বরগুনায় “জুলাইয়ের মায়েরা” অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত


জুলাই পুনর্জাগরণ ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে বরগুনায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী অভিভাবক সমাবেশ। শনিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সমাবেশ আয়োজন করে বরগুনা জেলা প্রশাসন। সমাবেশের নাম ছিল– “জুলাইয়ের মায়েরা”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল ইসলাম

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন:

  • সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছির আরাফাত রানা

  • বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. সোহেল হাফিজ

  • সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান

  • সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হায়দার স্বপন

  • জুলাই যোদ্ধা রনি‘র মা

  • জুলাই যোদ্ধা আইরিন আকতার, হান্নান

  • ছাত্র প্রতিনিধি ইমাম হোসেন, রেজাউল করিম প্রমুখ

সমাবেশে বক্তারা বলেন,

“জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা আমাদের গর্ব। যারা গুলি চালিয়ে আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নৃশংসতা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকেই।”

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের আহত ও নিহত যোদ্ধাদের মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল আবেগঘন, প্রতিবাদী এবং প্রত্যয়বদ্ধ— একটি নতুন ভোরের প্রত্যাশায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তিন দফা দাবিতে বরিশালে কফিন নিয়ে উত্তাল বিক্ষোভ

সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা নিয়ে তিন দফা দাবিতে বরিশালে কফিন নিয়ে সড়কে নেমেছেন সাধারণ ছাত্র-জনতা। শনিবার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী বিক্ষোভে ছিল কফিন বহনকারী মিছিল, প্রতিবাদী স্লোগান এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতীকী বার্তা।

তাদের প্রধান তিন দাবি:
১. বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ সকল সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন
২. পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও দক্ষ জনবল নিয়োগ
৩. আধুনিক যন্ত্রপাতি, ওষুধ সরবরাহ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি

বক্তারা জানান, দেশের স্বাস্থ্যখাত বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনায় ভুগছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়াটা অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ হয়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সংকট শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, রয়েছে জনবল, ওষুধ এবং যন্ত্রপাতির ঘাটতি। উপরন্তু, দুর্নীতি ও অবহেলা জনসাধারণের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা কফিন নিয়ে একটি প্রতীকী মিছিল বের করেন, যা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। তারা জানান, এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল দলের বিশৃঙ্খলায় বিপাকে বিসিবি

জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) বরিশাল বিভাগীয় দল নিয়ে চলমান বিশৃঙ্খলা ও অভিযোগে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠের বাইরে নানা বিতর্কিত ঘটনার জেরে গত মৌসুমে বরিশাল দলের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।

মৌসুমের মাঝপথে অধিনায়কত্ব ছাড়েন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ফজলে মাহমুদ রাব্বি। বিসিবিকে পাঠানো চিঠিতে কারণ না উল্লেখ করলেও তিনি জানিয়েছেন, স্কোয়াডে না থাকায় সহখেলোয়াড় ইসলামুল হাসানের কাছ থেকে তিনি মৃত্যুর হুমকি পান। বিসিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগে হুমকির ফোন রেকর্ডও জমা দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সোহাগ গাজীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে ক্রিকেটার মঈন খানের বিরুদ্ধেও। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া কোচিং স্টাফদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। প্রধান কোচ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান মজুমদার দায়িত্ব ছেড়ে দেন মৌসুমের মাঝপথে। পরে দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ কোচ ওয়াহিদুল গনি, কিন্তু তাঁর সময়েও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকায় বিসিবিতে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। জাতীয় দলের নির্বাচকরাও বরিশালের অব্যবস্থাপনা দেখে হতাশা প্রকাশ করেন। এবারের মৌসুমে তাই স্কোয়াড গঠন ও কোচিং স্টাফ নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে টুর্নামেন্ট কমিটি। পুরো কোচিং ইউনিট বদলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

কিছু খেলোয়াড় কোচ আশিকুর রহমান, সহকারী কোচ শাহীন হোসেন এবং ট্রেনার বিকাশ শর্মার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ও প্রোগ্রাম হেড মিনহাজুল আবেদীন প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।

আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এনসিএল সমন্বয় সভায় বরিশাল দলের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন,

“যে দলে কোচ ও অধিনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, সেখানে সুশৃঙ্খল পরিবেশ আশা করা যায় না। খেলোয়াড়দের ভাষা ব্যবহার ও আচরণেও অবনতি দেখা যাচ্ছে, যা দুঃখজনক।”

এদিকে বরিশালের কিছু ক্রিকেটার দাবি করেছেন, এনসিএলে না থাকায় তারা ঢাকা লিগে সুযোগ পাচ্ছেন না। এ নিয়ে তারা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন, যা শুনে তিনিও বিব্রত হন।

বরিশাল দলের ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম বলেন,

“বরিশালে ঘরোয়া লিগ না থাকায় সব ক্রিকেটারই জাতীয় লিগে খেলতে চায়। অনেকেই মনে করেন, জাতীয় লিগে খেললেই ঢাকা লিগে জায়গা পাওয়া সহজ হবে। তবে এটি ভুল ধারণা।”

ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও সোহাগ গাজীর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা চান, অতীতের বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে। তারা বরিশালকে প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। যদিও বর্তমানে বরিশালের মূল স্কোয়াডে খেলার মতো স্থানীয় ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র সাতজন। ফলে অন্য বিভাগীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজাতে হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করবে এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামীকাল ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করবে। শনিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক ঘোষণায় এই তথ্য জানানো হয়।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “আগামীকাল (৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা দেওয়া হবে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দেখা হচ্ছে আপনাদের সাথে।”

এর আগে গত বুধবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী শহরের পৌরসভার সামনে আয়োজিত এক পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “৩ আগস্ট আমরা শহীদ মিনার থেকে নতুন বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা দেব। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে সব দাবি আদায় করে ছাড়ব।”

এনসিপির নেতারা বলছেন, এই ইশতেহার হবে একটি রাজনৈতিক রূপরেখা, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো, ন্যায়বিচার, অংশগ্রহণমূলক শাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার বহন করবে।

ঘোষণার দিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের শহীদ মিনারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সময়ে এনসিপির ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ আগামী দিনের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।




গোপন তৎপরতা তদন্তাধীন, জড়িত কেউ রেহাই পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ, তাই তারা কোনো অপকর্মে জড়ালে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যেহেতু তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেহেতু তারা কোনো অপকর্ম করতে চাইলে কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। কে কোন বাহিনীর, সেটা বিবেচ্য নয়—আইনের আওতায় সবাই আসবে।”

আওয়ামী লীগের গোপন তৎপরতা ও এক সেনা কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি বলেন, “তদন্ত করলে সব জানা যাবে। যে-ই জড়িত থাকুক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আল্লাহ চাইলে কোনো শঙ্কা নেই। আপনারা যেভাবে সহায়তা করছেন, তাতে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”

সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মিডিয়া সত্য প্রচার করছে বলেই আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সত্য ঘটনাগুলো প্রচার করলে জনগণ উপকৃত হয়, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা সত্য প্রকাশ করছেন বলেই বিদেশি মিডিয়াগুলোর তীব্রতা কমে আসছে। তারা আগের মতো সরব হতে পারছে না, কারণ বাস্তবতা স্পষ্ট হচ্ছে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এ বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল হিসেবে আওয়ামী লীগের তৎপরতা এবং তার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান যে কঠোর, তা এ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।




সব পক্ষের অংশগ্রহণে ৫ আগস্ট প্রকাশ হবে ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র

আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত সব পক্ষের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। ঘোষণা অনুষ্ঠানে দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল—বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—সহ গণআন্দোলনের বিভিন্ন পক্ষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানায় প্রেস উইং।

এ ঘোষণাপত্রকে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ধরা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো দিন, তবে সর্বোচ্চ ৫ আগস্টের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করবেন।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ক্ষমতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসে, যার অন্যতম লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সংস্কার ও জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ।

সূত্র জানায়, ঘোষণাপত্রের খসড়ায় মোট ২৬টি দফা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খসড়ার প্রারম্ভে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জুলাই মাসে এই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। খসড়ার শুরুর ভাষ্যটি আগে “নেতৃত্বে” শব্দটি দিয়ে লেখা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে “ডাকে” করা হয়েছে—বিতর্ক এড়ানোর লক্ষ্যে।

ঘোষণাপত্রে অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় দফা ক্ষমতা গ্রহণের পর টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দল—বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিএনপির অনুরোধে ৭৫-এর ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লব এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে আনা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর উল্লেখ রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘোষণাপত্র নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।




জামায়াত আমিরের হার্টের বাইপাস সার্জারি সফল, আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

দলের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ডা. খালিদুজ্জামান জানান, শনিবার (২ আগস্ট) সকাল ৮টায় অপারেশন শুরু হয় এবং দুপুর ১২টার মধ্যে সার্জারি সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন দেশের খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও তার টিম। সার্জারি শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দলীয়ভাবে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমিরে জামায়াতের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে আছেন এবং শারীরিকভাবে স্থিতিশীল। দেশবাসীর কাছে আমরা তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি।”

উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




জুলাই বিপ্লব তরুণদের নতুন রাজনীতির সূচনা: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ দেশের তরুণ সমাজের চেতনার জাগরণ ঘটিয়েছে এবং এটি একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইতিহাসের সত্য ঘটনা প্রকাশ করাও যেন অপরাধ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বইমেলা ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের ইতিহাসে অনেক গৌরবময় ও মহিমান্বিত ঘটনা রয়েছে, যেগুলো যথাসময়ে প্রকাশিত হয় না। আজ সত্য কথা বলা, ইতিহাসভিত্তিক বই লেখা ও তা পাঠ করাও যেন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের বাস্তবতায় যারা সত্যের ভিত্তিতে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন, তারাই প্রকৃত অর্থে সমাজের সার্থক মানুষ।”

জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, “গত ১৬ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে যারা নির্যাতন, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতার পটভূমিতেই এ দেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের সূচনা করেছে। দেশের মানুষ চায় না একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ পরিচালিত হোক; তারা চায় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশ চলুক।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণরা কোনো মিথ্যা বয়ানে বিশ্বাস করেনি। তারা পারিবারিক গণ্ডি, শিক্ষাঙ্গণ অতিক্রম করে রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে। এক জন গুলিবিদ্ধ হলে অন্যজন পানি নিয়ে এগিয়ে গেছে। অথচ সেই সময়েও গুলি থামেনি।”

সরকারি প্রচারণা যন্ত্রের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “দিনরাত প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের মন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু তরুণরা সত্য বুঝে নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস বিদ্রোহ আর প্রতিরোধে সমৃদ্ধ—পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭), সিপাহি বিদ্রোহ (১৮৫৭), ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের লড়াই, সাঁওতাল বিদ্রোহ, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ—এই জাতিকে মিথ্যার বয়ানে চিরতরে দমন করা সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সঞ্জয় দে রিপন, মনিরুজ্জামান মনির, জিকরুল হাসান প্রমুখ।




সুন্দরবন স্কয়ারে ভয়াবহ আগুন, ১১টি ইউনিট কাজ করছে নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের পঞ্চম তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে, তবে এখনও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ১১টি ইউনিট পৌঁছেছে। আগুন পঞ্চম তলায় লাগলেও, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় বহু দোকানদার ও কর্মচারী আটকে রয়েছেন। তাদের দ্রুত নিচে নামতে বারবার মাইকিং করা হলেও তারা নির্দেশ উপেক্ষা করছেন, যা তাদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

দোলন বলেন, “আমরা বারবার মাইকিং করছি, তাদের নিচে নামার অনুরোধ করছি। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও একইভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু কেউ কথা শুনছে না। ধারণা করছি, এসব কর্মচারীরা ভবনের ভেতরে থাকা দোকানগুলোর স্টাফ, যারা হয়তো সেখানেই থাকেন বা কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।”

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, “সকাল ১০টায় আমাদের কাছে আগুন লাগার খবর আসে। এরপর একে একে ১১টি ইউনিট সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এখনো আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ভবনের ওপরের তলাগুলোতে উপস্থিত মানুষের অব্যাহত অবাধ্যতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার আপডেট জানার জন্য সর্বসাধারণকে সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ঝুঁকিতে নয় বাংলাদেশ: বাণিজ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। শুক্রবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রফতানি প্রতিযোগিতামূলক থাকবে। ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলেও রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে না। তবে আমরা আরও কম শুল্ক প্রত্যাশা করেছিলাম।” তিনি উল্লেখ করেন, আগের তুলনায় এই শুল্ক হার ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কারণ পূর্ববর্তী হারে (৩৭ শতাংশ) শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা পরে ৩৫ শতাংশে নামানো হয়। এবার তা ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের মধ্যে তৃতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আলোচনায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া ও পাকিস্তান থেকে আমদানিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে টিকে রয়েছে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত রফতানিকারকদের জন্য এক ধরনের স্বস্তির বার্তা হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক রফতানি বাজার নিশ্চিত করতে পণ্যের বৈচিত্র্য এবং মান বজায় রাখতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম