২০২৪ সালের ২৩ জুলাই : কোটা নিয়ে উত্তাল দেশ, ইন্টারনেট ও কারফিউ শিথিল

২০২৪ সালের ২৩ জুলাই মঙ্গলবার সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি আংশিক বহাল রেখে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নবম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য নিয়োগে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে এবং ৭ শতাংশ পদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কোটা সংস্কার দাবির প্রেক্ষিতে সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে।

এদিনই ছিল দেশে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অবস্থা। যদিও রাতের দিকে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কিছু এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সীমিত পরিসরে চালু করা হয়। তবে সবাই সেই সেবা পাননি। প্রাধান্য দেওয়া হয় জরুরি সেবা, গণমাধ্যম, ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে।

দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষের কারণে এই দিনেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠায় বিভিন্ন মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। একইসাথে কারফিউও শিথিল করা হয়। সীমিত সময়ের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোও পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

দেশজুড়ে সহিংস আন্দোলন ও সংঘর্ষের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘চিরুনি অভিযান’ এই দিনেও অব্যাহত ছিল। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় অন্তত ৫১৭ জন। এক সপ্তাহে সারাদেশে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওইদিন রাজধানীতে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় আরও ৩৮টি মামলা হয়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন এবং ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: সারাদেশে ইন্টারনেট চালু করতে হবে, কারফিউ প্রত্যাহার করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি প্রত্যাহার ও হল খুলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, এবং আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এই দাবিগুলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন সংগঠনের অন্যতম নেতা সারজিস আলম। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ১৮ জুলাই থেকে তাদের তিনজন নেতা—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদ নিখোঁজ রয়েছেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া আন্দোলন ১৬ জুলাই সারাদেশে ৬ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলি, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে সারাদেশে কারফিউ জারি করা হয় এবং সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা পাঁচদিন রেল চলাচল বন্ধ থাকার পর ২৩ জুলাই প্রথমবার তেলবাহী ট্রেন চালু হয়।

এই পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের নামে কোনো মামলা হলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে হল খোলা সম্ভব নয়। র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশিদ ঘোষণা দেন, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের হাতছানি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে ৭ উইকেটের দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় টাইগাররা। ম্যাচের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তোপে পাকিস্তান মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায়। এটি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অলআউট। তাসকিন ৩টি এবং মুস্তাফিজ ২টি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস ধসিয়ে দেন।

জবাবে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে ভর করে ২৭ বল হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। মাত্র ৩৯ বলে ৫৬ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস খেলেন এই উদীয়মান ওপেনার। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ জয়—সবগুলোই এসেছে মিরপুরের মাটিতে। তাই দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় নিয়ে ইতিহাস গড়তে আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিক দল।

অধিনায়ক লিটন দাস জানিয়েছেন, তারা উইকেট সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “মিরপুরের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ নয়। তবে আমরা যেভাবে ব্যাট করেছি তা দুর্দান্ত ছিল।” এ ম্যাচেও একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিটন।

এদিকে, প্রথম ম্যাচে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে মরিয়া পাকিস্তান। কোচ মাইক হেসন জানিয়েছেন, ভুল সিদ্ধান্ত এবং উইকেট বোঝার ভুলই তাদের হারিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চান তারা।

দুই দলই নিজেদের সেরা খেলাটা দিতে মরিয়া। একটি জয় ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশের জন্য, আর একটি হার মানে পাকিস্তানের বিদায়। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়ে উঠেছে অলিখিত ফাইনাল।

বাংলাদেশ দল:
লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ নাইম, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, শামিম হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মাহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

পাকিস্তান দল:
সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়াল, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হাসান নাওয়াজ, হুসেন তালাত, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, সালমান মির্জা, সুফিয়ান মুকিম।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান থাকা যাবে না: ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত

এক ব্যক্তি একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী, দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলে সাংবিধানিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় বলে অভিমত দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তাই একই ব্যক্তির হাতে এসব দায়িত্ব রাখা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার ১৭তম দিনের সংলাপে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, “বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদ আলাদা রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে যারা ভিন্নমত পোষণ করেছে, তারা জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারবে।”

আলোচনায় জানানো হয়, একাধিক পদে থাকার কারণে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে, যা গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী। বিএনপি ও সমমনা কয়েকটি দল ভিন্নমত পোষণ করে দাবি করেছে, একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকলেও সাংবিধানিকভাবে কোনো সমস্যা তৈরি হয় না।

জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, “এই মতানৈক্যের মধ্যেও আমরা একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে চাই। অতীতেও আমরা জাতীয় সনদে ভিন্নমত অন্তর্ভুক্ত করেছি। এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করব।”

সেশনের আলোচ্যসূচিতে আরও ছিল:

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিভিন্ন দলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সমন্বিত খসড়া প্রস্তুত
  • নির্বাচন কমিশন, পিএসসি, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুদক এবং ন্যায়পাল নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান

আলোচনার শুরুতে কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সহায়তায় সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহতদের প্রত্যেকের নাম-পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং অজ্ঞাত মরদেহগুলোর শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কিছু মহল থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, হতাহতের তথ্য গোপন করা হচ্ছে। এই দাবি সঠিক নয়। এমন গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য গোপনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

দুর্ঘটনার পর পরই স্কুল ক্যাম্পাসে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রি ও উপস্থিতি খাতা ঘেঁটে নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে বলেও জানানো হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পরিবার ও সাধারণ জনগণকে উদ্বিগ্ন না হয়ে তথ্য যাচাই করে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়। একইসঙ্গে পরিচিত কেউ নিখোঁজ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিমান দুর্ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক, বলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি পুরোপুরি যৌক্তিক বলে স্বীকার করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় এই দাবিগুলো সামনে আসে এবং তা ঘিরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আলোচনায় উপদেষ্টারা শিক্ষার্থীদের দাবির সার্বিক দিক বিবেচনা করে তা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং তা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান।

আসিফ নজরুল বলেন, “মাইলস্টোন স্কুলে একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নিহত, আহত এবং নিখোঁজদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও ট্রমা ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট দেওয়া হবে।”

এসময় সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং বিষয়টি সেনা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলা হয়।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, “জনবহুল এলাকায় যেন এ ধরনের প্রশিক্ষণ বিমান চলাচল না করে, সেজন্য বিমান বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে জানান, “আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ নিয়মিত পরীক্ষার শেষে পুনঃনির্ধারণ করে জানানো হবে।”

সরকারের এই সরাসরি আলোচনায় শিক্ষার্থীরা কিছুটা আশ্বস্ত হলেও তারা সব দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় বলে জানিয়েছে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জননিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার এ ধরনের উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উদ্ধার ও চিকিৎসায় জনশক্তিকে মাঠে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে যান উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন জামায়াত আমির এবং চিকিৎসকদের আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

এক শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির এবং অনেক শিক্ষার্থী শাহাদাতবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এখনো শতাধিক শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের জনশক্তি ও এলাকাবাসীকে উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ এবং আহতদের চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি। নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং মহান রবের কাছে তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।




উত্তরা ট্র্যাজেডিতে তারেক রহমানের শোক, নেতাকর্মীদের সহায়তায় আহ্বান

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান লেখেন, “মাইলস্টোন কলেজে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আমরা শোকাহত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যেখানে একটি শিশু, কিশোর কিংবা তরুণ তার শিক্ষা, বিকাশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠে—সেই পরিবেশে এমন ভয়াবহতা কখনো কাম্য নয়। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুঃসময়ে আমাদের জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি বিএনপি নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ১টার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভবন ও বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। বিধ্বস্ত ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক স্কুল শিক্ষার্থী অবস্থান করায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে বিজিবি, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীও অভিযানে যোগ দেয়। আহতদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং আরও ১৬৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর দগ্ধ।




রিজভীর প্রশ্ন: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণ কীভাবে চলে?

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনবহুল অঞ্চলে বিমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, “এ এলাকাটা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে প্রশিক্ষণ বিমান দিয়ে উড্ডয়ন শিখবে—এটা রহস্যজনক। প্রশিক্ষণের জন্য যশোর, কক্সবাজারের মতো জায়গা রয়েছে, যেখানে সমুদ্র ও বিস্তীর্ণ খোলা এলাকা আছে। সেখানে এই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “নেভিগেশন বা টেকনিক্যাল বিষয়গুলো আমি না জানলেও, সাধারণভাবে যা বোঝা যায়, তা হলো—এত মানুষের ভিড়, চারপাশে এত ঘরবাড়ি থাকা সত্ত্বেও এখানে প্রশিক্ষণ বিমান চালানো মোটেই নিরাপদ নয়। প্রশাসন ও সরকারের এ বিষয়ে গুরুদায়িত্ব রয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা করলে ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হতে থাকবে।”

রিজভী আরও বলেন, “দুর্ঘটনা কখনো আগাম বলে আসে না। কিন্তু যদি আমরা যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে এগোই, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিমানবন্দরের পাশে কী ধরনের লোকালয় গড়ে উঠবে, তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল। আমার মনে হয়, উত্তরার মতো এলাকায় এমন ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থা পরিকল্পনার বাইরে সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা রক্তদান ও অন্যান্য সহযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২০ জন নিহত এবং অন্তত ১৭১ জন আহত হয়েছেন।




উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

সোমবার (২১ জুলাই) এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

পোস্টে শেহবাজ শরীফ লেখেন, “ঢাকায় মাইলস্টোন স্কুল বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার হৃদয় নিংড়ানো সমবেদনা বাংলাদেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি।”

তিনি আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে পাকিস্তান সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত ও অন্তত ১৭১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।




উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় মোদির শোক, বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস

রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক শোকবার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ঢাকায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। যেখানে মৃতদের মধ্যে অনেকেই তরুণ শিক্ষার্থী—এই ট্র্যাজেডি হৃদয়বিদারক। নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা ও শোক। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ভারত এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত এবং অন্তত ১৭১ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই শিক্ষার্থী। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।