ছাত্রদলের ছাত্র সমাবেশে ঢল, শাহবাগে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ

ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানী শাহবাগ মোড়ে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জানাছাদ)। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিলে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছে ছাত্রদলের হাজারো নেতাকর্মী।

সমাবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে একটি মঞ্চ। চলছে ব্যানার টাঙানো, সাউন্ড চেকসহ শেষ মুহূর্তের নানা প্রস্তুতি। নিরাপত্তার স্বার্থে শাহবাগ ও এর আশপাশে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

ছাত্রদলের এই ছাত্র সমাবেশের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলার কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সতর্কতামূলক ডাইভারশন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যানচলাচলের বিকল্প রুটসমূহ:

  • হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়: উত্তর দিক থেকে আসা যানবাহন শাহবাগে না গিয়ে বামদিকে হেয়ার রোড বা মিন্টু রোড হয়ে যাতায়াত করবে।
  • কাটাবন মোড়: পশ্চিম দিক থেকে আগত যানবাহন ডানদিকে নীলক্ষেত/পলাশী কিংবা বামদিকে সোনারগাঁও রোড হয়ে চলাচল করবে।
  • মৎস্য ভবন মোড়: হাইকোর্ট/কদম ফোয়ারা থেকে আসা যানবাহন শাহবাগে না গিয়ে হেয়ার রোড বা মনসুর আলী সরণি ব্যবহার করবে।
  • কাকরাইল থেকে: মৎস্য ভবন পেরিয়ে সোজা হাইকোর্ট হয়ে গুলিস্তান বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়মুখী চলাচল করার নির্দেশনা রয়েছে।
  • টিএসসি/রাজু ভাস্কর্য: দোয়েল চত্বর বা নীলক্ষেত হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষভাবে এই দিনে যানজটের শঙ্কা বিবেচনায় রেখে সাধারণ নাগরিক এবং বিশেষত এইচএসসি/সমমান ও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে রওনা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, “এটি গণ-অভ্যুত্থানের এক নতুন চেতনার প্রকাশ। বর্তমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের প্রতিবাদের ভাষা।”

ঢাকার রাজপথে আজকের সমাবেশ শুধুই রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি একটি স্পষ্ট সামাজিক ও প্রজন্মগত অঙ্গীকার—তারা বলছে, ‘জনগণের শাসন ফিরে আনতেই হবে।’


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অ্যাটর্নি জেনারেল: “শেখ হাসিনা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী স্বৈরাচার”

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার (৩ আগস্ট) শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক বিচার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মামলার সূচনা বক্তব্য রাখছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম

বিচার শুরুর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন:

“পৃথিবীর ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো কোনো স্বৈরাচারের জন্ম হয়নি। তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী স্বৈরাচার। যদি মিথ্যার ওপর পিএইচডি করতে হয়, শেখ হাসিনার কাছেই শিখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন,

“পৃথিবীর সব স্বৈরশাসকের যদি কোনো সমিতি হয়, শেখ হাসিনা হবেন তার সভাপতি।”

আজকের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় সকাল সাড়ে ১১টায়, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ। অন্য দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহাম্মদ মোহিতুল হক

ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বিচারকাজ সরাসরি ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজে সম্প্রচার করা হচ্ছে।

রাজসাক্ষীর আবেদন গৃহীত

এই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন সত্য প্রকাশের শর্তে রাজসাক্ষী হতে সম্মত হলে ট্রাইব্যুনাল তার আবেদন গ্রহণ করেছে।

মামলার পটভূমি ও অগ্রগতি:

  • ১ জুন: ট্রাইব্যুনাল ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নেয়।
  • ১৭ জুন: পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
  • ১০ জুলাই: অভিযোগ গঠন করে ৩ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের দিন ধার্য করা হয়।

আসামিপক্ষের প্রতিনিধিত্ব:

  • শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন
  • চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে জায়েদ বিন আমজাদ

জনমত ও রাজনৈতিক উত্তাপ:

এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন, তা রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“রক্ত নয়, জ্ঞান-মেধায় গড়তে হবে নতুন বাংলাদেশ” — শারমীন মুরশিদের আহ্বান

সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর কাঠামোকে ভেঙে নতুন সমাজ গঠনের সময় এসেছে। তবে সেই সংগ্রাম রক্ত দিয়ে নয়, হতে হবে জ্ঞান ও মেধার শক্তিতে।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ আয়োজিত ‘স্যালুট টু জুলাই ওয়ারিয়র্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সরাসরি অংশগ্রহণকারী শারমীন সেই সময়কার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, “১৮ জুলাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখেছি হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হচ্ছিল, পুলিশও গুলি ছুঁড়ছিল। এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হলে আমি তার দিকে ছুটে যাই। সেদিন আমিও গুলির শিকার হতে পারতাম, কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই।”

তিনি বলেন, “আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। এখন সময় জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা দিয়ে দেশ গড়ার। শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকরাই পারে এই ভঙ্গুর সমাজ কাঠামো বদলে দিতে।”

১৬ বছরের অপশাসনের প্রভাব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যে কাঠামো পেয়েছি তা পাহাড়সম কঠিন। এই কাঠামো ভাঙতে এক বছর যথেষ্ট নয়। তবু আমাদের থেমে গেলে চলবে না।”

ছাত্র সমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তোমরা কোটা নয়, মেধার ভিত্তিতে আন্দোলন করেছো। এই দেশকে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক করতে হলে এখন তোমাদের ক্লাসে ফিরে গিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই—যেখানে মেধা, মানবিকতা ও ন্যায়ের জয় হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও জুলাই আন্দোলনের চেতনা সামনে রেখে ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।




শৃঙ্খলা ও সততার জন্য জামায়াতের নেতৃত্ব প্রশংসনীয়: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সততা অনুকরণীয়। এই গুণাবলি দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য অনুসরণযোগ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে জামায়াত আমির শায়খুল হাদিস ড. শফিকুর রহমানকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে জামায়াত আমিরের সুদৃঢ় নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও সংকটময় সময়ে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেস সচিব।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “হার্ট সার্জারির পর বিশেষ করে শফিকুর রহমান ভাইকে নিয়ে ভাবছি এবং সালাত ও দোয়ায় তার জন্য প্রার্থনা করছি।”

তিনি আরও লেখেন, “এই গভীর অনিশ্চয়তার সময়ে তার শান্ত নেতৃত্ব এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়ার সদিচ্ছা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তার নেতৃত্বে জামায়াত অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং সততার যে সুনাম বজায় রেখেছে, তা দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য অনুকরণীয় হওয়া উচিত।”

জামায়াত আমিরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রেস সচিব বলেন, “তিনি যেন দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন—এই প্রার্থনাই করছি। তার জন্য শান্তি ও মানসিক শক্তি কামনা করছি। ইনশাআল্লাহ।”

স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে জামায়াতের নেতৃত্ব ও নৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভিন্নমত ও সমর্থনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।




তালতলীতে রাখাইন পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

বরগুনার তালতলী উপজেলায় সংখ্যালঘু রাখাইন সম্প্রদায়ের এক পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ভূমি দস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে তাদের।

শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে তালতলী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা চান চান রাখাইন।

তিনি জানান, বহু বছর ধরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে তিনি বসবাস করে আসছেন। তবে সম্প্রতি স্থানীয় ইউনুছ হাওলাদার (৫৭), মহিউদ্দিন মাসুদ (৫২), আয়নাল মুসুল্লী (৫৫) ও আনোয়ার হোসেন (৫২) সহ কয়েকজন মিলে তার জমি দখলের চেষ্টা করছে। চরপাড়া মৌজার এসএ খতিয়ান নং ০৮, জেএল নং ৪০ নথিভুক্ত ওই জমিতে রাতের আঁধারে একটি ঘর নির্মাণের মাধ্যমে দখল শুরু করে তারা।

চান চান রাখাইন জানান, তিনি বাধা দিলে অভিযুক্তরা তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে পরিবারসহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি বরগুনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আসামিরা আদালতে হাজিরা দিলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, “ভূমি দস্যুদের নির্যাতনে আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন মিয়ানমারে চলে গেছে। আমরা যেটুকু টিকে আছি, তার ওপরও হামলা ও হুমকির মুখে রয়েছি। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘জুলাই ঘোষণাপত্রে সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি চাই’ — এবি পার্টি

গণঅভ্যুত্থানে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে সাবেক সেনাসদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা গণজাগরণকে সহজ করেছে এবং তা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়া উচিত।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানান দলের নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার, লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান এবং সামরিক কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।

বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “যখন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব একত্র হয়, তখনই মুক্তিযুদ্ধ বা গণঅভ্যুত্থানের পথ উন্মোচিত হয়। সেই ইতিহাস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আবারও প্রতিফলিত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা বিবেকের তাগিদে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, যা গণঅভ্যুত্থানকে বেগবান করে।”

তিনি বলেন, “ডিওএইচএস এলাকার সেই ব্যতিক্রমী দৃশ্য—যেখানে সেনা পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন—সেটিই সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।”

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান বলেন, “সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। জগদ্দল পাথর কিছুটা সরানো গেলেও তা এখনো চাপিয়ে আছে।”
লে. কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান বলেন, “দু’একজনের অপকর্মে পুরো বাহিনীকে দোষারোপ করা উচিত নয়। মিডিয়া এবং সশস্ত্র বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার দরকার। সংস্কারবিহীন নির্বাচন মানেই স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি।”

মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার বলেন, “দেশ এখন ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের উচিত অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা।”

সভায় বক্তারা ‘জুলাই সনদ’-এ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং সশস্ত্রবাহিনীর দায়মুক্ত ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।




বরিশালের এনসিএল কোচ হলেন মোহাম্মদ আশরাফুল

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) বরিশাল বিভাগের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান।

আকরাম খান জানান, “আশরাফুল নিজেই কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বরিশালের হয়ে দুই বছর খেলেছে সে, তাই আমরা তাকে কোচ হিসেবে নিয়েছি।”

ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচিং পেশায় যুক্ত হন আশরাফুল। এর আগেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সের সাথে কাজ করেছেন তিনি।

আকরাম বলেন, “সাবেক খেলোয়াড়দের ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজ করার সুযোগ দিতে চাই আমরা। সেলিম, রোকন, আফতাবদের সাথেও আলোচনা চলছে। তাদের অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

এছাড়া আঞ্চলিক ক্রিকেট উন্নয়নেও বিসিবি কাজ করছে বলে জানান আকরাম। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছি ২৭ আগস্ট থেকে। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১১টি জেলা রয়েছে। এখান থেকে ভালো মানের ২-৩ জন খেলোয়াড় পেলেই তারা চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে খেলতে পারবে।”

এই উদ্যোগকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সংবিধানের সংশোধনী সংসদেই হতে হবে: আমীর খসরু

সংবিধানে কোনো সংশোধনী আনতে হলে তা অবশ্যই সংসদের মাধ্যমেই আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সংসদের বাইরে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মান্নান নিলুফার মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন।

আমীর খসরু বলেন, “সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনা চললেও, যদি কোনো পরিবর্তন আনতেই হয়, তা হতে হবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এবং সংসদীয় কাঠামোর মাধ্যমেই। স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হলে তা সংসদের বাইরের কোনো মাধ্যমে আনা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা সংসদীয় ব্যবস্থাকেও অস্বীকার করে।”

রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “যত সংস্কারই করা হোক না কেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে তা ব্যর্থ হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা ছাড়া ঐক্য গঠন সম্ভব নয়। দেশের স্বার্থেই আমাদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ভেঙে গেছে— এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আমি তা দেখি না। প্রতিটি দলের নিজস্ব মতাদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। যেটুকুতে একমত হওয়া যাবে, ততটুকুতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বাকি বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক জনগণ।”

আবদুল মান্নানের রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বলেন, “তিনি সবসময় দেশ নিয়ে ভাবতেন। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বাংলাদেশ বিমানের এমডি হয়েছিলেন এবং তার সময়ে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মরহুম আবদুল মান্নানের মেয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




‘জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হবে নির্বাচন’, ঘোষণা দিলেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে। একই সঙ্গে তিনি এই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানান।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বলেছি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই সংবিধানের প্রস্তাবনা ও তফসিলে উল্লেখ করে স্বীকৃতি দিতে হবে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।”

নাহিদ ইসলাম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। তবে ঐকমত্য কমিশন এখনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদের সুরাহা করা আমাদের এবং দেশবাসীর যৌক্তিক দাবি। এই সনদে যেন জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

ছাত্রদল ও এইচএসসি পরীক্ষার কারণে রোববার ঢাকায় কর্মসূচি চলাকালে ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে এনসিপির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ছাত্রদলের কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করায় তাদের ধন্যবাদ জানান নাহিদ।

ছাত্রনেতাদের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব ঘটনা জুলাই আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। যারা জড়িত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণতা পায়নি। জুলাই সনদের মাধ্যমে আংশিক পূরণ হতে পারে। তবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।”

তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। আগামীকাল রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়েই জুলাই পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, সামান্তা শারমিন এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




রাজধানীতে সমাবেশ, পরীক্ষার দিনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি’র নির্দেশনা

রাজধানী ঢাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে রবিবার (৩ আগস্ট) দিনব্যাপী যান চলাচলে সীমিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

শনিবার প্রকাশিত ডিএমপির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমাবেশ ও অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে ‍গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। একইদিনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং বিসিএস পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই রওনা হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,

  • দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে বিএনপিপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের ‘ছাত্র সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে।
  • বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের’ দাবিতে জনসমাবেশ হবে।
  • ১-৪ আগস্ট প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘জুলাই জাগরণ’ চলমান থাকবে।

ফলে ঢাকা শহরের নিচের এলাকাগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে:
📍 শাহবাগ মোড়
📍 শহীদ মিনার এলাকা
📍 সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বর

পরিবর্তে বিকল্প রুট হিসেবে যেসব পথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে:

  • হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়: সোনারগাঁও বা বাংলামোটর হয়ে মিন্টু রোড বা হেয়ার রোড ব্যবহার
  • কাটাবন মোড়: সায়েন্সল্যাব হয়ে নীলক্ষেত/পলাশী বা বাংলামোটর লিংক রোড ব্যবহার
  • মৎস্য ভবন মোড়: হাইকোর্ট বা মনসুর আলী সরণি হয়ে চলাচল
  • কাকরাইল থেকে: গুলিস্তান বা বিশ্ববিদ্যালয়মুখী চলাচল
  • টিএসসি/রাজু ভাস্কর্য: দোয়েল চত্বর বা নীলক্ষেত ব্যবহার
  • শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের রাস্তা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে

ডিএমপি বলেছে, যেহেতু ওই দিন এইচএসসি/সমমানবিসিএস পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে, তাই পরীক্ষার্থীদের যেন প্রচুর সময় হাতে নিয়ে কেন্দ্রে রওনা হওয়া উচিত।

ডিএমপির পক্ষ থেকে ঢাকাবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে, জনসাধারণ যেন সমাবেশ ও অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে সংঘটিত ভিড় ও যানজট এড়িয়ে চলে এবং নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলে পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম