জাতীয় সমাবেশ শেষে অসুস্থ, এনজিওগ্রামে ধরা পড়ে ৪টি ব্লক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক ধরা পড়ায় আগামী শনিবার (২ আগস্ট) সকালে তার বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হবে। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সকাল ৭টায় এই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করবেন দেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, আমিরে জামায়াতের দ্রুত সুস্থতার জন্য নফল নামাজ, রোজা ও দান-সাদাকার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া করার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের প্রিয় রাহবারকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং পূর্ণ শক্তি নিয়ে দ্বীনের ময়দানে ফিরে আসার তাওফিক দেন—আমরা সেই দোয়াই করছি।”

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আমিরে জামায়াত। পরে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে বড় কোনো জটিলতা ধরা না পড়লেও, পরে ৩০ জুলাই ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে জানা যায়, তার হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক রয়েছে।

বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন এবং স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।

এদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে শুক্রবার দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন দোয়ার মাধ্যমে এই সংকটে আমিরে জামায়াতের পাশে থাকেন।




শুল্ক কমলেও পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়, চুক্তির বিস্তারিত জানতে চান আমীর খসরু

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত পাল্টা শুল্ক হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নামায় রপ্তানি খাতের জন্য এটিকে একটি ‘সন্তোষজনক অবস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটি জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ২০ শতাংশ শুল্ক আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে একটি ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন আছি ২০ শতাংশে, পাকিস্তান ১৯, ভিয়েতনাম ২০ আর ভারত ২৫ শতাংশে। এ দিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে অবস্থানটা খারাপ নয়।”

তবে এই শুল্ক হ্রাসের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তাবলি বা আলোচনার অন্যান্য দিক জানা না থাকায় পুরো প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

“এটা একটা প্যাকেজ ডিল। এখানে ট্যারিফ ছাড়াও আরও অনেক বিষয় রয়েছে। আমরা জানি শুধু ট্যারিফের হার, কিন্তু এর বিপরীতে আমাদের কী দিতে হয়েছে তা জানি না। এসব প্রকাশিত হলে বিষয়টি ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যাবে,” বলেন আমীর খসরু।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা এই মুহূর্তে কিছুটা কমেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। “২০ শতাংশ শুল্ক এই মুহূর্তে আমাদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। তাই আপাতত এটাকে একটি স্বস্তিকর পদক্ষেপ বলা যায়,” মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।

সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণার সঙ্গে ট্যারিফ ইস্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা— এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ আরোপ মূলত তাদের স্বার্থে। আমাদের কী কী দিতে হয়েছে বা এর বিনিময়ে কী কিছু নেওয়া হয়েছে, তা না জানা পর্যন্ত মূল্যায়ন করা যাবে না।”

তিনি বলেন, “শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশেও আমাদের পণ্য রপ্তানি হয়। সামগ্রিকভাবে রপ্তানি নীতির দিক থেকে আমাদের কোথায় অবস্থান সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানিকে আরও বহুমুখী করতে হবে। কেবল আমেরিকা নির্ভরশীল অর্থনীতি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনের চুক্তি বা আলোচনার বিষয়গুলো সরকারের উচিত প্রকাশ করা, যাতে অর্থনীতির সার্বিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা যায়।




পুলিশের সামনেই বরিশালে সাবেক দলনেতা খুন, আহত পরিবারের ৩ সদস্য

বরিশালের সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বিল্ববাড়ি এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতেই সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লিটন সিকদার লিটুকে ছিনিয়ে নিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে ঘটে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে লিটনের শরীরে উপর্যুপরি কোপ দেয়। এক পর্যায়ে তার একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে গাড়িতে তুললেও সেখান থেকে আবার ছিনিয়ে নিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় নিহত লিটনের ছোট ভাই সুমন, বোন মুন্নি ও বৃদ্ধা মা গুরুতর আহত হন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, লিটনের বোন মুন্নির স্বামী জাকির হোসেন গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলার শিকার হন লিটন।

অন্যদিকে এলাকাবাসীর একাংশ বলছে, লিটন সিকদার বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি এবং সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সম্প্রতি ভগ্নিপতিকে বিদ্যুৎ শক দেওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. রিয়াদ হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি পুরো এলাকার পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শুল্ক হ্রাসে ইউনূস ও ট্রাম্পকে জামায়াত আমিরের ধন্যবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানোয় আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পোস্টে জামায়াত আমির লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে উচ্চ শুল্কহার ঘোষণা করা হয়েছিল, তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের কার্যকর উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তরিকতায় কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এজন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অধ্যাপক ইউনূসকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আশা করছি ভবিষ্যতে ড. ইউনূস এবং যারা পরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তারা সম্মানজনক কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রেখে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।”

এই সাফল্য বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, রপ্তানিকারকদের স্বস্তি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে উৎসাহ সৃষ্টিতে এ ধরণের চুক্তিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এছাড়া ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা, আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দল ও কূটনৈতিকদেরও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যনীতির আওতায় বিভিন্ন দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এ অবস্থায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক হ্রাসে সক্ষম হয়, যা অর্থনৈতিকভাবে বড় একটি সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শুল্ক আলোচনায় সফল বশিরউদ্দীন, প্রশংসায় জ্বালানি উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক কমানোর আলোচনায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কূটনৈতিক দক্ষতা ও নেতৃত্বকে “যোগ্যতার প্রমাণ” হিসেবে অভিহিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

শুক্রবার (১ আগস্ট) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফাওজুল কবির লেখেন, “দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে সফল চুক্তি—সবখানেই শেখ বশিরউদ্দীন নিজেকে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।”

পোস্টে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর আরোপিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা—এটিই শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে আলোচনার একটি বড় সফলতা। দেশের অর্থনীতি, রপ্তানিখাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও মন্তব্য করেন জ্বালানি উপদেষ্টা।

ফাওজুল কবির জানান, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে আমি শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে দেখা করি। তখন তার পূর্বপরিচয় ছিল না, কিন্তু প্রথম সাক্ষাতেই তার দেশপ্রেম, যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ ও বিনয় আমাকে মুগ্ধ করে। একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে উপযুক্ততা নির্ধারণে এটাই যথেষ্ট ছিল।”

তিনি আরও লেখেন, “আমার অফিস থেকে যে নাশতা দেওয়া হয়েছিল, তিনি বিনয়ের সঙ্গে সেটি গ্রহণ করেননি। তার মাঝে আমি যেসব গুণ খুঁজে পেয়েছি, তা হলো—দেশের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ, অযুক্তিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার সাহস এবং তথ্য বিশ্লেষণের অসাধারণ ক্ষমতা।”

এই প্রসঙ্গেই জ্বালানি উপদেষ্টা আল্লাহর কাছে শেখ বশিরউদ্দীনের দীর্ঘ হায়াত কামনা করে লেখেন, “তিনি যেন দেশকে আরও দীর্ঘদিন সেবা দিতে পারেন—হোক তা সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে।”

এই সফল আলোচনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি যেমন লাভবান হবে, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতিশ্রুতি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সনদ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রধান শেখ আহমেদ এবং মহাপরিচালক মুফতি খলিল আহমেদ কাসেমীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ৮২৬টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৫১টি বাদে বাকি সবকিছুতেই বিএনপি একমত। সনদের প্রতিটি ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএনপি দলীয়ভাবে কাজ করছে এবং প্রক্রিয়াগত দিকগুলো প্রায় চূড়ান্ত।

সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে থাকা দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছি না। আশা করছি, সরকার খুব দ্রুত নির্বাচন বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে।”

এ সময় বিএনপি নেতারা হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমীর মাওলানা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। ধর্মীয় অনুভূতি এবং রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই জিয়ারতকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জুলাই সনদ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে। এই সনদকে সামনে রেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচনী কাঠামোর রূপরেখা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে আশার আলো হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবি জোরালো

বরগুনা জেলায় আগের তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে স্থানীয়দের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের খসড়া তফসিলে এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

স্বাধীনতার পর বরগুনা-১ (সদর ও বেতাগী), বরগুনা-২ (পাথরঘাটা ও বামনা), বরগুনা-৩ (আমতলী ও তালতলী) এই তিনটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত ছিল উপকূলীয় এই জেলা। কিন্তু ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বরগুনার আসন সংখ্যা তিন থেকে কমিয়ে দুটি করা হয়—বরগুনা-১ (সদর, আমতলী, তালতলী) ও বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বেতাগী, বামনা)।

এতে করে প্রশাসনিক জটিলতা ও নির্বাচনী সময় পরিবহন সমস্যা বাড়ে। বিশেষ করে পায়রা (বুড়িশ্বর) ও বিষখালী নদীর বিভাজন বরগুনার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থাকে করেছে জটিল। ফলে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে আমতলী ও তালতলীর অন্তত চার লাখ মানুষ।

বর্তমানে বরগুনা-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৪ জন এবং বরগুনা-২ আসনে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৩০ জন। শুধুমাত্র আমতলী ও তালতলীতেই ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ জন, যা একটি পূর্ণ সংসদীয় আসনের জন্য যথেষ্ট।

এ অবস্থায় জেলার সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার আবেদন করলেও খসড়া তফসিলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ নিয়ে জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমিনুল ইসলাম লিটন বলেন, “২০০৮ সালে রাজনৈতিক সুবিধা দিতেই বরগুনা-৩ আসন বিলুপ্ত করা হয়। এবার নির্বাচন কমিশন সংশোধনের সুযোগ পেলেও সেটি গ্রহণ করেনি।”

আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “জনগণের কথা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল তিনটি আসন ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু তারা তা করেনি।”

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, “উন্নয়নের জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তিনটি সংসদীয় আসন ছিল বরগুনার জন্য প্রয়োজনীয়।”

বিএনপি ও আইনজীবী নেতারাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক কাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক বিবেচনায় আসন পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি ছিল।

বরগুনাবাসী এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তফসিলে তিনটি আসন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ডেঙ্গুতে দুই নারীর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৩৯

বরগুনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—সাবেক ইউপি সদস্য পারভীন বেগম (৫০) ও গৃহবধূ লাকী বেগম (৪০)। দুজনের অবস্থাই গত দুইদিন আগে গুরুতর হওয়ায় দ্রুত বরগুনা থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে দুজনেরই মৃত্যু হয়।

এই দুই মৃত্যুর মাধ্যমে বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯০৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪২ জন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৬২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এরমধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৪ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সচেতনতা ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলেও জানান তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপির ইফতার মাহফিলে হামলা, আ.লীগের ১০১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনার তালতলীতে ২০২৩ সালের ইফতার মাহফিলে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ১০১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছগির হাওলাদার। অভিযুক্তদের মধ্যে ৭০-৮০ জন অজ্ঞাতনামা।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলায় আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল তালতলীর মালিপাড়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, লোহার রড ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিএনপির বহু নেতাকর্মী আহত হন এবং ইফতার মাহফিলের মঞ্চে থাকা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ও সাজসজ্জা ভাঙচুর করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মোটরসাইকেলসহ সড়কে অগ্নিসংযোগ করে এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতিও করে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মো. ইকরামুল ইসলাম বলেন, “আদালতের আদেশপত্র এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পর মামলা দায়ের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বেহাল বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক, বর্ষণে খানাখন্দে দুর্ভোগ চরমে

টানা বর্ষণে পিচ নরম হয়ে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। প্রায় ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, যার ফলে যান চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।

সড়কটিতে প্রতিদিন চলাচল করে প্রায় দুই হাজার যানবাহন। পদ্মা সেতু চালুর পর পর্যটননগরী কুয়াকাটামুখী গাড়ির সংখ্যা বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা যানবাহনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে।

পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা, আমতলী চৌরাস্তা, মানিকঝুড়ি, সাহেববাড়ি, আমড়াগাছিয়া, বান্দ্রা, শাখারিয়া ও পখিয়া—এসব এলাকাজুড়ে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। প্রতি ৫০ গজ পর পর খানাখন্দে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন চালকেরা।

শ্যামলী এনআর পরিবহনের চালক কেরামত আলী বলেন, “গর্ত এড়াতে গিয়ে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। যাত্রীরা আতঙ্কে থাকে।”
তুহিন পরিবহনের চালক কাওসার হাওলাদার জানান, “এই সড়ক দ্রুত সংস্কার না হলে আরও ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে।”

যাত্রী আল-আমিন জানান, “বরিশাল থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত যাত্রা কিছুটা স্বস্তির হলেও এর পরপরই ঝাঁকুনি, ধাক্কা আর ব্রেক কষে কষ্টকর যাত্রা শুরু হয়। সময়ও লাগে দ্বিগুণ।”

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে নির্মিত বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়লেও অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই সড়কের দেখভাল করে বরগুনা ও পটুয়াখালী সওজ বিভাগ।

বরগুনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী কমারেশ বিশ্বাস বলেন, “এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সড়কের পিচ আলগা হয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ টিম দিয়ে আপাতত মেরামত চলছে। বরাদ্দ পেলে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হবে।”

পটুয়াখালী অঞ্চলের সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ করিম বলেন, “ভোগান্তি কমাতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

যাত্রীরা দ্রুত এবং টেকসই সংস্কার চান। বর্ষা শেষে পুরো মহাসড়ক পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫