পর এদিন সকালেই ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলা এবং ১৬ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে আবু সাঈদসহ ছয়জনের মৃত্যুর পর, দেশজুড়ে শিক্ষার্থীরা ফুঁসে ওঠে।

আশুরার কারণে সরকারি ছুটির আমেজ থাকলেও, দেশের অফিস-আদালত পাড়া যখন শান্ত, তখন ক্যাম্পাসগুলো ছিল উত্তাল। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার ঘটনা সরকারকে সত্যিকারের বিপদের মুখে ফেলে দেয়। যে গুণ্ডাবাহিনী এত দিন ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের দখল নিশ্চিত করত, তাদের বিতাড়িত হওয়ার ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। তাই ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না। এক্ষেত্রে তারা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর ওপর সওয়ার হন। ইউজিসিকে এর আগে কখনো ক্যাম্পাস বন্ধ করার ঘোষণা দিতে দেখা যায়নি। কিন্তু ১৭ তারিখ রাতের মধ্যেই ছাত্রাবাস ত্যাগ করার নির্দেশ আসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এত কিছু ঘটে চললেও, উপাচার্য মাকসুদ কামালকে কোথাও দেখা যায়নি। তিনি আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাননি, এমনকি ছাত্রলীগ-পুলিশের নিপীড়ন নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি। ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যের উপস্থিতি বিষয়ে এদিন গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাস আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।”

দুপুর থেকেই সারা দেশে ছাত্রবিক্ষোভ, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিল এবং দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টা-পাল্টি ধাওয়ার ঘটনা চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্ধ করে দেওয়া হয় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো বায়তুল মোকাররম মসজিদে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে। জানাজা শেষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা একত্রভাবে মিছিল বের করলে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। জানাজা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “চলমান কোটা আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়, এই আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা জড়িত। তাদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিয়েছে বিএনপি এবং সেই নৈতিক সমর্থন বিএনপি দিয়ে যাবে, কারণ দলটি মনে করে, এই আন্দোলন যুক্তিসংগত।”

এদিন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কালো শাড়ি পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ভাষণ ছিল তার অতীতের ভাষণগুলোর তুলনায় খুবই স্বল্প সময়ের, প্রায় আট মিনিটের মতো। তার চেহারা ছিল বিমর্ষ ও ভীত। এই ভাষণে তিনি তার আপনজন হারানোর বেদনাকে বড় করে তুললেও, আগের দিন শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ত্রিপক্ষীয় হামলায় নিহত ও আহতদের বিষয়ে তেমন কিছু বলেননি। উল্টো তিনি আন্দোলনের ফলে হামলা-ভাংচুর ও জনভোগান্তির ওপর গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি তরুণ সমাজের স্বপ্নিল ভবিষ্যৎ ও পেশাগত সুযোগের দাবির বিষয়টি সেদিনও অন্তরে ধারণ করেননি। তার বিচারে বরং সেইসব ‘কোমলমতি’ তরুণ ‘কিছু বিশেষ মহল’ দ্বারা বিভ্রান্ত। সেই বিশেষ মহলকে তিনি সংজ্ঞায়িত করেননি, কিন্তু তাদের ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রমের’ যে উদাহরণ তিনি দিলেন, তার শিকার হিসেবে কেবল নিজের দলের ছাত্রের কথাই উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যেকোনো তরুণ প্রাণের, তার ভাষায়, ‘অহেতুক মৃত্যু’ই বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয়। কিন্তু তার এই পক্ষপাতে বোঝা যায় তিনি সব নাগরিকের রাষ্ট্রপ্রধান নন, কেবল তার নিজের লোকের জন্যই তার ভাবনা ও কার্যক্রম আবর্তিত। চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের সদস্যের মৃত্যুর বাইরে যে পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রলীগের যৌথ তৎপরতায় আন্দোলনে অন্য প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখ করার প্রয়োজন তিনি বোধ করেননি। এমনকি যে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কথা তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন, তা যেন কেবল আন্দোলনকারী এবং কিছু মহলেরই একার ব্যাপার ছিল। তার অনুগত ছাত্রলীগের সদস্য ও বহিরাগত ভাড়াটেরাই যে ১৫ জুলাই প্রথম আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়ে ব্যাপকভাবে সন্ত্রাসের জন্ম দেয়, তার ভাষণে সেসবের কোনো উল্লেখ ছিল না। তিনি জানান, বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে কারা ছিল উসকানিদাতা ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরির জন্য কারা দায়ী ছিল। তাদের বের করে যে শাস্তি দেওয়া হবে, তাও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু তার উদাহরণ বাছাই দেখে সন্দেহ করার কারণ রয়েছে যে, এই তদন্ত ও শাস্তি প্রক্রিয়ায় হত্যাকারী পুলিশ ও সন্ত্রাস কায়েমকারী ছাত্রলীগের সদস্যদের রেহাই দেওয়া হবে এবং আন্দোলনকারীদেরই বেছে বেছে শাস্তি দেওয়া হবে। ফলে দেশের চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে তার এই ভাষণ শিক্ষার্থীদের আরও বিক্ষুব্ধ করে তোলে।

এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার ডাস চত্বর থেকে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি সংগঠনের সভাপতি আখতার হোসেনকে আটক করে পুলিশ। দুপুর আড়াইটা নাগাদ ডাস চত্বরের পাশে আখতার হোসেনসহ তিনজন এসে অবস্থান নেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের চলে যেতে বলা হলে সেখানে তিনি শুয়ে পড়েন। এ সময় সাংবাদিকেরা তাদের চারদিকে ঘিরে দাঁড়ান। চলমান আন্দোলন সম্পর্কে তাদের বক্তব্য নেওয়ার সময় পুলিশের দিক থেকে জটলা উদ্দেশ করে চার-পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে আখতার হোসেনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। উল্লেখ্য, আখতারের মুক্তি মেলে হাসিনার পতনের পর।

এদিন, বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে। ‘হত্যাকাণ্ড ও হামলার বিচার চাই, নিপীড়নমুক্ত ক্যাম্পাস ও রাষ্ট্র চাই’ দাবি নিয়ে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশ’ ব্যানার করা হয়, যাতে নেটওয়ার্কের বাইরের শিক্ষকরাও যুক্ত হন। তাদের মধ্যে ডক্টর আসিফ নজরুলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সাদা দলের সদস্যরাও ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সমাবেশ থেকে গীতি আরা নাসরীন, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাভিন মুরশিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসের বক্তব্য অনলাইনে ভাইরাল হয়।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রাবাসে পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে হলগুলোকে খালি করে দেয়। শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে বাধ্য হন। এদিন দিবাগত রাতে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এ সময় ছাত্রদলসহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।




গোপালগঞ্জে সহিংসতা: মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

গোপালগঞ্জ জেলার চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার রাতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বোর্ড চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে গোপালগঞ্জ জেলার জন্য ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা-ইন-ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (বিএমটি) সহ সকল পরীক্ষার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ১৭ জুলাইয়ের পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে।

একইসঙ্গে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র গোপালগঞ্জ জেলার আলিম শ্রেণির ‘আল ফিকহ ১ম পত্র’ (বিষয় কোড-২০৩) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্য সব জেলার পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার সন্ধ্যা থেকে গোপালগঞ্জ জেলায় ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ জুলাই বন্যা পরিস্থিতির কারণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২৬ জুন থেকে শুরু হয়েছে। সারাদেশে ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১০ আগস্ট এবং ১১ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।




“আমাদেরকে মেরে ফেলাই ওদের উদ্দেশ্য” — গোপালগঞ্জ হামলায় ক্ষোভ জানালেন আখতার হোসেন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি হামলাকারীদের বিচার দাবি করে বলেছেন, “আমাদেরকে মেরে ফেলাই ওদের উদ্দেশ্য।”

বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন লিখেছেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গাড়িতে হামলা চালায় সন্ত্রাসী লীগ বাহিনী। বাংলাদেশ বিরোধী লীগ এবং তাদের দোসরদের প্রতিহত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “ওদের বিচার করতে হবে।”

এর আগে বিকেলেও দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, “গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের জঙ্গিরা আমাদের ওপর হামলা করছে। গুলি ছুড়ছে, বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। সারা দেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে সড়ক অবরোধ করে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়তে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে এনসিপি নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

এই ঘটনায় ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি বলছে, তারা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করছে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।