এক বছর পরেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো অনেক শহীদ পরিবারের সঙ্গে বসাতে পারেনি : সারজিস আলম

জুলাই বিপ্লবের এক বছর পার হলেও শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় করতে পারেনি। এটিকে সরকারের “সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম

শনিবার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সারজিস বলেন, “অভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর হতে চলল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারের কোনো পর্যায়ের প্রতিনিধি শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে একবারের জন্যও বসেননি। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।”

তিনি আরও জানান, চলতি জুলাই-আগস্ট মাসে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের একটি পরিকল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে। তার পরিবর্তে ৫ আগস্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যা সারজিসের মতে, “দায়সারা কর্মসূচি মাত্র।”

এই প্রেক্ষাপটে সারজিস আলম শহীদ পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের ওই সরকারি কর্মসূচি বয়কট করুন। কারণ, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এক বছরে অন্তত একবারও এক হাজার শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসতে না পারে, তবে তা নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ।”

শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে সরকার বারবার সম্মান প্রদর্শনের কথা বললেও বাস্তবে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে ন্যূনতম সংলাপ বা সম্পর্ক গড়ে না তোলায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারজিসের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, ভোট নিয়ে শঙ্কা এখনো রয়েছে : রিজভী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (২৭ জুলাই) নির্বাচন কমিশনে ২০২৪ সালের দলের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, “নির্বাচনের আগে মানুষ চায় একটা নিরপেক্ষ পরিবেশ, যেখানে তারা ভয়ের বোধ ছাড়াই ভোট দিতে পারবে। কিন্তু এখনো সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট, সরকারের অনুগত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিল। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। “তৎকালীন ইসি ছিল মেরুদণ্ডহীন, চাকরি লোভী ও দলান্ধ লোকদের নিয়ে গঠিত,” অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিকার অর্থে সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তাহলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব।”

দেশে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন বানচালের শঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অতীতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে, তারা এখনো সক্রিয়। নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তারা। এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা আছে। সেই আস্থা যেন ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়, এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা। “সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ভোটার যেন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভয় বা আশঙ্কা অনুভব না করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, সেটি নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।”

রিজভীর বক্তব্যে স্পষ্ট—আইনশৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।




এশিয়া কাপ ২০২৫: বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে, ঘোষণা চূড়ান্ত সূচি

চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হলো এশিয়া কাপ ২০২৫-এর সূচি ও ভেন্যু। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এবারের আসরে অংশ নেবে মোট ৮টি দল। শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকেলে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভি আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের সূচি ও ভেন্যু প্রকাশ করেন।

এর আগে ঢাকায় এসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হলেও তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আজকের ঘোষণার মাধ্যমে আসন্ন এশিয়া কাপের প্রতীক্ষিত সময়সূচি স্পষ্ট হলো।

চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, এশিয়া কাপ শুরু হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এবং ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। এবারের আসরটি আয়োজিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

দলবিন্যাস ও বাংলাদেশের সূচি
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।

  • ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান।
  • ‘বি’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং হংকং।

প্রত্যেক দল গ্রুপ পর্বে তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। বাংলাদেশের ম্যাচ সূচি নিম্নরূপ—

  • ১১ সেপ্টেম্বর: হংকংয়ের বিপক্ষে
  • ১৩ সেপ্টেম্বর: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে
  • ১৬ সেপ্টেম্বর: আফগানিস্তানের বিপক্ষে

গ্রুপ পর্ব শেষে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। টুর্নামেন্ট নিয়ে উৎসাহের পারদ চড়ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে। এবার নতুন ভেন্যুতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গ্রুপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা।

এশিয়া কাপ ঘিরে প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। এখন অপেক্ষা ৯ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনী ম্যাচের।




ইসলামি সমাজ বাস্তবায়ন ও চাঁদাবাজি- প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ মামুনুল হকের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, “রাজনীতিকে আমরা পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখি। চাঁদাবাজি, রাহাজানি ও অনৈতিকতা থেকে মুক্ত একটি আদর্শ ইসলামী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা জেলা ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২০২৫-২৬ সেশনের প্রথম কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অধিবেশন। দলের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশন পরিচালনা করেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন।

অধিবেশনে মামুনুল হক আরও বলেন, “বর্তমানে খেলাফত মজলিস দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইসলাম ও দেশের কল্যাণে আমরা অবিচলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ২২৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছি, ইনশাআল্লাহ শিগগিরই বাকি আসনগুলোতেও ঘোষণা দেওয়া হবে।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখুন। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।”

শূরা সদস্যদের উদ্দেশে মামুনুল বলেন, “খোলামনে মতামত দিন, সংগঠনের সম্ভাবনা ও দুর্বলতা সাহসের সঙ্গে তুলে ধরুন। আমাদের লক্ষ্য একটি গতিশীল ও আদর্শ ইসলামী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা।”

তিনি জানান, দেশব্যাপী সাংগঠনিক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫০টি জেলায় গণসমাবেশ, ৪০টির বেশি জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বায়তুল মাল বিভাগে স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয়তা বাড়ানো হয়েছে, যা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অধিবেশনে দলীয় সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, এমএমপি পদ্ধতিতে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন চালু, জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত প্রকাশ, সংস্কারে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন, এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন বাতিলসহ ১৩টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সাংগঠনিক রদবদল

সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদকের দায়িত্ব পরিবর্তন করে মাওলানা হাসান জুনাইদকে প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে নতুন সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে মাওলানা নূর মুহাম্মদ আজীজকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে দলে যুক্ত হয়েছেন—মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, মাওলানা সালাউদ্দিন, মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, ক্বারী হোসাইন আহমদ এবং যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান।

অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, ড. মুন্সি মেহেরুল্লাহ, নায়েবে আমির মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী এবং মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।




২০২৪ সালে বিএনপির আয়-ব্যয় প্রকাশ, ফান্ডে আছে ১০ কোটিরও বেশি

২০২৪ পঞ্জিকা বছরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা আয় করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই বছরে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। ফলে দলের বর্তমান তহবিলে জমা রয়েছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ১৯ টাকা।

রোববার (২৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৪ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া হয়।

রিজভী জানান, দলের আয়ের উৎস ছিল—সদস্যদের মাসিক চাঁদা, বই ও পুস্তক বিক্রি, ব্যাংক সুদের আয় এবং এককালীন অনুদান। ব্যয়ের খাতে ছিল—ব্যক্তিগত ও দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, লিফলেট ও পোস্টার ছাপানোসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যয়।

ইসিকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, “এক সময় নির্বাচন কমিশন তার প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা হারিয়েছিল, নির্বাহী বিভাগের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। তখন কমিশন একটি প্রহসনের নির্বাচন করে বৈধতা দিয়েছিল, দিনের ভোট রাতে করেছিল।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মেরুদণ্ডহীন, চাকরিপ্রত্যাশী লোক দিয়ে গঠিত ছিল সে কমিশন। সেটি শেখ হাসিনার পদলেহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে রিজভী বলেন, “আমরা আশা করি, কমিশন এবার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। নির্বাচন নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—বিএনপি সেই প্রত্যাশাই করে।”




জাতীয় সনদ নিয়ে সংলাপের শেষ ধাপে পৌঁছেছে ঐকমত্য কমিশন : আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সোমবার (২৮ জুলাই) দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জাতীয় সনদের খসড়া পাঠানো হবে। রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে চলমান সংলাপের সমাপ্তি টানাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনের সূচনা বক্তব্যে আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জাতীয় সনদে দলগুলোর স্বাক্ষর নিশ্চিত করা। কমিশন ইতোমধ্যে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে। আগামীকাল সে খসড়া দলগুলোকে পাঠানো হবে। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, আলোচনার আজকের সূচিতে রয়েছে—রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং একটি স্বতন্ত্র পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব।

আলী রীয়াজ বলেন, “খসড়া নিয়ে সংলাপে বিস্তারিত আলোচনা হবে না। তবে যদি কোনো মৌলিক আপত্তি উঠে আসে, সেক্ষেত্রে তা আলোচনায় আনা হতে পারে। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক সংশোধন যুক্ত করে সনদের চূড়ান্ত রূপ তৈরি করা হবে, যেখানে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন থাকবে।”

তিনি জানান, সংলাপের আলোচনার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। ৭টি বিষয়ের আলোচনা এখনো অসমাপ্ত এবং ৩টি বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়নি।

সংলাপের সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং ড. আইয়ুব মিয়া।

বর্তমান সংলাপে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোট ব্যতীত ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।




মুনাফায় ধস, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্যতম বড় বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি) এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুনাফা সংকটে পড়েছে। ঢাকা মহানগরের কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কারণে কোম্পানিটির ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মুনাফা প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিএটিবিসি’র শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ১ টাকা ৮০ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ৯ টাকা ৪৮ পয়সা। ১৯৭৭ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি কোনো একক প্রান্তিকে সবচেয়ে কম মুনাফা।

মুনাফার এই ধস অর্ধবার্ষিক হিসাবেও স্পষ্ট। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৭ টাকা ৬৯ পয়সা, যেখানে গত বছরের প্রথমার্ধে তা ছিল ১৭ টাকা ১৪ পয়সা।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার মহাখালীর কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে বিক্রি কমে যাওয়াই মুনাফায় এই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গত ১ জুলাই থেকে মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকায় বিএটিবিসির তামাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কোম্পানির রেজিস্টার্ড অফিস স্থানান্তর করে নেওয়া হয় আশুলিয়ার দেওড়া এলাকায়। এই কারখানায় বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড যেমন ডানহিল, কেন্ট, পলমল, বেনসন, রথম্যান্স, কুল প্রভৃতি তামাকজাত পণ্য প্রস্তুত করা হতো। কোম্পানিটি বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তামাক উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) দাবি জানিয়েছিল, আবাসিক এলাকায় তামাক কারখানা পরিচালনা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। বিশেষ করে শিশুস্বাস্থ্যে এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং ডিওএইচএস এলাকায় যানজট, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ বাড়ানোর মতো প্রভাব তুলে ধরেছিল সংগঠনটি। দাবি ছিল, কীভাবে এই কারখানা পরিবেশ ছাড়পত্র পেয়েছে তা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

পবা আরও অভিযোগ করে, তামাক কোম্পানিগুলোর প্রভাবে ২০২৩ সালে তামাক শিল্পকে ‘লাল শ্রেণি’ থেকে ‘কমলা শ্রেণিতে’ নামিয়ে আনা হয় এবং তামাক চাষে শুল্কও শূন্যে নামিয়ে আনা হয়, যা দেশের পরিবেশবিষয়ক নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা তামাক কারখানা ধ্বংস করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাবলিক পার্ক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ব্যাংককের বেঞ্জাকিট্টি ফরেস্ট পার্ক, এথেন্স ও কুর্দিস্তানের প্রাক্তন তামাক কারখানা এখন রূপান্তরিত হয়েছে জনকল্যাণমূলক স্থানে। অথচ বাংলাদেশে এখনো শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন ক্ষতিকর শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ তামাকজনিত কারণে মারা যায়। প্রায় ১৫ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হন ফুসফুস ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদরোগ ও অ্যাজমার মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখে। ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া ৯২% শিশুর মুখের লালায় উচ্চমাত্রার নিকোটিন পাওয়া যাওয়ার মতো তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

তামাক উৎপাদন পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতি একর জমিতে তামাক শুকাতে লাগে প্রায় ৫ টন কাঠ, যা দেশের বনভূমির ৩০ শতাংশ ধ্বংসে ভূমিকা রাখছে। ২০২৪ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকেই দেশে ৪,১৩৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার ১৫.৫২%।

সব মিলিয়ে মুনাফার ধস, সামাজিক চাপ এবং পরিবেশগত উদ্বেগ—সব দিক থেকেই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এখন কঠিন চাপে রয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের সামনে বড় নীতিগত ও বাজারিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় চালু, ‌’নতুন যুগের সূচনা’ :উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করাকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির প্রমাণ হিসেবে না দেখে, মানবাধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার নিদর্শন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

রোববার (২৭ জুলাই) সকালে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনে গণবিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা’ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) অফিস ঢাকায় খোলার অর্থ এই নয় যে, আমাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপ। বরং এটি প্রমাণ করে, বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় কতটা আন্তরিক। অতীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানবাধিকার লঙ্ঘন যেভাবে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, এখন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে।”

তিনি জানান, সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৩৩তম বৈঠকে জাতিসংঘের সঙ্গে তিন বছরের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে জাতিসংঘের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক এবং বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

ইউএনএইচসিআরের অফিস খোলার বিষয়ে ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর আপত্তির জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “এমন একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অফিস থাকলে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যারাই আসুক না কেন, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আরও সচেতন থাকবে। সরকারও দায়বদ্ধ থাকবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে।”

অতীতের সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, বিশেষ করে ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমন করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির গড়ে তোলা হয়। আন্তর্জাতিক মহলে সেসব ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে জাতিসংঘ। তারা এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।”

বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে মানবাধিকার সুরক্ষায় বিশ্বাসী। সহনশীলতা, সংলাপ এবং ন্যায্যতা বজায় রেখে সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। কোনো আন্দোলন বা মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দমননীতি অনুসরণ করা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “গণপিটুনি বা মব জাস্টিসের মতো ঘটনা প্রতিরোধে সরকার সমাজে বিদ্যমান কারণগুলো বিশ্লেষণ করছে। কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে এসব ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।”

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসাইন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিবন্ধনের আহ্বান, আবেদন গ্রহণ ১০ আগস্ট পর্যন্ত

জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আগামী ১০ আগস্ট বিকেল ৫টার মধ্যে ইসির সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদন করতে হবে।

ররিবার (২৭ জুলাই) ইসির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যোগ্য সংস্থাগুলো নিবন্ধিত হলে তারা ৫ বছরের জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে।


✅ আবেদনের নিয়ম ও যোগ্যতা:

📝 ফরম সংগ্রহ:

  • আবেদন ফরম (ইও-১) পাওয়া যাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা (কক্ষ-১০৫)
  • অথবা অনলাইনে ইসির ওয়েবসাইটে: www.ecs.gov.bd

🧾 যে কাগজপত্র জমা দিতে হবে:

  • সংস্থার গঠনতন্ত্র
  • বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ/ট্রাস্টি বোর্ডের তালিকা (নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত)
  • নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি (প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার দ্বারা)
  • অফিসের ঠিকানা, কার্যাবলীর তালিকা
  • শেষ দুই বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন
  • দেশি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে তাদের অনাপত্তিপত্র
  • সংস্থার নির্বাহী বা কোনো সদস্যের রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট না থাকার হলফনামা

🛑 কোন সংস্থা নিবন্ধনের যোগ্য নয়?

  • যদি সংস্থার নাম জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে
  • সংস্থার কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন

📌 এছাড়াও, সংস্থার কার্যক্রমে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য থাকতে হবে এবং গঠনতন্ত্রে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার থাকতে হবে।


📣 ইসি সূত্রে জানা গেছে:
এবারের নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তাই আগ্রহী সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদক: মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালিসহ উপকূলীয় পাঁচ জেলায় নদীবন্দর সমূহের জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

পটুয়াখালি, বরিশাল, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ রোববার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সময় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বিভাগ। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের উপর সৃষ্ট মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, পটুয়াখালির কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও পায়রা বন্দর এলাকা থেকে ইতোমধ্যে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দ্রুত তীরে ফিরে এসেছে। স্থানীয় মাঝি-মাল্লারা জানিয়েছেন, সমুদ্রে বাতাসের গতি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরেছেন।

আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাসের কারণে নদীপথে যাত্রীবাহী লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়াবিদদের পরামর্শ:

  • বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করার অনুরোধ
  • নৌযান চালক ও মাঝিদের সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশনা
  • স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে

🟢 প্রতিবেদক: আল-আমিন |