তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়া ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

মনোনয়ন বাতিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডা. তাসনিম জারা জানান, তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। তার দাবি, ইচ্ছাকৃত কোনো অনিয়ম নয়, বরং স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর নিয়ে যে আপত্তি তোলা হয়েছে, সেটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি থেকে এসেছে। তিনি জানান, একজন স্বাক্ষরকারী জানতেন তিনি ঢাকা-৯ আসনের ভোটার, তবে বাস্তবে তিনি যে এই আসনের ভোটার নন, সেটি জানার মতো কোনো সুযোগ তার ছিল না।

অন্য স্বাক্ষরকারীর ক্ষেত্রে জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিতে তাকে ঢাকা-৯ আসনের ভোটার হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রকৃতপক্ষে এই আসনের ভোটার নন। এই অসামঞ্জস্যতার কারণেই মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

তাসনিম জারা আরও বলেন, স্বাক্ষরকারীরা উভয়েই ধারণা করেছিলেন তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার এবং সেই বিশ্বাস থেকেই তারা স্বাক্ষর দিয়েছেন। এখানে কোনো ধরনের প্রতারণা বা গোপন উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটাররা কোন সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত তা সহজে জানার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সাধারণ মানুষ এ ধরনের বিভ্রান্তিতে পড়ছে।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডা. তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতার প্রেক্ষাপটেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আপিলের পর নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইপিএল থেকে বাদ মুস্তাফিজ

আলোচনা, সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের টানা উত্তাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চাইলে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

গোহাটিতে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কেকেআর কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা চাইলে মুস্তাফিজের পরিবর্তে অন্য খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে এবং সে ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে আলোচনার পর থেকেই কলকাতা নাইট রাইডার্স ও মুস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এর প্রভাব পড়ে আসন্ন ২০২৬ আইপিএলে তার অংশগ্রহণ নিয়েও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাপ তৈরি হয়।

এর আগে ভারতের ধর্মীয় আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর প্রকাশ্যে মন্তব্য করে কেকেআর ব্যবস্থাপনাকে ওই ক্রিকেটারকে দল থেকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সময় বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খানকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এবং মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় নিরুপমও শাহরুখ খানের কাছে আবেদন জানান, যাতে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এই বিতর্কের পেছনে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও আলোচনায় আসে। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে এক পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনের একাংশকে নাড়া দেয়। এসব ঘটনার জেরে ভারতের বিভিন্ন মহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল, সর্বশেষ আইপিএল নিলামে বাংলাদেশ থেকে সাতজন ক্রিকেটারের নাম উঠলেও দল পান কেবল মুস্তাফিজুর রহমান। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স, যা আইপিএলের ইতিহাসে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ মূল্য। ফলে তাকে ঘিরে আলোচনাও ছিল তুলনামূলক বেশি।

এর আগে বিসিসিআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মুস্তাফিজের বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করছেন। এমনকি কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব ক্রিকেটে পড়বে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, মুস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে অভিষেক হয় মুস্তাফিজুর রহমানের। এরপর তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে খেলেছেন। আইপিএলে এখন পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে তার শিকার ৬৫ উইকেট। চলতি মৌসুমে তাকে নতুন করে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কেকেআরের হয়ে মাঠে নামা হলো না তার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামায়াত আমির ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত

চন্দ্রদ্বীপনিউজ :বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের প্রতিনিধি দল সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন,

বেগম জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন ভূমিকা রেখেছেন।

ইতিহাসে তিনি বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যা তার প্রাপ্য ছিল।

জাতির জন্য অবদান রাখলে সবার জন্যই এমন সম্মান অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামীর রাজনীতি ও সরকার গঠন প্রসঙ্গে  জানতে চাওয়া হলে ,  জামায়াত আমির বলেন, দেশে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় নির্বাচনের পর এবং সরকার গঠনের আগে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, সে বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের আগেই আবারও বৈঠকে বসার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠন ও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ গঠনে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা দেন।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।




খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন ৩২টি দেশের কূটনীতিকরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রি দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কুটনৈতিক ,রাস্ট্রদুত ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা  যোগ দেন।

জানাজায় অংশ নেয়া  কূটনীতিকদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মেগান বোল্ডিন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ অন্তত ৩২ জন কূটনীতিক ও প্রতিনিধি।

এছাড়া রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত একাতেরিনা সেমেনোভা, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা সিনচি, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো সিগফ্রিড রেংলিও জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

নেদারল্যান্ডস, লিবিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, ইতালি, সুইডেন, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, নরওয়ে, ব্রাজিল, মরক্কো, ইরান, আলজেরিয়া, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, কাতার, ডেনমার্ক ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

কূটনীতিকদের পাশাপাশি বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সিমোন লসন পার্চমেন্টও জানাজায় অংশ নেন।




জনস্রোতে শেষ বিদায়

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এই জানাজা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক শোকাবহ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে এবং পুরো এলাকা পরিণত হয় শোকের জনসমুদ্রে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়াও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা জানাজায় অংশ নেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকায় ছুটে আসেন। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও এই জানাজায় অংশ নিয়ে প্রিয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, মুখে ছিল গভীর শোক আর ভালোবাসার প্রকাশ।

জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। এ সময় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপিও দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব আজ স্মরণ করছেন সর্বস্তরের মানুষ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মানিক মিয়ায় জনস্রোত

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকার আশপাশে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে, পুরো এলাকা পরিণত হয় শোকাবহ জনসমুদ্রে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা জেলা থেকে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে ছুটে আসেন। দুপুর ২টায় এখানে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ বিদায়ে অংশ নিতে মানুষের আগমন থামছেই না।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, জানাজা চলাকালে যানজট এড়াতে কোনো যানবাহনকে মিরপুর সড়ক ব্যবহার করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় প্রবেশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আড়ং সংলগ্ন প্রধান প্রবেশপথটি সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে একাধিক রাস্তা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে করে শোকাহত মানুষ নির্বিঘ্নে জানাজাস্থলে পৌঁছাতে পারেন। খামারবাড়ি ও বিজয় সরণি এলাকার সড়কগুলো দিয়ে মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের দলে দলে জানাজাস্থলে উপস্থিত হতে দেখা যায়। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা, আবার কেউ কেউ কালো পতাকা হাতে শোক প্রকাশ করেন। চারপাশে শোনা যায় শোকের স্লোগান ও দোয়ার ধ্বনি।

চট্টগ্রাম থেকে আসা আবুল কালাম জানান, প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন ছিল সংগ্রাম আর আপসহীনতার প্রতীক। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি নীতি থেকে সরে যাননি। এমন নেত্রীর কর্মী হতে পেরে আমরা গর্বিত।

যশোর থেকে আসা কবির খান বলেন, আজ লাখো মানুষ এখানে জড়ো হয়েছে, যা প্রমাণ করে বেগম জিয়া কতটা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে খালেদা জিয়া চিরকাল মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন।

খালেদা জিয়ার জানাজাকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। মানুষের চোখে-মুখে ছিল প্রিয় নেত্রীকে হারানোর বেদনা, আবার তার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই জনসমাগমে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে প্রধান উপদেষ্টা

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শোকাবহ পরিবেশে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নেওয়া হয়। এর আগে সকাল থেকেই সেখানে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষবারের মতো তাকে বিদায় জানাতে জড়ো হন।

খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আব্দুল মালেক। জানাজা শুরুর আগে পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবন থেকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। তারও আগে সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ওই বাসভবনে পৌঁছায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও নিকটজনরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।

জানাজা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর চিরবিদায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও আবেগ লক্ষ্য করা গেছে।

খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ ঢাকায় উপস্থিত হন ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা। বিদেশি প্রতিনিধিদের এই উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার রাজনৈতিক গুরুত্বের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার জানাজা ও দাফনকে ঘিরে পুরো রাজধানীতে শোকের আবহ বিরাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে সারাদেশ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতাকর্মীর ঢল

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে  ও তার জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার আসছেন বিএনপির শোকার্ত  নেতাকর্মীরা।

অনেক নেতাকর্মী মঙ্গলবার (৩০ডিসেম্বর) দুপুরের পর থেকেই রওনা দিতে শুরু করেন ।শেষবারের মতো খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার আশায় নেতাকর্মীরা যে যার মতো গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেন।ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে নেতাকর্মীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পথে রওনা দেবেন বলে জানা গেছে। সরজমিনে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে সবার মুখে মলিনতার ছাপ। তাছাড়া, দলীয় কার্যালয়গুলোতে শোক আর শূন্যতা বিরাজ করছে। কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব জানাজার নামাজ পড়াবেন। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।




শেষবারের মতো ‘ফিরোজায়’ নেওয়া হচ্ছে খালেদা জিয়ার মরদেহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ আজ বুধবার সকাল ৯টার একটু আগে বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে করে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের করে  তাঁর বাসভবন ‘ফিরোজায়’নেওয়া হচ্ছে । সেখানে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন স্বজন ও দলীয় নেতা কর্মীরা।

পরে তাঁকে জানাজার জন্য নেওয়া হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে।

বুধবার বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।




মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের জানাজার প্রস্তুতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :জন্মিলে মরিতে হবে এটাই নিয়ম । কিন্তু যে মৃত্যু সারাদেশ কে নাড়া দেয় মানুষকে আবেগতাড়িত করে এমন মৃত্যু কতো জন পায়,দেশ আজ তেমনি এক মহিয়সীকে বিদায় জানাতে সমবেত হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যেখানে বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, বুধবার জানাজার সময় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার বদলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন রাখা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বস্তরের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে সম্মান জানাতে পারেন এবং তাঁর জানাজায় অংশ নিতে পারেন সে জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করছে নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সব দপ্তর। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের চারপাশের সড়কগুলোতেও যেন সাধারণ মানুষ অবস্থান করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানাজার পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। এ সময় খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত এবং বিএনপি মনোনীত রাজনীতিকেরা উপস্থিত থাকবেন।

খালেদা জিয়ার দাফন নির্বিঘ্নে শেষ করার জন্য জিয়া উদ্যানে নির্ধারিত ব্যক্তিদের ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাফন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হবে।