ত্রাণ ও মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের কঠোর বার্তা: গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি

গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক বিপর্যয়কে “অবর্ণনীয় ও অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, “গাজার জনগণের দুর্ভোগের যে মাত্রা, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।” বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

স্টারমার বলেন, “এই সংকট বহুদিন ধরেই চলছিল, তবে বর্তমানে এটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আমরা এক অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হচ্ছি।”

তিনি জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করবেন তিনি। আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে—নিহতের সংখ্যা কমানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজায় প্রতিদিনই বহু ফিলিস্তিনি ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় গঠিত বিতর্কিত ত্রাণ ব্যবস্থাপনা সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) কার্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে খাদ্য ও ওষুধ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, গাজার অন্তত এক-চতুর্থাংশ মানুষ বর্তমানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত সোমবার যুক্তরাজ্যসহ ২৮টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে ত্রাণ সরবরাহে সবধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তারা অভিযোগ করে, ইসরায়েলের ত্রাণ নীতিমালা “বিপজ্জনক” এবং তা গাজাবাসীদের মানবিক মর্যাদাকে পদদলিত করছে।

ব্রিটিশ লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন এমপি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেন এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য তখনই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রের অধিকার মৌলিক ও অপরিবর্তনযোগ্য। যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নই হবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রথম ধাপ।”

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে স্টারমার ইসরায়েলকে “পথ পরিবর্তনের” আহ্বান জানান এবং হামাসের হাতে আটক সকল জিম্মির শর্তহীন মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে, একই দিনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, সেপ্টেম্বরেই ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। অন্যদিকে, কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রতিনিধি দল সরিয়ে নিয়েছে, ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন মানবিক বিপর্যয়ের দিকেই এগোচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।




ফিলিস্তিনকে সেপ্টেম্বরে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক ঘোষণা

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ফরাসি সময় রাত সাড়ে ৯টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক (এক্স) পেজে পোস্ট করা বিবৃতিতে ম্যাক্রোঁ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি—ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা করা।” শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি গুরুত্বারোপ করে ম্যাক্রোঁ জানান, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, সব জিম্মির মুক্তি এবং বৃহৎ পরিসরে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনই এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে, যা নিরস্ত্রীকরণের পথ অনুসরণ করবে, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তায় অবদান রাখবে।”

এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ফরাসি জনগণ শান্তি চায়। এ লক্ষ্যে ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

ম্যাক্রোঁ আরও জানান, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি। শান্তি অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের দরকার বিশ্বাস, স্বচ্ছতা ও অঙ্গীকার—এই চেতনায় আমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।”




গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু ছাড়াল ৫৯ হাজার, একদিনেই নিহত ৮৯

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৫৮৬ জনে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫৩ জন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, বাস্তুচ্যুতদের উপর পরিচালিত এ আক্রমণকে ‘গণহত্যামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা আরও জানিয়েছে, এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বা রাস্তায় পড়েছেন, যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ সময়ের মধ্যে আরও ২৭৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়েও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত শুধু ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৮৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ২৭৫ জনেরও বেশি।

চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরু করলে জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে নতুন করে নিহত হয়েছেন আরও ৮ হাজার ৪৪৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৩১ হাজার ৪৫৭ জন।

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনি প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলেছে। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে।

এছাড়াও, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কাতারে শান্তি আলোচনার জন্য নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের ফিরিয়ে এনেছে তেল আবিব, এবং পশ্চিম তীর দখলের প্রতীকী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট। একইসঙ্গে, আগামী সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও সেখানে যুদ্ধ ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে।




ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ; তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় থাকবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইনি—এ ধরনের কথা কখনও আমি বা সরকারের কেউ বলেনি।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের চিকিৎসায় ভারত থেকে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম ঢাকায় আসে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক চাই। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—গুড ওয়ার্কিং রিলেশন।”

তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ভারতসহ যেসব দেশ চিকিৎসা সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বার্ন ইউনিটের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা ভারতের টিমকে তথ্য দিয়েছি। তারা দুইজন চিকিৎসক ও একজন নার্স পাঠিয়েছে। তাদের সেবার প্রতি আমরা সম্মান দেখাচ্ছি।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “মানুষে-মানুষে সম্পর্ক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার কখনও এমন কিছু করেনি যাতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। একইসঙ্গে আমরা কারও ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলও হইনি। সবসময়ই দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।”

পররাষ্ট্রনীতিতে বর্তমান সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, তবে সেটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সুদৃঢ় সহযোগিতার ভিত্তিতে।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের আগে মো. তৌহিদ হোসেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ বিষয়ে তিনি জানান, “ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমবেদনা জানাতে ফোন করেছিলেন। এটি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ।”




আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শাসনামলে সকল নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, চব্বিশে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগের ১৫ বছরে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্তও করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েটের শহীদ শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবার। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন আবরারের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় জানিয়েছে, এ সময় আবরার ফাহাদের পরিবার ২০০৯ সালের পর থেকে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহতদের তালিকা তৈরি ও প্রত্যেকটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বলেন, “দেশের স্বার্থে কথা বলার কারণে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে অসম পানি বণ্টনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। তার মা এখনো ছেলের শোকে কাঁদেন। আমরা চাই না আর কোনো মা সন্তানের মৃত্যু দেখতে পাক।”

তিনি কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে সরকারি উদ্যোগ চেয়েছেন, যাতে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায়।

শিক্ষা খাতের দুরবস্থা তুলে ধরেন আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। ল্যাব, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।”
তিনি বুয়েটে র‍্যাগিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং অতীতের নির্যাতনের ঘটনাগুলোরও তদন্ত দাবি করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এর সুষ্ঠু বিচার অবশ্যই সম্পন্ন হবে। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের দলীয় সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিষয়েও তদন্ত কাজ চলছে এবং সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন ঢাকায় চালুর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, মিশনের কার্যক্রম দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না এবং এটি একটি দীর্ঘ আলোচনার ফল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা নিজেরা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে না। দুই বছর পর অফিস স্থাপনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যাবে এবং চাইলে ছয় মাসের নোটিশে অপসারণও সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘের প্রস্তাব পাওয়ার পরপরই কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়নি। বিষয়টি দীর্ঘ সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।”

এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই অববাহিকার অনেক নদী আমাদের উৎসভূমিতে নয়, সুতরাং চীনে অবকাঠামো স্থাপনে আমরা বাধা দিতে পারি না। তবে চেষ্টা থাকবে যেন আমাদের ক্ষতি না হয় বা ক্ষতি সীমিত থাকে।”

তিনি জানান, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন যে, হাইড্রো পাওয়ার প্রকল্পটি এমন প্রযুক্তিতে নির্মিত যাতে পানি প্রত্যাহার হবে না।

শুল্ক প্রত্যাহার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, “আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। যারা আলোচনা করছেন, তারাই এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন। মাঝপথে আমার কিছু বলা সমীচীন নয়।”




‘মাইলস্টোন দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ’: এনসিপি নেতা হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাকেও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই মাইলস্টোনের শোককেই রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ফের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চাইছে আওয়ামী লীগ। দেশের স্বার্থে সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে এনসিপির পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “দেশের জনগণ আজ রাস্তায় মরছে, হাসপাতালে মরছে, দুর্ঘটনায় মরছে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই। আমরা চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমন ভঙ্গুর কেন? একজন ইংরেজি অনার্সধারী ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, এখন বাংলা অনার্সধারী। একজন দক্ষ চিকিৎসক কি এদেশে ছিল না, যাকে দিয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালনা করা যেত?”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে জনগণের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা অগ্রাধিকার পাবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ হোসেন, সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি ও অন্যান্য নেতারা।

এর আগে, দুপুর পৌনে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলগেট এলাকা থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু করে জেলা শহর প্রদক্ষিণ করেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হোয়াইটওয়াশ হাতছাড়া বাংলাদেশের, সম্মান বাঁচল পাকিস্তানের

সিরিজ আগেই জয় নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন ছিল লিটন দাসের দলে। তবে শেষ ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তান ৭৪ রানে বড় জয় নিয়ে সম্মান রক্ষা করেছে। সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হলেও প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ।

টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তান ব্যাট করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতে উদ্বোধনী জুটি সাইম আইয়ুব (২১) ও সাহিবজাদা ফারহান (৬৩) দারুণ শুরু দেন। পাওয়ারপ্লেতে ৫৭ রান গড়ায় তারা, ওপেনিং জুটিতে যোগ করে ৮২ রান। এরপর ব্যাটিংয়ে গতি হারায় পাকিস্তান। চারে নামা হাসান নওয়াজ ঝড়ো ৩৩ রান করেন। শেষদিকে মোহাম্মদ নওয়াজ ২৭ এবং সালমান আলী আঘা ১২* রান করে দলকে ১৭৮/৭ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৩ উইকেট নেন, নাসুম আহমেদ ২ উইকেট এবং শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১ করে উইকেট নেন।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েন টাইগাররা। মাত্র ২ বল খেলে তানজিদ হাসান ফেরেন। অধিনায়ক লিটন দাস ৮ বলে ৮ রান করে আউট হন। এরপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ৬ ওভারের মধ্যে ৫ উইকেট পড়ে মাত্র ২৯ রান করে টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত সব উইকেট হারিয়ে ১৬.৪ ওভারে ১০৪ রানে থামে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের পক্ষে সালমান মির্জা ৩ উইকেট নেন।

বাংলাদেশ টানা ৪ জয় কাটিয়ে হোয়াইটওয়াশ হাতছাড়া করলো। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সাহিবজাদা ফারহান। সিরিজসেরা হয়েছেন জাকের আলি অনিক।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৭৮/৭ (ফারহান ৬৩, সাইম ২১, হাসান নওয়াজ ৩৩, মোহাম্মদ নওয়াজ ২৭, সালমান ১২*, তাসকিন ৩/৩৮, নাসুম ২/২২)

বাংলাদেশ: ১৬.৪ ওভারে ১০৪ (লিটন ৮, তানজিদ ০, সাইফউদ্দিন ৩৫*, সালমান মির্জা ৩/১৯)

 




চাঁদাবাজি-লুটপাট নয়, মাটি ও মানুষের পাশে থাকতে চাই: মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী বলেছেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা দলগুলো কখনও এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট বুঝতে চায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি নয়, বরং মাটি ও মানুষের পাশে থাকতে চান তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পথযাত্রা ও পথসভায় অংশ নিয়ে মাওলানা মিজানুর রহমান কাসেমী বলেন, ‘একদল লুটপাট করে ৫ আগস্টের পর পালিয়ে গেছে, আরেক দল নিরীহ মানুষকে মামলার ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা হেভিওয়েট নেতার নাম ভাঙিয়ে দোকান-দোকানে চাঁদাবাজি করছে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছি এবং পাথরঘাটায় কোনো চাঁদাবাজি হতে দেব না। ব্যবসায়ী ও ভাইদের আমরা পাহারা দেব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমি চরমোনাই পীরের শিষ্য। আমরা রাজনীতি করি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে ইনশাআল্লাহ, হাতপাখা বিজয় অর্জন করবে এবং এই জনপদের উন্নয়ন কেউ থামাতে পারবে না।’

এ সময় স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মী, ধর্মপ্রাণ যুবক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মাইলস্টোন আহতদের বিদেশে চিকিৎসার উদ্যোগ নিচ্ছেন তৌহিদ আফ্রিদী

সমাজসেবায় নিজেকে নিবেদিত বাংলাদেশের শীর্ষ ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদী মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সেভাবে ভালো নেই, শোনছি ছোট ছোট শিশুদের কান্নার আওয়াজ, অনেক মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। আমি নিজেও এই শোকে মন বসাতে পারছি না। তবে বসে থাকলে হবে না, তাই আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াব।’

তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে যারা ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠাতে হলে আমি এবং আমার বন্ধুরা মিলে সাধ্যমতো তাদের দায়িত্ব নিতে চাই। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

আফ্রিদী অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করেন, ‘যারা সত্যিই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন, তাদের অভিভাবকরা আমার ফেসবুক পেজে ইনবক্স করুন। আমি নিজে ফলোআপ রাখব এবং যোগাযোগ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনও রাজনৈতিক কথাবার্তা বলছি না, প্রত্যেকে নিজের মতো করে সাহায্য করুন। যারা এই দুর্ঘটনার শুরু থেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। যারা অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহে কাজ করছেন, তাদের জন্য আমরা সবসময় পাশে আছি। আমাদের মাই টিভি পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫