বরিশালে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে সংঘর্ষ ও গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৩১ জুলাই ২০২৫, বরিশালে পালিত হয় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় ৯ দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেন। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং অন্তত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

বরিশাল নগরীর ডিসিঘাট, সদর রোড ও ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় দিনভর চলা এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা জানান, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতা, মামলা ও পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের বরিশাল শাখার অন্যতম সমন্বয়ক হুজাইফা রহমান জানান, “৮ ও ৯ জুলাই আন্দোলনের সূচনা থেকে ছাত্রসমাজ একত্রিত হয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মাঠে নামে। ৩১ জুলাই ছিল তারই একটি বড় অংশ।” তিনি বলেন, “সেদিন পুলিশ আমাদের ওপর লাঠিচার্জ চালায়, গ্রেফতার করে ১২ জন শিক্ষার্থী ও এক প্রতিবন্ধী পথচারীকে।”

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন:
হুজাইফা রহমান, নাঈম খান, অর্পিতা নন্দী বহ্নি, রাশেদুল হাসান, মো. আরাফাত, লামিয়া সাইমন (সকলেই বিএম কলেজ), রাকিবুল ইসলাম শিহাব ও জান্নাতুল ফেরদৌস তানমিম (মানিক মিয়া কলেজ), মো. হাসিববিল্লাহ (বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়), আব্দুল্লাহ মামুন (পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট)। বাকি ৩ জনের নাম জানা যায়নি। এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন।

বরিশাল জেলা বার সমিতির প্রবীণ আইনজীবী ও কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক জেলা সভাপতি এ.কে. আজাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে পুলিশ যেভাবে দমন চালিয়েছে, তা অনৈতিক। আমি নিজে আইন সহায়তা দিতে থানায় ছুটে গেছি।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মেস রায়ও থানায় গিয়ে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়ে ছাত্রদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি বিবেকের দায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি।”

অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনকারীরা গ্রেফতার ও লাঠিচার্জের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





১০টির বেশি সিম? ৩০ অক্টোবরের পর বন্ধ হয়ে যাবে!

বাংলাদেশে মোবাইল সিম ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম জারি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এখন থেকে একজন গ্রাহক নিজের নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম ব্যবহার করতে পারবেন। এর বেশি হলে অতিরিক্ত সিমগুলো আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে ডি-রেজিস্ট্রার করতে হবে। এই সময়সীমার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে অতিরিক্ত সিমগুলোর বিরুদ্ধে।

বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বিটিআরসির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মোবাইল অপব্যবহার রোধ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ সিম ব্যবহারের লাগাম টানতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিটিআরসি জানায়, একজন গ্রাহকের নামে কতটি সিম নিবন্ধিত রয়েছে তা জানতে চাইলে *১৬০০১# ডায়াল করলেই তথ্য জানা যাবে। যদি দেখা যায়, আপনার নামে ১০টির বেশি সিম সক্রিয় আছে, তবে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে অতিরিক্ত সিমগুলো ডি-রেজিস্ট্রার করে ফেলুন। না হলে ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর পর সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হতে পারে।

বর্তমানে প্রতিটি সিমের পেছনে রয়েছে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর তথ্য। তাই অবৈধভাবে একাধিক সিম নিবন্ধন করে অপব্যবহার করা যেমন অপরাধ, তেমনি নিজের অজান্তে অন্য কেউ আপনার নামে সিম চালালেও তার দায় আপনার ওপরই পড়বে। এই নতুন নিয়মের ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করছে বিটিআরসি।

এর আগে ২০২৩ সালে বিটিআরসি জানিয়েছিল, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১৫টি পর্যন্ত সিম রাখতে পারবেন। তবে এবার সেই সংখ্যাটি হ্রাস করে ১০টি নির্ধারণ করা হলো, যা কার্যকর হবে ১৫ আগস্ট ২০২৫ থেকে।

বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, এক এনআইডিতে ৫০টির বেশি সিম নিবন্ধন করে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবেই এবার এই ‘১০ সিম নীতি’ চালু করা হলো।

গ্রাহকদের এখন থেকেই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। সিম ব্যবস্থাপনায় অসতর্কতা ভবিষ্যতে বড় জটিলতায় ফেলতে পারে। অতএব, নিজের নামে নিবন্ধিত সিম সংখ্যা যাচাই করুন, অতিরিক্ত থাকলে দ্রুত বাতিল করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে আরও দেশ, চাপ বাড়ছে ইউরোপে

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ফ্রান্স। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কয়েক দিন আগেই ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একই ধরনের স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। তবে এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকারে কোনো হুমকি সৃষ্টি হবে না বলেও তারা স্পষ্ট বার্তা দেয়।

বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ১৪৪টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব দেশের বেশিরভাগই গ্লোবাল সাউথের অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন এবং ভারত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দেশ, যেমন সুইডেন, সাইপ্রাস এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু সাবেক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র—ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা থেকে উন্নীত করে ‘অ-সদস্য রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

কারা হতে পারে পরবর্তী স্বীকৃতি দানকারী?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমারের ঘোষণার ফলে এখন জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং জাপানের মতো বড় ও প্রভাবশালী দেশগুলোর ওপর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে।

তবে জার্মানি ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। অপরদিকে ইতালির অবস্থান কিছুটা আলাদা—তারা চায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে একযোগে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।

বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ বলছে, এটি ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের সমাধানে একটি কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।




জুলাই সনদের বাস্তবায়নের একমাত্র স্থান হবে জাতীয় সংসদ: সালাহউদ্দিন আহমদ

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের একমাত্র উপযুক্ত স্থান হবে জাতীয় সংসদ—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৩০ জুলাই)  রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এই সনদ জাতি, জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে একটি সামাজিক চুক্তি। আমি মনে করি, এটি বাস্তবায়নের একমাত্র জায়গা হচ্ছে জাতীয় সংসদ।”

তিনি জানান, ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ একটি প্রস্তাবনা, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে কমিশন গঠনের পটভূমি, সরকারের গঠন প্রক্রিয়া, ফ্যাসিবাদী আচরণের রূপ, এবং জনগণের প্রত্যাশা। এই খসড়ার ভিত্তিতে তৈরি করা ‘অঙ্গীকারনামা’ অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আইন, সংবিধান ও বিধি-বিধান সংশোধন করতেও প্রস্তুত বিএনপি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এই প্রতিশ্রুতিগুলো জাতীয় সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, এবং আমরা এতে একমত।”

তিনি আরও বলেন, “এতগুলো রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, সবকিছু সম্প্রচার হয়েছে, জাতি দেখেছে কে কী বলেছে। যখন এই সনদ প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরসহ প্রকাশিত হবে, তখন কেউ কি তা অস্বীকার করতে পারবে? যে দল তা করবে, তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় থাকবে?”

জুলাই-আগস্টের ছাত্র অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “শহীদদের অঙ্গীকার ও জাতির প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো দল ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না।”

সংসদ ছাড়াও অনেক সংস্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অধ্যাদেশ আকারে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। “শুধু সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো বাদ দিলে, অধিকাংশ সুপারিশ সংসদ ছাড়াই বাস্তবায়ন সম্ভব।”

সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি ক্ষমতা পাওয়ার পরই সব কিছু করা হতো, তাহলে অনেক আগেই বাস্তবায়ন শুরু হতো। জাতিকে ধোঁকা দেওয়ার কোনো মানসিকতা আমাদের নেই।”

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছয়টি প্রধান কমিশনের মোট সুপারিশ ছিল ৮২৬টি, যার মধ্যে মাত্র ৫১টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এরপরও কেউ কেউ বলে বিএনপি সংস্কার মানছে না—এমন অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।




গাজায় সৌদি আরবের সহায়তা পৌঁছাল রাফা ক্রসিং হয়ে

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ক্ষুধার্ত ও বিপর্যস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে সৌদি আরব। বুধবার (৩০ জুলাই) সাতটি ত্রাণবাহী ট্রাক মিশর-গাজা সীমান্তের রাফা ক্রসিং দিয়ে উপত্যকায় প্রবেশ করে।

বার্তাসংস্থা সৌদি গ্যাজেট জানিয়েছে, সৌদি বাদশাহ সালমান মানবিক সহায়তা ও রিলিফ সেন্টারের (KSRelief) উদ্যোগে এই সহায়তা পাঠানো হয়েছে। ট্রাকগুলোতে প্রধানত খাদ্যসামগ্রী ছিল।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গাজায় চলমান মানবিক সংকট মোকাবেলায় সৌদি আরব এ পর্যন্ত ৫৮টি বিমান ও ৮টি জাহাজে করে ত্রাণ পাঠিয়েছে। এসব ত্রাণে প্রায় ৭ হাজার ১৮৮ টন খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আশ্রয় সামগ্রী রয়েছে। সেইসঙ্গে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ২০টি অ্যাম্বুলেন্সও সরবরাহ করেছে সৌদি আরব।

ইসরায়েলি অবরোধ ও হামলার ফলে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির মারাত্মক ঘাটতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার চাপের মুখে ইসরায়েল সম্প্রতি সীমিতভাবে ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে, যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরব জর্ডানের সহায়তায় বিমান থেকেও গাজায় খাদ্যসামগ্রী ফেলে দিয়েছে। তবে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে ব্রিটেন: সেপ্টেম্বরে আসতে পারে ঘোষণা

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট নিরসনে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, “ইসরায়েল যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জাতিসংঘের মঞ্চে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য।” তার ঘোষণায় স্পষ্ট, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কৌশলগত ও মানবিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যা ইসরায়েলের ভূমিকায়ও পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছে ব্রিটেন।

চারটি মূল শর্ত

যুক্তরাজ্য যে চারটি শর্ত সামনে রেখেছে সেগুলো হলো:

  • গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি
  • গাজায় ত্রাণ সরবরাহে আরও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা
  • পশ্চিম তীর দখল ও সংযুক্তির পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েলের সরে আসার প্রতিশ্রুতি
  • দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি, যার মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে

স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, “ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কোনও নীতিগত সমতা নেই। হামাসকে অবশ্যই জিম্মিদের মুক্তি দিতে, অস্ত্র ত্যাগ করতে ও গাজা শাসনে অংশ না নিতে হবে।”

রাজনৈতিক চাপ ও মানবিক উদ্বেগ

ব্রিটেনের পূর্ববর্তী সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলেছে, ‘সঠিক সময়’ ও ‘উপযুক্ত প্রেক্ষাপটে’ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। স্টারমারের সরকারের অবস্থানও ছিল একই। তবে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও দিন দিন বাড়তে থাকা চাপ—বিশেষ করে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ—স্টারমারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকার আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ইসরায়েল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বাধ্য হবে।

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য ফল

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জুলি নরম্যান বলেন, “ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ প্রতীকী হলেও কূটনৈতিক ও নৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অনেক।” ব্রিটেনে বর্তমানে ফিলিস্তিনের একটি প্রতিনিধি মিশন রয়েছে। স্বীকৃতি দেওয়া হলে সেটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে পরিণত হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে ব্রিটেন পশ্চিম তীরে একটি নিজস্ব দূতাবাস স্থাপনও করতে পারে।

তবে এই স্বীকৃতির ফলে ব্রিটেন-ইসরায়েল সম্পর্ক নতুনভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেরুজালেমে নিযুক্ত ব্রিটেনের সাবেক কনসাল জেনারেল ভিনসেন্ট ফিন। তিনি বলেন, “ব্রিটেন চাইলে ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের বসতিগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, যা প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত হামাসকে পুরস্কৃত করার শামিল, যা ২০২৩ সালের হামলায় নিহতদের প্রতি অবিচার।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে কোনও মন্তব্য না করলেও পরে সাংবাদিকদের বলেন, “ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা, যা ঠিক নয়।”

স্পষ্ট বার্তা: ফিলিস্তিনিরা হামাস নয়

ব্রিটেনের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এই সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “এটি হামাসকে পুরস্কার দেওয়ার বিষয় নয়। এটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি, বিশেষ করে গাজার শিশুদের জন্য নেওয়া একটি মানবিক সিদ্ধান্ত।”

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা বাড়বে এবং পশ্চিমা বিশ্বের নীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।




নাগরিকদের কথা না শুনলে সরকার চলতে পারে না: সাভারে ভার্চুয়াল সভায় তারেক রহমান

“সরকার পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই নাগরিকদের কথা শুনতে হবে,” — বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ কোনো ব্যক্তির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে চায় না, তারা চায় রাষ্ট্র ও সরকারে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।

বুধবার বিকেলে সাভারের আশুলিয়ার দারুল ইহসান মাদরাসা মাঠে আয়োজিত ‘নারকীয় জুলাই’ শীর্ষক এক স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে।

তারেক রহমান বলেন, “গত দেড় দশকের আন্দোলন শুধু কিছু লোকের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে হয়নি। জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। সরকারে যারা থাকবেন, তাদের অবশ্যই জনগণের মুখাপেক্ষী হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা তাদের মত প্রকাশ করেন। এজন্যই বিএনপি সবসময় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানায়। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জনগণ যেন নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ও রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণকে দুর্বল রেখে সংস্কার, সরকার বা রাজনীতি কিছুই শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।”

গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সাভার-আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাদের হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা কারবালার নির্মমতাকেও হার মানায়। বিশেষ করে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।”

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “ফ্যাসিবাদী অপশক্তি পুনর্বাসনের জন্য ওৎ পেতে আছে। সরকারের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সংকটে ফেলতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “সরকারি চাকরির প্রত্যাশা না থাকলেও শ্রমজীবীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন, কারণ তারা বিশ্বাস করেছিলেন—যদি ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতায় থাকে, তবে কারো অধিকারই ফিরবে না।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় প্রমুখ।




ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে; সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী পৌরসভা মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শেষে এক পথসভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “এই দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা আমাদের দলের কেউ নন, কিন্তু তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্ব করছেন। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তারা অন্তর্বর্তী সরকারে রয়েছেন। অথচ এখন তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।”

নাহিদ ইসলাম জানান, বিচার সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে গণসমাবেশ করবে এনসিপি। সেখান থেকেই ‘নতুন বাংলাদেশের’ ইস্তেহার ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও বাধার মধ্যেও আমরা পিছিয়ে যাইনি। আমাদের দাবি এখনো অটুট রয়েছে। আমরা সংগঠিত হচ্ছি এবং জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়বো।”

তিনি বলেন, “নরসিংদীতে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যে রাজপথে থাকতে হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মানুষ ৩ আগস্ট শহীদ মিনার ভরে দেবে।”

নরসিংদীর উন্নয়নে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, “এখানে ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ রয়েছে। আমরা তাদের বিতাড়িত করবো।”

পথসভার আগে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে নরসিংদী জেলখানা মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পদযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা মোড়ে এসে শেষ হয়।

এর আগে দুপুরে নরসিংদী ক্লাবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা শহীদ পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

পথসভা ও পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়োরা তুষার ও ইয়াসমিন মিতু, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক; বিভিন্ন সেক্টর আধুনিকায়নের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আধুনিকায়ন ও বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩০জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ একটি অনন্য মন্ত্রণালয়, যা আমাদের সমুদ্র ও খামার উভয় ক্ষেত্রকে ধারণ করে। কিন্তু এখনও আমরা গভীর সমুদ্রের সম্পদ ব্যবহারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারিনি। এই খাতটি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে দেশের অর্থনীতির জন্য এটি বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।”

তিনি বঙ্গোপসাগরে সুনির্দিষ্ট জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং বলেন, সম্ভাব্য গভীর সমুদ্রের মাছ ধরার অঞ্চল চিহ্নিত করতে হলে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। প্রয়োজনে জাপান বা থাইল্যান্ডের মতো দেশ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণের কথাও জানান তিনি। “এটা শুধু বেশি মাছ ধরার বিষয় নয়, এটা একটা সম্পূর্ণ শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ,” বলেন তিনি।

পশুপালন খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “খাদ্য সংকট, রোগ ও ভ্যাকসিনের উচ্চমূল্য এ খাতে বড় সমস্যা। আমাদের নিজেদের পশুখাদ্য ও ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এতে খরচ কমবে এবং আমরা আত্মনির্ভর হতে পারব।”

তিনি জানান, হালাল মাংসের আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে এবং মালয়েশিয়া এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চামড়া নিয়ে সক্রিয় সিন্ডিকেটের বিষয়ে আগাম প্রস্তুতির তাগিদ দিয়ে ইউনূস বলেন, “একই সমস্যা যেন পুনরায় না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।”

জাতীয় চিড়িয়াখানার অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “চিড়িয়াখানায় বছরের পর বছর ধরে পশুদের অবহেলিত করা হয়েছে। এমনকি তাদের খাবারও কখনও কখনও চুরি হয়ে যায়। এটা অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। অবিলম্বে চিড়িয়াখানার সংস্কার করা জরুরি।”

তিনি দেশের পশুচিকিৎসা ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকীকরণের নির্দেশ দেন এবং বলেন, “বহু ক্লিনিক অকেজো বা পুরনো ধাঁচের, কিছু কার্যকরও হচ্ছে না। কৃষক ও পোষা প্রাণীর মালিকদের জন্য এগুলোকে প্রকৃত সহায়তা কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।”

বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




আসন বাড়লো গাজীপুরে, কমলো বাগেরহাটে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৪২টি আসনে সীমিত পরিবর্তন এবং গাজীপুর ও বাগেরহাটে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাজীপুরে একটি নতুন আসন যোগ করা হয়েছে এবং বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৯টি আসনের সীমানায় সীমিত আকারে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, ২৫০টি আসনের ব্যাপারে কোনো আপত্তি না আসায় সেগুলোর সীমানা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নির্ধারিত খসড়া সীমানা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। পরে শুনানি শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।

কারিগরি কমিটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজীপুরের ভোটার সংখ্যা ও জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সেখানে একটি নতুন আসন সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অপরদিকে, বাগেরহাটের ভোটার সংখ্যা সর্বনিম্ন হওয়ায় একটি আসন কমানোর সুপারিশ করা হয়। এই দুই পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতীয় গড় ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০ অনুযায়ী ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

৩৯টি আসনের সীমিত সংশোধনের তালিকায় রয়েছে:
পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “সংবিধানের ১১৯ ও ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতা ইসির। এ লক্ষ্যে ১৬ জুলাই ৯ সদস্যের একটি বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়, যাতে ভূগোলবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “কমিটি দেশের ৬৪ জেলার ৩০০টি আসনের সীমানা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট দিয়েছে। এ পর্যালোচনায় ভৌগোলিক অখণ্ডতা, প্রশাসনিক কাঠামো ও আদমশুমারির তথ্য গুরুত্ব পেয়েছে।”

তিনি জানান, ইসি খসড়া গেজেট আজই প্রকাশ করবে। পরবর্তী শুনানি ও আপত্তির নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা করবে কমিশন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম