মানুষের প্রয়োজনে না এলে সংস্কার অর্থহীন: মির্জা ফখরুল

গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এই সময়ে মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার না দিলে সংস্কারের কোনো বাস্তব মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক পদযাত্রায় শিশু’ শীর্ষক এক নাগরিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রয়াস শুরু করেছে, তা যদি জনগণের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন না আনে, বিশেষ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে সংস্কার কোনো কাজে আসবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘সংস্কার মানে শুধুই আইন বদল নয়—সংস্কার মানে মানুষের জীবন বদলানো। যদি সেই জীবন না বদলায়, তাহলে সে সংস্কারের কোনো মূল্য নেই।’’

অনুষ্ঠানে গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্তানদের উপস্থিতি ও বক্তব্য মির্জা ফখরুলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। তিনি বলেন, ‘‘যখন একটি শিশু বলে—আমি আমার বাবাকে দেখতে চাই, বাবার হাত ধরে ঈদের নামাজে যেতে চাই, তখন আমি নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারি না। আমরা যারা বড় বড় পদে বসেছি, আমাদের উচিৎ এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।’’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনগণ অনেক কিছু আশা করেছিল, বিশেষ করে গুমের শিকার শিশুদের পুনর্বাসনে একটি কার্যকর ‘স্পেশাল সেল’ গঠনের প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু তা এখনো হয়নি।

‘‘একটি গুম কমিশন গঠন করা হয়েছে, শুনেছি একটি প্রতিবেদনও নাকি দিয়েছে। কিন্তু এর বাইরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। এমনকি ওই শিশুদের জন্য সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক কোনো সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি,’’—বলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘‘আমরা অনেকেই এখন বিভিন্ন পদে বসে গেছি, কেউ কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ বড় ব্যবসা করছেন। কিন্তু এই শিশুদের কথা ঠিকমতো সামনে আনিনি, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।’’

সভা শেষে তিনি ঘোষণা দেন, ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই শিশুদের পুনর্বাসন একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। ‘‘আমাদের নেতা তারেক রহমান কথা দিয়েছেন—এই শিশুদের জীবন গঠনে আমরা সমর্থন দেবো, আমি আজ আবার সেই অঙ্গীকার করছি,’’—উল্লেখ করেন তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া প্রকাশ: গঠনমূলক সংস্কারে ঐকমত্যের পথে বাংলাদেশ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫”-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সনদটির প্রাথমিক খসড়া দেশের ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন এক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক সনদ রচিত হচ্ছে। কমিশনের লক্ষ্য— রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানসমূহে কার্যকর সংস্কার আনয়ন, বিশেষ করে সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতিদমন ব্যবস্থায়।


প্রেক্ষাপট

মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা— সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার— পূরণ না হওয়ায় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ে ২০২৪ সালে ঘটে সফল গণ-অভ্যুত্থান। এতে এক হাজারের বেশি নাগরিক প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই জনচাপ ও সম্মিলিত প্রয়াসে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন


কমিশনের কার্যক্রম

  • ৬টি পৃথক সংস্কার কমিশন গঠিত হয়: সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন।
  • এসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ শুরু করে।
  • ৩৫টি রাজনৈতিক দল মতামত দেয়, ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত চলে প্রথম দফা সংলাপ।
  • দ্বিতীয় দফায় চলছে বিস্তারিত আলোচনা, যার ভিত্তিতে গঠিত হচ্ছে “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫”-এর খসড়া

১২টি বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য

কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যে ১২টি বিষয়ে ন্যূনতম একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো (কিছু ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সহ) সেগুলো হলো:

  1. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন
  2. সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্বে ভারসাম্য
  3. নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণে নিরপেক্ষ কাঠামো
  4. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদান প্রক্রিয়ার সংস্কার
  5. বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ
    • (ক) সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ
    • (খ) উপজেলা পর্যায়ে আদালতের সম্প্রসারণ
  6. জরুরি অবস্থা ঘোষণার কাঠামো সংস্কার
  7. প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিধানগত স্বচ্ছতা
  8. সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি আধুনিকায়ন
  9. প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা নিষিদ্ধকরণ
  10. নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ পদ্ধতি
  11. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল সীমিতকরণ
  12. পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন

আলোচনায় থাকা অমীমাংসিত বিষয়

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির গঠন ও কাঠামো
  • নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও নির্বাচনী পদ্ধতির সংস্কার
  • দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রস্তাব
  • রাষ্ট্রের মূলনীতি পুনর্বিন্যাস
  • নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ

চূড়ান্ত সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন:

“খসড়া দেয়া হয়েছে, মঙ্গলবার বা বৃহস্পতিবার প্রাথমিক পর্যায়ের ঐকমত্যের খসড়া পৌঁছে দেয়া হবে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যেসব বিষয়ে একমত হবে, তার চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আলোচনার এই ধারা গঠনতান্ত্রিক রূপান্তরের এক অনন্য নজির।


উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

  • বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, সিপিবি, গণসংহতি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি সহ ৩০টির বেশি দলের প্রতিনিধি
  • জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যবৃন্দ: বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ
  • প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মনির হায়দার

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মুহূর্তটি গণতন্ত্র পুনর্গঠনের এক বিরল সুযোগ। “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫” দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে— যদি তা বাস্তবায়ন হয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ঠা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।


 আল-আমিন



নিয়োগে দলীয়করণ নয়, নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি এনসিপির

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রভাব কাটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপের ২০তম দিনে অংশ নিয়ে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “গত ৫০ বছরে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নিজস্ব আনুগত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ দিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণে আক্রান্ত হয়েছে এবং জনবান্ধবতা হারিয়েছে।”

পিএসসি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা এমন একটি নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির প্রস্তাব দিয়েছি যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে সুশাসনের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব।”

আখতার হোসেন আরও বলেন, “বর্তমানে সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নিয়োগ দেন। আমরা চাই, সংবিধানেই নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এটি কোনো বড় পরিবর্তন নয়, বরং কার্যকর জবাবদিহিতার সূচনা হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় পিএসসির দুর্বলতা যেমন প্রশ্নফাঁস সামনে এসেছে, তেমনি প্রতিটি আমলেই ভাইভা বোর্ডে দলীয় বিবেচনা কাজ করেছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে নিয়োগ হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়।”

দুদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান নিয়োগ দেন সরকারপ্রধান। এতে অনেক সময় এটি ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি আড়াল করে এবং বিরোধীদের টার্গেট করে। আমরা চাই, এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হোক, যেখানে প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগ হবে নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে।”

আখতার হোসেন বলেন, “আইন পরিবর্তন সহজ, কিন্তু সংবিধান নয়। তাই এসব নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে যুক্ত করলে ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক, সিস্টেম সহজে বদলাতে পারবে না।”

তিনি জানান, বিএনপি পিএসসি ও দুদকের নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। এনসিপি তাদেরকে নির্বাচন কমিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও একই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানায়।

আখতার হোসেন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা আর দলীয়করণে আক্রান্ত প্রশাসন দেখতে চায় না। আমরা চাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে জনগণের স্বার্থে কাজ করুক, কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার না হোক।”

সংলাপের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, “আমরা এমন রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে চাই যেখানে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহিতা এবং চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত হবে। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।”




জামায়াত আমির ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক। সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, সংস্কার উদ্যোগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সাক্ষাতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ। তবে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এখনো কাজের সুযোগ রয়েছে।” তিনি তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান শুল্ক সমস্যা নিরসনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে একটি সুষ্ঠু, গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা সংস্কারমূলক রাজনৈতিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচন নিয়ে আমরা সরকারকে সহায়তা করছি এবং ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিনিয়ত কমিশনের বৈঠকে অংশ নিচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি জানতে চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক। এ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “আমরাই প্রথম আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছি। অধিকাংশ বড় রাজনৈতিক দলই পিআর পদ্ধতির প্রতি ইতিবাচক। এই পদ্ধতিই পারে কালো টাকা, পেশিশক্তি ও মনোনয়ন বাণিজ্য থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে।”

এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।




‘সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও দখল হচ্ছে’ — সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা জানিয়েছেন, আন্দোলনের সময় ‘সমন্বয়ক’ টার্মটি কিছুটা প্রয়োজনীয় ছিল, তবে সেই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কার্যকারিতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, বিপদের সময় কারও সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে সমন্বয়ক টার্ম সহায়ক হতে পারত, কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

রোববার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক লাইভে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

উমামা ফাতেমা বলেন, “সমন্বয়ক লিস্টের বেশির ভাগ মানুষকেই আমি ৫ আগস্ট পর্যন্ত রিচ করতে পারিনি। হয়তো অন্যরা পেরেছে, আমি পারিনি। তবে, তাদের তুলনায় একেবারে সাধারণ মানুষের সাহায্য অনেক বেশি পেয়েছি।”

তিনি আরও জানান, আন্দোলনের সময় সমন্বয়কদের একাধিক তালিকা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে ৫২ জন, পরে ৬২ জন এবং শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫৮ জনে দাঁড়ায়। তবে তিনি দাবি করেন, এই সমন্বয়করা সঠিকভাবে কাজ করেননি। “মাঠে আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে হচ্ছিল, সাধারণ মানুষ নিজে থেকেই সংযুক্ত হচ্ছিলেন, এমনকি বুঝতে পারছিলাম না, কোন দিক থেকে কোন মুভমেন্ট সংগঠিত হচ্ছে,” বলেন তিনি।

‘সমন্বয়ক পরিচয়ে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ’

উমামা ফাতেমা আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পরদিন থেকেই কিছু ব্যক্তি ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দখল কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “গতকাল পর্যন্ত অনেকে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিতে রাজি ছিলেন না, আজ থেকে সবাই নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করছে। কেউ কোথাও গিয়ে দখল করছে, কেউ আবার চাঁদাবাজিতে জড়াচ্ছে।”

তিনি এই আচরণকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলনা করে বলেন, “আমাদের কিছু হিস্টোরিক্যাল রিডিংস আছে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা বা খোঁয়ারি বইতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের রক্ষী বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দখল কার্যক্রম শুরু করে। এখন মনে হচ্ছে— সমন্বয়কদের মাধ্যমেও একই রকম একটি দখল-প্রক্রিয়া চলছে।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ছাত্র আন্দোলনগুলোর অন্যতম ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, যেখানে উমামা ফাতেমা ছিলেন অন্যতম সক্রিয় মুখপাত্র। পরে গত মাসে এক বিবৃতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।




বিমান বিধ্বস্তের সময় মাইলস্টোন ভবনে ছিল ৫৯০ শিক্ষার্থী: অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর খাঁন

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের সময় প্রায় ৫৯০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর খাঁন।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ এয়ার স্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অধ্যক্ষ বলেন, “প্রতিদিন আমাদের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ। সে অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ভবনে প্রায় ৫৯০ জন শিক্ষার্থী ছিল।”

তিনি জানান, ওই ক্যাম্পাসে মোট ৭৩৮ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত আসা-যাওয়া করে। দুর্ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষের প্রথম কাজ ছিল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ বলেন, “ওই মুহূর্তে ফুটেজ দেখা আমাদের অগ্রাধিকার ছিল না। আমরা প্রথমেই নিশ্চিত করতে চেয়েছি, কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে কি না এবং সবাই নিরাপদে অভিভাবকের কাছে পৌঁছেছে কি না।”

“গ্রিল শিশুদের নিরাপত্তার জন্যই”

ভবনের জানালায় গ্রিল থাকায় সমালোচনা ওঠার বিষয়ে জাহাঙ্গীর খাঁন বলেন, “ওই শ্রেণিকক্ষে ছোট ছোট বাচ্চারা ক্লাস করে। তাদের নিরাপত্তার জন্যই জানালায় গ্রিল দেওয়া ছিল।”

নিয়ম মেনেই নির্মাণ: অধ্যক্ষ

ভবন নির্মাণে রাজউক কিংবা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিয়ম মানা হয়নি— এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, “মাইলস্টোন ছাড়াও আশপাশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠান আলাদা কোনো বিবেচনায় নির্মিত হয়নি। আমরা যথাযথ অনুমোদন নিয়েই ভবনটি নির্মাণ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই এলাকায় আমাদের ভবনের চেয়েও উঁচু ভবন আছে, এমনকি মেট্রোরেলের অবকাঠামোও আমাদের ভবনের চেয়ে উঁচু। গোটা এলাকাটিই হাইরাইজ ভবনে ঘেরা। এখানে অনুমতি ছাড়া কিছু হয়নি।”

এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জন আহত শিক্ষার্থী ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর তৃতীয় দফায় মাইলস্টোন কলেজের ক্লাস আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।




গাজায় খাদ্যকেন্দ্র খোলার ঘোষণা ট্রাম্পের, ৬ কোটি ডলার সহায়তা বরাদ্দ

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় একটি “মুক্ত খাদ্যকেন্দ্র” স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই গাজায় একটি খাদ্যকেন্দ্র খুলতে যাচ্ছি। কেন্দ্রটির নির্মাণ, তত্ত্বাবধান এবং খাদ্য বিতরণের পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে যুক্তরাষ্ট্র। এটি হবে একটি মুক্ত কেন্দ্র— গাজার বাসিন্দারা যখন খুশি, তখনই সেখান থেকে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন, কোনো বাধা থাকবে না।”

তিনি আরও জানান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির জন্য প্রাথমিকভাবে ৬ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প বলেন, “এই মুহূর্তে গাজার মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। কারণ সেখানে প্রচুর মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।”

ট্রাম্প প্রথমবারের মতো সরাসরি গাজার তীব্র খাদ্যসংকট স্বীকার করে বলেন, “কিছুদিন আগে টেলিভিশনে গাজার কিছু শিশুকে দেখলাম— তারা খুবই ক্ষুধার্ত ছিল। গাজায় সত্যিকারের খাদ্যসংকট শুরু হয়েছে এবং আপনি একে অস্বীকার করতে পারবেন না।”

সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ইসরায়েল হামাসকে দমন করতে চাইলে আরও কঠোর লড়াই চালাতে পারে। তবে এখন গাজা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে এবং সেখানে খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”

স্টারমারের সমর্থন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারও ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “গাজায় যা চলছে তা পুরোপুরি মানবসৃষ্ট সংকট এবং এটি এখন আর শুধু সংকট নয়, বরং এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।”

তিনি বলেন, “গাজার প্রকৃত অবস্থা যদি ব্রিটেনের জনগণ নিজের চোখে দেখতে পেত, তাহলে তারা গভীরভাবে নাড়া খেত। এটি এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”

স্টারমার আরও বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসে, তবে এতে দুটি কাজ একসঙ্গে হবে— একদিকে খাদ্য সংকট কমবে, অন্যদিকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে যুদ্ধ থামানোর জন্য।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের এই অবস্থান তার পূর্ববর্তী মন্তব্যগুলোর তুলনায় এক নতুন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। তবে এই খাদ্যকেন্দ্র কতটা কার্যকর হবে এবং তা কতটা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে— তা সময়ই বলে দেবে।




জুলাই সনদ ২০২৫: রাজনৈতিক ঐকমত্যে ১২ দফা সংস্কার পরিকল্পনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ৩৫টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে খসড়াটি প্রণয়ন করে।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, খসড়া সনদটি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা এর ভাষা ও প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং চূড়ান্ত মতামত দেবে। তিনি বলেন, ‘‘যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, তা সংলাপ শেষে চূড়ান্ত সনদে সংযোজন করা হবে।’’

খসড়ায় বলা হয়েছে, জুলাই সনদে একটি বাধ্যতামূলক রোডম্যাপ নির্ধারিত হয়েছে, যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। এই সংস্কারের আওতায় রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, দুর্নীতিদমন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসন।

খসড়া সনদের ভূমিকায় বলা হয়েছে, সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং এটিকে সম্মিলিত নৈতিক দায় হিসেবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেবে। এই বাস্তবায়ন পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

সনদের লক্ষ্য ও নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাংবিধানিক কাঠামো, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতিদমন ব্যবস্থার আইনি ও নীতিগত সংস্কার প্রয়োগ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সনদ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই আন্দোলনে ১৪০০-র বেশি মানুষ নিহত হয় এবং বহু মানুষ আহত হন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

এই প্রক্রিয়ায় গঠিত হয় ছয়টি আলাদা সংস্কার কমিশন—
১. সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন
২. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন
৩. বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন
৪. প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন
৫. পুলিশ সংস্কার কমিশন
৬. দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন

কমিশনগুলো ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তাদের সুপারিশ সরকারকে জমা দেয়। এরপর দুই ধাপে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়া চলে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১২টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ
  • সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব
  • নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ
  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত বিধান
  • সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণার কাঠামো
  • প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ পদ্ধতি
  • সংবিধান সংশোধন
  • প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা
  • প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল
  • নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ
  • পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ

তবে এখনো দ্বিমত রয়েছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন, সংসদে নারী আসন সংখ্যা ও নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্রের মূলনীতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ বিষয়ে।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজনৈতিক দলগুলোকে খসড়া সনদ সরবরাহ করা হয়েছে। দলগুলো জানিয়েছে, তারা বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী মতামত দেবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার উদ্যোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

শেষাংশে সনদে আহ্বান জানানো হয়েছে:
২০২৪ সালের শহীদদের স্মরণে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সকল পক্ষ যেন একসঙ্গে কাজ করে।




বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-বাহরাইন

বাহরাইনের বিদ্যুৎ ও পানিবিষয়ক মন্ত্রী ইয়াসির বিন ইব্রাহিম হুমাইদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার।

রোববার (২৭ জুলাই) বাহরাইনের রাজধানী মানামায় মন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ও মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও উন্নয়ন, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, পানি এবং জ্বালানির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

মানামা দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এবং এই খাতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশই উপকৃত হতে পারে।

বাহরাইনের মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সফল দায়িত্ব পালনের কামনা জানান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও গভীর ও সমৃদ্ধ হোক—এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয়পক্ষ।




যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় দফা শুল্ক আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

বাংলাদেশ থেকে মার্কিন বাজারে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। আজ সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে তারা ঢাকা ত্যাগ করবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী ২৯ ও ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এই তৃতীয় দফা আলোচনা। এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্কহার কার্যকর হলে বাংলাদেশি রপ্তানিপণ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। এই প্রেক্ষাপটে শুল্কহার পুনর্বিবেচনার দাবি জানাতেই তারা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড় শুল্কহার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশ। এই শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, এ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে এবং অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আল-আমিন