যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদুরোর চাঞ্চল্যকর দাবি

মাদক-সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে নিউইয়র্কের ম্যানহাটান ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। শুনানির একপর্যায়ে তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, তিনি একজন সৎ মানুষ এবং একটি সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে দাবি করেন, তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে।

আদালতে পরিচয় জানতে চাইলে মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচয় দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ তার এই দাবি স্বীকার করেনি। তারা বলছে, মাদুরো দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট নন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথেষ্ট শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

শুনানিতে মাদুরো স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই আদালতে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও যুক্তরাষ্ট্রের আনা মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইনের এজলাসে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাজিরার সময় নিকোলাস মাদুরো কারা-পোশাক পরিহিত ছিলেন এবং তার পায়ে শিকল বাঁধা ছিল। তবে হাত বাঁধা না থাকায় তিনি আইনজীবীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে ও হাত মেলাতে পেরেছেন। তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও কারা-পোশাকে আদালতে উপস্থিত হন, তবে তাদের কারও হাতেই শিকল ছিল না।

ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, মাদুরোর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারি জোয়েল পোলাক। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন আইনজীবী এবং উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত থাকার কারণে আলোচনায় ছিলেন।

অভিযোগপত্রে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মোট চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মাদক-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহে জড়িত থাকা এবং মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার মতো অপরাধ। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শুনানি শেষে বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন মাদুরোকে আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির জন্য আবারও আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এই মামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে পশ্চিম উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে এই কম্পন অনুভূত হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শিমান প্রিফেকচারের আশপাশের এলাকায় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ২ বলা হলেও পরবর্তীতে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের অপেক্ষাকৃত অল্প গভীরে, যার ফলে কম্পন বেশ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়াসুগি শহরসহ আশপাশের এলাকায় জাপানের শিন্দো স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫-এর ওপরে উঠে যায়। এই মাত্রায় ভারী আসবাবপত্র নড়ে পড়তে পারে, ঘরের ভেতরে থাকা মানুষ ভারসাম্য হারাতে পারেন এবং যানবাহন চালানোর সময় চালকদের জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা আরও জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর একই অঞ্চলে একাধিক পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৪ এর মধ্যে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুনামি সৃষ্টির কোনো আশঙ্কা দেখা যায়নি। এজন্য দেশজুড়ে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হলেও আহত বা হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো সামনে আসেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প একটি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক ঘটনা। দেশটি চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় প্রায়ই ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হয়। প্রায় ১২৫ মিলিয়ন মানুষের বসবাসকারী এই দ্বীপ রাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে দেড় হাজারের মতো ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়, যার বেশিরভাগই কম মাত্রার।

তবে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। সে কারণেই জাপানে উন্নত সতর্কতা ব্যবস্থা, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ এবং নিয়মিত মহড়া চালু রয়েছে। এবারের ভূমিকম্পেও সেই প্রস্তুতির সুফল মিলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রতীক ছাড়া প্রচারণা নয় : ইসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনের মধ্যে রাখতে প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত সব ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরই কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করে প্রচারণায় নামতে পারবেন। এর আগে কোনো পোস্টার, ব্যানার, মিছিল, সভা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা কিংবা সরাসরি ভোট চাইতে দেখা গেলে তা বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটগ্রহণের তারিখের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। সে অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার দুই দিন আগে রাত ১২টার মধ্যেই প্রচারণা শেষ করতে হবে। এই সময়ের পর কোনো ধরনের প্রচারণা চালালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন মনে করছে, প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণা বন্ধ থাকলে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে এবং নির্বাচনী মাঠে কোনো পক্ষ বাড়তি সুবিধা নিতে পারবে না। এজন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাড় কাঁপানো শীতে স্তব্ধ দেশ

বাংলা পৌষ মাসের মাঝামাঝিতে এসে শীত যেন তার চরম রূপ দেখাতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না অনেক জায়গায়। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড হলে অঞ্চলটির ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একদিনের ব্যবধানে সেখানে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ, আর ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৬০০ মিটারে।

এর আগে সোমবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই সময়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মাসের শুরুতে রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমে কোথাও কোথাও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ এলাকায় সকাল-বিকাল ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

শহর ও গ্রামাঞ্চলে মানুষ যে যেভাবে পারছে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।

তীব্র শীতের প্রভাবে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপও। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ শিশু ও বয়স্ক মানুষ। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সময়ে নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঠান্ডার সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। একই সময়ে রংপুরের সৈয়দপুরেও তাপমাত্রা নেমেছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে, যা ছিল একটি বিরল নজির।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতে কক্সবাজারে যাচ্ছেন তারেক রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করতে আগামী ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজার সফরে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী থাকলে ১৮ জানুয়ারি তারেক রহমান কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আকতার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাদের পাশে থাকার অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের কক্সবাজার সফরকে জেলা বিএনপি নেতারা ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতা কক্সবাজারে আসছেন, এটি আমাদের জন্য গর্ব ও আবেগের বিষয়। নেতাকর্মীরা এই সফরকে ঘিরে উজ্জীবিত।

একই সঙ্গে কক্সবাজার সফরে তারেক রহমান যেন ২০২৩ সালের নভেম্বরে উখিয়ায় গুলিতে নিহত বিএনপি কর্মী জাগির হোসেনের পরিবারের খোঁজ নেন, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আহমদ শাকিল বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে নিহত জাগির হোসেন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তার দুই এতিম সন্তানসহ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নেতার কাছ থেকে আমরা আশা করি। উখিয়ায় গিয়ে তার কবর জিয়ারত করলে নেতাকর্মীরা অনুপ্রাণিত হবেন।

এর আগে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া সফরে যাচ্ছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে তারেক রহমান। পরদিন ১২ জানুয়ারি তিনি রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন বলেও জানা গেছে। ধারাবাহিকভাবে শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানানোই এসব সফরের মূল লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সে সময় রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় তাকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন। তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে শহীদ হন ওয়াসিম আকরাম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার শহীদ হওয়া আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটের উৎসবে মুখর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে একযোগে ৩৯টি ভোটকেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোর থেকেই ক্যাম্পাসে ভোটের আমেজ দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই শিক্ষার্থীরা দলে দলে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন। সাড়ে ৮টার দিকে ভোটাররা লাইনে দাঁড়ান। ৯টার আগেই প্রায় সব কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কোথাও বিশৃঙ্খলা বা উত্তেজনার চিত্র দেখা যায়নি। বরং ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ চোখে পড়ে।

অনেক শিক্ষার্থী একে অপরের সঙ্গে দেখা করে আনন্দ প্রকাশ করেন, কেউ কেউ স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখতে দলবদ্ধভাবে ছবি তোলেন। মেয়েদের একটি অংশ শাড়ি পরে ভোট দিতে আসায় ক্যাম্পাসে বাড়তি রঙ যোগ হয়। দীর্ঘদিন পর ভোটের সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস ছিল স্পষ্ট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। হল সংসদের ১৩টি পদের জন্য লড়ছেন ৩৩ জন। সব মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৮৭ জন।

এ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে চারটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এগুলো হলো শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’। হল সংসদে লড়ছে তিনটি প্যানেল—‘অদম্য জবিয়ান’, ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ ও ‘রোকেয়া পর্ষদ’।

নির্বাচন কমিশন জানায়, কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ জন ভোটারের জন্য একটি করে বুথ রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতিও রয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভোটার, শিক্ষক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। সবাইকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটার শিক্ষার্থীরা ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে ভোট শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হচ্ছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে ২ নম্বর গেট।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি বলেন, আজকের মধ্যেই ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আজই নির্ধারিত হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসুর নেতৃত্ব।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট শুরুর আগমুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরের পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। দুই দফা পেছানোর পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত জকসু নির্বাচন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে বিএনপি

দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের চলমান সংকট নিরসনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করেই সামনে এগোতে হবে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন জানান, তারা মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাতে গিয়েছিলেন। তবে তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের বর্তমান সংকটের বিষয়গুলো শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন।

মীর নাসির হোসেন বলেন, বৈঠকে জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে নোট নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে ব্যবসায়ীদের সফল হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে ব্যবসা-বান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, কর্মসংস্থান কমছে এবং পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় ব্যবসায়ীরা তারেক রহমানের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চাঁদাবাজি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও দুর্নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যখন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন, তখন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠান কমে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে ব্যবসায়ীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারকে সক্রিয় করা, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা মব কালচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এই বৈঠকে এফবিসিসিআই, বিসিআই, বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, বিটিএমএ, বিএসএমএ, বিএবি, আইসিসি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকা-১৫ এ শফিকুরের মনোনয়ন বৈধ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মাধ্যমে এই আসনে নির্বাচনী দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ঢাকার মোট ২০টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। ওই যাচাই-বাছাইয়ের ধারাবাহিকতায় ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের দাখিল করা মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে তা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ডা. শফিকুর রহমানের হলফনামা, ব্যক্তিগত তথ্য, সম্পদের বিবরণসহ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোথাও কোনো অসংগতি বা আইনগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র গ্রহণে কোনো ধরনের বাধা নেই বলে সিদ্ধান্ত আসে।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। তখন থেকেই তার মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। যাচাই-বাছাই শেষে সেই আলোচনার অবসান হলো।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, রোববার (৪ জানুয়ারি) দেশের সব সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি থাকলে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমানের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বগুড়া-৬ এ তারেকের সবুজ সংকেত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে এই আসনের নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান তারেক রহমানের দাখিল করা মনোনয়নপত্র পর্যালোচনা শেষে তা বৈধ বলে ঘোষণা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকায় কোনো আপত্তি ওঠেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

একই দিনে একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে বগুড়া-৬ আসনে বড় দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে ফল একরকম হয়নি। এই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নূরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তার মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে বগুড়া-৬ আসনে কোন কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং কোনগুলো বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলছেন, বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়ন বৈধ হওয়া নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এলপি গ্যাসে নৈরাজ্য

সারাদেশে এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ উঠেছে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। সরকারি নির্ধারিত দাম কার্যত মানা হচ্ছে না কোথাও। এরই মধ্যে নতুন করে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দাম বাড়ানোর আভাসে ভোক্তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এলপি গ্যাসের সংকট এখন চরমে। রংপুরের পীরগঞ্জে কয়েক দিনের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ১৩২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক জায়গায় এই দাম ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডারই নেই। ফোন করলেও কোম্পানির প্রতিনিধিরা সাড়া দিচ্ছেন না। এতে খুচরা বিক্রেতারা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি সাধারণ গ্রাহকরাও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বাজারে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।

এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, বিইআরসি দর ঘোষণার পর আমদানিকারকরা দুই দফায় দাম বাড়িয়েছে। ফলে পরিবেশক পর্যায়েই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১৩২৯ টাকা দিয়ে। অথচ খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দাম ১২৫৩ টাকা। তিনি আরও বলেন, বাজারে ২৭টি কোম্পানি থাকলেও কার্যত মাত্র তিনটি কোম্পানি সীমিত আকারে এলপিজি সরবরাহ দিচ্ছে। বাকিগুলো প্রায় অদৃশ্য। এতে সরবরাহ কমে গিয়ে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পর বসুন্ধরা, ওরিয়ন, নাভানাসহ কয়েকটি বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলসি জটিলতা ও জাহাজ সংকট। ডিসেম্বরে যেখানে মাসিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টন, সেখানে আমদানি হয়েছে মাত্র ৯০ হাজার টন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, এলপিজি সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ২৯টি জাহাজ এলপিজি পরিবহন থেকে বাদ পড়েছে। এতে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে জাহাজ সংকট তৈরি হয়েছে এবং নতুন জাহাজ ব্যবস্থা করতে সময় লাগছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

বেশি দামে বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। তবে বাস্তবতা হলো, অভিযান চললেও বাজারে দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, শীত মৌসুমে বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বাড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাহাজ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি। ফলে আগের মাসের তুলনায় আমদানি কমে গেছে। যদিও ভোক্তাদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি শ্রেণি অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল থেকে বিইআরসি প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ শুরু করে। সৌদি আরবের ঘোষিত দর অনুযায়ী প্রতি মাসে দাম সমন্বয়ের নিয়ম করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কখনোই বাজারে সেই নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না। আর কার্যকর তদারকির অভাবে বছরের পর বছর ধরে এই অনিয়ম চলছেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম