বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় সংগ্রহ গড়লো পাকিস্তান: হোয়াইট ওয়াশ করতে পারবে কি টাইগাররা? 

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চিত্রটা এবার ভিন্ন। প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটারদের চাপে রেখেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে বদলে গেছে দৃশ্যপট। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় সফরকারীরা। ইনিংসের মূল নায়ক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান, যিনি ৪১ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কার মার। পাওয়ার প্লের মধ্যেই পাকিস্তান বিনা উইকেটে তোলে ৫৭ রান, যেখানে ফারহানই ছিলেন মূল চালক।

পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। ইনিংসের অষ্টম ওভারে সায়িম আইয়ুবকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। সায়িম করেন ১৫ বলে ২১ রান। এরপর দ্রুত উইকেট হারালেও, মিডল ওভারে হাসান নাওয়াজ (১৭ বলে ৩৩) ও মোহাম্মদ নাওয়াজ (১৬ বলে ২৭) গুরুত্বপূর্ণ রানে অবদান রাখেন।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। নাসুম আহমেদ পান ২টি উইকেট। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন শিকার করেন একটি করে উইকেট।

এই লক্ষ্য তাড়া করতে হলে ব্যাটারদেরকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে—বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে সতর্কতা ও মিডল ওভারে ধৈর্য ধরে খেলাই হতে পারে বাংলাদেশের জয়ের চাবিকাঠি। ম্যাচ এখন ব্যাটারদের কাঁধে।




আন্দোলন দমন করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ: হাসিনার ফোনালাপ ফাঁস

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন—এমন দাবি করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। তাদের ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট (আই-ইউনিট) শেখ হাসিনার একাধিক ফোনালাপ ফাঁস করে বলেছে, এসব নির্দেশ তিনি প্রকাশ্যেই দিয়েছিলেন এবং ফোনালাপে তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে যে কোনো স্থানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আদেশ দিয়েছি। এখন তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে, যেখানেই পাবে গুলি চালাবে।”

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে ওই সময়কার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

যদিও সরকার পক্ষ এই অডিওর সত্যতা অস্বীকার করেছে, আল জাজিরার দাবি—ফোনালাপগুলো ফরেনসিকভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি নয় বলেই বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন। ভয়েস-ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তও করা হয়েছে।

আল জাজিরা আরও জানায়, আন্দোলনের সময় চিকিৎসকরা বিক্ষোভকারীদের শরীরে অস্বাভাবিক গুলির ক্ষত দেখতে পান। রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাবির শরীফ জানান, “হেলিকপ্টার থেকে হাসপাতালের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।”

রংপুরে আন্দোলনকারী আবু সাঈদের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তনের চাপের কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়, পুলিশের চাপে এক চিকিৎসককে পাঁচবার রিপোর্ট বদলাতে বাধ্য করা হয়।

আসন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনার এসব ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা ও তার দুই ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী আগস্টে বিচার শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

আল জাজিরার দাবি, শেখ হাসিনা নিজেও জানতেন তার ফোনালাপ রেকর্ড হচ্ছে। এক জায়গায় তাকে বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ, আমি জানি, রেকর্ড হচ্ছে। কোনো সমস্যা নেই।”

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “তিনি (হাসিনা) অন্যদের জন্য গর্ত খুঁড়েছিলেন, এখন নিজেই তাতে পড়ে গেছেন।”

তবে আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শেখ হাসিনা কখনও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি। ফোনালাপগুলো বিকৃত বা খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়েছে।”

২০২৪ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যান বলে দাবি করেছে আল জাজিরা।




খায়রুল হকের হঠকারী রায়ে অপকর্মের লাইসেন্স পেয়েছিল রাজনৈতিক চক্র: জামায়াত আমির

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, খায়রুল হকের দেওয়া হঠকারী রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক মাফিয়াদের গুম, খুন ও লুণ্ঠনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির নিজ বাসা থেকে খায়রুল হককে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করার পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।

দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির লিখেন, “খায়রুল হক ফ্যাসিস্ট আমলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দায়িত্বের মর্যাদা বোঝেননি, বরং দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন চেয়ারে বসে জাতির বিরাট ক্ষতি করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তার হঠকারী রায়ের মধ্য দিয়েই গুম, খুন, লুণ্ঠনসহ সকল অপকর্মের লাইসেন্স তুলে দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক চক্রের হাতে।”

ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেরিতে হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে, যা জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, “এখন জাতি চায় তার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং তার কর্মের জন্য ইতিহাসসম্মত ন্যায্য শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা ন্যায়বিচার ছাড়া কিছু প্রত্যাশা করি না।”

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল-সংক্রান্ত আলোচিত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে দোষারোপের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি পদক্ষেপ নিয়েছে।




খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ: মির্জা ফখরুল

বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দেরিতে হলেও সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে—এ উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিচারপতি খায়রুল হক বাংলাদেশের একজন বড় শত্রু। তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দেশের বিরুদ্ধেই কাজ করেছেন। তিনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, রাষ্ট্রের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের যে সংক্ষিপ্ত রায় তিনি দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ রায়ের আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল। আমরা মনে করি, এই রায় রাষ্ট্রবিরোধী ছিল।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “যদিও দেরিতে, তবু সরকারের পক্ষ থেকে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, তার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত ও বিচারকার্য সম্পন্ন হবে।”

বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত না জানানো হলেও বিএনপির বক্তব্যে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।




সরকারি আদেশ অমান্যে বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তির বিধান: নতুন অধ্যাদেশ জারি

সরকারি আদেশ, পরিপত্র বা নির্দেশনা অমান্য করলে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে—এমন বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন বলে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বৈধ আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করেন, বাস্তবায়নে বাধা দেন বা অন্যদের প্ররোচিত করেন, তাহলে তা হবে সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ। এছাড়া ছুটি বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা, সমবেতভাবে কর্মবিরতি পালন বা অন্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াও একই অপরাধের আওতায় পড়বে।

এ ধরনের অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তি দেওয়া যাবে।

অভিযোগ ওঠার পর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ৭ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্তকে নোটিশ দেবে এবং সে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক কি না তা জানতে চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর বা না পেলেও তিন দিনের মধ্যে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযুক্ত কর্মচারীর চেয়ে জ্যেষ্ঠদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নারী হলে অবশ্যই একজন নারী সদস্য রাখতে হবে।

তদন্ত কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে একবারের জন্য আরও ৭ দিন সময় বাড়ানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না দিলে সেটি কমিটির অদক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

তদন্ত শেষে অভিযুক্তকে শাস্তির বিষয় জানিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর দণ্ড আরোপ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না। এক্ষেত্রে কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।

নতুন অধ্যাদেশটি সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




রাশিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ৪৯ আরোহীর সকলেই নিহত

রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ৪৯ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা পোড়া ধ্বংসাবশেষের একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটি দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত একটি আট সেকেন্ডের ভিডিওতে গভীর জঙ্গলের মধ্যে ঘন ধোঁয়ায় মোড়ানো বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

বিধ্বস্ত বিমানটি সাইবেরিয়াভিত্তিক ‘আঙ্গারা’ এয়ারলাইন্স পরিচালিত আনটোনভ-২৪ মডেলের একটি যাত্রীবাহী বিমান। এটি ব্লাগোভেশচেনস্ক শহর থেকে উড্ডয়ন করে চীনের সীমান্তবর্তী টাইন্দা শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। মাঝপথে বিমানটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাসিলি অরলভ জানান, বিমানে ৫ শিশুসহ ৪৩ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু ছিলেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সকল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।

নিখোঁজ বিমানের খোঁজে তল্লাশির সময় আমুর অঞ্চলের একটি দুর্গম বনাঞ্চলে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। দেখা যায়, ফিউসেলাজে আগুন জ্বলছিল।

পরে জরুরি বিভাগের হেলিকপ্টার ও রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ একাধিক উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তবে এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।




অসুস্থ খালেদা জিয়া, রাতেই এভারকেয়ারে নেওয়া হচ্ছে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে তাকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বসুন্ধরার এ হাসপাতালে নেওয়ার কথা রয়েছে।

চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তত্ত্বাবধান করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল।

তবে হাসপাতালমুখী হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এখনো জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির খান।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য অবনতি হয়েছে। তাই সতর্কতামূলকভাবে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে রাতেই বাসায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। সময়-সময়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চলতি বছরেই লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন তিনি।




মানবিকতার প্রতীক মাহেরীনের প্রতি বিমান বাহিনীর সম্মান

উত্তরার মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বুধবার (২৩ জুলাই) নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার বগুলাগাড়ী গ্রামে তার কবরস্থানে এ ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এ সময় তারা মাহেরীনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে মাহেরীনের আত্মত্যাগকে “মানবিকতা, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত” হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতির স্মৃতিতে চিরকাল গর্বের সঙ্গে রয়ে যাবে।

গত সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালে পাশের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় ভবনে। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও মাহেরীন চৌধুরী তখনও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সচেষ্ট ছিলেন।

তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই আগুনে আটকে পড়েন এবং দগ্ধ হন শরীরের অধিকাংশ অংশে। গুরুতর অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পর সেদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়




‘রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতা নয়, সমন্বিত নির্বাচন কমিশন গঠন’—এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির একক নিয়োগ ক্ষমতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির দাবি, নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া যেন একচ্ছত্রভাবে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে না হয়, বরং একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৮তম দিন শেষে এসব কথা বলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “একসময় ফ্যাসিবাদী প্রক্রিয়ায় আইন করে রাষ্ট্রপতির হাতে একক নিয়োগ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন গঠনের মতো একটি প্রক্রিয়া আর একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চলবে না।”

আখতার হোসেন জানান, সংলাপে একটি পাঁচ সদস্যের সিলেকশন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি থাকবেন। এই কমিটি সর্বসম্মতভাবে নির্বাচন কমিশনারদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে এবং রাষ্ট্রপতি সেই সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনারদের জবাবদিহিতার জন্য কোনো স্পষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শূন্যতা ছিল। এ ঘাটতি পূরণে নতুন আইন প্রণয়নের ব্যাপারে আজকের বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। এছাড়া এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জোরালোভাবে তোলা হয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, “আইন থাকলে তা যেকোনো সরকার সহজেই পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকলে এমন একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সহজ হবে না।”

বিএনপির অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি চায় এই প্রক্রিয়াগুলো আইন দ্বারা চলুক, তবে এনসিপির মতে, কেবল আইনের ওপর নির্ভর করলে তা স্থায়ী হবে না।

সংলাপের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো মৌলিক সংস্কার থেকে পিছু না হটে, তবে জুলাইয়ের মধ্যেই জাতীয় সনদ প্রণয়ন সম্ভব। তবে সংস্কার পাশ কাটিয়ে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করতে চাইলে এনসিপি এই প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করবে।”

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত জনপ্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সরকার নিয়ে আলোচনা হয়নি, অথচ এই তিনটি খাত ছাড়া টেকসই কোনো সংস্কার সম্ভব নয়। এনসিপি আজ প্রস্তাব দিয়েছে যাতে এই বিষয়গুলোও আলোচনা এজেন্ডায় যুক্ত হয়।




সংলাপ থেকে সিপিবি-বাসদ-জাসদের প্রতীকী ওয়াকআউট, অভিযোগ পুলিশের হামলা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ থেকে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশের তিনটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল—সিপিবি, বাসদ ও বাংলাদেশ জাসদ। বুধবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার কিছু পর অনুষ্ঠিত সংলাপে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘হামলার’ প্রতিবাদে দল তিনটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।

ওয়াকআউটকারী দলগুলোর অভিযোগ, মাইলস্টোনের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলা হয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ১০ মিনিটের প্রতীকী ওয়াকআউট করে সংলাপ থেকে বেরিয়ে যান।

সংলাপে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “অতীতে স্বৈরাচারী শাসকরা যেভাবে বিরোধী মত দমন করত, এখনো তেমন দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি। স্বৈরাচারীদের ষড়যন্ত্র আমরা জানি। অতীতে শেখ হাসিনাও এমন পরিস্থিতিতে ঐক্যের ডাক দিতেন—আজও একই চিত্র। এ অবস্থায় আলোচনায় থাকা সম্ভব নয়।”

তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে ওয়াকআউট করেন জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।

ওয়াকআউটের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “তিনটি দলের প্রতীকী প্রতিবাদকে আমরা রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বাগত জানাই। তাদের বক্তব্য জাতির সামনে এসেছে। সরকার নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে।”

উল্লেখ্য, বুধবারের সংলাপ সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, সূচনা বক্তব্য দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।