পটুয়াখালী-৪ এ চমক: জামায়াত জোটের প্রার্থী সাবেক আ.লীগ উপদেষ্টা!

রাজনীতিতে দল বদল নতুন নয়। তবে কখনো কখনো সেই পরিবর্তন এতটাই দ্রুত ও জটিল হয়ে ওঠে যে, প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে ঠিক এমনই এক বিতর্কের কেন্দ্রে এখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ।

খেলাফত মজলিসের মনোনয়নে জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামা ডা. জহির একসময় রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময়েই তাঁর নাম যুক্ত হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে। যদিও বর্তমানে তিনি দাবি করছেন—তিনি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকা ভিডিও, ছবি ও একাধিক সূত্র বলছে ভিন্ন কথা।

১৯ ভোটে উত্থান, রাজনীতিতে দৃশ্যমানতা

২০১৯ সালের পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দোয়াতকলম প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন ডা. জহির উদ্দিন। ওই জয়ের পরই স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘প্রভাবশালী স্বতন্ত্র’ হিসেবে।

২০২৪ সালের ষষ্ঠ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। নির্বাচন চলাকালেই ৩ মে তাঁকে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা আসে। এর কিছুদিন পর তিনি নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

ঘোষণা, ছবি ও ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, তৎকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিবের নির্দেশে ডা. জহিরকে উপদেষ্টা করার লিখিত ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন শীর্ষ নেতা বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তাঁর আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ছবি ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগের একান্ত বৈঠকের ছবিও তখন আলোচনায় আসে। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী মহিবের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

৫ আগস্টের পর নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডা. জহির প্রথমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন। কিছুদিনের মধ্যেই দলটি ছাড়িয়ে যুক্ত হন খেলাফত মজলিসে। বর্তমানে তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে পটুয়াখালী-৪ আসনে ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জোট সূত্র জানায়, এই আসনে আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের নাম আলোচনায় ছিল। দলটি জোট থেকে সরে যাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হিসেবে ডা. জহির উদ্দিনকেই চূড়ান্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন,
“আমি কখনো আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ছিলাম না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই চেয়ারম্যান হয়েছি। এমপি কখনো দলের পদ দিতে পারে না। জেলা কমিটি বা কাউন্সিল ছাড়া কোনো পদ বৈধ নয়। আমি কখনো সম্মতি দিইনি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।”

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন,
“জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল কাইউম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ডা. জহির উদ্দিন আহমেদই এখন পটুয়াখালী-৪ আসনে জোটের প্রার্থী। আমরা তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

পটুয়াখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, চারটি আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা তৌহিদ হোসেনের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অপতৎপরতা রুখতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশের ভেতরেই একটি অংশ আছে যারা চায় না নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হোক। তাদের যেকোনো অপচেষ্টা শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি মূল্যায়নের লক্ষ্যে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে নানা কৌশলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের জন্য বড় পরীক্ষা।

তরুণ সমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অনেকটাই তরুণদের হাতে। আগামী নির্বাচনে কী হবে আর কী হবে না, সে সিদ্ধান্তে তরুণদের অংশগ্রহণই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভোটাধিকার প্রয়োগে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আলোচনায় আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আন্তঃদপ্তর সমন্বয় এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে মতামত দেন।

সভা শেষে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দ্রুত শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠনের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে ফিরছে এবং রিজার্ভ পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের পুলিশ প্লাজায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত ‘সিস্টেমেটিক এফোর্টস টু আন্ডারস্ট্যান্ড ইকোনমিক পালস: ইমপোর্টেন্স অব পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর জানান, এক সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছালেও পরে তা কমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তার ভাষায়, অতীতে ঋণের অর্থ দিয়ে রিজার্ভ শক্তিশালী দেখানোর প্রবণতা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর অর্থ ছাড়াই বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় রিজার্ভ বাড়ানোর পথে রয়েছে। লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

তিনি আরও বলেন, মানি মার্কেট বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। চলতি জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারকে স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখা।

পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই নিয়ে গভর্নর বলেন, অর্থনীতির বাস্তব চিত্র বুঝতে রিয়েল টাইম ডাটা অত্যন্ত জরুরি। এই কাজকে অনেক সহজ করেছে পিএমআই সূচক। বাংলাদেশে এটি নতুন হলেও তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার মতে, এই সূচক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণে পিএমআই একটি কার্যকর সূচক। বাংলাদেশেও এটি অর্থনীতির সক্ষমতা ও প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং সরকারকে ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করছে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, সূচকের মাধ্যমে যে কোনো দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা সহজে বোঝা যায়। পিএমআইয়ের ডাটা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাচ্ছেন, যা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে সহায়ক হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে প্রতি মাসে পিএমআই সূচক প্রকাশ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের সামগ্রিক পিএমআই মান দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ২, যা নভেম্বর মাসে ছিল ৫৪। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে, যদিও গতি তুলনামূলকভাবে মাঝারি।

ডিসেম্বর মাসে কৃষি খাতের পিএমআই সূচক ছিল ৫৯ দশমিক ৬, উৎপাদন খাতে ৫৮ দশমিক ২, সেবা খাতে ৫১ দশমিক ৮। তবে নির্মাণ খাতে সূচক নেমে এসেছে ৪৯ দশমিক ৮-এ, যা খাতটির সাময়িক সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। সূচকের মান ৫০-এর ওপরে থাকলে সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝানো হয়।

সার্বিকভাবে আলোচনায় উঠে আসে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে এবং রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ প্রবাহ ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে সোনা, ভরিতে ছাড়াল ২ লাখ ৩৮ হাজার

দেশের সোনার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হলো। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা কার্যকর হলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হবে সোনা। ভরিতে সর্বোচ্চ চার হাজার ১৯৯ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাজুসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। নতুন এই মূল্যহার আগামী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর হবে।

বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। বৈশ্বিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে দেশের বাজারেও সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজার বিশ্লেষণকারী নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম চার হাজার ৬৭০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বৈশ্বিক এই মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে লাগবে দুই লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ধরা হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এক ভরিতে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হবে ৬ হাজার ২৪০ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা।

দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বিয়ের মৌসুম ও উৎসব সামনে রেখে সোনা কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব থাকায় এই দাম বৃদ্ধি আপাতত অনিবার্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশের ভবিষ্যৎ বদলের নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, এই নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এটি সুষ্ঠু হতেই হবে।”

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন ঘিরে নানা পর্যবেক্ষণ, উদ্বেগ ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

এদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

বৈঠকে এনসিপি নেতারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে তাঁদের দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে নির্বাচনী পরিবেশ, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা কিছু উদ্বেগের কথা প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে, যাতে কেউ আইন অমান্য করতে না পারে।”

তিনি আরও জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। “এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে বডি ক্যামেরা, যা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে।

গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইনসম্মতভাবেই সরকার জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী হবে এবং কেন তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়—এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসহ আমাদের সবার। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই নির্বাচনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল হারালো প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চুন্নুকে

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ সাংবাদিক এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু আর নেই। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে অয়ন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বরিশাল খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর সকাল সোয়া ১০টায় বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের নাগরিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সকাল ১১টায় মরহুমকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।

বেলা সোয়া ১১টায় মৃতদেহ বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১২টায় তাকে প্রিয় সংগঠন বরিশাল প্রেসক্লাবে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

সবশেষ দুপুর ২টায় নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে জানাজার নামাজ শেষে বগুড়া রোড মুসলিম গোরস্তানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক নজরুল ইসলাম চুন্নুর দাফন সম্পন্ন হবে।

নিহতের মৃত্যুতে বরিশাল মিডিয়া, আইনজীবী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল আলম ফরিদ বলেন, “বরিশালের সাংবাদিক অঙ্গন আরও একজন অভিভাবক হারালো। নজরুল ইসলাম চুন্নুর প্রয়াণ অপুরনীয় ক্ষতি। তিনি সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন এবং তরুণ সাংবাদিকদেরও আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছেন।”

নজরুল ইসলাম চুন্নু বরিশালে স্থানীয় দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকা থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ বেতার বরিশাল শাখা এবং ঢাকার বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার এর সভাপতি ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কাফনের কাপড় নিয়ে পার্কে বিষপান, পাঁচদিনের লড়াই শেষে ঝরে গেল তরুণীর প্রাণ

বরিশালে কাফনের কাপড় সঙ্গে নিয়ে পার্কে প্রকাশ্যে বিষপান করা জান্নাত আক্তার (২২) আর বাঁচলেন না। পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় নগরজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত জান্নাত আক্তার বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতাল ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, একই উপজেলার সাহেবের হাট এলাকার প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান সাগরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে হয় জান্নাতের। তবে বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে।

এই বিচ্ছেদের মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে গত ১২ জানুয়ারি বরিশাল নগরীর একটি পার্কে কাফনের কাপড় সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্যে আগাছানাশক প্যারাকোয়াট বিষপান করেন তিনি। বিষপানের পর পার্কের একটি গাছের নিচে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন জান্নাত। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

চিকিৎসকরা জানান, প্যারাকোয়াট অত্যন্ত মারাত্মক ধরনের বিষ। এ ধরনের বিষপানে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীরই বাঁচার সম্ভাবনা থাকে না। সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও জান্নাতকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, প্রেম করে বিয়ের পর স্বামীর তালাক দেওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে জান্নাত। সেই কষ্ট থেকেই তিনি প্রকাশ্যে বিষপান করেন। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—মানসিক বিপর্যয় ও সম্পর্কের ভাঙনে তরুণ-তরুণীদের জীবন কেন এমন করুণ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে? সচেতন মহলের মতে, সম্পর্কের সংকটে মানসিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অবৈধ ইটভাটার আগ্রাসনে ঝালকাঠিতে ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি, বিপন্ন পরিবেশ

ঝালকাঠি জুড়ে অবাধে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার ছোবলে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে খাল ভরাট, রাস্তা ভাঙন, জমির উর্বরতা হ্রাস এবং কালো ধোঁয়ায় ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো গুরুতর সংকটে পড়েছে জনপদ। নীতিমালা থাকলেও কার্যকর তদারকি না থাকায় থামছে না এই ক্ষতি।

নীতিমালা অনুযায়ী, লোকালয়ের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও বসতবাড়ির আশপাশে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। বাস্তবে ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় এসব নিয়ম উপেক্ষা করেই বেনামি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ফলে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ফসলি জমির ওপর পড়ে ধানসহ নানা ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে, বাতাস ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ফসলি জমির গভীর থেকে মাটি কাটায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। আবার ভাঙা ইট খালে ফেলে অনেক জায়গায় খাল দখল করা হচ্ছে, এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং খালপাড়ের সড়কে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুতালড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক রনি বলেন, পাশের উপজেলায় অবস্থিত একটি ইটভাটা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ইট খালে ফেলা হচ্ছে। এতে খাল ভরাট হয়ে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এখন সড়কের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।

সদর উপজেলার বিকনা এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, ফসলি জমির মাঝেই এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন করেছেন। প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায় না। ভাটার ধোঁয়া ও ধুলো ধানের ক্ষেতে কুয়াশার মতো জমে যাচ্ছে, ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। নারকেল ও সুপারির ফলনও কমছে।

পরিবেশকর্মী মাহাবুব সৈকত বলেন, ইটভাটার মাটির জোগান আসে ফসলি জমি ও নদীর চর থেকে। প্রতিবছর টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় ধান উৎপাদন কমছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমির ওপর দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

এদিকে পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ঝালকাঠি পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, গত বছর ২৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং চলতি বছরও একাধিক অভিযান হয়েছে। অভিযোগ পেলেই ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ করা হবে।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৯টি বৈধ। বাকি ২২টি কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে—যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে শতবর্ষী দীঘি ভরাট, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

বরিশাল নগরীতে একটি শতবর্ষী দীঘি অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার সড়কের ভেতরে ড্রেজারের পাইপ ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী দীঘিটি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, দীঘিটি প্রায় একশ বছরের পুরোনো। অতীতেও এটি ভরাটের চেষ্টা হয়েছিল, তবে তখন এলাকাবাসীর বাধায় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আবারও নতুন করে দীঘিটি ভরাটের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

দীঘিটির পাশের এক দোকানি জানান, ভরাটকৃত জমির মালিক বাবুগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও, জমিতে টানানো একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে—ক্রয় সূত্রে জমিটির মালিক শহিদুল ইসলাম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করছেন মো. কোটন নামের এক ব্যক্তি, যিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। এর আগেও একই এলাকার বেঙ্গল বিস্কুট কারখানা সংলগ্ন একটি পুকুর ভরাটের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছিল।

এ বিষয়ে বালু সরবরাহকারী মো. কোটনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সালিশে আছেন বলে জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ রাখেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকা। এখানে জলাশয় ভরাট হলে ভয়াবহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। দীঘিটি ভরাট হলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং জলাশয় সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী কোনো প্রকার জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সচেতন নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে দীঘি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে নগরীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫