বরিশালে শিশু ধর্ষণে বিএনপি নেতার যাবজ্জীবন

বরিশাল সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা রাসেল শরীফকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রকিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান।

দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল শরীফ (৩৫) বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের বাসিন্দা ও আলী শরীফের ছেলে। তিনি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের একটি গ্রামে ওই শিশুটিকে তার নিজ বসতঘরের পাশের খোলা জায়গায় ধর্ষণ করেন রাসেল শরীফ। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর এবং আসামি রাসেলের বয়স ছিল ২৫।

ঘটনার পর সাহসিকতার সঙ্গে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে রাসেল শরীফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। মামলা গ্রহণের পর তদন্ত করে বরিশাল বন্দর থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। সকল সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর বিচারক রাসেল শরীফের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এই রায় সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বিচার বিভাগের ন্যায়বিচারের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা গোপন করা অসম্ভব : প্রেস সচিব

বাংলাদেশে কোনো জাতীয় বিপর্যয়ের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা গোপন রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ (বুধবার) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি লেখেন, “২০০২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ঘটে যাওয়া অসংখ্য বড় বড় দুর্যোগের ওপর রিপোর্ট করেছি। একজন সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশে হতাহতের সংখ্যা গোপন করা বাস্তবিক অর্থেই অসম্ভব।” তার মতে, যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, প্রাথমিকভাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা তাদের খোঁজে প্রশাসনের কাছে আসেন। পরে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে মৃত বা আহতদের শনাক্ত করা হয়।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, মাইলস্টোন কলেজ যদি প্রতিদিনের উপস্থিতির রেকর্ড বিশ্লেষণ করে, তাহলে সহজেই হিসাব বহির্ভূত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করা সম্ভব। এ ধরনের সহযোগিতামূলক উদ্যোগই নির্ভুল পরিসংখ্যান নিশ্চিত করে।

ফেসবুক পোস্টে প্রেস সচিব আরও জানান, গতকাল স্কুল পরিদর্শনের সময় উপদেষ্টারা সেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনের নির্দেশ দেন। এই কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়মিতভাবে আহত ও নিহতদের পরিসংখ্যান হালনাগাদ করা হবে এবং তা রেজিস্ট্রারের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই কন্ট্রোল রুম পরিচালনায় বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজ থেকেই এই কন্ট্রোল রুম পুরোপুরি কার্যকর হবে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের অবস্থা নিয়ে নিয়মিত আপডেট সরবরাহ করছে এবং সেনাবাহিনীও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। তাই সরকার হতাহতের সংখ্যা খাটো দেখিয়ে কোনো তথ্য গোপনের পথে হাঁটবে না, বরং স্বচ্ছতা ও মানবিকতার নীতিতেই অটল থাকবে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম আরও বলেন, “গতকাল আমরা টানা ৯ ঘণ্টা স্কুলে অবস্থান করেছি। চাইলে আরও আগেই চলে আসতে পারতাম, কিন্তু উপদেষ্টারা সংকট সমাধানে বলপ্রয়োগ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী ছিলেন। প্রয়োজনে তারা আরও দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন।”

তিনি বলেন, “আমরা যারা প্রাণ হারানো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য শোকাহত, তাদের স্মরণে বলছি—তারা সবাই শহীদ। এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে।”

সরকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমান সংক্রান্ত দুর্যোগ প্রতিরোধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন প্রেস সচিব।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ওবামার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি ট্রাম্পের




বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সিরিজ উৎসর্গ করলেন লিটন দাস

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর তা বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮ রানের জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। ২০ ওভারে অলআউট হয়ে মাত্র ১৩৩ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। ইনিংসে জাকের আলির ৫৫ ও শেখ মেহেদির ৩৩ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৫ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। যদিও পরে ফাহিম আশরাফ (৩২ বলে ৫১) ও খুশদিল শাহ দলকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রান, কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেই লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি পাকিস্তান।

সিরিজ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে লিটন দাস বলেন,
“পাওয়ার প্লেতে আমাদের আরও ভালো করা দরকার ছিল, সেটা আমরা পারিনি। তবে জাকের আর মেহেদি দারুণ ব্যাটিং করেছে। মাঝের ওভারে কিছু ভুল হলেও আমরা ভালো বোলিং করেছি। অবশ্যই কিছু জায়গায় ভুল ছিল, বিশেষ করে ক্যাচ মিস করেছি। এই জয় আমরা সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি উৎসর্গ করছি।”

উল্লেখ্য, এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের আনন্দে শোককে স্মরণ করায় আবেগে ভেসেছে পুরো দল ও সমর্থকরা।




বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল টাইগাররা

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রোমাঞ্চকর ৮ রানের জয়ে প্রথমবারের মতো একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়েছে টাইগাররা।

শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩ রান, হাতে ছিল একটি উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমানের করা প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে আশার আলো জাগান আহমেদ দানিয়েল। তবে পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা শামীম হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয়। ইনিংসে বড় অবদান রাখেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাকের আলি। ৪৮ বলে ৫৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। এছাড়া শেখ মেহেদি হাসান করেন ২৫ বলে ৩৩ রান।

জবাবে খেলতে নেমে দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই ধস নামান বাংলাদেশের বোলাররা। পাকিস্তান তাদের প্রথম পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ১৫ রানে। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে শেখ মেহেদির স্পিন আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সফরকারীরা।

পরে ফাহিম আশরাফ (৩২ বলে ৫১) ও আব্বাস আফ্রিদির (১৩ বলে ১৯) লড়াকু ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মুস্তাফিজের শেষ ওভারে সব শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের।

এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু হয় ওপেনার নাঈম শেখের আউটের মাধ্যমে। মাত্র ৩ রান করে ফেরেন তিনি। অধিনায়ক লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ ইমনও হতাশ করেন। তবে জাকের-মেহেদি জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে আসে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে তানজিম সাকিব, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদি ও মুস্তাফিজুর রহমান সবাই কার্যকর ছিলেন। বিশেষ করে নতুন বলে লাইন-লেংথে ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান ব্যাটিংকে চাপে রাখেন লিটনের ব্যবস্থাপনায়।

এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচের সিরিজে জয় পেল। ম্যাচ শেষে আনন্দে মাতেন খেলোয়াড়, কোচ ও দর্শকরা। সিরিজের এই ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৪৪৪

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪৪ জন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক আক্রান্তদের মধ্যে বরিশালে সর্বোচ্চ ১২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রামে ৫১ জন, ঢাকার সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৬৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৪০ জন, দক্ষিণ সিটিতে ৮১ জন, খুলনা বিভাগে ৩৩ জন, রাজশাহীতে ২৯ জন, ময়মনসিংহে ৮ জন, রংপুরে ৫ জন ও সিলেটে ২ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৪০২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৬২৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এসময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ জন।

পূর্বের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যদি না দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।




মাইলস্টোন কলেজে ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ প্রেস উইংয়ের আরও দুই কর্মকর্তা প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে ছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে কলেজ ক্যাম্পাসে যান তারা। তবে পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। তারা বারবার দাবি জানালেও উপদেষ্টারা তাৎক্ষণিক প্রতিকার দিতে ব্যর্থ হন, ফলে কলেজ ত্যাগ করতে পারেননি কেউ।

বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা মাইলস্টোন কলেজের পাঁচ নম্বর একাডেমিক ভবনে অবস্থান করছিলেন। এসময় বাইরে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীদের দুটি পৃথক দল—একটি দল মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে, অন্যটি কলেজের গোলচত্বরে বিক্ষোভে অংশ নেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে। তারা দাবি জানান, যারা এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের ঘটনাস্থলে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাইলস্টোন কলেজ চত্বর, মেট্রোরেল ডিপো এবং আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান বলেন, “শিক্ষা উপদেষ্টা কোথায় আছেন, তা অফিসিয়ালি আমার জানা নেই। তিনি মাইলস্টোন কলেজে গিয়েছিলেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো সচিবালয়ে ফেরেননি।”

এর আগে জানা যায়, মঙ্গলবারের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্ঘটনার সময় প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।




মাইলস্টোনে উদ্ধারচলাকারে অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে যা জানালো সেনাবাহিনী

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সময় সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কিছু উৎসুক জনতার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় শিশু ও সাধারণ নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই কাছাকাছি থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কার্যক্রম চালানো হয়।

তবে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের ভিড় সৃষ্টি হয়, যা বারবার উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। সেনাসদস্য এবং মাইলস্টোন স্কুলের স্বেচ্ছাসেবকরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ঘটনাস্থল ত্যাগে অনাগ্রহ দেখান অনেকেই। ফলে আহতদের সরিয়ে নিতে সময়ক্ষেপণ হয় এবং প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ে।

উদ্ধারে দায়িত্ব পালনকারী সেনাসদস্যরা পেশাদারিত্ব ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিকেলের দিকে একপর্যায়ে উৎসুক জনতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা অনভিপ্রেত ঘটনা পর্যন্ত গড়ায়। এতে সেনা ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর চাপ বাড়ে এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়ে।

আইএসপিআরের দেওয়া তথ্যমতে, উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ১৪ সদস্য শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, তারা সবসময় দেশের জনগণের পাশে থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। দুর্ঘটনার মতো স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ সহজ করতে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থী-পুলিশ মুখোমুখি

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

এর আগে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে কিছু শিক্ষার্থী গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ভেতরে ঢুকে তারা সচিবালয়ের একাধিক সরকারি গাড়ির জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। পুলিশ তখন লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

দুপুর থেকেই সচিবালয় চত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। মূলত মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের মৃত্যু ও গভীর রাতে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। আন্দোলনে অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থী জানান, “মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। এমন অবস্থায় গভীর রাতে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে সকালে জানানো হয় পরীক্ষা বাতিল। আমরা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ চাই।”

জানা গেছে, আন্দোলনে ঢাকার বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অংশ নেন। বিক্ষোভ পূর্বাভাস পেয়ে সচিবালয়ের সামনের এলাকায় আগে থেকেই মোতায়েন করা হয়েছিল পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আন্দোলনে নামেনি; বরং নিজেদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ ঘটনার সরাসরি প্রতিক্রিয়া না এলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে শিক্ষা সচিব প্রত্যাহার

তীব্র ছাত্র বিক্ষোভের মুখে অবশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবাইরকে প্রত্যাহার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি সচিব প্রত্যাহারের বিষয়টি জানান।

দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজধানীর সচিবালয় এলাকা। মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তারা। মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ করে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের মূল ফটকে জড়ো হন এবং বিক্ষোভ করতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সচিবালয় চত্বরে থাকা একাধিক সরকারি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন তারা। বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একপর্যায়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনা সদস্য।

একজন শিক্ষার্থী জানান, “গতকাল বিমান দুর্ঘটনায় আমাদের সহপাঠীরা মারা গেছে। এতো বড় একটি দুর্ঘটনার পরও পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয় গভীর রাতে। সকালে পরীক্ষা দিতে এসে জানতে পারি বাতিল হয়েছে। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ চাই।”

ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তারা জানান—যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে শুধু শোক নয়, বিভ্রান্তির মধ্যেও পড়তে হয়েছে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারা ছাত্রবান্ধব নন, বরং উদাসীন ও অযোগ্য। এই বিক্ষোভ ছিল সেই দায়মুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

ঘটনার পর থেকে সচিবালয়ের ভেতর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও প্রবেশপথে অবস্থান করছেন। সরকার এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনার কথা বললেও বিক্ষোভকারীরা বলেছেন—যতক্ষণ না দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপসারণ ও শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনার দায় স্বীকার করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে।

অবশেষে সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি আংশিক মেনে নিয়ে সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবাইরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি ‘প্রাথমিক বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম