৫ আগস্ট পরবর্তী বিভেদের জন্য সরকারই দায়ী : এবি পার্টি

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির দাবি, ঐ সময়ের পরিবর্তনের সুযোগে যে রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সরকারই মূলত দায়ী।

বুধবার (২৩ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে এসব মন্তব্য করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, “আমরা সবাই বিপদের মধ্যে ছিলাম। জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার শুরু থেকেই বিভেদের পথে হেঁটেছে। যারা একসময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিল, আজ তারা বিভক্ত।”

সরকারের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মঞ্জু আরও বলেন, “যদি সংস্কার ঠিকমতো করতে না পারেন, যদি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে না পারেন, তাহলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিন। দুর্বল সরকার কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না—এটা এখন স্পষ্ট।”

মঞ্জু বলেন, “মাইলস্টোন স্কুলে উপদেষ্টাদের আটকে পড়া বা যমুনায় উপদেষ্টার ওপর বোতল নিক্ষেপ—এসব ঘটনা প্রমাণ করে সরকারের জনপ্রিয়তা ও উপদেষ্টাদের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পেয়েছে। জনগণের ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও ক্রেডিবিলিটি কমেছে। আগে যাদের উপস্থিতি সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল, আজ তাদের নামেই স্লোগান উঠছে।”

সরকারের তথ্যে স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “প্রেস উইং থেকে নয়, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা যেন নিজ দায়িত্বে ব্রিফ করেন—এমন অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

সম্প্রতি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সরকারের পৃথক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জু বলেন, “এই চারটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। এসব বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে।”

তিনি জানান, এবি পার্টি প্রধান উপদেষ্টাকে প্রস্তাব দিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি সম্মিলিত সভা আয়োজন করা হোক, যাতে সবাই কথা বলার সুযোগ পায়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের নেতারা সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন—রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জেএসডির তানিয়া রব, ১২ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণফোরামের মিজানুর রহমান।

প্রসঙ্গত, এর আগের রাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।




নিবন্ধনহীন এনসিপিকে ‘বড় দল’ কেন বলছে সরকার, প্রশ্ন নুরের

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে পক্ষপাত ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও সদ্য গঠিত এনসিপিকে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে মূল্যায়নের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বুধবার (২৩ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সরকার যদি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত হয়ে জনগণের আস্থার প্রতীক হয়, তাহলে কোনো বিশেষ দলের পক্ষে হেলে যাওয়া তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। এ ধরনের পক্ষপাত হলে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়েও জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হবে।”

নুর আরও বলেন, “সরকার যে চারটি রাজনৈতিক দলকে বড় দল হিসেবে নির্বাচন করেছে, তার ভিত্তি কী? এর মধ্যে একটি দল—এনসিপি—নিবন্ধনহীন এবং সদ্য গঠিত। বিষয়টি নিয়ে আজকের বৈঠকে অংশ নেওয়া ১৩টি দলের নেতারাই প্রশ্ন তুলেছেন।”

বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর অভিযোগ তুলে নুর জানান, সরকার এনসিপির প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাত দেখাচ্ছে। এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আগামী নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি করছে বলে মত দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নুর বলেন, “চট্টগ্রামে আইনজীবী চিন্ময় দাস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। একইভাবে গোপালগঞ্জে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটতে পারে, সেটাও আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম। তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থা তা বুঝতে ব্যর্থ হলো কেন? নাকি সমন্বয়ের অভাব আছে? সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পতিত স্বৈরাচারী শক্তি বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্যে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। তাই সরকারের দৃষ্টি সেই দিকেও আকর্ষণ করেছি।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নুর। তিনি বলেন, “এক-দুটি দলের মতামতের ভিত্তিতে কমিশন যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাতে বৃহত্তর জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হচ্ছে। এটা কাম্য নয়।”

সরকারের জনপ্রিয়তা কমে আসছে বলেও দাবি করেন নুর। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সরকারের কাছ থেকে যে পরিবর্তনের আশ্বাস পেয়েছিলাম, বাস্তবে তা পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না।”

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছি, যাতে প্রশাসনের সক্ষমতা যাচাই করা যায়।”

ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১১ মাসে এনসিপি ছাড়া অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এ নিয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।”

নুরের মতে, সংলাপে এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে, যাতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।




ঢাকায় হচ্ছে এসিসির সভা, ভার্চুয়ালি যোগ দিচ্ছে ভারত

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা। শেষ মুহূর্তে ভারত সভায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—তবে অনলাইনে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ভারত অনলাইনে সভায় অংশ নিচ্ছে। আফগানিস্তান প্রতিনিধিরা রাতেই ঢাকায় পৌঁছাবে। শ্রীলঙ্কা ও নেপালও ফ্লাইট জটিলতার কারণে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবে।”

এর আগে বিসিসিআই সভাটি বাংলাদেশ থেকে সরানোর প্রস্তাব দিলেও, এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ভারত সভা বয়কটের হুমকি দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

এবারের সভা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপ এখনো অনিশ্চয়তায়। আয়োজক দেশ ভারত হলেও, পাকিস্তান সেখানে খেলতে যেতে রাজি নয়। ফলে এখনো নির্ধারিত হয়নি সূচি কিংবা ভেন্যু। ঢাকার এই সভাতেই হয়তো নির্ধারিত হবে এশিয়া কাপের ভাগ্য।




দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু: চিরতরে বেদনার সমুদ্রে ডুবে গেল পরিবার

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে ঘটে যাওয়া মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হৃদয়বিদারক বিমান দুর্ঘটনায় দুই ভাইবোনের জীবন চিরতরে থেমে গেছে। তাহিয়া তাবাসসুম নাদিয়া (১৩) ও নাফিজ (৯) নামের তারা, যারা সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী ও প্রাণবন্ত শিশু হিসেবে পরিচিত ছিল, দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকাকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের সন্তান নাদিয়া ও নাফিজ। দুর্ঘটনার সময় তারা দিয়াবাড়ির একটি বিনোদন পার্কে বিমান রাইডে ছিলেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ায় দুই শিশুর শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়। দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়, কিন্তু দীর্ঘ সংগ্রামের পর তারা শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেনি।

শোকস্তব্ধ পরিবার ও আশপাশের মানুষ এই দুর্ঘটনার জন্য নিরাপত্তার অভাব ও অবহেলার দায়ীদের দ্রুত বিচার দাবি করছে। স্থানীয়রা বলছে, “বিনোদনের নামে নিরাপত্তাহীনতা চরম রূপ নিয়েছে, যা অসংখ্য প্রাণকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।”

নাদিয়ার জানাজা ঢাকার কামারপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, ছোট ভাই নাফিজও মারা গেছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই মেধাবী শিশুর প্রাণ হারানো শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আফগানিস্তানে কয়লা খনি ধসে ৬ শ্রমিক নিহত

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় বাগলান এলাকায় কয়লা খনি ধসে ছয় শ্রমিক নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রাদেশিক তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয়ের প্রধান সৈয়দ মুস্তাফা হাশিমি জানান, খনির একটি অংশ হঠাৎ ধসে পড়ার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাগলান এলাকায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও কয়লা খনি ধসে অন্তত ১০ শ্রমিক নিহত হয়েছিল। আফগানিস্তানে কয়লা ছাড়াও মার্বেল, সোনা, লিথিয়ামসহ মূল্যবান খনিজ রয়েছে, কিন্তু খনি সুরক্ষায় তেমন তদারকি না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। শ্রমিকরা সাধারণত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সামাঙ্গান প্রদেশে একটি কয়লা খনি ধসে ২২ শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন, যাদের কিছুক্ষণ পর উদ্ধার করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




প্রধান উপদেষ্টা শুধু বিপদে পড়লেই দলগুলোকে ডেকে আনে: মঞ্জু

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, “প্রধান উপদেষ্টা মাত্র বিপদে পড়লেই রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে বসেন। তবে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি দলগুলোর সঙ্গে ঘনঘন বৈঠক করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”

বুধবার (২৩ জুলাই) যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের পর মজিবুর রহমান এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণে গণঅভ্যুত্থানের অংশীদারদের মধ্যে বিভেদ দেখা দিয়েছে। এই বিভেদেই ফ্যাসিবাদ বারবার সুযোগ পাচ্ছে।”

মঞ্জু আরও উল্লেখ করেন, “উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গতকাল দুই উপদেষ্টাকে আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা এবং সচিবালয়ে বিশৃঙ্খলা সরকারের দুর্বলতা ফুটিয়ে তোলে। এই ধরনের ঘটনা জনগণের মধ্যে উপদেষ্টাদের প্রতি অনাস্থা বাড়িয়েছে।”

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “যদি সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ গঠনে আমরা নির্বাচন অ্যালায়েন্স গড়ার জন্য প্রস্তুত।”

মজিবুর রহমান আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে কি সমান প্রটোকল ও সরকারি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রশ্ন তুলেছি। সরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা তাদের বড় ব্যর্থতা।”

তিনি বলেন, “বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। যদিও এটি গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে এতে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আমতলী-তালতলী সড়কের খানাখন্দে বাড়ছে দুর্ভোগ

বরগুনার উপকূলীয় আমতলী ও তালতলী উপজেলা সংযোগকারী একমাত্র আঞ্চলিক সড়কটির অবস্থা এখন চরম দুঃখদায়ক। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক হাজার হাজার খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে ভরে পরিণত হয়েছে চলাচলের জন্য বিপজ্জনক। বিশেষ করে সড়কের ২৪ কিলোমিটার অংশে ভাঙাচোরা এবং গর্তের কারণে প্রতিদিন ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।

এই বেহাল সড়ক ব্যবহার করে ওই দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র সোনাকাটা ইকোপার্ক ও ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেও যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। বর্তমানে সড়কের অবস্থার অবনতি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সেতু পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার, কড়াইবাড়িয়া বাজার থেকে হরিণবাড়িয়া সেতু পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এবং তালতলী সেতু থেকে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে আছে। প্রতি ২০-৩০ গজ পর পর বড় বড় গর্ত দেখা যায়, যা যান চলাচলে ব্যাপক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। ইট-পাথরের সুরকি উঠে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, ফলে যানবাহনের চাকা আটকে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন অবস্থা, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পর্যটকদের সোনাকাটা ইকোপার্কে যাতায়াত বন্ধ থাকায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে।

তালতলী উপজেলার ব্যবসায়ী মো. শামিম পাটোয়ারী বলেন, “সড়ক যেন হাজারো খানাখন্দের সমাহার। চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে সড়ক খানাখন্দে ভরে থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ মেরামতের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। মোটরসাইকেল চালকরা বলেন, গাড়ি চালানো এখন জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ছাড়া আর কিছু নয়। তারা দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

তালতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, কড়াইবাড়িয়া থেকে হরিণবাড়িয়া পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। আগামী অর্থবছরের প্রথম ধাপে এই অংশের সংস্কার কাজ শুরু হবে। এছাড়া, তালতলী থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত অংশ দ্বিতীয় ধাপে সংস্কার করা হবে।

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী জানান, মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কও খানাখন্দে পরিপূর্ণ। এটি আসন্ন বাজেটে সংস্কারের জন্য প্রস্তাব করা হবে।

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, সড়কটির দুরবস্থার কথা আমরা জানি। ২৪ কিলোমিটার অংশ একসঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব না হলেও আগামী অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে সংস্কার কাজ শুরু হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশাল সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল কারাগারে

বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার (২৩ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল রাতে সাড়ে ১০টার দিকে নগরের জিলা স্কুল মোড় এলাকা থেকে মনিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, ৫ আগস্টের পর ঘটে যাওয়া একাধিক মামলার আসামি মনিরুল। ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে এসব মামলা দায়ের হয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মনিরুল আত্মগোপনে ছিলেন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আজ আদালতে পাঠানোর পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




সাগরে ৪ দিন ভেসে থাকা ১৮ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী

বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ১৮ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূল থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে টহলের সময় তাদের উদ্ধার করা হয়। ‘হাবিবা’ নামের ট্রলারটি ভোলার মনপুরা থেকে মাছ ধরতে গিয়েছিল। ইঞ্জিন বিকলের কারণে চার দিন ধরে ট্রলারটি সমুদ্রে ভাসছিল। খাবার ও বিশুদ্ধ পানি ফুরিয়ে পড়ার কারণে জেলেরা বিপাকে ছিল।

নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘শহীদ ফরিদ’ ট্রলারটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিপদের সংকেত দেওয়া জেলেদের উদ্ধার করতে দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। নৌবাহিনীর সদস্যরা জরুরি খাবার ও পানি সরবরাহ করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ট্রলারসহ নিরাপদে কুতুবদিয়া এলাকায় পৌঁছে দেন।

চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া ১৮ জন জেলে সুস্থ আছেন এবং তারা নিজেদের প্রাণ রক্ষা হওয়ায় নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 




“সাম্প্রতিক অপতৎপরতা উদ্বেগজনক” — প্রধান উপদেষ্টার কণ্ঠে শঙ্কা ও সতর্কতা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর না যেতেই পরাজিত শক্তির নানা ষড়যন্ত্রের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।”

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল অতীতকে স্মরণ করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলা, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দৃশ্যমান একতা প্রতিষ্ঠা করত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অপতৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরাজিত শক্তিগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করা। তা না হলে ষড়যন্ত্রকারীরা এটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখবে।”

বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ও গণঐক্য ধরে রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টাকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনের আগে নিয়মিত সর্বদলীয় সভার আয়োজনের প্রস্তাব দেন। তাদের মতে, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমন্বয় প্রয়োজনীয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির মজিবুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জেএসডির তানিয়া রব, ১২ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণফোরামের মিজানুর রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।