এক বছর পর মাঠে নেমেছে এনসিপি, ঘোষণা নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার

এক বছর বিরতির পর আবারও ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে রাজপথে ফিরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী পৌরসভার সামনে আয়োজিত “দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা” কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “গত এক বছরে আমাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমাদের সংস্কার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি, সংবিধান সংস্কার কিংবা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোকে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি ঘোষণাপত্রও প্রকাশ করতে পারিনি। তবুও আমরা পিছু হটিনি। দেশবাসীর অধিকার আদায়ের জন্য আবারও সংগঠিত হচ্ছি।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের দাবিতে মানুষ যখন রাজপথে নেমেছে, তখনও আমাদের রুখে দিতে নানা হামলা-চক্রান্ত করা হয়েছে। কিন্তু ৩ আগস্ট শহীদ মিনার থেকে আমরা নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা করবো। আমাদের আন্দোলন থামানো যাবে না।”

তিনি ছাত্র উপদেষ্টা সংক্রান্ত ইস্যুতেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেন, “ওরা আমাদের কেউ না, গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে যারা কাজ করছেন তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক সার্জিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমীন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নাহিদ ইসলাম সকলকে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগামীর সংসদে, আগামীর বাংলাদেশে এনসিপির জয় নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হৃদরোগে আক্রান্ত জামায়াত আমিরের হার্টে ব্লক, পরামর্শ বাইপাস সার্জারির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এক জাতীয় সমাবেশে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) তার এনজিওগ্রাম করা হয়। এনজিওগ্রামের রিপোর্টে ধরা পড়ে, তার হার্টের তিনটি প্রধান রক্তনালিতে গুরুতর ব্লক রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ব্লকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে বাইপাস সার্জারি। তবে বিকল্প হিসেবে ‘স্টেন্টিং’ বা রিং পরানোর বিষয়টিও চিন্তাভাবনার মধ্যে রয়েছে। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

তবে পারিবারিক এবং রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত আমির নিজেই দেশেই চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী এবং বাইপাস সার্জারির বিষয়ে মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন। শারীরিক দুর্বলতা থাকলেও তিনি এখনো নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

গতকালও তিনি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য রাখেন।

চিকিৎসকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমানের শরীর আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য বাইপাস সার্জারি করানোই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। এদিকে তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছেন।

তবে ইবনে সিনা ট্রাস্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে কি না—এ বিষয়টি তাদের জানা নেই।

ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয়ভাবে শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে কুকুরকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা, যুবককে জরিমানা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে নির্মমভাবে একটি পথকুকুরকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে কয়েকজন যুবক। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিবাদ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়। পরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে একজনকে জরিমানা এবং বাকিদের মুচলেকা নেওয়া হয়।

সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, স্থানীয় কিছু বখাটে মিলে একটি নিরীহ কুকুরকে গাছের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন স্থানীয় মোজাম্মেল হোসেন মোহন নামের এক ব্যক্তি। ভিডিওটি ভাইরাল হলে জনমনে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা বিষয়টি জানায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‘ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে খোকন হাওলাদার নামের একজনকে তাৎক্ষণিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাকি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার শর্তে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।’’

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। অনেকেই পশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 




শাপলায় মোড়া সাতলা গ্রাম: বরিশালের রঙিন স্বর্গ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রাম এখন বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত ‘শাপলার রাজ্য’ নামে। প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই গ্রাম, যেখানে বর্ষা ও শরতের ভোরবেলায় চোখ জুড়ানো শাপলার সমারোহ যেন স্বর্গীয় এক সৌন্দর্যের দ্যোতনা ছড়িয়ে দেয়।

প্রায় ১০ হাজার একর বিস্তৃত জলাভূমিতে ফুটে থাকা লাল, সাদা ও বেগুনি রঙের হাজার হাজার শাপলা ফুল প্রতি বছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে এক অপূর্ব রূপ ধারণ করে। সূর্য ওঠার আগে বিলজুড়ে শাপলার লাল রঙ যেন একটি বিশাল লাল গালিচার মতো বিস্তৃত হয়। এ দৃশ্য প্রতিটি ভ্রমণপিপাসুকে মুগ্ধ করে, মোহিত করে হৃদয়।

স্থানীয়রা একে ‘শাপলার বিল’ নামে ডাকলেও এটি শুধু একটি বিল নয়—এটি একটি জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে প্রকৃতি প্রতিদিন সকালে নতুন রঙে আঁকে সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি।

শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আগস্ট-অক্টোবর মাসের ভোরবেলা সময়টি সবচেয়ে উপযুক্ত। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলগুলো বুজে যায় কিংবা স্থানীয়রা তা তুলে নেন বিক্রির জন্য।

ঢাকা থেকে বরিশালে বাসে (শাকুরা, হানিফ, ঈগল) বা সদরঘাট থেকে লঞ্চে যাওয়া যায়। লঞ্চ ভাড়া ২০০ থেকে ৮০০০ টাকার মধ্যে।

বরিশাল শহর থেকে সাতলা যেতে হলে বাসে শিকারপুর বা নুতনহাট পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে অটো বা মহেন্দ্রতে সাতলা পৌঁছাতে হয়।

সাতলাতে বড় কোনো হোটেল না থাকলেও স্থানীয়দের বাড়িতে, স্কুলে বা গৃহায়ণ ব্যবস্থায় রাত্রিযাপন করা যায়। বরিশালে চাইলে গ্র্যান্ড পার্ক বা হোটেল এথেনাসহ অনেক উন্নত মানের হোটেল রয়েছে।

শুধু শাপলার সৌন্দর্যই নয়, এখানে উৎপন্ন শাপলা ফুল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ হয়। প্রকৃতিপ্রেমী এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য গন্তব্য। অতিথিপরায়ণ সাতলার মানুষ, অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য আর সহজ যাতায়াত—সব মিলিয়ে সাতলা হয়ে উঠেছে বরিশালের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আমতলীতে বাস খাদে পড়ে আহত ১৫, তিনজন বরিশালে রেফার

বরগুনার আমতলীতে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাস খাদে পড়ে অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ছয়জনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শরীফবাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা পটুয়াখালীগামী জেএইচ ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস শরীফবাড়ি স্ট্যান্ডে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়।

আহত যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন অপরাজিতা (খুলনা), সুলতানা পারভীন (কুমিল্লা), নাহিদা সুলতানা (জয়পুরহাট), নুসরাত জাহান (খুলনা), রনজিৎ ও দুলাল চন্দ্র। স্থানীয় লোকজন আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে গুরুতর আহত অপরাজিতা, রনজিৎ ও সুলতানা পারভীনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে রেফার করা হয়।

আহত সুলতানা পারভীন বলেন, ‘কুয়াকাটা ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ করে বাসটি খাদে পড়ে গেলে আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। অনেকে আহত হন।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, ‘প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বেশ কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনজনকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।’

আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) আমির হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন, ‘বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। আহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 কনস্টেবলের স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব, বরখাস্ত এএসপি আফজাল

বরিশাল রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে (আরআরএফ) কর্মরত এক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আফজাল হোসেন কনস্টেবলের স্ত্রীর প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব এবং অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

বুধবার (৩০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এক কনস্টেবলের স্ত্রী মৌখিক অভিযোগ জানাতে গেলে বরিশাল আরআরএফ কমান্ড্যান্টের দপ্তরে তার সঙ্গে দেখা হয় এএসপি আফজালের। এরপর থেকে তিনি ওই নারীকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত বিরক্ত করতে থাকেন এবং অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

এএসপি আফজাল শুধু অনৈতিক প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি ওই কনস্টেবলের সংসার ভাঙার পেছনেও ভূমিকা রাখেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এমনকি তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে ব্যবহার করে ভুয়া অভিযোগ দাখিল এবং মামলার কুপরামর্শও দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন অপেশাদার ও নৈতিকতা বিবর্জিত আচরণ প্রত্যাশিত নয়। এতে বাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধের শামিল।

এএসপি আফজাল হোসেনকে ২১ জুলাই থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন এবং খোরপোষ ভাতা পাবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা, পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি তাকে পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

অনিয়মের বিষয়টি ঘনীভূত হয় ‘আইএফআইসি গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড’ ইস্যু নিয়ে, যার মাধ্যমে শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু কোম্পানিটি মাত্র কয়েক মাস আগেই গঠিত হয়েছিল এবং পরিশোধিত মূলধন থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ২৪৮ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল, যা বিএসইসির কাছে সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

এই বন্ড ইস্যুতে আইএফআইসি ব্যাংক মূল ইস্যুকারী না হলেও জামিনদার হিসেবে যুক্ত ছিল, অথচ বিজ্ঞাপনে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন এটি ব্যাংকের নিজস্ব বন্ড। এতে করে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হন ও প্রতারিত হন বলে তদন্তে উঠে আসে।

বিএসইসির গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:

১. সালমান এফ রহমান – ১০০ কোটি টাকা জরিমানা; পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত।
২. সায়ান ফজলুর রহমান (ছেলে) – ৫০ কোটি টাকা জরিমানা; আজীবন অবাঞ্ছিত।
৩. ইমরান আহমেদ (আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের তৎকালীন সিইও) – ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ।
৪. শাহ আলম সারওয়ার (আইএফআইসি ব্যাংকের তৎকালীন এমডি) – এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ।
৫. আইএফআইসি ব্যাংক ও পরিচালকদের সতর্ক করা।
৬. ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ECRL) – ১০ লাখ টাকা জরিমানা।
৭. অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম (তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান) – আজীবন অবাঞ্ছিত।
৮. ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ (কমিশনার) – ৫ বছরের জন্য অবাঞ্ছিত।

এই ঘটনায় দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের অপব্যবহারের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অনেকেই একে “পুঁজিবাজারে আস্থা সংকটের গভীর রূপ” হিসেবে দেখছেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার | চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রাশিয়ায় ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, কুড়িল দ্বীপে সুনামির আঘাত

রাশিয়ায় আজ বুধবার স্থানীয় সময় ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশটির কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। ভূমিকম্পের পরপরই সমুদ্রপৃষ্ঠে সৃষ্ট হয় বিশাল ঢেউ—যা সুনামির রূপ নিয়ে আঘাত হানে উপকূলে। এই ঘটনার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি দেশে জারি করা হয় সুনামি সতর্কতা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এমন ভয়াবহ ভূমিকম্পের মূল কারণ হলো টেকটোনিক প্লেটের আচমকা নড়াচড়া। পৃথিবীর পৃষ্ঠে থাকা এই প্লেটগুলো অনেকটা পাজলের টুকরোর মতো একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে থাকে। বছরজুড়ে এগুলোর অবস্থান খুব ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু যখন কোনো দুটি প্লেট আটকে যায়, তখন সেখানে জমতে থাকে বিপুল পরিমাণ শক্তি। এক পর্যায়ে এই শক্তি হঠাৎ মুক্তি পায়, আর তখনই ঘটে ভয়াবহ ভূমিকম্প।

যদি ভূমিকম্পটি সমুদ্রের নিচে হয়, তবে পানির স্তরেও ঘটে তীব্র পরিবর্তন। সেই পরিবর্তন থেকেই শুরু হয় সুনামি। সাগরের গভীরে সৃষ্ট ঢেউগুলো শুরুতে চোখে পড়ার মতো না হলেও উপকূলের দিকে আসতে আসতে এগুলোর উচ্চতা বেড়ে যায় ভয়ানকভাবে। তখনই এগুলো আছড়ে পড়ে উপকূলীয় শহরগুলোতে।

সুনামি শব্দটি এসেছে জাপানি ভাষা থেকে। এটি এমন এক ধরনের সামুদ্রিক ঢেউ, যা ভূমিকম্প বা সমুদ্রের নিচে ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়। গভীর সমুদ্রে এই ঢেউগুলো ঘণ্টায় ৪৫০ থেকে ৬০০ মাইল গতিতে চলতে পারে। যদিও খোলা সমুদ্রের মাঝখানে থাকা জাহাজগুলো এই ঢেউ সহজে টের পায় না। কারণ সেখানে ঢেউগুলো উচ্চতায় বড় হলেও পানির গভীরতা অনেক বেশি থাকায় তা ছাপিয়ে ওঠে না।

কিন্তু একবার উপকূলের কাছাকাছি চলে এলে ঢেউয়ের গতি কমে আসে এবং উচ্চতা বেড়ে যায় আশঙ্কাজনকভাবে। তখন মাত্র ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার ঢেউও হয়ে ওঠে মারাত্মক বিধ্বংসী। কেউ কেউ বলছেন, কিছু ঢেউ ১০০ ফুট উচ্চতায়ও পৌঁছাতে পারে। এসব ঢেউয়ের আঘাতে প্রাণহানি, গৃহহানি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে চরমে।

বিশ্বজুড়ে সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলো এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করছে। তবে ভূমিকম্প ও সুনামির ভয়াবহতা দেখে অনেকে ২০০৪ সালের ইন্দোনেশিয়া-কেন্দ্রিক ভয়াবহ সুনামির কথা স্মরণ করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “৫ আগস্ট ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা নেই। সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় ভালোভাবেই সম্পন্ন হবে।”

তিনি আরও জানান, “বর্তমানে যে ১১ দিনের অভিযান চলছে, এটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। কেন অভিযান চালানো হচ্ছে—সেটি ডিএমপি জানে। প্রয়োজনের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”

অন-অ্যারাইভাল ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ অন-অ্যারাইভাল ভিসা বাতিল করেনি। যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে, তাদের নাগরিকদের এখনো অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চুক্তিহীন দেশগুলোর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।”

মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, মালয়েশিয়ার একটি টিম বাংলাদেশ সফরে এসেছে এবং তাদের সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, “প্রতিটি দেশের সঙ্গে আলাদা আলাদা চুক্তি রয়েছে। সে অনুযায়ী আলোচনা ও সমঝোতা চলবে।”

রংপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতিতে হামলার বিষয়ে তিনি কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের সভা

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আজ বুধবার বেলা ১১টায় একটি উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা উত্তরণ পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক, সহায়তা নীতিমালা এবং টেকসই উন্নয়ন কৌশল নিয়ে নানা মতামত তুলে ধরেন।
সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণে যথাযথ পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কাঠামোগত সংস্কারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

মো. আল-আমিন