জুলাই সনদের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত, শিগগিরই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে

বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই সনদের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এই খসড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের নিকট পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।

শনিবার (২৬ জুলাই) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৯তম বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, “কমিশন ইতোমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে এবং আগামীকালের মধ্যে তা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মতামত জানাবেন। পরে সেসব মতামত খসড়ায় সন্নিবেশিত করা হবে।”

এ সময় ড. আলী রীয়াজ আরও জানান, যদি বড় কোনো মৌলিক আপত্তি না আসে, তবে খসড়া নিয়ে বাড়তি আলোচনার প্রয়োজন হবে না। সকল পক্ষের মতামত সংগ্রহ করে জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট, মৌলিক বক্তব্য, অঙ্গীকার এবং কাঠামো নির্ধারণ করে তা চূড়ান্ত রূপে প্রকাশ করা হবে।

তিনি সময়সীমার দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে বলেন, “আমাদেরকে যে করেই হোক ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে হবে। এরপর আমরা পরবর্তী ধাপে যাব।”
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ১০টি বিষয়ে একপ্রকার ঐকমত্য হয়েছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে, সাতটি বিষয়ের আলোচনা এখনো অসম্পূর্ণ এবং তিনটি বিষয়ে এখনও আলোচনা শুরু হয়নি।

বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে— রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং পুলিশের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ছিল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি-সহ ৩০টি দলের প্রতিনিধিরা।

কমিশনের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

কমিশন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, দেশের রাষ্ট্রীয় অমীমাংসিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ঐকমত্য গড়ার লক্ষ্যে জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা আগামী কয়েকদিনও চলবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



‘শেখ হাসিনার পতনের পেছনে বিএনপির ১৬ বছরের ত্যাগ ও সংগ্রাম’ : আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মূলনায়ক ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সবচেয়ে বড় ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ চট্টগ্রাম শাখা আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’–এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, “আজ শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, তার পেছনে দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম রয়েছে। এ সময়ে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা অনেকে ভুলে যেতে বসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন, অনেকের পরিবার ভেঙে গেছে, অনেকে বছরের পর বছর বাড়িঘরে ফিরতে পারেননি। এমনকি কারও স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। অথচ এই ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাগুলো আজকের আলোচনায় আসছে না।”

তিনি বলেন, “শহীদ ওয়াসিমের মতো আন্দোলনের প্রথম শহীদদের নাম পর্যন্ত আজ আর উচ্চারিত হচ্ছে না। অথচ তারাই এই গণঅভ্যুত্থানের পথ রচনা করেছেন।”

বিএনপি এককভাবে আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “আমরা চাই না এই আন্দোলন বিভক্ত হোক। এটা ছিল ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন। তাই একে জাতীয় অর্জন হিসেবেই তুলে ধরা উচিত।”

তবে ইতিহাসের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির ভূমিকা স্মরণীয় করে রাখতে হবে বলে জানান তিনি। “মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধ করেছেন, তাদের নাম মুছে দিয়ে শেখ হাসিনা তার একক কৃতিত্ব দাবি করেছেন। যেন ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মূল্য নেই। আমরা চাই না জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তেমনটা হোক,”— বলেন আমীর খসরু।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এটা রাজনৈতিক স্লোগান নয়। কোন খাতে কতজনকে দেশে ও বিদেশে চাকরি দেওয়া হবে, আমরা হিসাব করে পরিকল্পনা তৈরি করেছি। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ৩১ দফার ভিত্তিতে এখন দেশ গড়ার সময়। রাজনীতিতে সহনশীলতা ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই হবে না—রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—

  • চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
  • বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “কেউ কেউ বলছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন এক মাসেই শেষ হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসকে খণ্ডিত করে দেখা যায় না। যেমন ১৯৪৭ না হলে ১৯৫২ হতো না, ১৯৭১ না হলে ১৯৭৫-এর বিপ্লব হতো না। সেই ধারাবাহিকতায় এই অভ্যুত্থানও বহু বছরের প্রস্তুতির ফসল।”




চরমোনাই পীরের হুঁশিয়ারি: এই সুযোগ কাজে না লাগাতে পারলে স্বৈরাচার আবারো ফিরে আসবে

৫ আগস্টের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলেও সেটিকে যথাযথভাবে কাজে না লাগালে পুরনো অবস্থা ফিরে আসবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চরমোনাই পীর বলেন, “৫ আগস্ট খুনি-ফ্যাসিস্ট হাসিনা বুঝতেও পারেনি দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। এখন দেশ গঠনের একটি সুযোগ এসেছে। এই সুযোগকে কাজে না লাগাতে পারলে আবারও ‘যেই লাউ সেই কদু’ হবে। যারা দেশপ্রেমিক, ইসলামপ্রেমিক ও ন্যায়ের পক্ষে—তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলার জমিনকে চাঁদাবাজ ও খুনিমুক্ত ঘোষণা করতে হবে এবং বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আয়নাঘরের মতো নির্যাতন কেন্দ্রের ভয়ংকর ইতিহাস আমরা চাই না আর ফিরে আসুক। দেশের মানুষের কান্না আর শোনা যায় না, আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক, তা আমরা চাই না।”

সরকারি দুর্নীতির উদাহরণ টেনে চরমোনাই পীর বলেন, “সাবেক এক ভূমিমন্ত্রীর নামে বিদেশে ৬২০টি বাড়ি ও প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এটা কি তার বাপের টাকা? এটা জনগণের ঘামে রোজগার করা অর্থ।”

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পরের ৫৩ বছরে বারবার একই প্রতারণা হয়েছে। ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার’—এই তিনটি নীতির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বাংলাদেশ বারবার চোরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে।”

ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মাঠ ফাঁকা থাকলে আগাছা জন্মায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে খুনি-চাঁদাবাজদের আর কোনো জায়গা না থাকে।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত একটি এমপি-ও সংসদে যায়নি। কারণ, দলটি কখনো খুনি বা দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল
  • জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
  • ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ
  • খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ (সভাপতি)
  • নগর সহ-সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন (সঞ্চালক)
  • জেলা সেক্রেটারি হাফেজ আসাদুল্লাহ আল গালিব
  • মহানগর সেক্রেটারি মুফতি ইমরান হোসাইন



দেশে দুর্নীতির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে : ক্ষোভ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আগে ১ লাখ টাকা ঘুষ দিলেই হতো, এখন দিতে হচ্ছে ৫ লাখ টাকা।”

শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের বই ‘অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা : যাপিত জীবনের আলেখ্য’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “গতকাল একজন বড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন—আগে ঘুষ দিতেন এক লাখ টাকা, এখন দিতে হচ্ছে পাঁচ লাখ। বিষয়টি কীভাবে দেখবেন, জানি না। কিন্তু এটা দুঃখজনক সত্য।”

পুলিশ প্রশাসন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “পুলিশের মধ্যে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং এখন আরও সুযোগ নিচ্ছে তারা। মানুষ যখন সেবা নিতে যায়, তখন একবার বলে মন্ত্রণালয়ে যাও, আরেকবার কোর্টে যাও। তারা দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চাইছে। কারণ, তাদের মধ্যে আস্থা ও জবাবদিহিতা নেই।”

তিনি বলেন, “গত সরকারের সময়ে পুলিশ ছিল সব অন্যায়ের অংশীদার। তাই রাতারাতি ব্যবস্থার সংস্কার সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি গুণগত রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন।”

গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “কোনো কিছুকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব পথে চলতে দিতে হবে। এজন্য দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে হবে এবং জনগণের প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়ে সেখান থেকেই কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ। নির্বাচনের মাধ্যমেই নতুন সংসদ গঠিত হবে এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।”

এ সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতি (ট্যারিফ) সামনে দেশের অর্থনীতিকে বড় সংকটে ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের স্বার্থে আমরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বইটির লেখক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শাপলা চত্বরের ঘটনার তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে হেফাজতের আলোচনা

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-তে এই বৈঠক হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ, সেই ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ওই সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হেফাজতের নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রত্যাহারের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে হেফাজতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন—

  • মাওলানা খুলিল আহমেদ কুরাইশী
  • মাওলানা সাজেদুর রহমান
  • মুফতি জসিম উদ্দিন
  • মাওলানা মাহফুজুল হক
  • মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী
  • মাওলানা মামুনুল হক
  • মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী
  • মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী
  • মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী
  • মুফতি বশির উল্লাহ
  • মুফতি কেফায়তুল্লাহ আজহারী

সরকারি পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

বৈঠকে সব পক্ষই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জটিল বিষয়গুলোর সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।




জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক মহাকাব্যিক প্রতিরোধের গল্প: সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘রুখে দাঁড়াবার এক মহাকাব্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, “যখন চারপাশে ভয়, অনিশ্চয়তা আর আত্মপ্রবঞ্চনার আবহ ছড়িয়ে পড়ে, তখনই দ্রোহ ও প্রতিবাদের ঝড় তাকে রুখে দাঁড়াতে শেখায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই রুখে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”

শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তনে শহীদ তাহির জামান প্রিয়র জীবন ও আত্মত্যাগের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র ‘UNKNOWN 30Y’-এর প্রিমিয়ার শো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, “এই দেশের তরুণরা দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের চিত্র এঁকেছে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।”

চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ তাহির জামান প্রিয়র স্মরণে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, শহীদ তাহির জামান প্রিয়’র মা শামসি আরা জামান, ইতিহাসবিদ ও সংগঠক আমিরুল রাজীব এবং চলচ্চিত্রটির নির্মাতা রজত তন্ময়।




আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা: মোস্তফা জামাল হায়দার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ জানতে অপেক্ষার প্রহর আর বেশি নয়। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ১৪টি রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের জানিয়েছেন, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। এটা দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে আনন্দের খবর।”

মোস্তফা জামাল হায়দার আরও বলেন, নৈরাজ্যের অবসান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই এখন একমাত্র পথ। নির্বাচন হলে মানুষ স্বস্তি পাবে এবং দেশের সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

এর আগে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজকের বৈঠকে আরও ১৪টি দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিভিন্ন দল নির্বাচনমুখী মনোভাব দেখানোয় রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিলেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিহত সামিউলের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাল বিমান বাহিনী

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের কিশোর সামিউল করিমের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের দেশখাগকাটা গ্রামে সামিউলের পারিবারিক কবরস্থানে বিমান বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল এ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেয়। স্থানীয় মসজিদের খতিব মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নিহত সামিউলের মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মীর্জা নাজমুল কবীর।

তিনি বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনায় একটি অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নিহত সামিউলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে। এই দূরগ্রাম এলাকায় এসেছি শুধু শিশুটির কবর জিয়ারত নয়, তার পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়েই।’

সামিউল করিম সামি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার খারকি এলাকার বাসিন্দা এবং রেজাউল করিমের ছোট ছেলে। বড় বোন স্নেহা এবার মাইলস্টোন স্কুল থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। দুর্ঘটনার পর সামিউলের মরদেহ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জানাজা শেষে তাকে নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

একের পর এক স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় বাবা রেজাউল করিমকে। ঘটনার দিনও তিনি নিজেই সামিউলকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে গেটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ছেলেটি যখন দোতলায় উঠছিল, তখনও তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আবার দুপুরে ছুটি হলে গেটে দাঁড়িয়ে ছেলেকে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সামিউল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাবার দিকে এগিয়ে আসছিল, তখনই আকস্মিকভাবে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একটি জ্বলন্ত অংশ সামিউলের শরীরে আঘাত করে। সামিউলের শরীরের পেছনের অংশ পুড়ে যায়। রেজাউল করিম ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন আমার ছেলেকে বাঁচান, হেল্প… হেল্প । একজন সেনা সদস্য নিজের গায়ের পোশাক খুলে দিয়ে সহায়তা করেন। পরে সামিউলকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক জানান, তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবো। কিন্তু আমার চোখের সামনেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার ছেলেটা জ্বলছিল, আমি কিছুই করতে পারিনি। এখন আর ঘুম আসে না। কীভাবে ওকে ছাড়া বাঁচব জানি না।’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস: শীঘ্রই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে

আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় ১৪ দল ও ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাজনৈতিক নেতারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ও জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান হায়দার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে আমাদের জানিয়েছেন, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই তিনি নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণা করবেন। বর্তমান সংকট নিরসনে নির্বাচনই একমাত্র পথ—এমনটি তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন।”

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ জানান, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন কবে এবং কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে খুব শিগগিরই একটি অফিসিয়াল ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জাতিকে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা। এজন্য আমরা সবাই তাকে সাধুবাদ জানিয়েছি। দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।”

বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে সম্প্রতি যে অপপ্রচার চলছে, তা নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান তিনি। এসব অপপ্রচার কীভাবে বন্ধ করা যায়—সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান রাজনৈতিক সংকট এবং ৫ আগস্টের আগের ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, যেন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি এবং পরাজিত শক্তিকে মাথাচাড়া দিতে না দিই।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—

  • জাতীয় গণফ্রন্টের আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস
  • নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইউসুফ আশরাফ
  • এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ
  • জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা
  • বাংলাদেশ জাসদের ড. মুশতাক হোসেন
  • এনডিএম-এর ববি হাজ্জাজ
  • জাকের পার্টির শামীম হায়দার
  • ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি
  • ভাসানী জনশক্তি পার্টির রফিকুল ইসলাম বাবলু
  • বাংলাদেশ লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান
  • বাসদ (মার্কসবাদী)-এর মাসুদ রানা
  • জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী

এর আগে গত বুধবার যমুনায় ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। তারও আগে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তিনি।




আ.লীগ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকবে জামায়াত : শামীম সাঈদী

পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে আলহাজ শামীম সাঈদী বলেছেন, “যারা মনে করেন বিএনপি ও জামায়াতের আর অস্তিত্ব নেই, তারা চরম ভুল করছেন। আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল বলেই তাদের আশ্রয় নিতে হয়েছিল বিদেশে। তারা যেন আর এদেশে ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য আমরা রাজপথে থাকব।”

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে পিরোজপুরের নেছারাবাদে তৃণা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা পর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম সাঈদী আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। আমাদের কোনো নেতাকর্মীর নামে দুর্নীতির অভিযোগ নেই। কিন্তু সরকার পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের রাজনীতি চালাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে অতীতে যে অপপ্রচার করা হয়েছে তা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই অন্যায়ের বিচার একদিন আল্লাহ এই মাটিতেই করবেন।”

তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, “পিরোজপুর-২ আসনের মানুষ ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী। নেছারাবাদে আমাদের শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে নেছারাবাদকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং বেকারত্ব দূর করতে হবে নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবুল কালাম আজাদ এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুর রশিদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, জেলা সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং ঢাকাস্থ নেছারাবাদ উপজেলা সেক্রেটারি আল আমিন সবুজ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫